০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ নিউইয়র্কে আবাসন নির্মাণে বড় বাধা কমছে, বদলে যেতে পারে শহরের ভবিষ্যৎ ট্রাম্পের প্রতিশোধ রাজনীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ জ্বালানি সংকটে নতুন সতর্কবার্তা, জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর দেওয়ার আহ্বান ছেলের হামলায় কুমিল্লায় প্রাণ গেল বাবার

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ১৮)

  • Sarakhon Report
  • ০৪:৫০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 111

ম্যাকসিম গোর্কী

আটাশ

“কিছুর” অর্থটা সর্বদাই এক-এক গেলাশ মদ, তাতে কতকটা বরফ।

ঐ বাড়ির নিচের তলায় তিনজন রাজবংশীয়া যুবতী ভদ্রমহিলা-ও থাকতেন। তাঁদের মা মারা গিয়েছেন, এবং বাবা কমিসারিয়েট জেনারেল, তিনি অন্যত্র কোথায় কাজে গিয়েছেন।

জেনারেল কর্ণেটের স্ত্রী এই মেয়ে তিনটির প্রতি বিরূপ হ’য়ে উঠেছে। এবং তাদের প্রতি যতো প্রকারের ইতরামি সম্ভব তা ক’রে তাদেরকে তাড়াতে চেষ্টা করছে। এই নিরীহ মেয়েদের প্রতি তার এই মনোভাবটাকে আমি মোটেই পছন্দ করতাম না। মেয়ে গুলিকে অত্যন্ত বিমর্ষ, আতংকিত এবং অসহায় মনে হোতো। একদিন বিকালবেলা তাদের মধ্যে দুজন বাগানে বেড়াচ্ছিল। এমন সময় অকস্মাৎ জেনারেল কর্ণেটের বিধবা পত্নী তার অভ্যাসমত মাতাল অবস্থায় হাজির হোলো, এবং তাদের বাগান থেকে ভাগাবার জন্যে চীৎকার করতে লাগলো।

মেয়ে দুটি নীরবে শান্তভাবে চলে যাচ্ছিলেন। কিন্তু জেনারেলের স্ত্রী গেটের ওপর এসে নিজের শরীর দিয়ে ছিপির মতো পথ আগলে দাঁড়াল এবং রীতিমত অশ্লীল গাড়োয়ানী ভাষায় গালি পাড়তে লাগলো। আমি তাকে গালিগালাজ বন্ধ ক’রে মেয়েগুলিকে পথ ছেড়ে দিতে বললাম। কিন্তু সে তখন আমার উদ্দেশ্যে চেঁচাতে শুরু করল:

“তুই! তুই তো বলবি। তোকে চিনি না আমি। তুই রোজ রাত্তিরে জানলা গলে ওদের ঘরে যাস!” কথাগুলো আমায় রাগিয়ে দিলো; তার ঘাড় ধ’রে তাকে গেট থেকে আমি সরিয়ে দিলাম; তখন সে আমার হাত ছাড়িয়ে আমার সুমুখে এসে দাঁড়াল এবং দ্রুত পোশাক খুলে সেমিজটা তুলে জোর গলায় বলল, “আমি ওই লে টি ইদুরগুলোর চেয়ে দেখতে অনেক, অনেক ভালো।”

আমার আর মেজাজ ঠিক রইল না। আমি তার ঘাড়ে ধরে তাকে ঘুরিয়ে ধরলাম এবং তার পাছায় চাটুর গুঁতো মারতে লাগলাম। সে তখন এক লাফে গেটের বাইরে গেলো এবং প্রচুর বিস্ময়ে তিন বার “উ! উ! উ!” ক’রে উঠান পার হ’য়ে ছুটে পালালো।

তারপর আমি তার বিশ্বস্ত অনুচরী পলিনের কাছ থেকে আমার পাশপোর্ট নিয়ে পোঁটলাটি বগলে ক’রে সে স্থান ত্যাগ করলাম; জেনারেলের স্ত্রী তখন একটা লাল রঙের শাল হাতে নিয়ে জানলায় দাঁড়িয়েছিল, সে চেঁচাতে লাগলো:

“আমি পুলিস ডাকবো না-শোনো-কোনো ভয় নেই-ফিরে এসো-“

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে?

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ১৮)

০৪:৫০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪

ম্যাকসিম গোর্কী

আটাশ

“কিছুর” অর্থটা সর্বদাই এক-এক গেলাশ মদ, তাতে কতকটা বরফ।

ঐ বাড়ির নিচের তলায় তিনজন রাজবংশীয়া যুবতী ভদ্রমহিলা-ও থাকতেন। তাঁদের মা মারা গিয়েছেন, এবং বাবা কমিসারিয়েট জেনারেল, তিনি অন্যত্র কোথায় কাজে গিয়েছেন।

জেনারেল কর্ণেটের স্ত্রী এই মেয়ে তিনটির প্রতি বিরূপ হ’য়ে উঠেছে। এবং তাদের প্রতি যতো প্রকারের ইতরামি সম্ভব তা ক’রে তাদেরকে তাড়াতে চেষ্টা করছে। এই নিরীহ মেয়েদের প্রতি তার এই মনোভাবটাকে আমি মোটেই পছন্দ করতাম না। মেয়ে গুলিকে অত্যন্ত বিমর্ষ, আতংকিত এবং অসহায় মনে হোতো। একদিন বিকালবেলা তাদের মধ্যে দুজন বাগানে বেড়াচ্ছিল। এমন সময় অকস্মাৎ জেনারেল কর্ণেটের বিধবা পত্নী তার অভ্যাসমত মাতাল অবস্থায় হাজির হোলো, এবং তাদের বাগান থেকে ভাগাবার জন্যে চীৎকার করতে লাগলো।

মেয়ে দুটি নীরবে শান্তভাবে চলে যাচ্ছিলেন। কিন্তু জেনারেলের স্ত্রী গেটের ওপর এসে নিজের শরীর দিয়ে ছিপির মতো পথ আগলে দাঁড়াল এবং রীতিমত অশ্লীল গাড়োয়ানী ভাষায় গালি পাড়তে লাগলো। আমি তাকে গালিগালাজ বন্ধ ক’রে মেয়েগুলিকে পথ ছেড়ে দিতে বললাম। কিন্তু সে তখন আমার উদ্দেশ্যে চেঁচাতে শুরু করল:

“তুই! তুই তো বলবি। তোকে চিনি না আমি। তুই রোজ রাত্তিরে জানলা গলে ওদের ঘরে যাস!” কথাগুলো আমায় রাগিয়ে দিলো; তার ঘাড় ধ’রে তাকে গেট থেকে আমি সরিয়ে দিলাম; তখন সে আমার হাত ছাড়িয়ে আমার সুমুখে এসে দাঁড়াল এবং দ্রুত পোশাক খুলে সেমিজটা তুলে জোর গলায় বলল, “আমি ওই লে টি ইদুরগুলোর চেয়ে দেখতে অনেক, অনেক ভালো।”

আমার আর মেজাজ ঠিক রইল না। আমি তার ঘাড়ে ধরে তাকে ঘুরিয়ে ধরলাম এবং তার পাছায় চাটুর গুঁতো মারতে লাগলাম। সে তখন এক লাফে গেটের বাইরে গেলো এবং প্রচুর বিস্ময়ে তিন বার “উ! উ! উ!” ক’রে উঠান পার হ’য়ে ছুটে পালালো।

তারপর আমি তার বিশ্বস্ত অনুচরী পলিনের কাছ থেকে আমার পাশপোর্ট নিয়ে পোঁটলাটি বগলে ক’রে সে স্থান ত্যাগ করলাম; জেনারেলের স্ত্রী তখন একটা লাল রঙের শাল হাতে নিয়ে জানলায় দাঁড়িয়েছিল, সে চেঁচাতে লাগলো:

“আমি পুলিস ডাকবো না-শোনো-কোনো ভয় নেই-ফিরে এসো-“