১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
মালয়েশিয়ার অর্থনীতি যুদ্ধ মোকাবিলায় শক্তিশালী অবস্থানে নাজিবের ১.৩ বিলিয়ন ডলার ফেরতের আদেশ: মালয়েশিয়ার আদালতের কঠোর রায় ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রিমোট ওয়ার্ক ও বায়োডিজেলের বিশাল পদক্ষেপ ফ্রান্সে ব্যাটারি শিল্পে নতুন দিগন্ত, তাইওয়ানের বিনিয়োগ আকর্ষণে মনোযোগ খাগড়াছড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীকে ঘিরে পরিবারের অভিযোগ ভোটের আগে মুর্শিদাবাদে বিতর্ক: ‘মীর জাফরের বংশধর’ দাবি করা ৩৪৬ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ খ্রিস্টানদের ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটির দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ, আরও ১৪ জেলায় দায়িত্ব বণ্টন জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত: আন্তর্জাতিক বাজারে চাপের মধ্যেও এপ্রিলজুড়ে স্থিতিশীলতা চাঁদপুরে হাম আতঙ্ক: তিন শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে দ্রুত

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -০৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 106

আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

এই বলে ভেলিকানভ মাথাটা পেছনে হেলিয়ে সোজা আকাশের দিকে থুথু ছড়ল। উপস্থিত জনতা হতবুদ্ধি হয়ে নিশ্বাস বন্ধ করে রইল, অপেক্ষা করতে লাগল এই বুঝি আকাশ চৌচির হয়ে মহাপাতকীর মাথায় বজ্রাঘাত হয়। কিন্তু সে-সব কিছুই হল না, আকাশও চৌচির হল না দেখে ভিড়ের মধ্যে থেকে লোকে বলতে লাগল ঐশ্বরিক শাস্তিবিধানের জন্যে অপেক্ষা না করে পাপের প্রকাশ্য শোধন হিসেবে নৈরাজ্যবাদীটার পেছনে একটি লাথি কষানো উচিত।

এ-ধরনের কথাবার্তা কানে যেতে ভেলিকানভ অবিশ্যি সুবুদ্ধির মতো সুড়সুড় করে তাড়াতাড়ি সরে পড়ল। তবে পালাতে গিয়ে তাকে হিংসুটে বুড়ি মারেমিয়ানা সের্গেইয়েভনার হাতে ছোটখাট একটা ঘুষি খেতে হল। এ ছিল গিয়ে সেই বুড়ি যে ঈশ্বরের মাতার সারোভো-প্রতিমূর্তির বাতিগুলো থেকে রোগ- প্রতিষেধক তেল, আর সারোভোর সেরাফিম পরমহংস নিজের হাতে বুনো ভাল্লুক আর নেকড়েদের যে শুকনো রুটির টুকরো খাওয়াতেন তা-ই বিক্রি করত।

যাই হোক, মোটের ওপর আজামাসে বিপ্লবীর সংখ্যা অগুন্তি দেখে আমার তো চক্ষুস্থির। বলতে কি, সকলেই তখন বিপ্লবী বনে গেছে। এমনকি আগে যে লোকটা ছিল সরকারী গ্রাম-অধীক্ষক সেই জাখারভও কোটের ওপর মস্ত বড় একটা লাল রেশমী ফিতে লাগিয়ে ঘুরে বেড়াতে লাগল। পেত্রোগ্রাদ আর মস্কোয় তখন লড়াই চলছিল, বাড়ির ছাদ থেকে পুলিশ গুলি চালাচ্ছিল সেখানে। কিন্তু আমাদের শহরে পুলিশ স্বেচ্ছায় অস্ত্রশস্ত্র ত্যাগ করে, সাধারণ নাগরিকের মতো পোশাক পরে ভালোমানুষের মতো রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে লাগল।

একদিন এক জনসভায় ভিড়ের মধ্যে আবিষ্কার করলুম পুলিশম্যান এভূ‌গ্রাফ তিমোফেয়েভিচকে। বাবাকে গ্রেপ্তার করার সময় সেই যে উপস্থিত ছিল।

এভগ্রাফের হাতে ছিল একটা টুকরি। তা থেকে এক বোতল ভেজিটেবল তেল আর একটা বাঁধাকপি উ’কি দিচ্ছিল। ও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সোশ্যালিস্টদের বক্তৃতা শুনছিল। আমাকে দেখে টুপিতে আঙুল ছাইয়ে তারপর নিচু হয়ে বিনীতভাবে নমস্কার করলে।

বললে, ‘কেমন চলছে? তুমিও শুনতে এসেছ বুঝি? বেশ, বেশ, শোনো… তোমাদের বয়েস অল্প এ-সব ভালো লাগবে বই কি। আমাদের বুড়োদেরই ভালো লাগে তা আর… দেখলে তো, কোথা থেকে কী হয়ে গেল!’

‘বাবাকে গ্রেপ্তার করতে আপনিও এসেছিলেন, মনে পড়ে এগ্রাফ তিমোফেয়েভিচ?’ আমি বললুম। ‘আপনি তখন আইন দেখিয়েছিলেন, আইনের বিরুদ্ধে কেউ যেতে পারে না, এই-সব। তা, এখন আপনার সেই আইন কোথায় গেল? আপনার সেই আইনের এখন দফারফা হয়ে গেছে। আপনাদের, পুলিশদের, সকলের বিচারও হবে, বুঝলেন?’

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ার অর্থনীতি যুদ্ধ মোকাবিলায় শক্তিশালী অবস্থানে

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -০৩)

০৮:০০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

এই বলে ভেলিকানভ মাথাটা পেছনে হেলিয়ে সোজা আকাশের দিকে থুথু ছড়ল। উপস্থিত জনতা হতবুদ্ধি হয়ে নিশ্বাস বন্ধ করে রইল, অপেক্ষা করতে লাগল এই বুঝি আকাশ চৌচির হয়ে মহাপাতকীর মাথায় বজ্রাঘাত হয়। কিন্তু সে-সব কিছুই হল না, আকাশও চৌচির হল না দেখে ভিড়ের মধ্যে থেকে লোকে বলতে লাগল ঐশ্বরিক শাস্তিবিধানের জন্যে অপেক্ষা না করে পাপের প্রকাশ্য শোধন হিসেবে নৈরাজ্যবাদীটার পেছনে একটি লাথি কষানো উচিত।

এ-ধরনের কথাবার্তা কানে যেতে ভেলিকানভ অবিশ্যি সুবুদ্ধির মতো সুড়সুড় করে তাড়াতাড়ি সরে পড়ল। তবে পালাতে গিয়ে তাকে হিংসুটে বুড়ি মারেমিয়ানা সের্গেইয়েভনার হাতে ছোটখাট একটা ঘুষি খেতে হল। এ ছিল গিয়ে সেই বুড়ি যে ঈশ্বরের মাতার সারোভো-প্রতিমূর্তির বাতিগুলো থেকে রোগ- প্রতিষেধক তেল, আর সারোভোর সেরাফিম পরমহংস নিজের হাতে বুনো ভাল্লুক আর নেকড়েদের যে শুকনো রুটির টুকরো খাওয়াতেন তা-ই বিক্রি করত।

যাই হোক, মোটের ওপর আজামাসে বিপ্লবীর সংখ্যা অগুন্তি দেখে আমার তো চক্ষুস্থির। বলতে কি, সকলেই তখন বিপ্লবী বনে গেছে। এমনকি আগে যে লোকটা ছিল সরকারী গ্রাম-অধীক্ষক সেই জাখারভও কোটের ওপর মস্ত বড় একটা লাল রেশমী ফিতে লাগিয়ে ঘুরে বেড়াতে লাগল। পেত্রোগ্রাদ আর মস্কোয় তখন লড়াই চলছিল, বাড়ির ছাদ থেকে পুলিশ গুলি চালাচ্ছিল সেখানে। কিন্তু আমাদের শহরে পুলিশ স্বেচ্ছায় অস্ত্রশস্ত্র ত্যাগ করে, সাধারণ নাগরিকের মতো পোশাক পরে ভালোমানুষের মতো রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে লাগল।

একদিন এক জনসভায় ভিড়ের মধ্যে আবিষ্কার করলুম পুলিশম্যান এভূ‌গ্রাফ তিমোফেয়েভিচকে। বাবাকে গ্রেপ্তার করার সময় সেই যে উপস্থিত ছিল।

এভগ্রাফের হাতে ছিল একটা টুকরি। তা থেকে এক বোতল ভেজিটেবল তেল আর একটা বাঁধাকপি উ’কি দিচ্ছিল। ও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সোশ্যালিস্টদের বক্তৃতা শুনছিল। আমাকে দেখে টুপিতে আঙুল ছাইয়ে তারপর নিচু হয়ে বিনীতভাবে নমস্কার করলে।

বললে, ‘কেমন চলছে? তুমিও শুনতে এসেছ বুঝি? বেশ, বেশ, শোনো… তোমাদের বয়েস অল্প এ-সব ভালো লাগবে বই কি। আমাদের বুড়োদেরই ভালো লাগে তা আর… দেখলে তো, কোথা থেকে কী হয়ে গেল!’

‘বাবাকে গ্রেপ্তার করতে আপনিও এসেছিলেন, মনে পড়ে এগ্রাফ তিমোফেয়েভিচ?’ আমি বললুম। ‘আপনি তখন আইন দেখিয়েছিলেন, আইনের বিরুদ্ধে কেউ যেতে পারে না, এই-সব। তা, এখন আপনার সেই আইন কোথায় গেল? আপনার সেই আইনের এখন দফারফা হয়ে গেছে। আপনাদের, পুলিশদের, সকলের বিচারও হবে, বুঝলেন?’