০৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
ইতিহাস মুছে দিলে বর্তমানকে বোঝা যাবে কীভাবে: রোমিলা থাপার নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে গ্রেপ্তার এনটিএর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক, টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছিল প্রশ্ন ধারে ভোজশালা বিতর্কে নতুন মোড়, আদালতের রায়ের পর বদলে যাচ্ছে ঐতিহাসিক কমপ্লেক্সের চেহারা প্রতারণার ভূগোল বদলাচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার নতুন ঝুঁকিতে শ্রীলঙ্কা ইন্দোনেশিয়ার বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচিতে সমস্যা স্বীকার প্রেসিডেন্ট প্রাবোর ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাপেও নতি স্বীকারে রাজি নয় ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে দীর্ঘ অচলাবস্থার আশঙ্কা চীন সফরে ট্রাম্পের ‘স্থিতিশীলতা’, কিন্তু অচলাবস্থাই রইল যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে ইবোলা আতঙ্কে কঙ্গো-উগান্ডা, বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ব্যাংককে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, চালকের বিরুদ্ধে অবহেলার মামলা রাষ্ট্রপতির যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে ‘ভিত্তিহীন’ প্রতিবেদন, ব্যয়ের বিষয়ে বঙ্গভবনের ব্যাখ্যা

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ২৭)

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 105

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

সেই সবে মাত্র আমি তোমার জন্যে একখানি চিঠি ডাকে পাঠিয়েছি, এমন সময় “টলস্টয়ের পলায়ন” সম্পর্কে টেলিগ্রাম এসে পৌঁছল। তাই আবার আমি তোমার সংগে চিন্তায় একাত্ম হ’য়ে লিখতে বসেছি।

সম্ভবত এই সংবাদ সম্পর্কে আমি যা বলব, তার সবটুকুই তোমার দুর্বোধ্য লাগবে, এমন কি হয়তো রূঢ় এবং বদমেজাজী। সেজন্যে আমি তোমার কাছে মার্জনা চাই। কে যেন আমার গলা চেপে আমার শ্বাসরোধ করবার চেষ্টা করছে-এমনি একটা ভাব আমি কেবলই ‘অনুভব করছি। তাঁর সংগে আমার বহু দীর্ঘ আলাপ আলোচনা ঘটেছিল। তিনি যখন ক্রিমিয়ার গ্রাসপায় ছিলেন, তখন তাঁর কাছে প্রায়ই আমি যেতাম, এবং তিনিও আসতেন আমার কাছে। আমি তাঁর সমস্ত রচনা গভীর শ্রদ্ধার সংগে পড়েছি। তাই আমার মনে হয়, তাঁর সম্বন্ধে আমার যা ধারণা, তা বলবার মতো অধিকার আমার আছে -এমন কি, তা যদি দুঃসাহসের পরিচয় দেয় বা প্রচলিত জনমতের সংগে গভীর পার্থক্যের সূচনা করে, তবু।

অন্য সকলের মতোই আমি-ও জানি, প্রতিভা নামের যোগ্যতা তাঁর যতোখানি ছিল, তেমনটি আর কারো নেই। সকল বিষয়েই তিনি ছিলেন অন্য সবার চেয়ে আরো জটিল, আরো বিরুদ্ধতাপূর্ণ, আরো মহান্-হ্যা, সকল বিষয়েই। মহান-এক অদ্ভুত ধরণের অবারিত, উদার একটি ভাব, ভাষায় যার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর মধ্যে এমন একটি বস্তু ছিল, যার জন্যে সমস্ত ছনিয়ার লোকের কাছে আমার চীৎকার ক’রে বলতে ইচ্ছা করতো, “দ্যাখো, চেয়ে দ্যাখো, কী বিস্ময়কর একটি মানুষ পৃথিবীতে বেঁচে আছেন।” কারণ, সত্যি বলতে গেলে, সমস্ত পৃথিবীতে তিনিই ছিলেন একটি মাত্র মানুষ-সমস্ত মানুষের উর্ধ্বে, মানুষের মতো একটি মাত্র মানুষ।

কিন্তু তাঁর মধ্যে একটি বস্তু সর্বদাই আমাকে আঘাত করত। সেটি ছিল কাউন্ট টলস্টয়ের জীবনকে একটি “ঈশ্বর প্রেরিত ধর্মপ্রচারক লিওর ঋষিতুল্য জীবনে” রূপান্তরিত করার জন্যে তাঁর অবিরাম দুর্বার ইচ্ছা। তুমি তো জানো, তিনি দীর্ঘকাল ধ’রে দুঃখ-যন্ত্রণাকে বরণ করতে চেয়েছেন। যন্ত্রণার বিরুদ্ধে আপনার ইচ্ছার প্রতিরোধী শক্তিকে পরীক্ষা ক’রে দেখবার স্বাভাবিক বাসনায় তা তিনি চাননি। তিনি চেয়েছিলেন যন্ত্রণাকে সহজভাবে গ্রহণ করবার ইচ্ছায়। তাঁর ধর্মসংক্রান্ত মতামতগুলির প্রভাব এবং তাঁর উপদেশাবলীর গুরুত্ব বৃদ্ধি করবার উদ্দেশ্যে তিনি এমনটি করেছিলেন।

তিনি ভেবেছিলেন, এই যন্ত্রণা সহনের মধ্য দিয়েই মানুষের কাছে তিনি তাঁর উপদেশ- গুলিকে দুর্ণিবার এবং পবিত্র ক’রে তুলবেন, এবং এইভাবে সেগুলিকে গ্রহণ করতে তাদের বাধ্য করবেন। কিন্তু সে বিষয়ে তিনি যে সফল হন নি, তা তিনি ই, সলভিঅভ এবং সুলারের কাছে স্বীকার করেছিলেন। মনে রেখো, আমার বাধ্য করবেন কথাটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইতিহাস মুছে দিলে বর্তমানকে বোঝা যাবে কীভাবে: রোমিলা থাপার

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ২৭)

০৩:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

সেই সবে মাত্র আমি তোমার জন্যে একখানি চিঠি ডাকে পাঠিয়েছি, এমন সময় “টলস্টয়ের পলায়ন” সম্পর্কে টেলিগ্রাম এসে পৌঁছল। তাই আবার আমি তোমার সংগে চিন্তায় একাত্ম হ’য়ে লিখতে বসেছি।

সম্ভবত এই সংবাদ সম্পর্কে আমি যা বলব, তার সবটুকুই তোমার দুর্বোধ্য লাগবে, এমন কি হয়তো রূঢ় এবং বদমেজাজী। সেজন্যে আমি তোমার কাছে মার্জনা চাই। কে যেন আমার গলা চেপে আমার শ্বাসরোধ করবার চেষ্টা করছে-এমনি একটা ভাব আমি কেবলই ‘অনুভব করছি। তাঁর সংগে আমার বহু দীর্ঘ আলাপ আলোচনা ঘটেছিল। তিনি যখন ক্রিমিয়ার গ্রাসপায় ছিলেন, তখন তাঁর কাছে প্রায়ই আমি যেতাম, এবং তিনিও আসতেন আমার কাছে। আমি তাঁর সমস্ত রচনা গভীর শ্রদ্ধার সংগে পড়েছি। তাই আমার মনে হয়, তাঁর সম্বন্ধে আমার যা ধারণা, তা বলবার মতো অধিকার আমার আছে -এমন কি, তা যদি দুঃসাহসের পরিচয় দেয় বা প্রচলিত জনমতের সংগে গভীর পার্থক্যের সূচনা করে, তবু।

অন্য সকলের মতোই আমি-ও জানি, প্রতিভা নামের যোগ্যতা তাঁর যতোখানি ছিল, তেমনটি আর কারো নেই। সকল বিষয়েই তিনি ছিলেন অন্য সবার চেয়ে আরো জটিল, আরো বিরুদ্ধতাপূর্ণ, আরো মহান্-হ্যা, সকল বিষয়েই। মহান-এক অদ্ভুত ধরণের অবারিত, উদার একটি ভাব, ভাষায় যার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর মধ্যে এমন একটি বস্তু ছিল, যার জন্যে সমস্ত ছনিয়ার লোকের কাছে আমার চীৎকার ক’রে বলতে ইচ্ছা করতো, “দ্যাখো, চেয়ে দ্যাখো, কী বিস্ময়কর একটি মানুষ পৃথিবীতে বেঁচে আছেন।” কারণ, সত্যি বলতে গেলে, সমস্ত পৃথিবীতে তিনিই ছিলেন একটি মাত্র মানুষ-সমস্ত মানুষের উর্ধ্বে, মানুষের মতো একটি মাত্র মানুষ।

কিন্তু তাঁর মধ্যে একটি বস্তু সর্বদাই আমাকে আঘাত করত। সেটি ছিল কাউন্ট টলস্টয়ের জীবনকে একটি “ঈশ্বর প্রেরিত ধর্মপ্রচারক লিওর ঋষিতুল্য জীবনে” রূপান্তরিত করার জন্যে তাঁর অবিরাম দুর্বার ইচ্ছা। তুমি তো জানো, তিনি দীর্ঘকাল ধ’রে দুঃখ-যন্ত্রণাকে বরণ করতে চেয়েছেন। যন্ত্রণার বিরুদ্ধে আপনার ইচ্ছার প্রতিরোধী শক্তিকে পরীক্ষা ক’রে দেখবার স্বাভাবিক বাসনায় তা তিনি চাননি। তিনি চেয়েছিলেন যন্ত্রণাকে সহজভাবে গ্রহণ করবার ইচ্ছায়। তাঁর ধর্মসংক্রান্ত মতামতগুলির প্রভাব এবং তাঁর উপদেশাবলীর গুরুত্ব বৃদ্ধি করবার উদ্দেশ্যে তিনি এমনটি করেছিলেন।

তিনি ভেবেছিলেন, এই যন্ত্রণা সহনের মধ্য দিয়েই মানুষের কাছে তিনি তাঁর উপদেশ- গুলিকে দুর্ণিবার এবং পবিত্র ক’রে তুলবেন, এবং এইভাবে সেগুলিকে গ্রহণ করতে তাদের বাধ্য করবেন। কিন্তু সে বিষয়ে তিনি যে সফল হন নি, তা তিনি ই, সলভিঅভ এবং সুলারের কাছে স্বীকার করেছিলেন। মনে রেখো, আমার বাধ্য করবেন কথাটি।