০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
ডুরান্ড লাইনে সম্পর্কের ফাটল: পাকিস্তান–তালিবান দ্বন্দ্ব কোন দিকে যাচ্ছে বৃষ্টির স্মৃতি ও নগর প্লাবন: কেন ভারতীয় শহরগুলোতে জল নামতে চায় না বিলাসিতা ছেড়ে শিল্পায়নের পথে ড্যাংগোটে, আফ্রিকাজুড়ে শিল্প বিপ্লবের স্বপ্ন তামিলনাড়ুতে মানজুভিরাট্টুতে তাণ্ডব, বলদের গুঁতোয় নিহত ৩ দর্শক আমেরিকার ইরান আক্রমণের উদ্দেশ্য কি “ইসলামিক রিপাবলিক ২.০- না অন্যকিছু” চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদে পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষোভ, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ ‘নো রেজিম চেঞ্জ’ থেকে সরকার পতনের ডাক: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নাটকীয় অবস্থান বদল বছরের সর্বোচ্চ ধস: ডিএসই-সিএসইতে সূচকের বড় পতন, অধিকাংশ শেয়ারে দরপতন মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ৪ দিনে ঢাকা-চট্টগ্রামে ১৮২ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রী ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন ট্রাম্প, খামেনি হত্যার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পেছনের গল্প

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -১২)

  • Sarakhon Report
  • ০৭:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 76

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

দাঁড়কাক বলেছিলেন, ‘আমাদের যেতেই হবে। সত্যিকার লড়াই হবে ওখানে। ‘এস-আর’-দের পক্ষে ক্রুগুলিকভ স্বয়ং বক্তিমে ঝাড়বে। ওর ধানাই-পানাই একবার শোনা উচিত তোমার। বুঝেছ, ইভানোস্কোয়েতে ওর এমনি এক বক্তিমে শোনার পর চাষীদের এমন ধোঁকা লেগে গেল যে তারা আমাদের মারে আর কী।’

আমি আগ্রহ নিয়ে বললুম, ‘চলুন তাহলে। আচ্ছা, সেমিওন ইভানোভিচ, আপনি কখনও আপনার রিভলবার সঙ্গে নেন না কেন বলুন তো? ওটা তো আমি যেখানে- সেখানে পড়ে থাকতে দেখি। একদিন দেখলুম ওটা আপনার তামাকের টিনে রয়েছে, আবার কাল দেখি রিভলবার রয়েছে আপনার রুটির টুকরিতে। আমি কিন্তু আমার রিভলবার সবসময়ে সঙ্গে নিয়ে বেড়াই। ঘুমনোর সময়ও আমি ওটাকে বালিশের নিচে রেখে দিই।’

দাঁড়কাক হাসলেন। সেই সঙ্গে ওঁর দাড়ির গায়ে লেগে থাকা মাখোরকা তামাকের টুকরোগুলো দুলে উঠল।

বললেন, ‘তুমি এখনও বড্ড ছেলেমানুষ আছ, গোরিকভ। আরে, বক্তৃতায় কাজ না হলে লোকে ত আমায় মারতে পারে, কিন্তু এখন যদি রিভলবার বের করি তাহলে উলটে লোকে আমায় খুড়ে মাংসর কিমা বানিয়ে দেবে যে। সময় হলেই রিভলবার ব্যবহার করব বৈ কি! তবে এখন আমাদের সবচেয়ে ভালো অস্য হল কথা। আজ আমদের হয়ে বাস্কাকভ বক্তৃতা দেবে।’

আমি অবাক হলুম, ‘বাস্স্কাকত? কিন্তু ও তো খুব খারাপ বক্তা। পরপর সাজিয়ে কথাই বলতে পারে না। ওর একটা কথার পর দ্বিতীয় কথা বলার ফাঁকে এক ঘুম ঘুমিয়ে নেয়া যায়।’

‘এখানে ওকে এরকম দেখছ, কিন্তু সভায় ওর বক্তৃতা শুনো, তাক লেগে যাবে।’

পুরনো, ঝরঝরে একটা পুল পেরিয়ে ছিল কামেল্কা যাবার রাস্তা। রাস্তার দু-পাশে ঘাস-ভরা বন্যার জল জমা মাঠ আর লম্বা, ঘন শর-গাছে ভরা সরু সরু নালি। সেদিন শহর-ফেরা চাষীদের ঘোড়ায়-টানা গাড়ি লম্বা সার বে’ধে রাস্তা জুড়ে চলেছিল। চাষী-মেয়েরা খালি পায়ে দুধের খালি টিন নিয়ে শহরের বাজার থেকে ঘরে ফিরছিল। আস্তে-ধীরে এগোচ্ছিলুম আমরা, এমন সময় ‘এস-আর’-দের লোকে- ভরতি একটা দ্রোঙ্কি গাড়ি আমাদের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে আমরাও দ্রুত পা চালালুম।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ডুরান্ড লাইনে সম্পর্কের ফাটল: পাকিস্তান–তালিবান দ্বন্দ্ব কোন দিকে যাচ্ছে

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -১২)

০৭:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

দাঁড়কাক বলেছিলেন, ‘আমাদের যেতেই হবে। সত্যিকার লড়াই হবে ওখানে। ‘এস-আর’-দের পক্ষে ক্রুগুলিকভ স্বয়ং বক্তিমে ঝাড়বে। ওর ধানাই-পানাই একবার শোনা উচিত তোমার। বুঝেছ, ইভানোস্কোয়েতে ওর এমনি এক বক্তিমে শোনার পর চাষীদের এমন ধোঁকা লেগে গেল যে তারা আমাদের মারে আর কী।’

আমি আগ্রহ নিয়ে বললুম, ‘চলুন তাহলে। আচ্ছা, সেমিওন ইভানোভিচ, আপনি কখনও আপনার রিভলবার সঙ্গে নেন না কেন বলুন তো? ওটা তো আমি যেখানে- সেখানে পড়ে থাকতে দেখি। একদিন দেখলুম ওটা আপনার তামাকের টিনে রয়েছে, আবার কাল দেখি রিভলবার রয়েছে আপনার রুটির টুকরিতে। আমি কিন্তু আমার রিভলবার সবসময়ে সঙ্গে নিয়ে বেড়াই। ঘুমনোর সময়ও আমি ওটাকে বালিশের নিচে রেখে দিই।’

দাঁড়কাক হাসলেন। সেই সঙ্গে ওঁর দাড়ির গায়ে লেগে থাকা মাখোরকা তামাকের টুকরোগুলো দুলে উঠল।

বললেন, ‘তুমি এখনও বড্ড ছেলেমানুষ আছ, গোরিকভ। আরে, বক্তৃতায় কাজ না হলে লোকে ত আমায় মারতে পারে, কিন্তু এখন যদি রিভলবার বের করি তাহলে উলটে লোকে আমায় খুড়ে মাংসর কিমা বানিয়ে দেবে যে। সময় হলেই রিভলবার ব্যবহার করব বৈ কি! তবে এখন আমাদের সবচেয়ে ভালো অস্য হল কথা। আজ আমদের হয়ে বাস্কাকভ বক্তৃতা দেবে।’

আমি অবাক হলুম, ‘বাস্স্কাকত? কিন্তু ও তো খুব খারাপ বক্তা। পরপর সাজিয়ে কথাই বলতে পারে না। ওর একটা কথার পর দ্বিতীয় কথা বলার ফাঁকে এক ঘুম ঘুমিয়ে নেয়া যায়।’

‘এখানে ওকে এরকম দেখছ, কিন্তু সভায় ওর বক্তৃতা শুনো, তাক লেগে যাবে।’

পুরনো, ঝরঝরে একটা পুল পেরিয়ে ছিল কামেল্কা যাবার রাস্তা। রাস্তার দু-পাশে ঘাস-ভরা বন্যার জল জমা মাঠ আর লম্বা, ঘন শর-গাছে ভরা সরু সরু নালি। সেদিন শহর-ফেরা চাষীদের ঘোড়ায়-টানা গাড়ি লম্বা সার বে’ধে রাস্তা জুড়ে চলেছিল। চাষী-মেয়েরা খালি পায়ে দুধের খালি টিন নিয়ে শহরের বাজার থেকে ঘরে ফিরছিল। আস্তে-ধীরে এগোচ্ছিলুম আমরা, এমন সময় ‘এস-আর’-দের লোকে- ভরতি একটা দ্রোঙ্কি গাড়ি আমাদের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে আমরাও দ্রুত পা চালালুম।