১১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
মার্কিন পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়াল — ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ ‘নিজেদের তেল নিজেরা নাও’ — মিত্রদের একা ছেড়ে দিলেন ট্রাম্প যুদ্ধের আড়ালে নিপীড়ন: ইরানে দুই রাজনৈতিক বন্দীর ফাঁসি, ইউরোপে বিক্ষোভ মধ্যপ্রাচ্যে আরো ৬ হাজার সেনা পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র — USS George H.W. Bush রওয়ানা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘আমরা ছয় মাস যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত, কোনো আলোচনা চলছে না’ ইসরায়েল তেহরান ও বৈরুতে একযোগে হামলা — লেবাননে ৭ জন নিহত, হিজবুল্লাহ কমান্ডার খতম ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে যৌথ অভিযানে ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা ট্রাম্প: ‘ইরানকে চুক্তি করতে হবে না’ — একতরফাভাবে সরে আসার ইঙ্গিত আজ রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প — ইরান নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ আপডেট’ আসছে কাতারের উপকূলে তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৪৫)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 83

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

‘কিসের?’ অন্যমনস্কভাবে আমি বললুম।

‘পঞ্চাশ কোপেক যোগাড়ের অনেক চেষ্টা করলাম। সিমন কোতিলকিন- ওই-যে আমাদেরই দলের নোক ওর কাছে চাইলাম। তা ও কইল ওর কাছে অত কোপেক হবে না।’

‘পঞ্চাশ কোপেক দিয়ে কী হবে?’

‘বা-রে, তুমি চাইলে না তখন?’ আমার দিকে অবাক হয়ে তাকাল ও। ‘পঞ্চাশ কোপেক পেলি তুমি টিকিট কেটে সরমোভো যেতি পারবে। তারপর ওখেনে গিয়ে মামার কাছ থেকে পয়সা লিয়ে আমারে ফেরত দিও’খন। আরে, আমিও তো সরমোভোরই নোক।’ আবার একবার উধাও হয়ে গিয়ে এবার তাড়াতাড়ি ফিরল ও।

‘টিকিট ছাড়াই চলবে, বুইলে ইয়ার। আমার ওই ইস্তাহারগুলো লিয়ে সোজা ইস্টিমারে উঠে যাও দিকি। রাইফেল-কাঁধে মাল্লারে দেখছ তো, উই যে দাঁড়িয়ে আছে? ওর নাম, পাশকা সরকভ। ইস্টিমারে ওঠার পথে ওর দিকে তাকিয়ে কইবে, এই ইন্তেহারগুলো কমিটির কাছে লিয়ে যাচ্ছি। টিকিটবাবুর সঙ্গে কিন্তু একদম কথা কোয়ো না, কেমন? যাও, সিধে চলে যাও। মাল্লাটি আমাদেরই নোক। কিছু হলে ও-ই তোমারে সাহায্য করবে।’

‘আর তুমি?’

‘আমি যে করি হোক চলে যাব’খনি, ইয়ার। আমি তো এখেনকারই নোক, নাকি?’

আদ্যিকালের ইস্টিমারটা নোংরায় থিকথিক করছিল। ফলের খোসায়, তুষ-ভুসিতে আর আপেলের চোষা ছিবড়েয় চারিদিক একেবারে থইথই করছিল। অনেকক্ষণ ছেড়ে দিয়েছিল স্টিমারটা, কিন্তু তখনও আমার সঙ্গীর দেখা নেই।

এক জায়গায় স্তূপ-করে-রাখা নোঙরের মরচে-ধরা শেকলের ওপর বসার জায়গা করে নিলুম। আপেল, পেট্রোল আর মাছের গন্ধে-ভরা ঠান্ডা বাতাসে নিশ্বাস নিতে-নিতে স্টিমারের যাত্রীদের ভালো করে লক্ষ্য করতে লাগলুম। আমার পাশেই বসে ছিলেন একজন পাদ্রি – তিনি ডাঁকন না সন্ন্যাসী ঠিক ধরা যাচ্ছিল না খুব শান্তভাবে, যেন নিজেকে অদৃশ্য রাখতে পারলেই বাঁচেন এমনি ভাবে তিনি বসে ছিলেন। মাঝে মাঝে চোরা-চাউনিতে চারদিক ঠাহর করছিলেন আর তরমুজের ফালিতে কামড় বসিয়ে খেতে-খেতে বিচিগুলো সাবধানে নিজের হাতে রাখছিলেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়াল — ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৪৫)

০৮:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

‘কিসের?’ অন্যমনস্কভাবে আমি বললুম।

‘পঞ্চাশ কোপেক যোগাড়ের অনেক চেষ্টা করলাম। সিমন কোতিলকিন- ওই-যে আমাদেরই দলের নোক ওর কাছে চাইলাম। তা ও কইল ওর কাছে অত কোপেক হবে না।’

‘পঞ্চাশ কোপেক দিয়ে কী হবে?’

‘বা-রে, তুমি চাইলে না তখন?’ আমার দিকে অবাক হয়ে তাকাল ও। ‘পঞ্চাশ কোপেক পেলি তুমি টিকিট কেটে সরমোভো যেতি পারবে। তারপর ওখেনে গিয়ে মামার কাছ থেকে পয়সা লিয়ে আমারে ফেরত দিও’খন। আরে, আমিও তো সরমোভোরই নোক।’ আবার একবার উধাও হয়ে গিয়ে এবার তাড়াতাড়ি ফিরল ও।

‘টিকিট ছাড়াই চলবে, বুইলে ইয়ার। আমার ওই ইস্তাহারগুলো লিয়ে সোজা ইস্টিমারে উঠে যাও দিকি। রাইফেল-কাঁধে মাল্লারে দেখছ তো, উই যে দাঁড়িয়ে আছে? ওর নাম, পাশকা সরকভ। ইস্টিমারে ওঠার পথে ওর দিকে তাকিয়ে কইবে, এই ইন্তেহারগুলো কমিটির কাছে লিয়ে যাচ্ছি। টিকিটবাবুর সঙ্গে কিন্তু একদম কথা কোয়ো না, কেমন? যাও, সিধে চলে যাও। মাল্লাটি আমাদেরই নোক। কিছু হলে ও-ই তোমারে সাহায্য করবে।’

‘আর তুমি?’

‘আমি যে করি হোক চলে যাব’খনি, ইয়ার। আমি তো এখেনকারই নোক, নাকি?’

আদ্যিকালের ইস্টিমারটা নোংরায় থিকথিক করছিল। ফলের খোসায়, তুষ-ভুসিতে আর আপেলের চোষা ছিবড়েয় চারিদিক একেবারে থইথই করছিল। অনেকক্ষণ ছেড়ে দিয়েছিল স্টিমারটা, কিন্তু তখনও আমার সঙ্গীর দেখা নেই।

এক জায়গায় স্তূপ-করে-রাখা নোঙরের মরচে-ধরা শেকলের ওপর বসার জায়গা করে নিলুম। আপেল, পেট্রোল আর মাছের গন্ধে-ভরা ঠান্ডা বাতাসে নিশ্বাস নিতে-নিতে স্টিমারের যাত্রীদের ভালো করে লক্ষ্য করতে লাগলুম। আমার পাশেই বসে ছিলেন একজন পাদ্রি – তিনি ডাঁকন না সন্ন্যাসী ঠিক ধরা যাচ্ছিল না খুব শান্তভাবে, যেন নিজেকে অদৃশ্য রাখতে পারলেই বাঁচেন এমনি ভাবে তিনি বসে ছিলেন। মাঝে মাঝে চোরা-চাউনিতে চারদিক ঠাহর করছিলেন আর তরমুজের ফালিতে কামড় বসিয়ে খেতে-খেতে বিচিগুলো সাবধানে নিজের হাতে রাখছিলেন।