০৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা গ্যান্ডারবাল কেন্দ্রীয় কাশ্মীরে সন্ত্রাসী নিহত, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে চিকিৎসক দম্পতিকে UAPA-তে মামলা “ভোটাধিকার চিরস্থায়ীভাবে বিলোপ করা যায় না” পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বাদপ্রাপ্তদের প্রসঙ্গে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যুদ্ধের প্রভাবে এলপিজি ও বিমান ভ্রমণের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শেনানডোহ তেলের ক্ষেত্রের জন্য বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানিগুলোর দৌড়, মার্কিন উপসাগরীয় প্রযুক্তিগত তেলে বিপুল আগ্রহ তেলের দাম আকাশছোঁয়া, মার্কিন–ইরান সংঘাতের তীব্র প্রভাব বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ল, শেয়ারবাজারে অস্থিরতার ছায়া নেমেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনের অবদান চিরস্মরণীয় থাকবে: আসিফ মাহমুদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী-ছাত্রদের হেলমেট পরিধান, ছাদ ভেঙে পড়ার আতঙ্ক লক্ষ্মীপুরে স্কুলের ছাদ ধসে তিন শিক্ষার্থী আহত

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৪৫)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 86

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

‘কিসের?’ অন্যমনস্কভাবে আমি বললুম।

‘পঞ্চাশ কোপেক যোগাড়ের অনেক চেষ্টা করলাম। সিমন কোতিলকিন- ওই-যে আমাদেরই দলের নোক ওর কাছে চাইলাম। তা ও কইল ওর কাছে অত কোপেক হবে না।’

‘পঞ্চাশ কোপেক দিয়ে কী হবে?’

‘বা-রে, তুমি চাইলে না তখন?’ আমার দিকে অবাক হয়ে তাকাল ও। ‘পঞ্চাশ কোপেক পেলি তুমি টিকিট কেটে সরমোভো যেতি পারবে। তারপর ওখেনে গিয়ে মামার কাছ থেকে পয়সা লিয়ে আমারে ফেরত দিও’খন। আরে, আমিও তো সরমোভোরই নোক।’ আবার একবার উধাও হয়ে গিয়ে এবার তাড়াতাড়ি ফিরল ও।

‘টিকিট ছাড়াই চলবে, বুইলে ইয়ার। আমার ওই ইস্তাহারগুলো লিয়ে সোজা ইস্টিমারে উঠে যাও দিকি। রাইফেল-কাঁধে মাল্লারে দেখছ তো, উই যে দাঁড়িয়ে আছে? ওর নাম, পাশকা সরকভ। ইস্টিমারে ওঠার পথে ওর দিকে তাকিয়ে কইবে, এই ইন্তেহারগুলো কমিটির কাছে লিয়ে যাচ্ছি। টিকিটবাবুর সঙ্গে কিন্তু একদম কথা কোয়ো না, কেমন? যাও, সিধে চলে যাও। মাল্লাটি আমাদেরই নোক। কিছু হলে ও-ই তোমারে সাহায্য করবে।’

‘আর তুমি?’

‘আমি যে করি হোক চলে যাব’খনি, ইয়ার। আমি তো এখেনকারই নোক, নাকি?’

আদ্যিকালের ইস্টিমারটা নোংরায় থিকথিক করছিল। ফলের খোসায়, তুষ-ভুসিতে আর আপেলের চোষা ছিবড়েয় চারিদিক একেবারে থইথই করছিল। অনেকক্ষণ ছেড়ে দিয়েছিল স্টিমারটা, কিন্তু তখনও আমার সঙ্গীর দেখা নেই।

এক জায়গায় স্তূপ-করে-রাখা নোঙরের মরচে-ধরা শেকলের ওপর বসার জায়গা করে নিলুম। আপেল, পেট্রোল আর মাছের গন্ধে-ভরা ঠান্ডা বাতাসে নিশ্বাস নিতে-নিতে স্টিমারের যাত্রীদের ভালো করে লক্ষ্য করতে লাগলুম। আমার পাশেই বসে ছিলেন একজন পাদ্রি – তিনি ডাঁকন না সন্ন্যাসী ঠিক ধরা যাচ্ছিল না খুব শান্তভাবে, যেন নিজেকে অদৃশ্য রাখতে পারলেই বাঁচেন এমনি ভাবে তিনি বসে ছিলেন। মাঝে মাঝে চোরা-চাউনিতে চারদিক ঠাহর করছিলেন আর তরমুজের ফালিতে কামড় বসিয়ে খেতে-খেতে বিচিগুলো সাবধানে নিজের হাতে রাখছিলেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৪৫)

০৮:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

‘কিসের?’ অন্যমনস্কভাবে আমি বললুম।

‘পঞ্চাশ কোপেক যোগাড়ের অনেক চেষ্টা করলাম। সিমন কোতিলকিন- ওই-যে আমাদেরই দলের নোক ওর কাছে চাইলাম। তা ও কইল ওর কাছে অত কোপেক হবে না।’

‘পঞ্চাশ কোপেক দিয়ে কী হবে?’

‘বা-রে, তুমি চাইলে না তখন?’ আমার দিকে অবাক হয়ে তাকাল ও। ‘পঞ্চাশ কোপেক পেলি তুমি টিকিট কেটে সরমোভো যেতি পারবে। তারপর ওখেনে গিয়ে মামার কাছ থেকে পয়সা লিয়ে আমারে ফেরত দিও’খন। আরে, আমিও তো সরমোভোরই নোক।’ আবার একবার উধাও হয়ে গিয়ে এবার তাড়াতাড়ি ফিরল ও।

‘টিকিট ছাড়াই চলবে, বুইলে ইয়ার। আমার ওই ইস্তাহারগুলো লিয়ে সোজা ইস্টিমারে উঠে যাও দিকি। রাইফেল-কাঁধে মাল্লারে দেখছ তো, উই যে দাঁড়িয়ে আছে? ওর নাম, পাশকা সরকভ। ইস্টিমারে ওঠার পথে ওর দিকে তাকিয়ে কইবে, এই ইন্তেহারগুলো কমিটির কাছে লিয়ে যাচ্ছি। টিকিটবাবুর সঙ্গে কিন্তু একদম কথা কোয়ো না, কেমন? যাও, সিধে চলে যাও। মাল্লাটি আমাদেরই নোক। কিছু হলে ও-ই তোমারে সাহায্য করবে।’

‘আর তুমি?’

‘আমি যে করি হোক চলে যাব’খনি, ইয়ার। আমি তো এখেনকারই নোক, নাকি?’

আদ্যিকালের ইস্টিমারটা নোংরায় থিকথিক করছিল। ফলের খোসায়, তুষ-ভুসিতে আর আপেলের চোষা ছিবড়েয় চারিদিক একেবারে থইথই করছিল। অনেকক্ষণ ছেড়ে দিয়েছিল স্টিমারটা, কিন্তু তখনও আমার সঙ্গীর দেখা নেই।

এক জায়গায় স্তূপ-করে-রাখা নোঙরের মরচে-ধরা শেকলের ওপর বসার জায়গা করে নিলুম। আপেল, পেট্রোল আর মাছের গন্ধে-ভরা ঠান্ডা বাতাসে নিশ্বাস নিতে-নিতে স্টিমারের যাত্রীদের ভালো করে লক্ষ্য করতে লাগলুম। আমার পাশেই বসে ছিলেন একজন পাদ্রি – তিনি ডাঁকন না সন্ন্যাসী ঠিক ধরা যাচ্ছিল না খুব শান্তভাবে, যেন নিজেকে অদৃশ্য রাখতে পারলেই বাঁচেন এমনি ভাবে তিনি বসে ছিলেন। মাঝে মাঝে চোরা-চাউনিতে চারদিক ঠাহর করছিলেন আর তরমুজের ফালিতে কামড় বসিয়ে খেতে-খেতে বিচিগুলো সাবধানে নিজের হাতে রাখছিলেন।