০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধের আড়ালে নিপীড়ন: ইরানে দুই রাজনৈতিক বন্দীর ফাঁসি, ইউরোপে বিক্ষোভ মধ্যপ্রাচ্যে আরো ৬ হাজার সেনা পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র — USS George H.W. Bush রওয়ানা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘আমরা ছয় মাস যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত, কোনো আলোচনা চলছে না’ ইসরায়েল তেহরান ও বৈরুতে একযোগে হামলা — লেবাননে ৭ জন নিহত, হিজবুল্লাহ কমান্ডার খতম ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে যৌথ অভিযানে ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা ট্রাম্প: ‘ইরানকে চুক্তি করতে হবে না’ — একতরফাভাবে সরে আসার ইঙ্গিত আজ রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প — ইরান নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ আপডেট’ আসছে কাতারের উপকূলে তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত কুয়েত বিমানবন্দরের জ্বালানি ডিপোতে ইরানের ড্রোন হামলা — বিশাল আগুন পাসওভারের রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলে — ১০ বছরের শিশু গুরুতর আহত

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৫৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 116

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

জারের কাছে অমনধারা বিচার তো আমাদের দেশের নোক হামেশাই পেয়ে এসেছে, ও আমাদের গা-সহা হয়ে গিইছিল। কিন্তু এই মোসাহেবদের কাছে অমনধারা ব্যাভার কোন্ শালা আশা করেছিল, কও দেখি। জেনারেল আর অফিসারবাবুরা লাল ফিতে পরি প্যাখম মেলে বেড়াচ্ছে, দেখলি মনে হবে বাবুরা বুঝি বিপ্লবের পেয়ারের দোস্ত। এদিকে আমরা শালা একটু কিছু করলেই সটান একদম গারদবাস। সব্বদা আমাদের পেছনে তাড়া করা হচ্ছে, আমাদের হয়রান করা হচ্ছে। এ আমার একার নালিশ লয়। আমি আমার সকল কমরেডের কথা বলছি, বাড়তি দু-মাস আমি জেল খেটেছি সে কথা লয়। আমি যা বলছি, তা আপনাদের নালিশ, শ্রমিকভাইদের সকলের নালিশ।’

হঠাৎ কাশির দমক শুরু হয়ে গেল বক্তার। কিছুক্ষণ পর কাশি থামলে তিনি ফের শুরু করতে যাবেন, কিন্তু মুখ খোলামাত্র ফের সেই কাশি শুরু হল। বেশ কিছুক্ষণ তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন ওইভাবে, মঞ্চের সি’ড়ির রেলিঙ চেপে ধরে কাশির দমকে কাঁপতে থাকলেন। তারপর মাথা নেড়ে নিচে নেমে পড়লেন।

ভিড়ের মধ্যে থেকে কে একজন চিৎকার করে রাগত গলায় বললে, ‘ওর জান বিলকুল খতম করে দিয়েচে শালারা!’

পাঁশুটে, মেঘেঢাকা আকাশ থেকে গাঁড়ো-গুড়ো তুষার ঝরতে শুরু করল। বছরের সেই প্রথম তুষারপাত। শুকনো, ঠান্ডা বাতাস গাছের শেষ পচা পাতাগুলো খসিয়ে নিল। আমার পাদুটো জমে যাচ্ছিল ঠান্ডায়। ভিড়ের বাইরে বেরিয়ে জোরে-জোরে হে’টে গা-টা গরম করতে ইচ্ছে হল। দুই কনুইয়ের গুতো দিয়ে পথ করে বাইরে আসার সময় পেছনের বক্তাদের আমি দেখতে পাচ্ছিলুম না। এমন সময় হঠাৎ আমার পরিচিত একটা উঁচু গলার আওয়াজ শুনে পেছন ফিরে মন্ডের দিকে তাকালুম। তুষারের গুঁড়োয় চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছিল। লোকে আমায় ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছিল। কে একজন আমার পা মাড়িয়ে যেন গুঁড়িয়ে দিল। তা সত্ত্বেও পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে ডিঙি মেরে যা দেখলুম তাতে আমার বিস্ময়ের আর আনন্দের পরিসীমা রইল না। দেখলুম, মঞ্চের ওপর দাঁড়কাকের সেই পরিচিত দাড়িভর্তি মুখখানা দেখা যাচ্ছে।

প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে প্রাণপণ কষ্ট করে ভিড় ঠেলে এগোতে লাগলুম। প্রতি মুহূর্তে ভয় হচ্ছিল, এই বুঝি দাঁড়কাক বক্তৃতা শেষ করে ভিড়ে মিশে যান। তাহলে হাজার চিৎকার করে ডাকলেও উনি শুনতে পাবেন না, আর ওঁকে ধরতেও পারব না। ওঁর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে আমি মাথার টুপিটা হাতে নিয়ে নাড়তে লাগলুম, কিন্তু তা ওঁর চোখে পড়ল বলে মনে হল না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের আড়ালে নিপীড়ন: ইরানে দুই রাজনৈতিক বন্দীর ফাঁসি, ইউরোপে বিক্ষোভ

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৫৬)

০৮:০০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

জারের কাছে অমনধারা বিচার তো আমাদের দেশের নোক হামেশাই পেয়ে এসেছে, ও আমাদের গা-সহা হয়ে গিইছিল। কিন্তু এই মোসাহেবদের কাছে অমনধারা ব্যাভার কোন্ শালা আশা করেছিল, কও দেখি। জেনারেল আর অফিসারবাবুরা লাল ফিতে পরি প্যাখম মেলে বেড়াচ্ছে, দেখলি মনে হবে বাবুরা বুঝি বিপ্লবের পেয়ারের দোস্ত। এদিকে আমরা শালা একটু কিছু করলেই সটান একদম গারদবাস। সব্বদা আমাদের পেছনে তাড়া করা হচ্ছে, আমাদের হয়রান করা হচ্ছে। এ আমার একার নালিশ লয়। আমি আমার সকল কমরেডের কথা বলছি, বাড়তি দু-মাস আমি জেল খেটেছি সে কথা লয়। আমি যা বলছি, তা আপনাদের নালিশ, শ্রমিকভাইদের সকলের নালিশ।’

হঠাৎ কাশির দমক শুরু হয়ে গেল বক্তার। কিছুক্ষণ পর কাশি থামলে তিনি ফের শুরু করতে যাবেন, কিন্তু মুখ খোলামাত্র ফের সেই কাশি শুরু হল। বেশ কিছুক্ষণ তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন ওইভাবে, মঞ্চের সি’ড়ির রেলিঙ চেপে ধরে কাশির দমকে কাঁপতে থাকলেন। তারপর মাথা নেড়ে নিচে নেমে পড়লেন।

ভিড়ের মধ্যে থেকে কে একজন চিৎকার করে রাগত গলায় বললে, ‘ওর জান বিলকুল খতম করে দিয়েচে শালারা!’

পাঁশুটে, মেঘেঢাকা আকাশ থেকে গাঁড়ো-গুড়ো তুষার ঝরতে শুরু করল। বছরের সেই প্রথম তুষারপাত। শুকনো, ঠান্ডা বাতাস গাছের শেষ পচা পাতাগুলো খসিয়ে নিল। আমার পাদুটো জমে যাচ্ছিল ঠান্ডায়। ভিড়ের বাইরে বেরিয়ে জোরে-জোরে হে’টে গা-টা গরম করতে ইচ্ছে হল। দুই কনুইয়ের গুতো দিয়ে পথ করে বাইরে আসার সময় পেছনের বক্তাদের আমি দেখতে পাচ্ছিলুম না। এমন সময় হঠাৎ আমার পরিচিত একটা উঁচু গলার আওয়াজ শুনে পেছন ফিরে মন্ডের দিকে তাকালুম। তুষারের গুঁড়োয় চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছিল। লোকে আমায় ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছিল। কে একজন আমার পা মাড়িয়ে যেন গুঁড়িয়ে দিল। তা সত্ত্বেও পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে ডিঙি মেরে যা দেখলুম তাতে আমার বিস্ময়ের আর আনন্দের পরিসীমা রইল না। দেখলুম, মঞ্চের ওপর দাঁড়কাকের সেই পরিচিত দাড়িভর্তি মুখখানা দেখা যাচ্ছে।

প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে প্রাণপণ কষ্ট করে ভিড় ঠেলে এগোতে লাগলুম। প্রতি মুহূর্তে ভয় হচ্ছিল, এই বুঝি দাঁড়কাক বক্তৃতা শেষ করে ভিড়ে মিশে যান। তাহলে হাজার চিৎকার করে ডাকলেও উনি শুনতে পাবেন না, আর ওঁকে ধরতেও পারব না। ওঁর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে আমি মাথার টুপিটা হাতে নিয়ে নাড়তে লাগলুম, কিন্তু তা ওঁর চোখে পড়ল বলে মনে হল না।