০৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
সিঙ্গাপুরের আবর্জনা ব্যবস্থার ৬০ বছরের শিক্ষা: প্রযুক্তি বদলেছে, মানুষের অভ্যাস কতটা বদলেছে? এক দশকের মোড় ঘুরে গেল: টিভি-সংবাদপত্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের প্রধান সংবাদমাধ্যম এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা? বিশ্বকাপের উন্মাদনায় এক হচ্ছে বিশ্ব, ফুটবলের ভাষায় গড়ে উঠছে সম্মান ও সহমর্মিতা সৃজনশীলতা চাই, কিন্তু কতটা সহনশীল আমরা? সিঙ্গাপুরে শিল্পচর্চা নিয়ে নতুন বিতর্ক জাপানের নগর উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, ব্যয় বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটে থমকে যাচ্ছে একের পর এক পরিকল্পনা এশিয়াজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, ছয় আঞ্চলিক সংস্থার চুক্তি ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি চুক্তি: স্বস্তির বার্তা পেলেও বেশি সুবিধায় থাকতে পারে ইরান সিঙ্গাপুরে চাকরির বাজারে চাপ বাড়ছে, ছাঁটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে; ডিগ্রিধারীদের উদ্বেগ বেশি ভারতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে বাড়ল অতিরিক্ত কর, অপরিবর্তিত পেট্রোল

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৫৭)

  • Sarakhon Report
  • ১১:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 127

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

গুলো দিয়ে দাড়ীটাকে চিকণ করতে করতে মৃদু গলায় ফের বললেন: “কিন্তু, কি পাপের?”

ডিয়াল’বভ থেকেই-টডর-অন পর্যন্ত যে রাস্তা গেছে, সেই রাস্তায় তাঁর সংগে একবার বেড়াছিলাম। তিনি যুবকের মতো হাল্কা পা ফেলে হাঁটছিলেন। আমাকে দৃপ্তভাবে বললেন: “দেহটা মানুষের মনের পোষা কুকুর হয়ে থাকবে, তার হুকুমে ছুটবে। কিন্তু আমর-আমরা কি করি? দেহটা শাসন করে, দৌরাত্ম্য করে, আর মন নিরুপায় অসহায়ের মতো তাকে অনুসরণ করে।”

তিনি হৃৎপিণ্ডের ঠিক উপরে বুকে শক্ত ক’রে কয়েকবার দলা দিলেন।

ভ্রূ দুটি উপরের দিকে তুললেন, তারপর কী যেন অকস্মাৎ স্মরণ ক’রে ব’লে চললেন, “মস্কাও শহরে এক শরৎকালে একবার সুপাবিঅভ গেটের কাছাকাছি একটি গলিতে একটি মাতাল মেয়েকে নর্দমায় প’ড়ে থাকতে দেখেছিলাম। একটা বাড়ির উঠান থেকে নোংরা জল এসে গড়িয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তার ঘাড় আর পিঠের তলা দিয়ে। সে এই ঠাণ্ডা জলে প’ড়ে কাঁপছিল, কাৎরাছিল আর অস্ফুট গলায় বিড়বিড় ক’রে কি বকছিল, কিন্তু উঠতে পারছিল ন।”

তিনি শিউরে উঠলেন। চোখ দুটিকে অর্ধনিমীলিত করলেন, তারপর মাথা নেড়ে ধীরকণ্ঠে ব’লে চললেনঃ “এসো, এখানে বসি।… মাতাল মেয়ের মতো ভয়ংকর এবং জঘন্য জিনিষ আর নেই। আমি তাকে ওঠার জন্যে সাহায্য করতে চাইলাম। কিন্তু সে উঠতে পারলো না। আমার অত্যন্ত বিশ্রী লাগলো। মেয়েটা এমন পিছল আর নোংরা যে আমার মনে হোলো, আমি যদি ওকে ছুঁতাম, তবে সারা একমাস ধরে-ও আমার হাত ধুলে আমি তা পরিষ্কার করতে পারতাম না। ভয়াবহ। রাস্তার পাশে একটি ছোকরা বসেছিল।

ছেলেটি বেশ চটপটে, চোখদুটো কটা। তার ছ গাল গড়িয়ে চোখের জল পড়ছিল। সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে, আর কেবলই নিরুপায় হ’য়ে বলছে “মা-মা, ওঠো না, মা….।” মেয়েটি হাত নেড়ে অস্ফুট কণ্ঠে কথা বললো, মাথা তুললো-আবার পরক্ষণেই ছলাৎ ক’রে তার ঘাড়টা নোংরার ভেতরে ডুবে গেলে।”

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সিঙ্গাপুরের আবর্জনা ব্যবস্থার ৬০ বছরের শিক্ষা: প্রযুক্তি বদলেছে, মানুষের অভ্যাস কতটা বদলেছে?

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৫৭)

১১:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

গুলো দিয়ে দাড়ীটাকে চিকণ করতে করতে মৃদু গলায় ফের বললেন: “কিন্তু, কি পাপের?”

ডিয়াল’বভ থেকেই-টডর-অন পর্যন্ত যে রাস্তা গেছে, সেই রাস্তায় তাঁর সংগে একবার বেড়াছিলাম। তিনি যুবকের মতো হাল্কা পা ফেলে হাঁটছিলেন। আমাকে দৃপ্তভাবে বললেন: “দেহটা মানুষের মনের পোষা কুকুর হয়ে থাকবে, তার হুকুমে ছুটবে। কিন্তু আমর-আমরা কি করি? দেহটা শাসন করে, দৌরাত্ম্য করে, আর মন নিরুপায় অসহায়ের মতো তাকে অনুসরণ করে।”

তিনি হৃৎপিণ্ডের ঠিক উপরে বুকে শক্ত ক’রে কয়েকবার দলা দিলেন।

ভ্রূ দুটি উপরের দিকে তুললেন, তারপর কী যেন অকস্মাৎ স্মরণ ক’রে ব’লে চললেন, “মস্কাও শহরে এক শরৎকালে একবার সুপাবিঅভ গেটের কাছাকাছি একটি গলিতে একটি মাতাল মেয়েকে নর্দমায় প’ড়ে থাকতে দেখেছিলাম। একটা বাড়ির উঠান থেকে নোংরা জল এসে গড়িয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তার ঘাড় আর পিঠের তলা দিয়ে। সে এই ঠাণ্ডা জলে প’ড়ে কাঁপছিল, কাৎরাছিল আর অস্ফুট গলায় বিড়বিড় ক’রে কি বকছিল, কিন্তু উঠতে পারছিল ন।”

তিনি শিউরে উঠলেন। চোখ দুটিকে অর্ধনিমীলিত করলেন, তারপর মাথা নেড়ে ধীরকণ্ঠে ব’লে চললেনঃ “এসো, এখানে বসি।… মাতাল মেয়ের মতো ভয়ংকর এবং জঘন্য জিনিষ আর নেই। আমি তাকে ওঠার জন্যে সাহায্য করতে চাইলাম। কিন্তু সে উঠতে পারলো না। আমার অত্যন্ত বিশ্রী লাগলো। মেয়েটা এমন পিছল আর নোংরা যে আমার মনে হোলো, আমি যদি ওকে ছুঁতাম, তবে সারা একমাস ধরে-ও আমার হাত ধুলে আমি তা পরিষ্কার করতে পারতাম না। ভয়াবহ। রাস্তার পাশে একটি ছোকরা বসেছিল।

ছেলেটি বেশ চটপটে, চোখদুটো কটা। তার ছ গাল গড়িয়ে চোখের জল পড়ছিল। সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে, আর কেবলই নিরুপায় হ’য়ে বলছে “মা-মা, ওঠো না, মা….।” মেয়েটি হাত নেড়ে অস্ফুট কণ্ঠে কথা বললো, মাথা তুললো-আবার পরক্ষণেই ছলাৎ ক’রে তার ঘাড়টা নোংরার ভেতরে ডুবে গেলে।”