০১:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধের ভয়ে পোষা প্রাণী নিয়ে দেশ ছাড়তে লাখ টাকার খরচ, আকাশছোঁয়া ভাড়া ও অনিশ্চয়তায় বিপাকে প্রবাসীরা যুদ্ধ শেষের আভাসে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বিশাল উত্থান — নিক্কেই ৪%, কসপি ৬.৪% বাড়ল মার্কিন পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়াল — ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ ‘নিজেদের তেল নিজেরা নাও’ — মিত্রদের একা ছেড়ে দিলেন ট্রাম্প যুদ্ধের আড়ালে নিপীড়ন: ইরানে দুই রাজনৈতিক বন্দীর ফাঁসি, ইউরোপে বিক্ষোভ মধ্যপ্রাচ্যে আরো ৬ হাজার সেনা পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র — USS George H.W. Bush রওয়ানা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘আমরা ছয় মাস যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত, কোনো আলোচনা চলছে না’ ইসরায়েল তেহরান ও বৈরুতে একযোগে হামলা — লেবাননে ৭ জন নিহত, হিজবুল্লাহ কমান্ডার খতম ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে যৌথ অভিযানে ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা ট্রাম্প: ‘ইরানকে চুক্তি করতে হবে না’ — একতরফাভাবে সরে আসার ইঙ্গিত

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৫৭)

  • Sarakhon Report
  • ১১:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 111

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

গুলো দিয়ে দাড়ীটাকে চিকণ করতে করতে মৃদু গলায় ফের বললেন: “কিন্তু, কি পাপের?”

ডিয়াল’বভ থেকেই-টডর-অন পর্যন্ত যে রাস্তা গেছে, সেই রাস্তায় তাঁর সংগে একবার বেড়াছিলাম। তিনি যুবকের মতো হাল্কা পা ফেলে হাঁটছিলেন। আমাকে দৃপ্তভাবে বললেন: “দেহটা মানুষের মনের পোষা কুকুর হয়ে থাকবে, তার হুকুমে ছুটবে। কিন্তু আমর-আমরা কি করি? দেহটা শাসন করে, দৌরাত্ম্য করে, আর মন নিরুপায় অসহায়ের মতো তাকে অনুসরণ করে।”

তিনি হৃৎপিণ্ডের ঠিক উপরে বুকে শক্ত ক’রে কয়েকবার দলা দিলেন।

ভ্রূ দুটি উপরের দিকে তুললেন, তারপর কী যেন অকস্মাৎ স্মরণ ক’রে ব’লে চললেন, “মস্কাও শহরে এক শরৎকালে একবার সুপাবিঅভ গেটের কাছাকাছি একটি গলিতে একটি মাতাল মেয়েকে নর্দমায় প’ড়ে থাকতে দেখেছিলাম। একটা বাড়ির উঠান থেকে নোংরা জল এসে গড়িয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তার ঘাড় আর পিঠের তলা দিয়ে। সে এই ঠাণ্ডা জলে প’ড়ে কাঁপছিল, কাৎরাছিল আর অস্ফুট গলায় বিড়বিড় ক’রে কি বকছিল, কিন্তু উঠতে পারছিল ন।”

তিনি শিউরে উঠলেন। চোখ দুটিকে অর্ধনিমীলিত করলেন, তারপর মাথা নেড়ে ধীরকণ্ঠে ব’লে চললেনঃ “এসো, এখানে বসি।… মাতাল মেয়ের মতো ভয়ংকর এবং জঘন্য জিনিষ আর নেই। আমি তাকে ওঠার জন্যে সাহায্য করতে চাইলাম। কিন্তু সে উঠতে পারলো না। আমার অত্যন্ত বিশ্রী লাগলো। মেয়েটা এমন পিছল আর নোংরা যে আমার মনে হোলো, আমি যদি ওকে ছুঁতাম, তবে সারা একমাস ধরে-ও আমার হাত ধুলে আমি তা পরিষ্কার করতে পারতাম না। ভয়াবহ। রাস্তার পাশে একটি ছোকরা বসেছিল।

ছেলেটি বেশ চটপটে, চোখদুটো কটা। তার ছ গাল গড়িয়ে চোখের জল পড়ছিল। সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে, আর কেবলই নিরুপায় হ’য়ে বলছে “মা-মা, ওঠো না, মা….।” মেয়েটি হাত নেড়ে অস্ফুট কণ্ঠে কথা বললো, মাথা তুললো-আবার পরক্ষণেই ছলাৎ ক’রে তার ঘাড়টা নোংরার ভেতরে ডুবে গেলে।”

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের ভয়ে পোষা প্রাণী নিয়ে দেশ ছাড়তে লাখ টাকার খরচ, আকাশছোঁয়া ভাড়া ও অনিশ্চয়তায় বিপাকে প্রবাসীরা

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৫৭)

১১:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

গুলো দিয়ে দাড়ীটাকে চিকণ করতে করতে মৃদু গলায় ফের বললেন: “কিন্তু, কি পাপের?”

ডিয়াল’বভ থেকেই-টডর-অন পর্যন্ত যে রাস্তা গেছে, সেই রাস্তায় তাঁর সংগে একবার বেড়াছিলাম। তিনি যুবকের মতো হাল্কা পা ফেলে হাঁটছিলেন। আমাকে দৃপ্তভাবে বললেন: “দেহটা মানুষের মনের পোষা কুকুর হয়ে থাকবে, তার হুকুমে ছুটবে। কিন্তু আমর-আমরা কি করি? দেহটা শাসন করে, দৌরাত্ম্য করে, আর মন নিরুপায় অসহায়ের মতো তাকে অনুসরণ করে।”

তিনি হৃৎপিণ্ডের ঠিক উপরে বুকে শক্ত ক’রে কয়েকবার দলা দিলেন।

ভ্রূ দুটি উপরের দিকে তুললেন, তারপর কী যেন অকস্মাৎ স্মরণ ক’রে ব’লে চললেন, “মস্কাও শহরে এক শরৎকালে একবার সুপাবিঅভ গেটের কাছাকাছি একটি গলিতে একটি মাতাল মেয়েকে নর্দমায় প’ড়ে থাকতে দেখেছিলাম। একটা বাড়ির উঠান থেকে নোংরা জল এসে গড়িয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তার ঘাড় আর পিঠের তলা দিয়ে। সে এই ঠাণ্ডা জলে প’ড়ে কাঁপছিল, কাৎরাছিল আর অস্ফুট গলায় বিড়বিড় ক’রে কি বকছিল, কিন্তু উঠতে পারছিল ন।”

তিনি শিউরে উঠলেন। চোখ দুটিকে অর্ধনিমীলিত করলেন, তারপর মাথা নেড়ে ধীরকণ্ঠে ব’লে চললেনঃ “এসো, এখানে বসি।… মাতাল মেয়ের মতো ভয়ংকর এবং জঘন্য জিনিষ আর নেই। আমি তাকে ওঠার জন্যে সাহায্য করতে চাইলাম। কিন্তু সে উঠতে পারলো না। আমার অত্যন্ত বিশ্রী লাগলো। মেয়েটা এমন পিছল আর নোংরা যে আমার মনে হোলো, আমি যদি ওকে ছুঁতাম, তবে সারা একমাস ধরে-ও আমার হাত ধুলে আমি তা পরিষ্কার করতে পারতাম না। ভয়াবহ। রাস্তার পাশে একটি ছোকরা বসেছিল।

ছেলেটি বেশ চটপটে, চোখদুটো কটা। তার ছ গাল গড়িয়ে চোখের জল পড়ছিল। সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে, আর কেবলই নিরুপায় হ’য়ে বলছে “মা-মা, ওঠো না, মা….।” মেয়েটি হাত নেড়ে অস্ফুট কণ্ঠে কথা বললো, মাথা তুললো-আবার পরক্ষণেই ছলাৎ ক’রে তার ঘাড়টা নোংরার ভেতরে ডুবে গেলে।”