০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নিয়ম: বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই ফিরতে বলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

ইনকা সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৫৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৭:০০:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 92

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

দক্ষিণ আমেরিকা গোত্রের আদিবাসী জনজাতি অন্যতম প্রধান ইনকা সমাজ ও সভ্যতার বিস্তৃত দিকগুলির মধ্যে অন্যান্য কিছু বিষয় হবে এই পর্বের আলোচ্য। সমাজ, সাহিত্য, শিল্পসৌকর্য, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, সাজপোশাক, সরকার, প্রশাসন জ্যোতির্বিদ্যা এবং প্রাসঙ্গিক দিকগুলি ইনকা সমাজের মান বৃদ্ধি করেছে। এই পর্বে প্রথমেই ইনকা সভ্যতার স্থাপত্য-ভাস্কর্য সম্পর্কে একটু ওয়াকিবহাল হওয়া যাক।

স্থাপত্য: ইনকারা বড় ছোট খোলা জমির উপর বড় বড় বাড়ি তৈরী করত। এই কাজে প্রয়োজনীয় কৌশল, শৈলী, ডিজাইন সবকিছু নিজস্ব জ্ঞান-এর সাহায্যে সৃষ্টি করত। তবে বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে কাটা পাথর-এর ব্যবহার বেশী হত। বাড়ির দরজা, কুলুঙ্গি ভেতরের দিকে কিছুটা ঢালু করা হত। বাড়ির ছাদ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিতরের দিকে একটু ঝোলানো থাকত। তবে মূল কথা হিসেবে বলা ভাল,সামগ্রিকভাবে গৃহস্থাপত্য ছিল সহজ, সরল। বাড়ির সাজসজ্জা সাধারণভাবে দরজার ভেতরেই করা হত। তবে দরজার কপাট বা অন্য অংশ উজ্জ্বল রং দিয়ে বর্ণময় করার রীতি চালু ছিল।

বাড়ির মধ্যে চিত্রাঙ্কণ, বর্ণ লেপণেও ছিল সরল। এই সরল চিত্রাঙ্কণ পরিশ্রম এড়িয়ে যাওয়ার জন্য নয়। আদতে ইনকারা এই ধরনের সহজ, সরল চিত্রাঙ্কণই পছন্দ করত। সবচেয়ে বড় কথা হল ইনকাদের এই স্থাপত্য শেলীকে বিজ্ঞানসম্মতও বলতে হয়। কেন না ভূমিকম্পের সময়েও বড় বড় বাড়ি ভেঙ্গে পড়ে না।

বাড়িগুলির বিভিন্ন অংশের জোড়গুলি বাঁধার জন্য চুন, বালি বা বিম এর মত কিছুরও প্রয়োজন হয় না। দেয়ালের ফাঁকগুলি ভরাট করার জন্য কোনরকম পিন বা অন্য কিছু দেওয়াও সম্ভব হত না। সাধারণভাবে বলা যায় ইনকাদের বাড়ি ঘর এবং তার স্থাপত্য নির্মাণ একদমই প্রযুক্তি নির্ভর ছিল না। সাধারণ মানুষের বিরাট অংশ ইনকা-প্রধানকে শ্রদ্ধা জানাবার প্রতীক হিসেবে শ্রমদান করত।

এক্ষেত্রে পারিশ্রমিকের বিষয়টি ছিল না বললেই চলে। তবে এক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ার এবং নির্মাণবিশেষজ্ঞরা সরকার দ্বারা নিযুক্ত হত। সামগ্রিকভাবে এই ব্যবস্থাটিকে বলা হয় মিতা (Mita)। বাড়ি তৈরির সমগ্র অধ্যারম্ভে ইনকারা প্রধানত তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে। প্রথম স্তরটি হল বাড়ির পরিকল্পনা (Plan) দ্বিতীয় পর্বটি গড়ে ওঠে অনেকরকম পাথর-এর মধ্য থেকে উপযুক্ত পাথর নির্বাচন করা এবং তৃতীয় বা শেষ স্তর হল এইসব পাথর বাড়ির পরিকল্পনার সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিভিন্ন আকারে কাটা। এই পাথর কাটার দক্ষতা শৈলী মাপ এত সূক্ষ্মভাবে মিলে যেত যা দেখে দানিকেন মন্তব্য করেছেন যে ঐ সময়ের প্রযুক্তি আজকের মতই উন্নত ছিল।

(চলবে)

ইনকা সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৫২)

ইনকা সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৫২)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই

ইনকা সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৫৩)

০৭:০০:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

দক্ষিণ আমেরিকা গোত্রের আদিবাসী জনজাতি অন্যতম প্রধান ইনকা সমাজ ও সভ্যতার বিস্তৃত দিকগুলির মধ্যে অন্যান্য কিছু বিষয় হবে এই পর্বের আলোচ্য। সমাজ, সাহিত্য, শিল্পসৌকর্য, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, সাজপোশাক, সরকার, প্রশাসন জ্যোতির্বিদ্যা এবং প্রাসঙ্গিক দিকগুলি ইনকা সমাজের মান বৃদ্ধি করেছে। এই পর্বে প্রথমেই ইনকা সভ্যতার স্থাপত্য-ভাস্কর্য সম্পর্কে একটু ওয়াকিবহাল হওয়া যাক।

স্থাপত্য: ইনকারা বড় ছোট খোলা জমির উপর বড় বড় বাড়ি তৈরী করত। এই কাজে প্রয়োজনীয় কৌশল, শৈলী, ডিজাইন সবকিছু নিজস্ব জ্ঞান-এর সাহায্যে সৃষ্টি করত। তবে বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে কাটা পাথর-এর ব্যবহার বেশী হত। বাড়ির দরজা, কুলুঙ্গি ভেতরের দিকে কিছুটা ঢালু করা হত। বাড়ির ছাদ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিতরের দিকে একটু ঝোলানো থাকত। তবে মূল কথা হিসেবে বলা ভাল,সামগ্রিকভাবে গৃহস্থাপত্য ছিল সহজ, সরল। বাড়ির সাজসজ্জা সাধারণভাবে দরজার ভেতরেই করা হত। তবে দরজার কপাট বা অন্য অংশ উজ্জ্বল রং দিয়ে বর্ণময় করার রীতি চালু ছিল।

বাড়ির মধ্যে চিত্রাঙ্কণ, বর্ণ লেপণেও ছিল সরল। এই সরল চিত্রাঙ্কণ পরিশ্রম এড়িয়ে যাওয়ার জন্য নয়। আদতে ইনকারা এই ধরনের সহজ, সরল চিত্রাঙ্কণই পছন্দ করত। সবচেয়ে বড় কথা হল ইনকাদের এই স্থাপত্য শেলীকে বিজ্ঞানসম্মতও বলতে হয়। কেন না ভূমিকম্পের সময়েও বড় বড় বাড়ি ভেঙ্গে পড়ে না।

বাড়িগুলির বিভিন্ন অংশের জোড়গুলি বাঁধার জন্য চুন, বালি বা বিম এর মত কিছুরও প্রয়োজন হয় না। দেয়ালের ফাঁকগুলি ভরাট করার জন্য কোনরকম পিন বা অন্য কিছু দেওয়াও সম্ভব হত না। সাধারণভাবে বলা যায় ইনকাদের বাড়ি ঘর এবং তার স্থাপত্য নির্মাণ একদমই প্রযুক্তি নির্ভর ছিল না। সাধারণ মানুষের বিরাট অংশ ইনকা-প্রধানকে শ্রদ্ধা জানাবার প্রতীক হিসেবে শ্রমদান করত।

এক্ষেত্রে পারিশ্রমিকের বিষয়টি ছিল না বললেই চলে। তবে এক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ার এবং নির্মাণবিশেষজ্ঞরা সরকার দ্বারা নিযুক্ত হত। সামগ্রিকভাবে এই ব্যবস্থাটিকে বলা হয় মিতা (Mita)। বাড়ি তৈরির সমগ্র অধ্যারম্ভে ইনকারা প্রধানত তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে। প্রথম স্তরটি হল বাড়ির পরিকল্পনা (Plan) দ্বিতীয় পর্বটি গড়ে ওঠে অনেকরকম পাথর-এর মধ্য থেকে উপযুক্ত পাথর নির্বাচন করা এবং তৃতীয় বা শেষ স্তর হল এইসব পাথর বাড়ির পরিকল্পনার সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিভিন্ন আকারে কাটা। এই পাথর কাটার দক্ষতা শৈলী মাপ এত সূক্ষ্মভাবে মিলে যেত যা দেখে দানিকেন মন্তব্য করেছেন যে ঐ সময়ের প্রযুক্তি আজকের মতই উন্নত ছিল।

(চলবে)

ইনকা সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৫২)

ইনকা সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৫২)