০২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
হংকংয়ে চীনা নববর্ষে ভিড়, উৎসবমুখর শহরে ঢুকছে পর্যটকরা চীনে অর্থনৈতিক ধীরগতি: বছরের শেষের বোনাস ছোট হচ্ছে, আয় সীমিত হচ্ছে টাকা ১০,০০০ কোটি মূল্যের খাদ্য শিল্প বাংলাদেশে বিস্তৃত; আমাদের খাবার কি নিরাপদ? রামাদানের খাদ্যসামগ্রী বিক্রিতে দেশের জুড়ে মোবাইল ট্রাক কার্যক্রম শুরু করবে টি সি বি পিকেএসএফ যুবদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত গড়ে তুলছে বিরাট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা “ডেটা সিটি” বিশাখাপত্তনামে, বিশ্ব ডিজিটাল প্রতিযোগিতায় বড় পালা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘অস্ত্র’ বানাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা, সিঙ্গাপুরে ইন্টারপোলের গোপন যুদ্ধকক্ষ থেকে বিশ্বজুড়ে পাল্টা লড়াই যুক্তরাষ্ট্র–জাপান সম্পর্ক আরও জোরদার, চীনের চাপের মুখে কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা অভিনেত্রীর ‘ওপেন টু ওয়ার্ক’ পোস্টে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, সামনে এলো তরুণ বেকারত্বের কঠিন বাস্তবতা বিশ্বকাপ সম্প্রচার অধিকারের ব্যয় উদ্বেগ: ২০২৬ সংস্করণে নতুন চমক

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৩৪)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
  • 114

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

যদিও বুকটা ধড়ফড় করছিল তবু তখনই আমার মনের মধ্যে এই চিন্তাটা চমকে গেল যে আমার এই আগ বাড়িয়ে খোঁজখবর করাটা বৃথা যায় নি আর শত্রুকে আমিই প্রথম দেখতে পেয়েছি।

‘কিন্তু চুবুক কোথায় গেলেন?’ ভাবনাটা মাথায় আসতেই ভয় ধরে গেল আমার।

চট করে পেছনের দিকে তাকালুম আমি। উৎরাই বেয়ে নিচে নেমে চুবুককে খোঁজার উদ্যোগ করছি, এমন সময় খাদের বাঁদিকের উৎরাইয়ে একটা ঝোপ অল্প-একটু নড়ে উঠতে সেই দিকে চোখ চলে গেল।

উলটো দিকের উৎরাইয়ের ওই ঝোপটা থেকে ভাস্কা শাকভ সতর্কভাবে মুখ বের করে, হাত নেড়ে ইসারায় আমায় সাবধান করে দিল আর খাদের নিচের দিকে আঙুল দিয়ে দেখাল।

প্রথমে ভাবলুম ও বুঝি আমায় নিচে নামতে বলছে। কিন্তু ও যেদিকে আঙুল দেখাল সেদিকে তাকিয়েই আঁতকে উঠে মাথাটা ঝোপের ভেতর টেনে নিলুম আমি।

দেখলুম, একজন শ্বেতরক্ষী-সৈন্য একটা ঘোড়ার লাগাম ধরে খাদের নিচের ঘন গাছপালার মধ্যে দিয়ে হেটে চলেছে। সৈন্যটা ঘোড়াকে জল খাওয়ানোর জন্যে জলের খোঁজ করছিল, নাকি যে-বাহিনীটা ওপর দিয়ে যাচ্ছিল তাদেরই পাশের দিকের অশ্বারোহী পাহারাদারদের ও ছিল একজন, তা ঠিক বুঝলুম না। তবে এটুকু বুঝলুম ও আমাদের শত্রুপক্ষের একজন, আর ও আমাদের ব্যূহের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।

কী করা উচিত, আমি কিছুই বুঝতে পারছিলুম না। দেখতে-দেখতে ঘোড়াসুদ্ধ লোকটা ঝোপের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল। এখন আমি শুধু ভাস্কাকেই দেখতে পাচ্ছিলুম। কিন্তু, আমার মনে হল, ওপারের উৎরাই থেকে ভাস্কা আরও নতুন কিছু দেখতে পেয়েছে যা তখনও আমার চোখের আড়ালে রয়ে গিয়েছিল।

এক হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ভাস্কা। ওর রাইফেলের কু’দোটা ছিল মাটিতে। একটা হাত আমার দিকে বাড়িয়ে ও আমাকে নড়তে বারণ করছিল, অথচ নিজে বারবার নিচের দিকে তাকাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্যে তৈরি হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হংকংয়ে চীনা নববর্ষে ভিড়, উৎসবমুখর শহরে ঢুকছে পর্যটকরা

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৩৪)

০৮:০০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

যদিও বুকটা ধড়ফড় করছিল তবু তখনই আমার মনের মধ্যে এই চিন্তাটা চমকে গেল যে আমার এই আগ বাড়িয়ে খোঁজখবর করাটা বৃথা যায় নি আর শত্রুকে আমিই প্রথম দেখতে পেয়েছি।

‘কিন্তু চুবুক কোথায় গেলেন?’ ভাবনাটা মাথায় আসতেই ভয় ধরে গেল আমার।

চট করে পেছনের দিকে তাকালুম আমি। উৎরাই বেয়ে নিচে নেমে চুবুককে খোঁজার উদ্যোগ করছি, এমন সময় খাদের বাঁদিকের উৎরাইয়ে একটা ঝোপ অল্প-একটু নড়ে উঠতে সেই দিকে চোখ চলে গেল।

উলটো দিকের উৎরাইয়ের ওই ঝোপটা থেকে ভাস্কা শাকভ সতর্কভাবে মুখ বের করে, হাত নেড়ে ইসারায় আমায় সাবধান করে দিল আর খাদের নিচের দিকে আঙুল দিয়ে দেখাল।

প্রথমে ভাবলুম ও বুঝি আমায় নিচে নামতে বলছে। কিন্তু ও যেদিকে আঙুল দেখাল সেদিকে তাকিয়েই আঁতকে উঠে মাথাটা ঝোপের ভেতর টেনে নিলুম আমি।

দেখলুম, একজন শ্বেতরক্ষী-সৈন্য একটা ঘোড়ার লাগাম ধরে খাদের নিচের ঘন গাছপালার মধ্যে দিয়ে হেটে চলেছে। সৈন্যটা ঘোড়াকে জল খাওয়ানোর জন্যে জলের খোঁজ করছিল, নাকি যে-বাহিনীটা ওপর দিয়ে যাচ্ছিল তাদেরই পাশের দিকের অশ্বারোহী পাহারাদারদের ও ছিল একজন, তা ঠিক বুঝলুম না। তবে এটুকু বুঝলুম ও আমাদের শত্রুপক্ষের একজন, আর ও আমাদের ব্যূহের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।

কী করা উচিত, আমি কিছুই বুঝতে পারছিলুম না। দেখতে-দেখতে ঘোড়াসুদ্ধ লোকটা ঝোপের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল। এখন আমি শুধু ভাস্কাকেই দেখতে পাচ্ছিলুম। কিন্তু, আমার মনে হল, ওপারের উৎরাই থেকে ভাস্কা আরও নতুন কিছু দেখতে পেয়েছে যা তখনও আমার চোখের আড়ালে রয়ে গিয়েছিল।

এক হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ভাস্কা। ওর রাইফেলের কু’দোটা ছিল মাটিতে। একটা হাত আমার দিকে বাড়িয়ে ও আমাকে নড়তে বারণ করছিল, অথচ নিজে বারবার নিচের দিকে তাকাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্যে তৈরি হচ্ছে।