০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
স্কটল্যান্ডে ভাইকিংদের শেষ ঘাঁটি: কীভাবে অর্কনি ও শেটল্যান্ড নরওয়ের নিয়ন্ত্রণে এল লেগোর অবিশ্বাস্য যাত্রা: কাঠের খেলনা থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক সাম্রাজ্য এক দুর্ঘটনা বদলে দিল জীবন: ১১০ ফুট উঁচু গাছে ঝুলে থাকা থেকে নতুন করে আকাশ জয় দক্ষিণ কোরিয়ায় বাড়ছে চীনা ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা, বদলে যাচ্ছে ভোক্তাদের পছন্দ বোরা চুংয়ের ‘রেড সোর্ড’: দুর্বোধ্যতার মধ্যেও এক সাহসী সাহিত্যিক পরীক্ষা মাজদা সিএক্স-৮০: পরিবার ও বিলাসিতার নিখুঁত সমন্বয়ে নতুন প্রিমিয়াম এসইউভি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুদ্ধ: মানবতার সামনে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা নিখোঁজের ছয় দিন পর ঝোপ থেকে স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদে সহপাঠী চীনের তেলের ভাণ্ডার পূর্ণ, হরমুজ খুললেও মধ্যপ্রাচ্যের তেলে দ্রুত ফিরছে না বেইজিং স্কুলে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পিটিএ জরুরি, বলছেন শিক্ষাবিদরা

মিয়ানমার ত্রাণ করিডোর থেকে সরে দাঁড়াল অন্তর্বর্তী সরকার

ঢাকা, ২১ মে ২০২৫ — মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাংলাদেশে একটি ত্রাণ করিডোর গঠনের প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার। দেশীয় রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত করিডোর: পটভূমি ও বিতর্ক

চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে। প্রস্তাবটি ছিল মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ রাখাইন রাজ্যে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে একটি মানবিক করিডোর খোলার ব্যাপারে।

তবে এই উদ্যোগ ঘরোয়া রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। বিএনপি ও অন্য বড় দল সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দাবি করে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকা জরুরি।

সরকারের অবস্থান পরিষ্কার ও নীতিগত পরিবর্তন

২১ মে, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারকে করিডোর দেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সে রকমের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি জানান, জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা কেবলমাত্র রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পাঠানো নিয়ে হচ্ছে, করিডোর গঠনের বিষয়ে নয়।

প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপ

এই করিডোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ একত্রে দাবি জানায় যে, একটি অরাজনৈতিক ও নির্বাচনবিহীন সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এমনিতেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং বিভাজনমূলক সিদ্ধান্ত এড়াতে চাপের মুখে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কটল্যান্ডে ভাইকিংদের শেষ ঘাঁটি: কীভাবে অর্কনি ও শেটল্যান্ড নরওয়ের নিয়ন্ত্রণে এল

মিয়ানমার ত্রাণ করিডোর থেকে সরে দাঁড়াল অন্তর্বর্তী সরকার

০৫:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

ঢাকা, ২১ মে ২০২৫ — মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাংলাদেশে একটি ত্রাণ করিডোর গঠনের প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার। দেশীয় রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত করিডোর: পটভূমি ও বিতর্ক

চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে। প্রস্তাবটি ছিল মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ রাখাইন রাজ্যে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে একটি মানবিক করিডোর খোলার ব্যাপারে।

তবে এই উদ্যোগ ঘরোয়া রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। বিএনপি ও অন্য বড় দল সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দাবি করে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকা জরুরি।

সরকারের অবস্থান পরিষ্কার ও নীতিগত পরিবর্তন

২১ মে, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারকে করিডোর দেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সে রকমের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি জানান, জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা কেবলমাত্র রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পাঠানো নিয়ে হচ্ছে, করিডোর গঠনের বিষয়ে নয়।

প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপ

এই করিডোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ একত্রে দাবি জানায় যে, একটি অরাজনৈতিক ও নির্বাচনবিহীন সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এমনিতেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং বিভাজনমূলক সিদ্ধান্ত এড়াতে চাপের মুখে রয়েছে।