০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মিয়ানমার ত্রাণ করিডোর থেকে সরে দাঁড়াল অন্তর্বর্তী সরকার

ঢাকা, ২১ মে ২০২৫ — মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাংলাদেশে একটি ত্রাণ করিডোর গঠনের প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার। দেশীয় রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত করিডোর: পটভূমি ও বিতর্ক

চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে। প্রস্তাবটি ছিল মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ রাখাইন রাজ্যে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে একটি মানবিক করিডোর খোলার ব্যাপারে।

তবে এই উদ্যোগ ঘরোয়া রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। বিএনপি ও অন্য বড় দল সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দাবি করে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকা জরুরি।

সরকারের অবস্থান পরিষ্কার ও নীতিগত পরিবর্তন

২১ মে, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারকে করিডোর দেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সে রকমের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি জানান, জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা কেবলমাত্র রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পাঠানো নিয়ে হচ্ছে, করিডোর গঠনের বিষয়ে নয়।

প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপ

এই করিডোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ একত্রে দাবি জানায় যে, একটি অরাজনৈতিক ও নির্বাচনবিহীন সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এমনিতেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং বিভাজনমূলক সিদ্ধান্ত এড়াতে চাপের মুখে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মিয়ানমার ত্রাণ করিডোর থেকে সরে দাঁড়াল অন্তর্বর্তী সরকার

০৫:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

ঢাকা, ২১ মে ২০২৫ — মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাংলাদেশে একটি ত্রাণ করিডোর গঠনের প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার। দেশীয় রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত করিডোর: পটভূমি ও বিতর্ক

চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে। প্রস্তাবটি ছিল মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ রাখাইন রাজ্যে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে একটি মানবিক করিডোর খোলার ব্যাপারে।

তবে এই উদ্যোগ ঘরোয়া রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। বিএনপি ও অন্য বড় দল সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দাবি করে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকা জরুরি।

সরকারের অবস্থান পরিষ্কার ও নীতিগত পরিবর্তন

২১ মে, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারকে করিডোর দেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সে রকমের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি জানান, জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা কেবলমাত্র রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পাঠানো নিয়ে হচ্ছে, করিডোর গঠনের বিষয়ে নয়।

প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপ

এই করিডোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ একত্রে দাবি জানায় যে, একটি অরাজনৈতিক ও নির্বাচনবিহীন সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এমনিতেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং বিভাজনমূলক সিদ্ধান্ত এড়াতে চাপের মুখে রয়েছে।