ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারিত হয় তাদের আচরণের ভিত্তিতে। কোনো প্রতিবেশী দেশ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ও ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে, তবে ভারতের নাগরিকদের সুরক্ষায় আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে—এমন স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
চেন্নাইয়ে আইআইটি মাদ্রাজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে জয়শঙ্কর বলেন, ভালো প্রতিবেশীর সঙ্গে ভারত সব সময় বিনিয়োগ, সহযোগিতা ও সম্পদ ভাগাভাগি করেছে। তবে প্রতিবেশী যদি শত্রুতামূলক আচরণে লিপ্ত থাকে, বিশেষ করে সন্ত্রাসে জড়ায়, তাহলে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা ন্যায্য ও অপরিহার্য। তিনি বলেন, কীভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করা হবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার ভারতেরই। বাইরের কেউ এতে নির্দেশ দিতে পারে না। এই প্রসঙ্গে তিনি পহেলগাঁওয়ে লস্কর-ই-তইয়্যেবার সহযোগী গোষ্ঠীর হামলার পর সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত ‘অপারেশন সিন্ধুর’-এর কথাও উল্লেখ করেন।

সিন্ধু পানি চুক্তি ও প্রতিবেশী আচরণ
পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে। জয়শঙ্কর বলেন, এই চুক্তি ছিল সদিচ্ছার প্রতীক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস চলতে থাকলে ভালো প্রতিবেশীত্বের সুবিধা দাবি করা যায় না। একদিকে পানি ভাগাভাগির দাবি, অন্যদিকে সন্ত্রাস—এই দুই অবস্থান একসঙ্গে চলতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অরুণাচল ও চীনের প্রসঙ্গ
চীনের সাংহাই বিমানবন্দরে গত নভেম্বর অরুণাচলের এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করার ঘটনায় ভারতের কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে জানান জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবতা বদলাতে পারবে না। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং থাকবে। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক ট্রানজিট বিধি ও চুক্তি মেনে চলার ওপর জোর দেন এবং এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান দৃঢ় বলে জানান।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভারতের বার্তা
বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি একটি ঊর্ধ্বমুখী ঢেউ, যা প্রতিবেশীদেরও উপকৃত করতে পারে। তিনি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে শুভকামনা জানান এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে আঞ্চলিক প্রতিবেশীত্ব আরও দৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিবেশী প্রথম নীতির বাস্তবায়ন
জয়শঙ্কর জানান, ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আওতায় ভারত কোভিড মহামারির সময় প্রথম দফায় টিকা পাঠিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য, জ্বালানি ও সারের সংকট দেখা দিলে সহায়তা দিয়েছে। শ্রীলঙ্কার আর্থিক সংকটে ২০২২–২৩ সালে চার বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়ার পরও সহায়তা পৌঁছেছে। তিনি বলেন, সংকটের বাইরেও বিদ্যুৎ গ্রিড, নৌপথ, সড়ক, বন্দর, বাণিজ্য, পর্যটন ও চিকিৎসা সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে।

আফগানিস্তান প্রসঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি
আফগান শিক্ষার্থীর প্রশ্নে জয়শঙ্কর বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং এতে উত্থান-পতন রয়েছে। বর্তমানে আফগানিস্তান কঠিন সময় পার করছে। জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে টিকা, খাদ্য, কৃষি উপকরণসহ উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের উপকার হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















