১০:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬
কুমিল্লা-৬ এ স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসিন, বললেন বিএনপির সঙ্গেই আছি, থাকব রাজশাহীতে নারীর টিকটক ভিডিওতে পুলিশ পোশাক: কনস্টেবল প্রত্যাহার কুষ্টিয়ায় কসমেটিকস গুদামে আগুন, ক্ষতি প্রায় ৪০ লাখ টাকা চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে যাত্রীদের বিক্ষোভ, ভাঙচুর ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণের মৃত্যু সাভারে জুতা ব্যবসায়ীর নৃশংস হত্যাকাণ্ড ভারতের প্রতিবেশী নীতিতে আচরণই মুখ্য, সন্ত্রাসে জড়ালে আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জয়শঙ্কর ১২৫০ টাকার এলপিজি এখন ২০০০ টাকা, নিয়ন্ত্রণের বাইরে বাজার জানুয়ারিতে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতে নামার শঙ্কা, পাঁচ দফা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার সতর্কতা নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতের দাবি: সালাহউদ্দিন আহমদ

তেল, ডাল, চিনি—টিসিবি দিলো ঈদের ‘উপহার’?

সারাংশ 

  • ভোজ্যতেলের দাম লিটার প্রতি ৩৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধাক্কা তৈরি করেছে
  • কার্ডবিহীন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ট্রাকসেলে এসব পণ্য কিনতে অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হবে
  • ঈদের আগে এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এসব পরিবারের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে
  • এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তা করার সরকারি উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে

দুল আজহার মাত্র কিছুদিন আগে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনি—এই তিনটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হঠাৎ করে বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধাক্কা দিল ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম—প্রতি লিটারে ৩৫ টাকা, যা ভোক্তাদের জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

কার্ডধারীরা ছাড় পেলেও দুর্ভোগ সাধারণ ক্রেতার

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডধারীরা আগের মূল্যেই তেল, চিনি ও ডাল কিনতে পারলেও যাদের কার্ড নেই, তাদের জন্য ট্রাকসেল থেকে এসব পণ্য কিনতে হলে গুনতে হবে অতিরিক্ত মূল্য। যেমন:

  • প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম কার্ডধারীদের জন্য ১০০ টাকা, কিন্তু সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ১৩৫ টাকা।
  • মসুর ডাল প্রতি কেজি ৬০ টাকার পরিবর্তে ৮০ টাকা।
  • চিনি প্রতি কেজি ৭০ টাকার স্থলে ৮৫ টাকা।

ঈদের বাজারে চাপমধ্যবিত্ত নিম্নবিত্তদের জন্য বড় ধাক্কা

দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এসেছে, যখন দেশে লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণি অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত। অনেকে দৈনন্দিন খরচ চালাতে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এই অবস্থায় তেলের দামে ৩৫ টাকার লাফ, ডাল-চিনির মূল্যবৃদ্ধি এসব পরিবারের জন্য কঠিন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম যেখানে আগেই ঊর্ধ্বমুখী, সেখানে ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ের আগে এমন মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনে আরও চাপ সৃষ্টি করবে।

সরকারি ব্যাখ্যা বিতর্ক

টিসিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সরকার ভর্তুকি দিলেও খরচ কমাতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য পণ্যের মূল্য কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে, সেটিও মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হয়। তবে সস্তায় বিক্রির প্রতিশ্রুতি থাকলেও এই দামে পণ্য কিনে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে ট্রাক বিক্রির পরিসংখ্যান

২২ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন দেশজুড়ে ৬৯০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি। এর মধ্যে ঢাকায় ৫০টি, চট্টগ্রামে ২০টি, বিভাগীয় শহরগুলোতে ১০টি করে এবং বাকি জেলা শহরগুলোতে ১০টি করে ট্রাক থাকবে।

ভোক্তাদের চাহিদা বাস্তবতা

একজন ঢাকাবাসী ক্রেতা জানান, “ফ্যামিলি কার্ড না থাকায় আমাদের অতিরিক্ত দাম দিয়ে পণ্য কিনতে হয়। ঈদের সময় পরিবারের খরচ এমনিতেই বেড়ে যায়, তার ওপর তেলের দাম ১৩৫ টাকা হলে তো কুলানোই মুশকিল।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির আগে আরও জনমত যাচাই ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিল। নাহলে সরকারের ভর্তুকির মূল উদ্দেশ্য—নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তা—লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লা-৬ এ স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসিন, বললেন বিএনপির সঙ্গেই আছি, থাকব

তেল, ডাল, চিনি—টিসিবি দিলো ঈদের ‘উপহার’?

০৩:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

সারাংশ 

  • ভোজ্যতেলের দাম লিটার প্রতি ৩৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধাক্কা তৈরি করেছে
  • কার্ডবিহীন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ট্রাকসেলে এসব পণ্য কিনতে অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হবে
  • ঈদের আগে এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এসব পরিবারের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে
  • এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তা করার সরকারি উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে

দুল আজহার মাত্র কিছুদিন আগে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনি—এই তিনটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হঠাৎ করে বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধাক্কা দিল ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম—প্রতি লিটারে ৩৫ টাকা, যা ভোক্তাদের জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

কার্ডধারীরা ছাড় পেলেও দুর্ভোগ সাধারণ ক্রেতার

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডধারীরা আগের মূল্যেই তেল, চিনি ও ডাল কিনতে পারলেও যাদের কার্ড নেই, তাদের জন্য ট্রাকসেল থেকে এসব পণ্য কিনতে হলে গুনতে হবে অতিরিক্ত মূল্য। যেমন:

  • প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম কার্ডধারীদের জন্য ১০০ টাকা, কিন্তু সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ১৩৫ টাকা।
  • মসুর ডাল প্রতি কেজি ৬০ টাকার পরিবর্তে ৮০ টাকা।
  • চিনি প্রতি কেজি ৭০ টাকার স্থলে ৮৫ টাকা।

ঈদের বাজারে চাপমধ্যবিত্ত নিম্নবিত্তদের জন্য বড় ধাক্কা

দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এসেছে, যখন দেশে লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণি অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত। অনেকে দৈনন্দিন খরচ চালাতে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এই অবস্থায় তেলের দামে ৩৫ টাকার লাফ, ডাল-চিনির মূল্যবৃদ্ধি এসব পরিবারের জন্য কঠিন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম যেখানে আগেই ঊর্ধ্বমুখী, সেখানে ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ের আগে এমন মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনে আরও চাপ সৃষ্টি করবে।

সরকারি ব্যাখ্যা বিতর্ক

টিসিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সরকার ভর্তুকি দিলেও খরচ কমাতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য পণ্যের মূল্য কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে, সেটিও মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হয়। তবে সস্তায় বিক্রির প্রতিশ্রুতি থাকলেও এই দামে পণ্য কিনে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে ট্রাক বিক্রির পরিসংখ্যান

২২ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন দেশজুড়ে ৬৯০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি। এর মধ্যে ঢাকায় ৫০টি, চট্টগ্রামে ২০টি, বিভাগীয় শহরগুলোতে ১০টি করে এবং বাকি জেলা শহরগুলোতে ১০টি করে ট্রাক থাকবে।

ভোক্তাদের চাহিদা বাস্তবতা

একজন ঢাকাবাসী ক্রেতা জানান, “ফ্যামিলি কার্ড না থাকায় আমাদের অতিরিক্ত দাম দিয়ে পণ্য কিনতে হয়। ঈদের সময় পরিবারের খরচ এমনিতেই বেড়ে যায়, তার ওপর তেলের দাম ১৩৫ টাকা হলে তো কুলানোই মুশকিল।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির আগে আরও জনমত যাচাই ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিল। নাহলে সরকারের ভর্তুকির মূল উদ্দেশ্য—নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তা—লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে।