০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে কীভাবে ভাবা উচিত আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি মানুষ ৪০ হাজার বছর আগে লিখতে শিখেছিলো কেন পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অনেকেই সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করেন গুচির দেহমোহে বাজি, নব্বই দশকের ঝলক ফেরাতে ডেমনার সাহসী প্রদর্শনী জাপানের ধনীদের দিকে ঝুঁকছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন, মার্কিন বেসরকারি সম্পদ বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই নতুন কৌশল মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা আগের ধস কাটিয়ে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই ও সিএসই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, আটক ২

বাংলাদেশের সাগর-নদীর হাঙর–রাজ্যে বিপন্ন জীবনের নীরব সংকেত

বাংলাদেশের সাগর ও নদীবহর — বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ বদ্বীপ — এখনও অন্তত ৬৬টি নিশ্চিত হাঙর ও রে মাছের প্রজাতির শেষ আশ্রয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা জানায়, এর ৫৮ শতাংশই আইইউসিএনের লাল তালিকায় ‘বিপন্ন’ বা ‘মহাবিপন্ন’ পর্যায়ে; অর্থাৎ বাঁচাতে না পারলে এই শিকারি জীববৈচিত্র্যের বড় অংশ অদূর ভবিষ্যতেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ-ডেল্টা এখন বিশ্বের দ্রুত ক্ষয়মান সামুদ্রিক শিকারি প্রজাতির অন্যতম হটস্পট।

সাগরের উন্মুক্ত জল : প্রজাতির ভাণ্ডার

বঙ্গোপসাগরের খোলা জলে ভেসে বেড়ায় দৈত্যাকার হোয়েল শার্ক (Rhincodon typus) থেকে মাঝারি ব্ল্যাকটিপ, স্পিনার, সিল্কি, এমনকি ভয়ংকর টাইগার শার্কও। ২০২২-এ সেন্ট মার্টিন ঘিরে ১,৭৪৩ বর্গকিলোমিটারের সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা (MPA) ঘোষণার প্রধান কারণ ছিল এই হোয়েল শার্কের মৌসুমি ভ্রমণপথ রক্ষা — মার্চ-মে ও অক্টোবর-ডিসেম্বরে তারা প্ল্যাঙ্কটন খেতে দ্বীপ-উপকূলে ভিড়ে।

হোয়েল শার্কের করিডর

টেকনাফ উপকূলের ‘নাফ ক্যানিয়ন’ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক গভীর খাদ-করিডরকে গবেষকেরা হোয়েল শার্কের প্রধান পথরেখা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। স্যাটেলাইট ট্যাগ ও নৌ-সমীক্ষায় দেখা যায়, কিছু শার্ক মালদ্বীপ পর্যন্ত গিয়ে কয়েক মাসের মধ্যে আবার ফিরে আসে। করিডরে ঝলমলে আলো, অতিরিক্ত পর্যটক নৌযান ও ট্রলারের শব্দদূষণ এই মৃদুভাষী শিকারির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

সুন্দরবনের নার্সারি : পশুরশিবশা নেটওয়ার্ক

খুলনা শহরের ঠিক দক্ষিণে রূপসা নদীর নাম বদলে যখন পশুর হয়, মোংলা বন্দরের পাশ ঘেঁষে পশ্চিমে গিয়ে জন্ম দেয় শিবশা। এ দুটি মূল ধারা সুন্দরবনের বুক চিরে কুঙ্গা মোহনায় বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। পথে জয়মনি, শেলা, দুবলা, কেদারপাড়া — মোট ত্রিশেরও বেশি শাখা-খাল এই নেটওয়ার্ককে জালের মতো ছড়িয়ে দেয়। সমৃদ্ধ কাদামাটি, শ্বাসমূল-ভরা ম্যানগ্রোভ আর নিভৃতে ছায়া — সব মিলিয়ে শিশু হাঙর ও রে মাছের নিরাপদ ‘ডে-কেয়ার’ গড়ে উঠেছে এখানে। ২০১৫-১৭-এর ফিশ সার্ভে দেখায়, সুন্দরবনের প্রধান নদীগুলোর (বিশেষত Pashur, Shibsha, Shela) বাজার ও জেলে-নৌকা থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধেকেরও বেশি কিশোর হাঙর ঠিক এ অঞ্চলেরই বাসিন্দা।

কেন শ্রেষ্ঠ নার্সারি?

  • দিনে দু’বার জোয়ার-ভাটায় লবণাক্ততায় পরিবর্তন — সামুদ্রিক ছানারা ধীরে ধীরে মিঠে পানির সহনশীলতা শেখে।
  • ম্যানগ্রোভের ছাতা শিকারি কমায়; পলিমাটিতে চিংড়ি-কাঁকড়া-ছোট মাছের সমাহার নিয়মিত খাদ্য জোগায়।
  • প্রবল স্রোত ও গভীর খাড়ি দ্রুতগতির শিকারি (ডলফিন, বড় বন্য-বিড়াল) থেকে প্রাকৃতিক ব্যূহ তৈরি করে।

মৌসুমি চিত্র

  • গ্রীষ্ম (মার্চ-মে) : কুঙ্গা মোহনায় ধীর গতিতে ভেসে ওঠে হোয়েল শার্ক।
  • বর্ষা (জুন-আগস্ট) : জয়মনি-শেলা খালে ভিড় জমায় ৩০-৪০ সেমি ব্ল্যাকটিপ ও স্পিনার ছানারা।
  • শরৎ-হেমন্ত (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) : পশুর মুখে দেখা মেলে ১-১.৫ মিটার তরুণ বুল শার্ক।
  • শীত (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) : মাঝে-মাঝে গভীর পশুরে দুর্লভ টাইগার বা হ্যামারহেডের আবির্ভাবও ঘটে ।

টাইগার হাঙরের পেটে কী থাকে? - ওশান ফাউন্ডেশন

মিঠে জলের শিকারি — বুল শার্ক থেকে গাঙ্গেয় হাঙর

বুল শার্ক (Carcharhinus leucas) বাংলাদেশের নদী-উজানে ঢুকে পড়া সবচেয়ে শক্তপোক্ত শিকারি; জেলেরা কর্ণফুলী, সাঙ্গু পেরিয়ে কখনও মেঘনা-ইলিশা, এমনকি পদ্মা পর্যন্ত এদের ধরার ঘটনা জানান। বিপরীতে গাঙ্গেয় হাঙর (Glyphis gangeticus) একসময় Padma-Meghna-Brahmaputra ত্রয়ে নিয়মিত মিললেও এখন মহাবিপন্ন — সর্বশেষ নিশ্চিত রেকর্ড ২০০৬ (সুন্দরবন) ও ২০১৭ (কক্সবাজার)।

অল্প বয়সেই বড় শিকার

এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় ল্যান্ডিং সাইটে ধরা পড়া হাঙর ও রে মাছের ৯৮ শতাংশই অপরিপক্ব — প্রজনন বয়সে পৌঁছানোর আগেই জালে আটকা পড়ছে। এর বড় ভাগ আসে পশুর-শিবশা এলাকায়, যেটি আবার তাদের প্রধান নার্সারিও।

সুন্দরবনে তেলবাহী জাহাজ চালকের লাশ উদ্ধার - BBC News বাংলা

বিপর্যয়ের ভরকেন্দ্র : তেল-দূষণ থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক

২০১৪-র তেলবাহী জাহাজডুবিতে Shela নদী-সহ সুন্দরবনের ২০টিরও বেশি খালে ছড়ায় ৩৫০ টন ফার্নেস অয়েল। আর সাম্প্রতিক গবেষণায় পশুর নদীর পানি, পলিমাটি ও মাছের দেহে উচ্চমাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক ধরা পড়েছে, যা হাঙর-প্ল্যাঙ্কটন খাদ্যশৃঙ্খলে সরাসরি সংক্রমণ ঘটায়।

আইন ও বাস্তবতা

২০২৪-এ বন অধিদপ্তর পশুর-শিবশা-কুঙ্গার সাতটি খালকে ‘শার্ক-রে সংরক্ষণ এলাকা’ ঘোষণা করেছে; ৩০ কেজির নিচে হাঙর ধরাকে দণ্ডনীয় অপরাধ করা হলেও টহল সীমিত থাকায় শিশু হাঙর এখনও নিয়মিত জালে ওঠে।

করণীয় — এখনই উদ্যোগ

বর্ষা শুরুর আগে ৪৫ দিন ‘শিশু হাঙর নিষিদ্ধ মৌসুম’ ঘোষণা করে সব খাল-নৌসম্ভার বন্ধ রাখা।

জেলে-নিয়ন্ত্রিত ‘হাঙর পর্যবেক্ষণ ভ্রমণ’ চালু করে বিকল্প আয়ের পথ দেখানো।

Ocean Justice in Focus: Bangladesh and The Global Oceans Treaty -  Greenpeace South Asia

ট্রলার অপারেশন ও নৌ-লাইট নিয়ন্ত্রণে বঙ্গোপসাগরে যেমন এমপিএ গড়া হয়েছে, তেমনই ‘নদীমুখ সংরক্ষণ লাইট-জোন’ পশুর-শিবশায় জরুরি।

হাঙর বাঁচলেই বাঁচবে সমুদ্র-নদীর ভারসাম্য

রূপসা বদলে পশুর, পশুর ভাগ হয়ে শিবশা — এই দ্বিপ্রবাহের শাখা-উপশাখায় খেলার ছলে বড় হয় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হাঙর বাহিনী। হোয়েল শার্কের ধীর পদক্ষেপ থেকে শিশু ব্ল্যাকটিপের প্রথম শিকার অভিযান — সবকিছুই সমুদ্র-নদী বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই পশুর-শিবশা-শেলা বাঁচলে বাঁচবে বঙ্গোপসাগরের শিকারি নীলস্বর্গ; আর সেই স্বর্গ টিকিয়ে রাখাই সুন্দরবন, নদী-কেন্দ্রিক মানুষ ও সমুদ্রজীবনের টিকে থাকার পূর্বশর্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে কীভাবে ভাবা উচিত

বাংলাদেশের সাগর-নদীর হাঙর–রাজ্যে বিপন্ন জীবনের নীরব সংকেত

১০:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫

বাংলাদেশের সাগর ও নদীবহর — বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ বদ্বীপ — এখনও অন্তত ৬৬টি নিশ্চিত হাঙর ও রে মাছের প্রজাতির শেষ আশ্রয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা জানায়, এর ৫৮ শতাংশই আইইউসিএনের লাল তালিকায় ‘বিপন্ন’ বা ‘মহাবিপন্ন’ পর্যায়ে; অর্থাৎ বাঁচাতে না পারলে এই শিকারি জীববৈচিত্র্যের বড় অংশ অদূর ভবিষ্যতেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ-ডেল্টা এখন বিশ্বের দ্রুত ক্ষয়মান সামুদ্রিক শিকারি প্রজাতির অন্যতম হটস্পট।

সাগরের উন্মুক্ত জল : প্রজাতির ভাণ্ডার

বঙ্গোপসাগরের খোলা জলে ভেসে বেড়ায় দৈত্যাকার হোয়েল শার্ক (Rhincodon typus) থেকে মাঝারি ব্ল্যাকটিপ, স্পিনার, সিল্কি, এমনকি ভয়ংকর টাইগার শার্কও। ২০২২-এ সেন্ট মার্টিন ঘিরে ১,৭৪৩ বর্গকিলোমিটারের সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা (MPA) ঘোষণার প্রধান কারণ ছিল এই হোয়েল শার্কের মৌসুমি ভ্রমণপথ রক্ষা — মার্চ-মে ও অক্টোবর-ডিসেম্বরে তারা প্ল্যাঙ্কটন খেতে দ্বীপ-উপকূলে ভিড়ে।

হোয়েল শার্কের করিডর

টেকনাফ উপকূলের ‘নাফ ক্যানিয়ন’ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক গভীর খাদ-করিডরকে গবেষকেরা হোয়েল শার্কের প্রধান পথরেখা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। স্যাটেলাইট ট্যাগ ও নৌ-সমীক্ষায় দেখা যায়, কিছু শার্ক মালদ্বীপ পর্যন্ত গিয়ে কয়েক মাসের মধ্যে আবার ফিরে আসে। করিডরে ঝলমলে আলো, অতিরিক্ত পর্যটক নৌযান ও ট্রলারের শব্দদূষণ এই মৃদুভাষী শিকারির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

সুন্দরবনের নার্সারি : পশুরশিবশা নেটওয়ার্ক

খুলনা শহরের ঠিক দক্ষিণে রূপসা নদীর নাম বদলে যখন পশুর হয়, মোংলা বন্দরের পাশ ঘেঁষে পশ্চিমে গিয়ে জন্ম দেয় শিবশা। এ দুটি মূল ধারা সুন্দরবনের বুক চিরে কুঙ্গা মোহনায় বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। পথে জয়মনি, শেলা, দুবলা, কেদারপাড়া — মোট ত্রিশেরও বেশি শাখা-খাল এই নেটওয়ার্ককে জালের মতো ছড়িয়ে দেয়। সমৃদ্ধ কাদামাটি, শ্বাসমূল-ভরা ম্যানগ্রোভ আর নিভৃতে ছায়া — সব মিলিয়ে শিশু হাঙর ও রে মাছের নিরাপদ ‘ডে-কেয়ার’ গড়ে উঠেছে এখানে। ২০১৫-১৭-এর ফিশ সার্ভে দেখায়, সুন্দরবনের প্রধান নদীগুলোর (বিশেষত Pashur, Shibsha, Shela) বাজার ও জেলে-নৌকা থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধেকেরও বেশি কিশোর হাঙর ঠিক এ অঞ্চলেরই বাসিন্দা।

কেন শ্রেষ্ঠ নার্সারি?

  • দিনে দু’বার জোয়ার-ভাটায় লবণাক্ততায় পরিবর্তন — সামুদ্রিক ছানারা ধীরে ধীরে মিঠে পানির সহনশীলতা শেখে।
  • ম্যানগ্রোভের ছাতা শিকারি কমায়; পলিমাটিতে চিংড়ি-কাঁকড়া-ছোট মাছের সমাহার নিয়মিত খাদ্য জোগায়।
  • প্রবল স্রোত ও গভীর খাড়ি দ্রুতগতির শিকারি (ডলফিন, বড় বন্য-বিড়াল) থেকে প্রাকৃতিক ব্যূহ তৈরি করে।

মৌসুমি চিত্র

  • গ্রীষ্ম (মার্চ-মে) : কুঙ্গা মোহনায় ধীর গতিতে ভেসে ওঠে হোয়েল শার্ক।
  • বর্ষা (জুন-আগস্ট) : জয়মনি-শেলা খালে ভিড় জমায় ৩০-৪০ সেমি ব্ল্যাকটিপ ও স্পিনার ছানারা।
  • শরৎ-হেমন্ত (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) : পশুর মুখে দেখা মেলে ১-১.৫ মিটার তরুণ বুল শার্ক।
  • শীত (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) : মাঝে-মাঝে গভীর পশুরে দুর্লভ টাইগার বা হ্যামারহেডের আবির্ভাবও ঘটে ।

টাইগার হাঙরের পেটে কী থাকে? - ওশান ফাউন্ডেশন

মিঠে জলের শিকারি — বুল শার্ক থেকে গাঙ্গেয় হাঙর

বুল শার্ক (Carcharhinus leucas) বাংলাদেশের নদী-উজানে ঢুকে পড়া সবচেয়ে শক্তপোক্ত শিকারি; জেলেরা কর্ণফুলী, সাঙ্গু পেরিয়ে কখনও মেঘনা-ইলিশা, এমনকি পদ্মা পর্যন্ত এদের ধরার ঘটনা জানান। বিপরীতে গাঙ্গেয় হাঙর (Glyphis gangeticus) একসময় Padma-Meghna-Brahmaputra ত্রয়ে নিয়মিত মিললেও এখন মহাবিপন্ন — সর্বশেষ নিশ্চিত রেকর্ড ২০০৬ (সুন্দরবন) ও ২০১৭ (কক্সবাজার)।

অল্প বয়সেই বড় শিকার

এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় ল্যান্ডিং সাইটে ধরা পড়া হাঙর ও রে মাছের ৯৮ শতাংশই অপরিপক্ব — প্রজনন বয়সে পৌঁছানোর আগেই জালে আটকা পড়ছে। এর বড় ভাগ আসে পশুর-শিবশা এলাকায়, যেটি আবার তাদের প্রধান নার্সারিও।

সুন্দরবনে তেলবাহী জাহাজ চালকের লাশ উদ্ধার - BBC News বাংলা

বিপর্যয়ের ভরকেন্দ্র : তেল-দূষণ থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক

২০১৪-র তেলবাহী জাহাজডুবিতে Shela নদী-সহ সুন্দরবনের ২০টিরও বেশি খালে ছড়ায় ৩৫০ টন ফার্নেস অয়েল। আর সাম্প্রতিক গবেষণায় পশুর নদীর পানি, পলিমাটি ও মাছের দেহে উচ্চমাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক ধরা পড়েছে, যা হাঙর-প্ল্যাঙ্কটন খাদ্যশৃঙ্খলে সরাসরি সংক্রমণ ঘটায়।

আইন ও বাস্তবতা

২০২৪-এ বন অধিদপ্তর পশুর-শিবশা-কুঙ্গার সাতটি খালকে ‘শার্ক-রে সংরক্ষণ এলাকা’ ঘোষণা করেছে; ৩০ কেজির নিচে হাঙর ধরাকে দণ্ডনীয় অপরাধ করা হলেও টহল সীমিত থাকায় শিশু হাঙর এখনও নিয়মিত জালে ওঠে।

করণীয় — এখনই উদ্যোগ

বর্ষা শুরুর আগে ৪৫ দিন ‘শিশু হাঙর নিষিদ্ধ মৌসুম’ ঘোষণা করে সব খাল-নৌসম্ভার বন্ধ রাখা।

জেলে-নিয়ন্ত্রিত ‘হাঙর পর্যবেক্ষণ ভ্রমণ’ চালু করে বিকল্প আয়ের পথ দেখানো।

Ocean Justice in Focus: Bangladesh and The Global Oceans Treaty -  Greenpeace South Asia

ট্রলার অপারেশন ও নৌ-লাইট নিয়ন্ত্রণে বঙ্গোপসাগরে যেমন এমপিএ গড়া হয়েছে, তেমনই ‘নদীমুখ সংরক্ষণ লাইট-জোন’ পশুর-শিবশায় জরুরি।

হাঙর বাঁচলেই বাঁচবে সমুদ্র-নদীর ভারসাম্য

রূপসা বদলে পশুর, পশুর ভাগ হয়ে শিবশা — এই দ্বিপ্রবাহের শাখা-উপশাখায় খেলার ছলে বড় হয় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হাঙর বাহিনী। হোয়েল শার্কের ধীর পদক্ষেপ থেকে শিশু ব্ল্যাকটিপের প্রথম শিকার অভিযান — সবকিছুই সমুদ্র-নদী বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই পশুর-শিবশা-শেলা বাঁচলে বাঁচবে বঙ্গোপসাগরের শিকারি নীলস্বর্গ; আর সেই স্বর্গ টিকিয়ে রাখাই সুন্দরবন, নদী-কেন্দ্রিক মানুষ ও সমুদ্রজীবনের টিকে থাকার পূর্বশর্ত।