০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী বৃষ্টিতে ডুবল চট্টগ্রাম, বুকসমান পানিতে অচল সড়ক—দুর্ভোগে নগরবাসী যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী, ২০২৬ সালে বাড়তে পারে ১৬% চট্টগ্রামে চার সামাজিক সংগঠনের হাতে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনুদান, তৃণমূলে উন্নয়নে জোর নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতার টানাপোড়েন, আনোয়ার জোটে নতুন সংকট ‘দেশে জঙ্গি নেই’—এই বক্তব্য ভুল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: তথ্য উপদেষ্টা খালি পেটে ৪ ঘরোয়া পানীয়, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহজ অভ্যাস স্বামীর ছুরিকাঘাতে সিলেটে গৃহবধূ নিহত, অভিযুক্ত পলাতক ২০২৬ সালের সেরা বইগুলো: ‘কিন’, ‘লন্ডন ফলিং’সহ আরও কিছু আলোচিত বই অ্যানজ্যাক ডেতে একাই হাজির কেট মিডলটন, নজর কাড়ল বিরল রাজকীয় গয়নার গল্প

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৪৪)

শীতকালের প্রথমে সকলে কান্যকুজের দিকে চললেন। শীলাদিত্য গঙ্গার দক্ষিণ তীর ধরে আর কামরূপরাজ উত্তর তীর ধরে অগ্রসর হলেন।

হিউএনচাঙ হীনযান মত খণ্ডন করে একখানা গ্রন্থ লিখেছিলেন।

মহারাজা সেটা চেয়ে নিয়ে পড়ে খুব খুশি হলেন আর বললেন, ‘আমার ভিক্ষুদের মহাস্থবির, হীনযানী দেবসেন, বলেন যে তিনি একজন মহাপণ্ডিত আর অনায়াসে মহাযানমত খণ্ডন করতে পারেন-কিন্তু বিদেশী ভিক্ষুর আগমনবার্তা শুনে তিনি বৈশালীতে পালিরেছেন!’

এই সময়ে মহারাজার ভগ্নী (রাজ্যশ্রী) মহারাজের পিছনে বসেছিলেন। হীনযানশাস্ত্রজ্ঞা বলে তাঁর খ্যাতি ছিল। তিনিও হিউএনচাঙের বিচার শুনে আনন্দে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতে লাগলেন।

শীলাদিত্য বললেন, ‘ধর্মগুরুর লিখিত গ্রন্থ খুব ভালো। আমার আর অন্যদেরও এতে মহাযানের উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস হয়েছে। কিন্তু অন্যদেশের লোক আর ভিন্ন মতাবলম্বীদের সন্দেহ নিরসন করবার জন্যে কান্যকুব্জতে একটা মহাসভা আহ্বান করা প্রয়োজন।’

শীতকালের প্রথমে সকলে কান্যকুজের দিকে চললেন। শীলাদিত্য গঙ্গার দক্ষিণ তীর ধরে আর কামরূপরাজ উত্তর তীর ধরে অগ্রসর হলেন।

উভয় রাজার সঙ্গেই জমকালো পরিচ্ছদে ভূষিত চতুরঙ্গ সেনা ছিল আর হাজার হাজার অনুচর ছিল- কেহ বা নদীতে নৌকায়, কেহ বা হাতীর পিঠে, ঢাক, ঢোল, বাঁশী, বীণার বাদ্যসহকারে সকলে অগ্রসর হয়ে নব্বই দিনে কান্যকুজে পৌঁছে গঙ্গার পশ্চিমতীরে সকলে বিশ্রাম করলেন।

সভাস্থলে রাজাজ্ঞায় আঠারো-উনিশটা দেশের রাজা, হীনযান ও মহাযানের শাস্ত্রজ্ঞ তিন হাজার ভিক্ষু, তিন হাজার ব্রাহ্মণ ও নিগ্রন্থ (জৈন) আর তা ছাড়া নালন্দার প্রায় এক হাজার ভিক্ষু আগে থেকেই এসেছিলেন। এইসব সমাগত বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ প্রত্যেকে বিদ্বান্ ও তর্কে নিপুণ ছিলেন; আর প্রত্যেকের সঙ্গে বহু অনুচর কেহ বা হাতীতে, কেহ বা রথে, কেহ বা পাল্কীতে, কেহ বা চাঁদোয়ার ছায়ায় (পদব্রজে?) এসেছিলেন। দেশের গণ্যমান্য লোক, রাজকর্মচারী, সেনারাও উপস্থিত ছিলেন।

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৪৩)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৪৩)

ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৪৪)

০৯:০০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

শীতকালের প্রথমে সকলে কান্যকুজের দিকে চললেন। শীলাদিত্য গঙ্গার দক্ষিণ তীর ধরে আর কামরূপরাজ উত্তর তীর ধরে অগ্রসর হলেন।

হিউএনচাঙ হীনযান মত খণ্ডন করে একখানা গ্রন্থ লিখেছিলেন।

মহারাজা সেটা চেয়ে নিয়ে পড়ে খুব খুশি হলেন আর বললেন, ‘আমার ভিক্ষুদের মহাস্থবির, হীনযানী দেবসেন, বলেন যে তিনি একজন মহাপণ্ডিত আর অনায়াসে মহাযানমত খণ্ডন করতে পারেন-কিন্তু বিদেশী ভিক্ষুর আগমনবার্তা শুনে তিনি বৈশালীতে পালিরেছেন!’

এই সময়ে মহারাজার ভগ্নী (রাজ্যশ্রী) মহারাজের পিছনে বসেছিলেন। হীনযানশাস্ত্রজ্ঞা বলে তাঁর খ্যাতি ছিল। তিনিও হিউএনচাঙের বিচার শুনে আনন্দে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতে লাগলেন।

শীলাদিত্য বললেন, ‘ধর্মগুরুর লিখিত গ্রন্থ খুব ভালো। আমার আর অন্যদেরও এতে মহাযানের উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস হয়েছে। কিন্তু অন্যদেশের লোক আর ভিন্ন মতাবলম্বীদের সন্দেহ নিরসন করবার জন্যে কান্যকুব্জতে একটা মহাসভা আহ্বান করা প্রয়োজন।’

শীতকালের প্রথমে সকলে কান্যকুজের দিকে চললেন। শীলাদিত্য গঙ্গার দক্ষিণ তীর ধরে আর কামরূপরাজ উত্তর তীর ধরে অগ্রসর হলেন।

উভয় রাজার সঙ্গেই জমকালো পরিচ্ছদে ভূষিত চতুরঙ্গ সেনা ছিল আর হাজার হাজার অনুচর ছিল- কেহ বা নদীতে নৌকায়, কেহ বা হাতীর পিঠে, ঢাক, ঢোল, বাঁশী, বীণার বাদ্যসহকারে সকলে অগ্রসর হয়ে নব্বই দিনে কান্যকুজে পৌঁছে গঙ্গার পশ্চিমতীরে সকলে বিশ্রাম করলেন।

সভাস্থলে রাজাজ্ঞায় আঠারো-উনিশটা দেশের রাজা, হীনযান ও মহাযানের শাস্ত্রজ্ঞ তিন হাজার ভিক্ষু, তিন হাজার ব্রাহ্মণ ও নিগ্রন্থ (জৈন) আর তা ছাড়া নালন্দার প্রায় এক হাজার ভিক্ষু আগে থেকেই এসেছিলেন। এইসব সমাগত বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ প্রত্যেকে বিদ্বান্ ও তর্কে নিপুণ ছিলেন; আর প্রত্যেকের সঙ্গে বহু অনুচর কেহ বা হাতীতে, কেহ বা রথে, কেহ বা পাল্কীতে, কেহ বা চাঁদোয়ার ছায়ায় (পদব্রজে?) এসেছিলেন। দেশের গণ্যমান্য লোক, রাজকর্মচারী, সেনারাও উপস্থিত ছিলেন।

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৪৩)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৪৩)