০৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
রুপিয়ার দুর্বলতা শুধু মুদ্রাবাজারের সংকট নয়, মধ্যবিত্তের ভঙ্গুর ভবিষ্যতেরও প্রতিচ্ছবি বৈদেশিক ঋণের চাপে বাংলাদেশ চরাচর মহানন্দা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ পুলিশের গাজীপুরে ২০ কিলোমিটার যানজট, ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি ঈদযাত্রায় বাড়তে পারে হামের সংক্রমণ, সতর্ক করলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ‘দ্য জাপানিজ ওয়ে অব প্যারেন্টিং’ বইয়ে জাপানি মাতৃত্বের অদৃশ্য শ্রম ও আধুনিক পরিবারের নতুন প্রশ্ন স্টার ওয়ার্সের বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন, ডিজনির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নিখোঁজ বৃদ্ধদের অদৃশ্য ট্র্যাজেডি: বার্ধক্য, ডিমেনশিয়া ও সমাজের ব্যর্থতা ই-কমার্স আইনে রাইড-হেইলিং অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক ইন্দোনেশিয়ায়

নিভৃতে চলে গেলো মতিয়া চৌধুরীর জন্মদিন

  • Sarakhon Report
  • ০৫:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • 634

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বলতেন, তুমি এভাবে ইতিহাস নির্মাণ করো, যাতে ইতিহাস সৃষ্টি হবে কিন্তু তোমাকে ইতিহাসে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। মতিয়া চৌধুরী তেমনি ব্যক্তি প্রাপ্তির অনেক দূরে থেকে ইতিহাস নির্মাণ করে গেছেন ছয় দশকের বেশি সময় ধরে। অথচ বাস্তবে ব্যক্তি মতিয়া চৌধুরী ও ইতিহাস নির্মাতা মতিয়া চৌধুরীর নব্বই ভাগই দেশের মানুষের কাছে অজানা।

বাস্তবতা হলো প্রকৃত ইতিহাস নির্মাতারা বর্তমান সময়-এর কাছে, কেন ভবিষ্যতের কাছেও, কখনই কিছু চান না—তারা শুধুই ইতিহাস নির্মাণ করে যান অনেকটা ইতিহাস নির্মাণের জন্য প্রেরিত মানব হিসেবে। এবং যে জনগোষ্ঠীর জন্য তারা গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করে যান, সে জনগোষ্ঠী তাদেরকে মনে রাখবে কি রাখবে না তা নিয়েও তাদের কোনো চাহিদা থাকে না। মতিয়া চৌধুরী তাদের দলেই। তিনি কখনও আশা করেননি তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিন পালিত হোক।

কিন্তু ইতিহাস বড় পাকা জহুরি—সে সময়-এর হাজার হাজার বছরের পাথর খুঁড়ে শুধু মনিরত্নটুকু ইতিহাসে রেখে দেয়। বাদবাকি সবই ময়লা হিসেবে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। সব জনগোষ্ঠীর সব উত্থান-পতনের প্রকৃত ইতিহাস লেখা হয় হাজার বছর পরে—ওই ইতিহাসে বড় ডাস্টবিনের বস্তুরাও থাকে না, থাকে শুধু প্রকৃত মনিমুক্তাটুকু।

বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি আর বাঙালি নারীর বীরত্বের ইতিহাস হাজার বছর পরে যখন লেখা হবে—সেখানে উজ্জ্বল মনিরত্ন হিসেবেই উঠে আসবেন মতিয়া চৌধুরী। সেখানে হয়তো অধিকাংশ রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা খ্যাতিক্রেতা-বিক্রেতারা কেউ থাকবেন না। থাকবে কয়েক জেনারেশানের বাঙালি মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নেওয়া এক নারী—যিনি দেশ ও মানুষের মুক্তির জন্য সারাজীবন শুধু সংগ্রাম করেননি, বাস করে গেছেন অতিসাধারণ এক জীবনযাত্রাকে মেনে নিয়ে। তাই অতি সাধারণ সুতির শাড়ি পরা মতিয়া চৌধুরীর ছবি বাঙালির ইতিহাস থেকে সরানোর ক্ষমতা কেউ রাখে না। মতিয়া চৌধুরী বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলিম নারীদের মধ্যে একজনই জন্মেছেন, তাকে ইতিহাস সেই স্থানেই রাখবে। তাঁর কীর্তি ও তিনি—দুয়েই মহৎ। তাঁকে স্মরণ না করলে জাতি নিজের শক্তি আর শেকড় থেকে ছিটকে পড়বে, দুর্বল, অসংস্কৃত ও পশ্চাদপদ জাতি হিসেবে নিজেদের তৈরি করার দিকে ঠেলে দেবে।

যতদিন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বহমান থাকবে, ততদিন ছাত্র আন্দোলনের অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী, স্বাধিকার সংগ্রামের মতিয়া চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মতিয়া চৌধুরী এবং বাংলাদেশকে কিছু সময় এর জন্য হলেও মূলখাদ্য চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কারিগর মতিয়া চৌধুরী ঠিকই থাকবেন—এ জাতির প্রকৃত সন্তানদের শিরায় বহমান।

জনপ্রিয় সংবাদ

রুপিয়ার দুর্বলতা শুধু মুদ্রাবাজারের সংকট নয়, মধ্যবিত্তের ভঙ্গুর ভবিষ্যতেরও প্রতিচ্ছবি

নিভৃতে চলে গেলো মতিয়া চৌধুরীর জন্মদিন

০৫:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বলতেন, তুমি এভাবে ইতিহাস নির্মাণ করো, যাতে ইতিহাস সৃষ্টি হবে কিন্তু তোমাকে ইতিহাসে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। মতিয়া চৌধুরী তেমনি ব্যক্তি প্রাপ্তির অনেক দূরে থেকে ইতিহাস নির্মাণ করে গেছেন ছয় দশকের বেশি সময় ধরে। অথচ বাস্তবে ব্যক্তি মতিয়া চৌধুরী ও ইতিহাস নির্মাতা মতিয়া চৌধুরীর নব্বই ভাগই দেশের মানুষের কাছে অজানা।

বাস্তবতা হলো প্রকৃত ইতিহাস নির্মাতারা বর্তমান সময়-এর কাছে, কেন ভবিষ্যতের কাছেও, কখনই কিছু চান না—তারা শুধুই ইতিহাস নির্মাণ করে যান অনেকটা ইতিহাস নির্মাণের জন্য প্রেরিত মানব হিসেবে। এবং যে জনগোষ্ঠীর জন্য তারা গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করে যান, সে জনগোষ্ঠী তাদেরকে মনে রাখবে কি রাখবে না তা নিয়েও তাদের কোনো চাহিদা থাকে না। মতিয়া চৌধুরী তাদের দলেই। তিনি কখনও আশা করেননি তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিন পালিত হোক।

কিন্তু ইতিহাস বড় পাকা জহুরি—সে সময়-এর হাজার হাজার বছরের পাথর খুঁড়ে শুধু মনিরত্নটুকু ইতিহাসে রেখে দেয়। বাদবাকি সবই ময়লা হিসেবে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। সব জনগোষ্ঠীর সব উত্থান-পতনের প্রকৃত ইতিহাস লেখা হয় হাজার বছর পরে—ওই ইতিহাসে বড় ডাস্টবিনের বস্তুরাও থাকে না, থাকে শুধু প্রকৃত মনিমুক্তাটুকু।

বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি আর বাঙালি নারীর বীরত্বের ইতিহাস হাজার বছর পরে যখন লেখা হবে—সেখানে উজ্জ্বল মনিরত্ন হিসেবেই উঠে আসবেন মতিয়া চৌধুরী। সেখানে হয়তো অধিকাংশ রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা খ্যাতিক্রেতা-বিক্রেতারা কেউ থাকবেন না। থাকবে কয়েক জেনারেশানের বাঙালি মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নেওয়া এক নারী—যিনি দেশ ও মানুষের মুক্তির জন্য সারাজীবন শুধু সংগ্রাম করেননি, বাস করে গেছেন অতিসাধারণ এক জীবনযাত্রাকে মেনে নিয়ে। তাই অতি সাধারণ সুতির শাড়ি পরা মতিয়া চৌধুরীর ছবি বাঙালির ইতিহাস থেকে সরানোর ক্ষমতা কেউ রাখে না। মতিয়া চৌধুরী বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলিম নারীদের মধ্যে একজনই জন্মেছেন, তাকে ইতিহাস সেই স্থানেই রাখবে। তাঁর কীর্তি ও তিনি—দুয়েই মহৎ। তাঁকে স্মরণ না করলে জাতি নিজের শক্তি আর শেকড় থেকে ছিটকে পড়বে, দুর্বল, অসংস্কৃত ও পশ্চাদপদ জাতি হিসেবে নিজেদের তৈরি করার দিকে ঠেলে দেবে।

যতদিন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বহমান থাকবে, ততদিন ছাত্র আন্দোলনের অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী, স্বাধিকার সংগ্রামের মতিয়া চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মতিয়া চৌধুরী এবং বাংলাদেশকে কিছু সময় এর জন্য হলেও মূলখাদ্য চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কারিগর মতিয়া চৌধুরী ঠিকই থাকবেন—এ জাতির প্রকৃত সন্তানদের শিরায় বহমান।