০৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
চীনের নতুন অর্থনৈতিক কৌশল, অব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকেই আয়ের পথ খুঁজছে প্রশাসন চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রেমে লাগাম, নতুন নিয়মে বন্ধ হচ্ছে ভার্চুয়াল সম্পর্ক শি জিনপিংয়ের আমলে নতুন নজির, পলিটব্যুরো থেকে সরানো হলো মা শিংরুইকে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বড় চ্যালেঞ্জ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন হামলায় বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা লাওসে মদে বিষাক্ত মেথানল, ছয় পর্যটকের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ ভারতের প্রথম বেসরকারি কক্ষপথ রকেট উৎক্ষেপণ, মহাকাশ খাতে নতুন দিগন্ত হলিউডে ১১১ বিলিয়ন ডলারের একীভূতকরণ নিয়ে আইনি ঝড়, বড় চুক্তি ঠেকাতে মাঠে ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত গণতন্ত্রের বিতর্ক, ভোটারদের ওপর বাড়ছে সিদ্ধান্তের চাপ

নিভৃতে চলে গেলো মতিয়া চৌধুরীর জন্মদিন

  • Sarakhon Report
  • ০৫:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • 665

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বলতেন, তুমি এভাবে ইতিহাস নির্মাণ করো, যাতে ইতিহাস সৃষ্টি হবে কিন্তু তোমাকে ইতিহাসে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। মতিয়া চৌধুরী তেমনি ব্যক্তি প্রাপ্তির অনেক দূরে থেকে ইতিহাস নির্মাণ করে গেছেন ছয় দশকের বেশি সময় ধরে। অথচ বাস্তবে ব্যক্তি মতিয়া চৌধুরী ও ইতিহাস নির্মাতা মতিয়া চৌধুরীর নব্বই ভাগই দেশের মানুষের কাছে অজানা।

বাস্তবতা হলো প্রকৃত ইতিহাস নির্মাতারা বর্তমান সময়-এর কাছে, কেন ভবিষ্যতের কাছেও, কখনই কিছু চান না—তারা শুধুই ইতিহাস নির্মাণ করে যান অনেকটা ইতিহাস নির্মাণের জন্য প্রেরিত মানব হিসেবে। এবং যে জনগোষ্ঠীর জন্য তারা গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করে যান, সে জনগোষ্ঠী তাদেরকে মনে রাখবে কি রাখবে না তা নিয়েও তাদের কোনো চাহিদা থাকে না। মতিয়া চৌধুরী তাদের দলেই। তিনি কখনও আশা করেননি তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিন পালিত হোক।

কিন্তু ইতিহাস বড় পাকা জহুরি—সে সময়-এর হাজার হাজার বছরের পাথর খুঁড়ে শুধু মনিরত্নটুকু ইতিহাসে রেখে দেয়। বাদবাকি সবই ময়লা হিসেবে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। সব জনগোষ্ঠীর সব উত্থান-পতনের প্রকৃত ইতিহাস লেখা হয় হাজার বছর পরে—ওই ইতিহাসে বড় ডাস্টবিনের বস্তুরাও থাকে না, থাকে শুধু প্রকৃত মনিমুক্তাটুকু।

বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি আর বাঙালি নারীর বীরত্বের ইতিহাস হাজার বছর পরে যখন লেখা হবে—সেখানে উজ্জ্বল মনিরত্ন হিসেবেই উঠে আসবেন মতিয়া চৌধুরী। সেখানে হয়তো অধিকাংশ রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা খ্যাতিক্রেতা-বিক্রেতারা কেউ থাকবেন না। থাকবে কয়েক জেনারেশানের বাঙালি মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নেওয়া এক নারী—যিনি দেশ ও মানুষের মুক্তির জন্য সারাজীবন শুধু সংগ্রাম করেননি, বাস করে গেছেন অতিসাধারণ এক জীবনযাত্রাকে মেনে নিয়ে। তাই অতি সাধারণ সুতির শাড়ি পরা মতিয়া চৌধুরীর ছবি বাঙালির ইতিহাস থেকে সরানোর ক্ষমতা কেউ রাখে না। মতিয়া চৌধুরী বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলিম নারীদের মধ্যে একজনই জন্মেছেন, তাকে ইতিহাস সেই স্থানেই রাখবে। তাঁর কীর্তি ও তিনি—দুয়েই মহৎ। তাঁকে স্মরণ না করলে জাতি নিজের শক্তি আর শেকড় থেকে ছিটকে পড়বে, দুর্বল, অসংস্কৃত ও পশ্চাদপদ জাতি হিসেবে নিজেদের তৈরি করার দিকে ঠেলে দেবে।

যতদিন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বহমান থাকবে, ততদিন ছাত্র আন্দোলনের অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী, স্বাধিকার সংগ্রামের মতিয়া চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মতিয়া চৌধুরী এবং বাংলাদেশকে কিছু সময় এর জন্য হলেও মূলখাদ্য চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কারিগর মতিয়া চৌধুরী ঠিকই থাকবেন—এ জাতির প্রকৃত সন্তানদের শিরায় বহমান।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের নতুন অর্থনৈতিক কৌশল, অব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকেই আয়ের পথ খুঁজছে প্রশাসন

নিভৃতে চলে গেলো মতিয়া চৌধুরীর জন্মদিন

০৫:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বলতেন, তুমি এভাবে ইতিহাস নির্মাণ করো, যাতে ইতিহাস সৃষ্টি হবে কিন্তু তোমাকে ইতিহাসে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। মতিয়া চৌধুরী তেমনি ব্যক্তি প্রাপ্তির অনেক দূরে থেকে ইতিহাস নির্মাণ করে গেছেন ছয় দশকের বেশি সময় ধরে। অথচ বাস্তবে ব্যক্তি মতিয়া চৌধুরী ও ইতিহাস নির্মাতা মতিয়া চৌধুরীর নব্বই ভাগই দেশের মানুষের কাছে অজানা।

বাস্তবতা হলো প্রকৃত ইতিহাস নির্মাতারা বর্তমান সময়-এর কাছে, কেন ভবিষ্যতের কাছেও, কখনই কিছু চান না—তারা শুধুই ইতিহাস নির্মাণ করে যান অনেকটা ইতিহাস নির্মাণের জন্য প্রেরিত মানব হিসেবে। এবং যে জনগোষ্ঠীর জন্য তারা গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করে যান, সে জনগোষ্ঠী তাদেরকে মনে রাখবে কি রাখবে না তা নিয়েও তাদের কোনো চাহিদা থাকে না। মতিয়া চৌধুরী তাদের দলেই। তিনি কখনও আশা করেননি তাঁর জন্মদিন বা মৃত্যুদিন পালিত হোক।

কিন্তু ইতিহাস বড় পাকা জহুরি—সে সময়-এর হাজার হাজার বছরের পাথর খুঁড়ে শুধু মনিরত্নটুকু ইতিহাসে রেখে দেয়। বাদবাকি সবই ময়লা হিসেবে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। সব জনগোষ্ঠীর সব উত্থান-পতনের প্রকৃত ইতিহাস লেখা হয় হাজার বছর পরে—ওই ইতিহাসে বড় ডাস্টবিনের বস্তুরাও থাকে না, থাকে শুধু প্রকৃত মনিমুক্তাটুকু।

বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি আর বাঙালি নারীর বীরত্বের ইতিহাস হাজার বছর পরে যখন লেখা হবে—সেখানে উজ্জ্বল মনিরত্ন হিসেবেই উঠে আসবেন মতিয়া চৌধুরী। সেখানে হয়তো অধিকাংশ রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা খ্যাতিক্রেতা-বিক্রেতারা কেউ থাকবেন না। থাকবে কয়েক জেনারেশানের বাঙালি মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নেওয়া এক নারী—যিনি দেশ ও মানুষের মুক্তির জন্য সারাজীবন শুধু সংগ্রাম করেননি, বাস করে গেছেন অতিসাধারণ এক জীবনযাত্রাকে মেনে নিয়ে। তাই অতি সাধারণ সুতির শাড়ি পরা মতিয়া চৌধুরীর ছবি বাঙালির ইতিহাস থেকে সরানোর ক্ষমতা কেউ রাখে না। মতিয়া চৌধুরী বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলিম নারীদের মধ্যে একজনই জন্মেছেন, তাকে ইতিহাস সেই স্থানেই রাখবে। তাঁর কীর্তি ও তিনি—দুয়েই মহৎ। তাঁকে স্মরণ না করলে জাতি নিজের শক্তি আর শেকড় থেকে ছিটকে পড়বে, দুর্বল, অসংস্কৃত ও পশ্চাদপদ জাতি হিসেবে নিজেদের তৈরি করার দিকে ঠেলে দেবে।

যতদিন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বহমান থাকবে, ততদিন ছাত্র আন্দোলনের অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী, স্বাধিকার সংগ্রামের মতিয়া চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মতিয়া চৌধুরী এবং বাংলাদেশকে কিছু সময় এর জন্য হলেও মূলখাদ্য চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কারিগর মতিয়া চৌধুরী ঠিকই থাকবেন—এ জাতির প্রকৃত সন্তানদের শিরায় বহমান।