০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী বৃষ্টিতে ডুবল চট্টগ্রাম, বুকসমান পানিতে অচল সড়ক—দুর্ভোগে নগরবাসী যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী, ২০২৬ সালে বাড়তে পারে ১৬% চট্টগ্রামে চার সামাজিক সংগঠনের হাতে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনুদান, তৃণমূলে উন্নয়নে জোর নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতার টানাপোড়েন, আনোয়ার জোটে নতুন সংকট ‘দেশে জঙ্গি নেই’—এই বক্তব্য ভুল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: তথ্য উপদেষ্টা খালি পেটে ৪ ঘরোয়া পানীয়, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহজ অভ্যাস স্বামীর ছুরিকাঘাতে সিলেটে গৃহবধূ নিহত, অভিযুক্ত পলাতক ২০২৬ সালের সেরা বইগুলো: ‘কিন’, ‘লন্ডন ফলিং’সহ আরও কিছু আলোচিত বই অ্যানজ্যাক ডেতে একাই হাজির কেট মিডলটন, নজর কাড়ল বিরল রাজকীয় গয়নার গল্প

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৫)

বিহারের চারিদিকে পাথরের দেওয়ালে বোধিসত্ত্বের জীবনের নানা ঘটনা অঙ্কিত আছে। এই ছবিগুলি অতি চমৎকার আর নির্ভুল।’

অবশ্য গোঁড়। বৌদ্ধ হিউ এনচাঙের চোখে এ সমস্ত ভাস্কর্য বিশেষ ভালো লাগবার কথা নয়। তবে এই দেশেই বৌদ্ধ শিল্পের নিদর্শনেরও অভাব ছিল না। কল্যাণীর নিকটে বেদশার চৈত্য, কারলির বিখ্যাত চৈত্য, খৃস্টপূর্ব দ্বিতীয় বা প্রথম শতাব্দীর তৈয়ারী। অজন্তার গুহাগুলি তো মহারাষ্ট্র দেশের মধ্যস্থলে পুলকেশিনের রাজধানীর নিকটেই ছিল।

হিউএনচাঙ এগুলির কথাও লিখেছেন। অজন্তা সম্বন্ধে বলেন, ‘মহারাষ্ট্র দেশের পূর্ব সীমানায় একটা অন্ধকার উপত্যকায় পর্বতের গায়ে একটা সঙ্ঘারাম খোদা আছে। এর ভিতরে বড় বড় গুহা আর অনেক তলা উঁচু উঁচু ঘর। সামনে উপত্যকা আর নদী। এই সঙ্ঘারাম পশ্চিমভারতের অধিবাসী অহং ‘আচারা’ তৈরি করেন। বিহারের চারিদিকে পাথরের দেওয়ালে বোধিসত্ত্বের জীবনের নানা ঘটনা অঙ্কিত আছে। এই ছবিগুলি অতি চমৎকার আর নির্ভুল।’

মহারাষ্ট্র দেশ ত্যাগ করে হিউ এনচাঙ কিছুদিন নর্মদা নদীর পরপারে সমুদ্রতীরে ভারুকচ্ছু বা বরোচ বন্দরে বাস করেন। বরোচ বন্দর বহুদিন থেকেই ভারত-মিশর বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল। গ্রীক ভূগোলে এ বন্দর ‘বারিগাজা’ নামে প্রসিদ্ধ। হিউ এনচাঙ বলেন, ‘এখানকার লোকগুলি কুটীল আর মন্দপ্রকৃতি।’

এর পর হিউএনচাঙ মালব প্রদেশে যান। কবি কালিদাস সম্ভবত এখানকারই লোক ছিলেন। আর সম্ভবত হিউএনচাঙের মাত্র একশ বছর আগে জীবিত ছিলেন।এখানকার বিষয়ে হিউ এনচাঙ বলেন, ‘দুটি প্রদেশের লোক সমস্ত ভারতের মধ্যে বিদ্যাবত্তার জন্যে প্রসিদ্ধ-উত্তর-পূর্বে মগধ আর দক্ষিণ-পশ্চিমে মালব। এরা বুদ্ধিমান, অতিশয় বিদ্যানুরাগী, রূপকর্মপ্রিয়, গুণগ্রাহী। এদের আচরণ ও কথাবার্তা শিষ্টাচারসম্মত ও সংস্কৃতিমান, মার্জিত ও প্রীতিকর। লোকগুলি কেহ বা বৌদ্ধ, কেহ বা বিধর্মী। তবু একত্রে বাস করে। হীনযানী এক শ সঙ্ঘারাম আর দুই হাজার ভিক্ষু আছে। নানা সম্প্রদায়ের শতখানেক দেবমন্দিরও আছে। বিধর্মী বহু, বেশীর ভাগই ছাইমাথা (পাশুপত)।’

মালবের পশ্চিমে সৌরাষ্ট্র ও বলভী (আধুনিক জুনাগড় ইত্যাদি)। এস্থান পারশ্য বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল। বলেন, ‘এদেশ আর অধিবাসীরা মালবের মতন। আর এখানে অনেক ধনী পরিবার আছে। হিউএনচাঙ বলভী সম্বন্ধে লোকসংখ্যা খুব বেশী, শতখানেক ক্রোড়পতি পরিবার আছে। বিদেশী বহুমূল্য পণ্যদ্রব্য এখানে বিস্তর আছে।’

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৪)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১২১)

 

 

ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৫)

০৯:০০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

বিহারের চারিদিকে পাথরের দেওয়ালে বোধিসত্ত্বের জীবনের নানা ঘটনা অঙ্কিত আছে। এই ছবিগুলি অতি চমৎকার আর নির্ভুল।’

অবশ্য গোঁড়। বৌদ্ধ হিউ এনচাঙের চোখে এ সমস্ত ভাস্কর্য বিশেষ ভালো লাগবার কথা নয়। তবে এই দেশেই বৌদ্ধ শিল্পের নিদর্শনেরও অভাব ছিল না। কল্যাণীর নিকটে বেদশার চৈত্য, কারলির বিখ্যাত চৈত্য, খৃস্টপূর্ব দ্বিতীয় বা প্রথম শতাব্দীর তৈয়ারী। অজন্তার গুহাগুলি তো মহারাষ্ট্র দেশের মধ্যস্থলে পুলকেশিনের রাজধানীর নিকটেই ছিল।

হিউএনচাঙ এগুলির কথাও লিখেছেন। অজন্তা সম্বন্ধে বলেন, ‘মহারাষ্ট্র দেশের পূর্ব সীমানায় একটা অন্ধকার উপত্যকায় পর্বতের গায়ে একটা সঙ্ঘারাম খোদা আছে। এর ভিতরে বড় বড় গুহা আর অনেক তলা উঁচু উঁচু ঘর। সামনে উপত্যকা আর নদী। এই সঙ্ঘারাম পশ্চিমভারতের অধিবাসী অহং ‘আচারা’ তৈরি করেন। বিহারের চারিদিকে পাথরের দেওয়ালে বোধিসত্ত্বের জীবনের নানা ঘটনা অঙ্কিত আছে। এই ছবিগুলি অতি চমৎকার আর নির্ভুল।’

মহারাষ্ট্র দেশ ত্যাগ করে হিউ এনচাঙ কিছুদিন নর্মদা নদীর পরপারে সমুদ্রতীরে ভারুকচ্ছু বা বরোচ বন্দরে বাস করেন। বরোচ বন্দর বহুদিন থেকেই ভারত-মিশর বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল। গ্রীক ভূগোলে এ বন্দর ‘বারিগাজা’ নামে প্রসিদ্ধ। হিউ এনচাঙ বলেন, ‘এখানকার লোকগুলি কুটীল আর মন্দপ্রকৃতি।’

এর পর হিউএনচাঙ মালব প্রদেশে যান। কবি কালিদাস সম্ভবত এখানকারই লোক ছিলেন। আর সম্ভবত হিউএনচাঙের মাত্র একশ বছর আগে জীবিত ছিলেন।এখানকার বিষয়ে হিউ এনচাঙ বলেন, ‘দুটি প্রদেশের লোক সমস্ত ভারতের মধ্যে বিদ্যাবত্তার জন্যে প্রসিদ্ধ-উত্তর-পূর্বে মগধ আর দক্ষিণ-পশ্চিমে মালব। এরা বুদ্ধিমান, অতিশয় বিদ্যানুরাগী, রূপকর্মপ্রিয়, গুণগ্রাহী। এদের আচরণ ও কথাবার্তা শিষ্টাচারসম্মত ও সংস্কৃতিমান, মার্জিত ও প্রীতিকর। লোকগুলি কেহ বা বৌদ্ধ, কেহ বা বিধর্মী। তবু একত্রে বাস করে। হীনযানী এক শ সঙ্ঘারাম আর দুই হাজার ভিক্ষু আছে। নানা সম্প্রদায়ের শতখানেক দেবমন্দিরও আছে। বিধর্মী বহু, বেশীর ভাগই ছাইমাথা (পাশুপত)।’

মালবের পশ্চিমে সৌরাষ্ট্র ও বলভী (আধুনিক জুনাগড় ইত্যাদি)। এস্থান পারশ্য বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল। বলেন, ‘এদেশ আর অধিবাসীরা মালবের মতন। আর এখানে অনেক ধনী পরিবার আছে। হিউএনচাঙ বলভী সম্বন্ধে লোকসংখ্যা খুব বেশী, শতখানেক ক্রোড়পতি পরিবার আছে। বিদেশী বহুমূল্য পণ্যদ্রব্য এখানে বিস্তর আছে।’

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৪)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১২১)