০৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
হাইলাইট: হাকিমপুরে সামান্য বৃষ্টিতেই বেহাল সড়ক, দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ সময়ের দূরত্বে পিতাকে নতুন করে আবিষ্কার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যথেষ্ট নয়, দরকার পেশাগত ন্যায়বিচারের কাঠামো একটি জাতির ভবিষ্যৎ শুধু নীতিতে নয়, সন্তান পালনের গল্পেও নির্ধারিত হয় এত বিপুল সংখ্যক শিশুমৃত্যু বাংলাদেশ আগে কখনও দেখেনি কেপ ভার্দের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, উরুগুয়ের বিপক্ষেও চমক দেখাতে প্রস্তুত ব্লু শার্কস বাবার নীরব ভালোবাসা: স্মৃতি, ত্যাগ আর অটুট বন্ধনের গল্প চালকের উদ্বেগ কমিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে ঝড় তুলেছে প্রোটন বাবার অসমান পায়ের পথচলার ঋণ শোধে জীবন উৎসর্গ মেয়ের বাবার ভালোবাসা সব সময় বলা হয় না, কখনও কখনও তা শুধু ত্যাগেই লেখা থাকে

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৫)

বিহারের চারিদিকে পাথরের দেওয়ালে বোধিসত্ত্বের জীবনের নানা ঘটনা অঙ্কিত আছে। এই ছবিগুলি অতি চমৎকার আর নির্ভুল।’

অবশ্য গোঁড়। বৌদ্ধ হিউ এনচাঙের চোখে এ সমস্ত ভাস্কর্য বিশেষ ভালো লাগবার কথা নয়। তবে এই দেশেই বৌদ্ধ শিল্পের নিদর্শনেরও অভাব ছিল না। কল্যাণীর নিকটে বেদশার চৈত্য, কারলির বিখ্যাত চৈত্য, খৃস্টপূর্ব দ্বিতীয় বা প্রথম শতাব্দীর তৈয়ারী। অজন্তার গুহাগুলি তো মহারাষ্ট্র দেশের মধ্যস্থলে পুলকেশিনের রাজধানীর নিকটেই ছিল।

হিউএনচাঙ এগুলির কথাও লিখেছেন। অজন্তা সম্বন্ধে বলেন, ‘মহারাষ্ট্র দেশের পূর্ব সীমানায় একটা অন্ধকার উপত্যকায় পর্বতের গায়ে একটা সঙ্ঘারাম খোদা আছে। এর ভিতরে বড় বড় গুহা আর অনেক তলা উঁচু উঁচু ঘর। সামনে উপত্যকা আর নদী। এই সঙ্ঘারাম পশ্চিমভারতের অধিবাসী অহং ‘আচারা’ তৈরি করেন। বিহারের চারিদিকে পাথরের দেওয়ালে বোধিসত্ত্বের জীবনের নানা ঘটনা অঙ্কিত আছে। এই ছবিগুলি অতি চমৎকার আর নির্ভুল।’

মহারাষ্ট্র দেশ ত্যাগ করে হিউ এনচাঙ কিছুদিন নর্মদা নদীর পরপারে সমুদ্রতীরে ভারুকচ্ছু বা বরোচ বন্দরে বাস করেন। বরোচ বন্দর বহুদিন থেকেই ভারত-মিশর বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল। গ্রীক ভূগোলে এ বন্দর ‘বারিগাজা’ নামে প্রসিদ্ধ। হিউ এনচাঙ বলেন, ‘এখানকার লোকগুলি কুটীল আর মন্দপ্রকৃতি।’

এর পর হিউএনচাঙ মালব প্রদেশে যান। কবি কালিদাস সম্ভবত এখানকারই লোক ছিলেন। আর সম্ভবত হিউএনচাঙের মাত্র একশ বছর আগে জীবিত ছিলেন।এখানকার বিষয়ে হিউ এনচাঙ বলেন, ‘দুটি প্রদেশের লোক সমস্ত ভারতের মধ্যে বিদ্যাবত্তার জন্যে প্রসিদ্ধ-উত্তর-পূর্বে মগধ আর দক্ষিণ-পশ্চিমে মালব। এরা বুদ্ধিমান, অতিশয় বিদ্যানুরাগী, রূপকর্মপ্রিয়, গুণগ্রাহী। এদের আচরণ ও কথাবার্তা শিষ্টাচারসম্মত ও সংস্কৃতিমান, মার্জিত ও প্রীতিকর। লোকগুলি কেহ বা বৌদ্ধ, কেহ বা বিধর্মী। তবু একত্রে বাস করে। হীনযানী এক শ সঙ্ঘারাম আর দুই হাজার ভিক্ষু আছে। নানা সম্প্রদায়ের শতখানেক দেবমন্দিরও আছে। বিধর্মী বহু, বেশীর ভাগই ছাইমাথা (পাশুপত)।’

মালবের পশ্চিমে সৌরাষ্ট্র ও বলভী (আধুনিক জুনাগড় ইত্যাদি)। এস্থান পারশ্য বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল। বলেন, ‘এদেশ আর অধিবাসীরা মালবের মতন। আর এখানে অনেক ধনী পরিবার আছে। হিউএনচাঙ বলভী সম্বন্ধে লোকসংখ্যা খুব বেশী, শতখানেক ক্রোড়পতি পরিবার আছে। বিদেশী বহুমূল্য পণ্যদ্রব্য এখানে বিস্তর আছে।’

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৪)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১২১)

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইলাইট: হাকিমপুরে সামান্য বৃষ্টিতেই বেহাল সড়ক, দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৫)

০৯:০০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

বিহারের চারিদিকে পাথরের দেওয়ালে বোধিসত্ত্বের জীবনের নানা ঘটনা অঙ্কিত আছে। এই ছবিগুলি অতি চমৎকার আর নির্ভুল।’

অবশ্য গোঁড়। বৌদ্ধ হিউ এনচাঙের চোখে এ সমস্ত ভাস্কর্য বিশেষ ভালো লাগবার কথা নয়। তবে এই দেশেই বৌদ্ধ শিল্পের নিদর্শনেরও অভাব ছিল না। কল্যাণীর নিকটে বেদশার চৈত্য, কারলির বিখ্যাত চৈত্য, খৃস্টপূর্ব দ্বিতীয় বা প্রথম শতাব্দীর তৈয়ারী। অজন্তার গুহাগুলি তো মহারাষ্ট্র দেশের মধ্যস্থলে পুলকেশিনের রাজধানীর নিকটেই ছিল।

হিউএনচাঙ এগুলির কথাও লিখেছেন। অজন্তা সম্বন্ধে বলেন, ‘মহারাষ্ট্র দেশের পূর্ব সীমানায় একটা অন্ধকার উপত্যকায় পর্বতের গায়ে একটা সঙ্ঘারাম খোদা আছে। এর ভিতরে বড় বড় গুহা আর অনেক তলা উঁচু উঁচু ঘর। সামনে উপত্যকা আর নদী। এই সঙ্ঘারাম পশ্চিমভারতের অধিবাসী অহং ‘আচারা’ তৈরি করেন। বিহারের চারিদিকে পাথরের দেওয়ালে বোধিসত্ত্বের জীবনের নানা ঘটনা অঙ্কিত আছে। এই ছবিগুলি অতি চমৎকার আর নির্ভুল।’

মহারাষ্ট্র দেশ ত্যাগ করে হিউ এনচাঙ কিছুদিন নর্মদা নদীর পরপারে সমুদ্রতীরে ভারুকচ্ছু বা বরোচ বন্দরে বাস করেন। বরোচ বন্দর বহুদিন থেকেই ভারত-মিশর বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল। গ্রীক ভূগোলে এ বন্দর ‘বারিগাজা’ নামে প্রসিদ্ধ। হিউ এনচাঙ বলেন, ‘এখানকার লোকগুলি কুটীল আর মন্দপ্রকৃতি।’

এর পর হিউএনচাঙ মালব প্রদেশে যান। কবি কালিদাস সম্ভবত এখানকারই লোক ছিলেন। আর সম্ভবত হিউএনচাঙের মাত্র একশ বছর আগে জীবিত ছিলেন।এখানকার বিষয়ে হিউ এনচাঙ বলেন, ‘দুটি প্রদেশের লোক সমস্ত ভারতের মধ্যে বিদ্যাবত্তার জন্যে প্রসিদ্ধ-উত্তর-পূর্বে মগধ আর দক্ষিণ-পশ্চিমে মালব। এরা বুদ্ধিমান, অতিশয় বিদ্যানুরাগী, রূপকর্মপ্রিয়, গুণগ্রাহী। এদের আচরণ ও কথাবার্তা শিষ্টাচারসম্মত ও সংস্কৃতিমান, মার্জিত ও প্রীতিকর। লোকগুলি কেহ বা বৌদ্ধ, কেহ বা বিধর্মী। তবু একত্রে বাস করে। হীনযানী এক শ সঙ্ঘারাম আর দুই হাজার ভিক্ষু আছে। নানা সম্প্রদায়ের শতখানেক দেবমন্দিরও আছে। বিধর্মী বহু, বেশীর ভাগই ছাইমাথা (পাশুপত)।’

মালবের পশ্চিমে সৌরাষ্ট্র ও বলভী (আধুনিক জুনাগড় ইত্যাদি)। এস্থান পারশ্য বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল। বলেন, ‘এদেশ আর অধিবাসীরা মালবের মতন। আর এখানে অনেক ধনী পরিবার আছে। হিউএনচাঙ বলভী সম্বন্ধে লোকসংখ্যা খুব বেশী, শতখানেক ক্রোড়পতি পরিবার আছে। বিদেশী বহুমূল্য পণ্যদ্রব্য এখানে বিস্তর আছে।’

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৪)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১২১)