১১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
তামিলনাড়ুতে মানজুভিরাট্টুতে তাণ্ডব, বলদের গুঁতোয় নিহত ৩ দর্শক আমেরিকার ইরান আক্রমণের উদ্দেশ্য কি “ইসলামিক রিপাবলিক ২.০- না অন্যকিছু” চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদে পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষোভ, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ ‘নো রেজিম চেঞ্জ’ থেকে সরকার পতনের ডাক: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নাটকীয় অবস্থান বদল বছরের সর্বোচ্চ ধস: ডিএসই-সিএসইতে সূচকের বড় পতন, অধিকাংশ শেয়ারে দরপতন মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ৪ দিনে ঢাকা-চট্টগ্রামে ১৮২ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রী ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন ট্রাম্প, খামেনি হত্যার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পেছনের গল্প ১৬ মাসের সর্বোচ্চে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি, ফেব্রুয়ারিতে ৭% স্পর্শ করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইউএস মেরিনস: কর্মকর্তা তোশাখানা ‘ভুয়া রসিদ’ মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির জামিন, আরও ৫ মামলাতেও স্বস্তি

অপারেশন সিঁদুর: ‘সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমতুল্য’

২২ এপ্রিল ২০২৫‑এ কাশ্মীরের পাহালগামে ২৬ জন পর্যটককে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হত্যার পর, ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদু রাষ্ট্রীয় যুদ্ধাপরাধ র’ চালায়। তিন বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ও পাকিস্তান‑অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করা। অপারেশনের নামকরণে বিধবা নারীদের সিঁদুর মুছে যাওয়ার বেদনাকে প্রতীকী গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাহালগাম হামলা ও তাত্ক্ষণিক কূটনৈতিক‑সামরিক প্রতিক্রিয়া

হামলার পর ভারত দ্রুত সীমান্ত বন্ধ, বাণিজ্য স্থগিত এবং সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের পদক্ষেপ নেয়; পাকিস্তান পাল্টা সীমান্ত ও বাণিজ্য বন্ধ করে এবং ১৯৭২‑এর শিমলা চুক্তি বাতিলের হুমকি দেয়। ৭ মে‑১০ মে পর্যন্ত উভয় পক্ষ পাল্টা হামলা চালায়; ১০ মে বিকেল ৫টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

অপারেশন সিঁদুরের সামরিক ফলাফল

ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, নয়টি সন্ত্রাসী কমান্ড সাইটে নির্ভুল ড্রোন ও গাইডেড গোলাবারুদের আঘাতে ১০০‑এর বেশি সন্ত্রাসী নিহত এবং পাক‑ভূমিতে ১১ টি বিমানঘাঁটি অকেজো হয়। লক্ষ্য নির্বাচনে পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনা- মানবিক সতর্কতা মানা হয়েছে বলে ভারত দাবি করে; পাকিস্তান বেসামরিক ক্ষতির অভিযোগ তোলে ও হামলার স্বাধীন তদন্ত চায়।

প্রতিরোধের অধিকার’ ও আন্তর্জাতিক আইন

জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সশস্ত্র আক্রমণে রাষ্ট্র স্ব‑রক্ষার অধিকার পায়—একক বা যৌথভাবে—যতক্ষণ নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের নিকারাগুয়া ও কঙ্গো মামলায় ‘অপরিহার্যতা’ ও ‘সামঞ্জস্যতা’কে স্ব‑রক্ষার দুইটি শর্ত হিসেবে স্পষ্ট করা হয়েছে।

অপরিহার্যতা ও সামঞ্জস্যতা: নীতিগত কাঠামো

ক্যারোলাইন মামলায় প্রমাণিত বর্তমান রীতি অনুযায়ী, শক্তি প্রয়োগ তখনই বৈধ যখন তা জরুরি এবং আক্রমণের মাত্রা ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ‘জুস অ্যাড বেল্লাম’ আইনে যুদ্ধ শুরুর বৈধতা এবং ‘জুস ইন বেল্লো’‑তে যুদ্ধে মানবিক নিয়ম নিশ্চিত করা হয়, যাতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমে।

অপারেশন সিঁদুরের আইনগত বৈধতা মূল্যায়ন

ভারতের মতে, ধারাবাহিক ক্রস‑বর্ডার সন্ত্রাস ঠেকাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ ‘অপরিহার্য’ ছিল। আক্রমণশীলদের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন‑নির্ভর নির্ভুল হামলায় বেসামরিক প্রাণহানি সীমিত রেখে ‘সামঞ্জস্যতা’ অনুসৃত হয়; পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনা এড়িয়ে উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি কমানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় যুদ্ধাপরাধ

অপারেশন সিঁদুর দেখায়, ভারত সন্ত্রাসবাদকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করে প্রতিরোধের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অপরিহার্যতা‑সামঞ্জস্যতার নীতিগত দাবি মেনে পরিচালিত এই অভিযান দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপথে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তামিলনাড়ুতে মানজুভিরাট্টুতে তাণ্ডব, বলদের গুঁতোয় নিহত ৩ দর্শক

অপারেশন সিঁদুর: ‘সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমতুল্য’

১০:০০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

২২ এপ্রিল ২০২৫‑এ কাশ্মীরের পাহালগামে ২৬ জন পর্যটককে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হত্যার পর, ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদু রাষ্ট্রীয় যুদ্ধাপরাধ র’ চালায়। তিন বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ও পাকিস্তান‑অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করা। অপারেশনের নামকরণে বিধবা নারীদের সিঁদুর মুছে যাওয়ার বেদনাকে প্রতীকী গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাহালগাম হামলা ও তাত্ক্ষণিক কূটনৈতিক‑সামরিক প্রতিক্রিয়া

হামলার পর ভারত দ্রুত সীমান্ত বন্ধ, বাণিজ্য স্থগিত এবং সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের পদক্ষেপ নেয়; পাকিস্তান পাল্টা সীমান্ত ও বাণিজ্য বন্ধ করে এবং ১৯৭২‑এর শিমলা চুক্তি বাতিলের হুমকি দেয়। ৭ মে‑১০ মে পর্যন্ত উভয় পক্ষ পাল্টা হামলা চালায়; ১০ মে বিকেল ৫টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

অপারেশন সিঁদুরের সামরিক ফলাফল

ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, নয়টি সন্ত্রাসী কমান্ড সাইটে নির্ভুল ড্রোন ও গাইডেড গোলাবারুদের আঘাতে ১০০‑এর বেশি সন্ত্রাসী নিহত এবং পাক‑ভূমিতে ১১ টি বিমানঘাঁটি অকেজো হয়। লক্ষ্য নির্বাচনে পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনা- মানবিক সতর্কতা মানা হয়েছে বলে ভারত দাবি করে; পাকিস্তান বেসামরিক ক্ষতির অভিযোগ তোলে ও হামলার স্বাধীন তদন্ত চায়।

প্রতিরোধের অধিকার’ ও আন্তর্জাতিক আইন

জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সশস্ত্র আক্রমণে রাষ্ট্র স্ব‑রক্ষার অধিকার পায়—একক বা যৌথভাবে—যতক্ষণ নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের নিকারাগুয়া ও কঙ্গো মামলায় ‘অপরিহার্যতা’ ও ‘সামঞ্জস্যতা’কে স্ব‑রক্ষার দুইটি শর্ত হিসেবে স্পষ্ট করা হয়েছে।

অপরিহার্যতা ও সামঞ্জস্যতা: নীতিগত কাঠামো

ক্যারোলাইন মামলায় প্রমাণিত বর্তমান রীতি অনুযায়ী, শক্তি প্রয়োগ তখনই বৈধ যখন তা জরুরি এবং আক্রমণের মাত্রা ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ‘জুস অ্যাড বেল্লাম’ আইনে যুদ্ধ শুরুর বৈধতা এবং ‘জুস ইন বেল্লো’‑তে যুদ্ধে মানবিক নিয়ম নিশ্চিত করা হয়, যাতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমে।

অপারেশন সিঁদুরের আইনগত বৈধতা মূল্যায়ন

ভারতের মতে, ধারাবাহিক ক্রস‑বর্ডার সন্ত্রাস ঠেকাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ ‘অপরিহার্য’ ছিল। আক্রমণশীলদের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন‑নির্ভর নির্ভুল হামলায় বেসামরিক প্রাণহানি সীমিত রেখে ‘সামঞ্জস্যতা’ অনুসৃত হয়; পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনা এড়িয়ে উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি কমানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় যুদ্ধাপরাধ

অপারেশন সিঁদুর দেখায়, ভারত সন্ত্রাসবাদকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করে প্রতিরোধের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অপরিহার্যতা‑সামঞ্জস্যতার নীতিগত দাবি মেনে পরিচালিত এই অভিযান দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপথে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।