০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
ডুরান্ড লাইনে সম্পর্কের ফাটল: পাকিস্তান–তালিবান দ্বন্দ্ব কোন দিকে যাচ্ছে বৃষ্টির স্মৃতি ও নগর প্লাবন: কেন ভারতীয় শহরগুলোতে জল নামতে চায় না বিলাসিতা ছেড়ে শিল্পায়নের পথে ড্যাংগোটে, আফ্রিকাজুড়ে শিল্প বিপ্লবের স্বপ্ন তামিলনাড়ুতে মানজুভিরাট্টুতে তাণ্ডব, বলদের গুঁতোয় নিহত ৩ দর্শক আমেরিকার ইরান আক্রমণের উদ্দেশ্য কি “ইসলামিক রিপাবলিক ২.০- না অন্যকিছু” চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদে পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষোভ, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ ‘নো রেজিম চেঞ্জ’ থেকে সরকার পতনের ডাক: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নাটকীয় অবস্থান বদল বছরের সর্বোচ্চ ধস: ডিএসই-সিএসইতে সূচকের বড় পতন, অধিকাংশ শেয়ারে দরপতন মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ৪ দিনে ঢাকা-চট্টগ্রামে ১৮২ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রী ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন ট্রাম্প, খামেনি হত্যার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পেছনের গল্প

ইংল্যান্ডে স্কুল ইউনিফর্মের খরচে সংকটে অভিভাবকরা: কেউ খাবার ছেড়ে দিচ্ছেন, কেউ ঋণে ডুবছেন

একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডে বহু অভিভাবক স্কুল ইউনিফর্ম কেনার খরচ মেটাতে খাবার বাদ দিচ্ছেন কিংবা বাই নাও, পে লেটার ধরনের ঋণসেবার দিকে ঝুঁকছেন। ২ হাজার অভিভাবকের মধ্যে ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ইউনিফর্মের খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডেড পোশাকের কারণে এই খরচ কয়েকশ পাউন্ড পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। ২৯ শতাংশ বলেছেন, ইউনিফর্ম কেনার জন্য তারা খাবার বা ঘরের তাপ ব্যবস্থায় কৃচ্ছসাধন করেছেন।

ঋণের ফাঁদে পড়ছে পরিবারগুলো
অভিভাবক সহায়তা সংস্থা প্যারেন্টকাইন্ড-এর জরিপে উঠে এসেছে, সংগ্রামী পরিবারগুলো ঋণের ওপর নির্ভর করছে। ৪৫ শতাংশ অভিভাবক জানিয়েছেন তারা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করবেন, আর ৩৪ শতাংশ জানিয়েছেন ক্লার্না মতো বিলম্বিত পেমেন্ট সেবার সাহায্য নেবেন।

শিক্ষামন্ত্রীর উদ্যোগ
শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন স্কুলগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন, আইন কার্যকর হওয়ার আগেই স্বেচ্ছায় ব্র্যান্ডেড পোশাকের সংখ্যা কমাতে। নতুন আইনে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সর্বোচ্চ তিনটি ব্র্যান্ডেড আইটেম ও একটি টাই বাধ্যতামূলক করা হবে। তবে মন্ত্রীর মতে, পরিবারগুলোর চাপ কমাতে এখন থেকেই স্কুলগুলোকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, “স্কুল ইউনিফর্ম গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর জন্য পরিবারের পকেট ফাঁকা হওয়া উচিত নয়। কোনো পরিবারকে খাবার আর নতুন ব্লেজারের মধ্যে বেছে নিতে বাধ্য হওয়া উচিত নয়।”

বর্তমানে অতিরিক্ত ব্যয়
অনেক স্কুল শিক্ষার্থীদের লোগোযুক্ত পাঁচটিরও বেশি আইটেম কিনতে বাধ্য করছে। কোথাও কোথাও এই সংখ্যা ১০ এ পৌঁছায়। ফলে শারীরিক শিক্ষা কিটসহ পুরো ইউনিফর্মের খরচ ৪০০ পাউন্ড পর্যন্ত দাঁড়াচ্ছে। নতুন আইনের আওতায় বাবা-মায়েরা শার্ট, প্যান্টের মতো সাধারণ পোশাক সাধারণ খুচরা বিক্রেতা যেমন আলডি বা মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার থেকে কিনতে পারবেন।

অভিভাবকদের মতামত
জরিপে অংশ নেওয়া ৮৬ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, ব্র্যান্ডেড ইউনিফর্ম পড়া শিক্ষার্থীদের আচরণে কোনো পার্থক্য আনতে পারে না। প্যারেন্টকাইন্ড-এর প্রধান নির্বাহী জেসন এলসাম বলেন, “অনেক বছর ধরে বাবা-মায়েরা স্কুল খরচের বোঝা বহন করছেন। ইউনিফর্ম, বই, খাতা, ভ্রমণ, ল্যাপটপ ও যাতায়াতের খরচ বছরে হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে যায়। ব্র্যান্ডেড পোশাক সীমিত করার এই পদক্ষেপ তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেবে।”

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
স্কুল ও কলেজ প্রধানদের সংগঠনের মহাসচিব পেপে দি ইয়াসিও বলেন, “অনেক পরিবারই মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। যুক্তরাজ্যে শিশু দারিদ্র্যের হার ভয়াবহ।” তিনি সরকারের কাছে এই সমস্যার সমাধানে একটি কার্যকর কৌশল ঘোষণার আহ্বান জানান।

সরকারি সহায়তা
সরকার জানিয়েছে, আসন্ন আগস্ট ব্যাংক হলিডের আগেই লাখো পরিবারকে ভাতা প্রদান করা হবে। ২৩ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে যাদের পাওনা ছিল, তারা ২২ আগস্টেই টাকা পেয়ে যাবেন। সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন টিমস বলেন, “নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। কোনো পরিবারকে স্কুল সামগ্রী কেনা আর খাবারের মধ্যে বেছে নিতে হবে না।”

জনপ্রিয় সংবাদ

ডুরান্ড লাইনে সম্পর্কের ফাটল: পাকিস্তান–তালিবান দ্বন্দ্ব কোন দিকে যাচ্ছে

ইংল্যান্ডে স্কুল ইউনিফর্মের খরচে সংকটে অভিভাবকরা: কেউ খাবার ছেড়ে দিচ্ছেন, কেউ ঋণে ডুবছেন

১২:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডে বহু অভিভাবক স্কুল ইউনিফর্ম কেনার খরচ মেটাতে খাবার বাদ দিচ্ছেন কিংবা বাই নাও, পে লেটার ধরনের ঋণসেবার দিকে ঝুঁকছেন। ২ হাজার অভিভাবকের মধ্যে ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ইউনিফর্মের খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডেড পোশাকের কারণে এই খরচ কয়েকশ পাউন্ড পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। ২৯ শতাংশ বলেছেন, ইউনিফর্ম কেনার জন্য তারা খাবার বা ঘরের তাপ ব্যবস্থায় কৃচ্ছসাধন করেছেন।

ঋণের ফাঁদে পড়ছে পরিবারগুলো
অভিভাবক সহায়তা সংস্থা প্যারেন্টকাইন্ড-এর জরিপে উঠে এসেছে, সংগ্রামী পরিবারগুলো ঋণের ওপর নির্ভর করছে। ৪৫ শতাংশ অভিভাবক জানিয়েছেন তারা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করবেন, আর ৩৪ শতাংশ জানিয়েছেন ক্লার্না মতো বিলম্বিত পেমেন্ট সেবার সাহায্য নেবেন।

শিক্ষামন্ত্রীর উদ্যোগ
শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন স্কুলগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন, আইন কার্যকর হওয়ার আগেই স্বেচ্ছায় ব্র্যান্ডেড পোশাকের সংখ্যা কমাতে। নতুন আইনে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সর্বোচ্চ তিনটি ব্র্যান্ডেড আইটেম ও একটি টাই বাধ্যতামূলক করা হবে। তবে মন্ত্রীর মতে, পরিবারগুলোর চাপ কমাতে এখন থেকেই স্কুলগুলোকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, “স্কুল ইউনিফর্ম গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর জন্য পরিবারের পকেট ফাঁকা হওয়া উচিত নয়। কোনো পরিবারকে খাবার আর নতুন ব্লেজারের মধ্যে বেছে নিতে বাধ্য হওয়া উচিত নয়।”

বর্তমানে অতিরিক্ত ব্যয়
অনেক স্কুল শিক্ষার্থীদের লোগোযুক্ত পাঁচটিরও বেশি আইটেম কিনতে বাধ্য করছে। কোথাও কোথাও এই সংখ্যা ১০ এ পৌঁছায়। ফলে শারীরিক শিক্ষা কিটসহ পুরো ইউনিফর্মের খরচ ৪০০ পাউন্ড পর্যন্ত দাঁড়াচ্ছে। নতুন আইনের আওতায় বাবা-মায়েরা শার্ট, প্যান্টের মতো সাধারণ পোশাক সাধারণ খুচরা বিক্রেতা যেমন আলডি বা মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার থেকে কিনতে পারবেন।

অভিভাবকদের মতামত
জরিপে অংশ নেওয়া ৮৬ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, ব্র্যান্ডেড ইউনিফর্ম পড়া শিক্ষার্থীদের আচরণে কোনো পার্থক্য আনতে পারে না। প্যারেন্টকাইন্ড-এর প্রধান নির্বাহী জেসন এলসাম বলেন, “অনেক বছর ধরে বাবা-মায়েরা স্কুল খরচের বোঝা বহন করছেন। ইউনিফর্ম, বই, খাতা, ভ্রমণ, ল্যাপটপ ও যাতায়াতের খরচ বছরে হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে যায়। ব্র্যান্ডেড পোশাক সীমিত করার এই পদক্ষেপ তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেবে।”

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
স্কুল ও কলেজ প্রধানদের সংগঠনের মহাসচিব পেপে দি ইয়াসিও বলেন, “অনেক পরিবারই মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। যুক্তরাজ্যে শিশু দারিদ্র্যের হার ভয়াবহ।” তিনি সরকারের কাছে এই সমস্যার সমাধানে একটি কার্যকর কৌশল ঘোষণার আহ্বান জানান।

সরকারি সহায়তা
সরকার জানিয়েছে, আসন্ন আগস্ট ব্যাংক হলিডের আগেই লাখো পরিবারকে ভাতা প্রদান করা হবে। ২৩ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে যাদের পাওনা ছিল, তারা ২২ আগস্টেই টাকা পেয়ে যাবেন। সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন টিমস বলেন, “নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। কোনো পরিবারকে স্কুল সামগ্রী কেনা আর খাবারের মধ্যে বেছে নিতে হবে না।”