০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
কেরালার কারিগরদের হাতে ফিরল প্রাচীন নৌযানের গৌরব, সমুদ্রে পাড়ি দিল কৌণ্ডিন্য ইউনিক্লোর ঝলমলে বিক্রি, লাভের পূর্বাভাস বাড়াল ফাস্ট রিটেইলিং ঋণের বদলে যুদ্ধবিমান: সৌদি অর্থ সহায়তা রূপ নিতে পারে জেএফ–সতেরো চুক্তিতে গৌর নদী: বরিশালের শিরা-উপশিরায় ভর করে থাকা এক জীবন্ত স্মৃতি আমার মতো আর কারও না হোক আকুর বিল পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩২.৪৩ বিলিয়ন ডলার জ্যোতির নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দল ঘোষণা প্রবাসী আয়ে গতি আনতে নতুন নির্দেশনা, একই দিনে গ্রাহকের হিসাবে টাকা জমার আদেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ভালুকায় তরুণ হত্যাকাণ্ডে আরও এক অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, ঢাকায় লুকিয়ে ছিল মূল উসকানিদাতা উত্তরে তারেকের সফর নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙছে না: সালাহউদ্দিন

নতুন ভাইরাস নাকি ডেঙ্গুর নতুন ধরন? চিকিৎসকদের শঙ্কা বাড়ছে

  • Sarakhon Report
  • ০১:১২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
  • 91

সার্বিক চিত্র

ঢাকাসহ সারা দেশে গত দুই মাস ধরে জ্বর, সর্দি-কাশি ও ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। প্রতিদিনই সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। একদিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা, অন্যদিকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব মানুষের ভোগান্তি বহুগুণে বাড়িয়েছে।

পরিবারের দুঃসহ অভিজ্ঞতা

রামপুরার এক বাসিন্দা সৈয়দ হোসেন তার ছোট মেয়েকে নিয়ে শিশু হাসপাতালে এসেছেন। মেয়ে উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত, দাঁড়াতে পারছে না, পায়ের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে। তার স্ত্রীও একই ধরনের জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ পেয়েছেন। ফলে একসাথে দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো নিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন।

আরেকজন অভিভাবক রফিকুল ইসলাম জানান, তার তিন বছরের সন্তান সাতদিন ধরে ১০২–১০৩ ডিগ্রি জ্বরে ভুগছে, খাওয়াদাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বাসার ডাক্তার ওষুধ দিলেও কোনো কাজ হয়নি। আশুলিয়ার মাসুদুর রহমানের ছেলে টানা আটদিন জ্বরে কাতর, ওষুধে আরাম না পাওয়ায় হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়েছেন।

শিশু হাসপাতালে রোগীর চাপ

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে জুন মাসে ৪,০২৪ শিশু সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেয়। জুলাইয়ে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬,২৫৫ জন। আগস্টের প্রথম ২০ দিনে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয় ২,২২৯ শিশু, যার মধ্যে ৮৬ শতাংশেরও বেশি সর্দি-জ্বর নিয়ে এসেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এবার আক্রান্ত শিশুদের উপসর্গ সাধারণ জ্বরের মত নয়। অনেকেই তীব্র জ্বর, শরীর ও মেরুদণ্ডে ব্যথা, হাঁটতে বা দাঁড়াতে না পারা, পেটে ব্যথা, বমি ইত্যাদি সমস্যায় ভুগছে। পরীক্ষায় ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার ফলাফল নেগেটিভ আসছে, তবে রক্ত পরীক্ষায় লিউকোপেনিয়া, নিউট্রোপেনিয়া ও প্লেটলেট হ্রাস দেখা যাচ্ছে। এতে চিকিৎসকেরা সন্দেহ করছেন নতুন ধরনের ভাইরাস অথবা ডেঙ্গুর নতুন ধরনও হতে পারে।

অন্যান্য হাসপাতালে অবস্থা

বেসরকারি স্কয়ার হাসপাতালে জুন ও জুলাইয়ে নমুনা পরীক্ষায় প্রায় অর্ধেক রোগীর চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়েছে। লক্ষণগুলো প্রায় একই—প্রথমে শরীর ব্যথা, কয়েক ঘণ্টা পর প্রচণ্ড জ্বর, তিন-চার দিন পরে শরীরে র‍্যাশ, এরপর জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলা।

অধ্যাপক সহিদুল্লা জানান, শিশুদের মধ্যে এবার জ্বরের সঙ্গে জয়েন্টে ব্যথা তীব্রভাবে দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় পরীক্ষায় কিছু ধরা না পড়লেও উপসর্গ দেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অধ্যাপক আহমেদুল কবীরের মতে, জ্বরের প্রথম দিকে অ্যান্টিবডি টেস্ট করলে অনেক সময় নেগেটিভ আসে। জ্বরের এক সপ্তাহ পরে আরটিপিসিআর পরীক্ষা করলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া বা জিকা শনাক্ত করা যায়। তাই পরীক্ষার ফলাফল না মিললেও উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা জরুরি।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষণ

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া—এই তিনটির সমন্বয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক জ্বর ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণও অনেককে আক্রান্ত করছে। তবে নতুন ভাইরাসের অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে হলে রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

সরকারি রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, চলতি বছর দেশে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ তুলনামূলক বেশি, তবে ইনফ্লুয়েঞ্জাও শীর্ষে রয়েছে। জুলাই মাসে ইনফ্লুয়েঞ্জা শনাক্তের হার ছিল ৫৯ শতাংশ—গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ডেঙ্গুর বিস্তার

ডেঙ্গুর প্রকোপও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে তিনগুণ। গত বছর আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছিল প্রায় ১০ হাজার, এ বছর তা ছাড়িয়েছে ২৭ হাজার। গত বছরের তুলনায় মৃত্যুও বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, আফ্রিকার একাধিক দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভাইরাসজনিত রোগ, বিশেষত চুলেরা ও ইনফ্লুয়েঞ্জার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক কারণ এখানে জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনও চাপের মুখে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া, যথাযথ চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব।

সুস্থ থাকার উপায়

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের জন্য কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন—

নিয়মিত সাবান ও পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখা।
হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা বাহুর ভাঁজ ব্যবহার করা।
জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে অন্যদের থেকে দূরে থাকা।
জনসমাগম এড়িয়ে চলা ও প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা।
ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী যেমন শিশু, প্রবীণ, দীর্ঘমেয়াদি রোগী ও গর্ভবতী নারীদের প্রতি বছর ফ্লু টিকা নেওয়া।
বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বরের প্রকোপ একযোগে তিন-চার ধরনের ভাইরাসের কারণে বিস্তার লাভ করছে। শিশু ও বয়স্ক উভয়ের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হলেও উপসর্গ দেখে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে আরও গবেষণা, রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও জনসচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। এতে যেমন রোগ প্রতিরোধ সহজ হবে, তেমনি মৃত্যুও কমানো সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেরালার কারিগরদের হাতে ফিরল প্রাচীন নৌযানের গৌরব, সমুদ্রে পাড়ি দিল কৌণ্ডিন্য

নতুন ভাইরাস নাকি ডেঙ্গুর নতুন ধরন? চিকিৎসকদের শঙ্কা বাড়ছে

০১:১২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

সার্বিক চিত্র

ঢাকাসহ সারা দেশে গত দুই মাস ধরে জ্বর, সর্দি-কাশি ও ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। প্রতিদিনই সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। একদিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা, অন্যদিকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব মানুষের ভোগান্তি বহুগুণে বাড়িয়েছে।

পরিবারের দুঃসহ অভিজ্ঞতা

রামপুরার এক বাসিন্দা সৈয়দ হোসেন তার ছোট মেয়েকে নিয়ে শিশু হাসপাতালে এসেছেন। মেয়ে উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত, দাঁড়াতে পারছে না, পায়ের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে। তার স্ত্রীও একই ধরনের জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ পেয়েছেন। ফলে একসাথে দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো নিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন।

আরেকজন অভিভাবক রফিকুল ইসলাম জানান, তার তিন বছরের সন্তান সাতদিন ধরে ১০২–১০৩ ডিগ্রি জ্বরে ভুগছে, খাওয়াদাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বাসার ডাক্তার ওষুধ দিলেও কোনো কাজ হয়নি। আশুলিয়ার মাসুদুর রহমানের ছেলে টানা আটদিন জ্বরে কাতর, ওষুধে আরাম না পাওয়ায় হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়েছেন।

শিশু হাসপাতালে রোগীর চাপ

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে জুন মাসে ৪,০২৪ শিশু সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেয়। জুলাইয়ে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬,২৫৫ জন। আগস্টের প্রথম ২০ দিনে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয় ২,২২৯ শিশু, যার মধ্যে ৮৬ শতাংশেরও বেশি সর্দি-জ্বর নিয়ে এসেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এবার আক্রান্ত শিশুদের উপসর্গ সাধারণ জ্বরের মত নয়। অনেকেই তীব্র জ্বর, শরীর ও মেরুদণ্ডে ব্যথা, হাঁটতে বা দাঁড়াতে না পারা, পেটে ব্যথা, বমি ইত্যাদি সমস্যায় ভুগছে। পরীক্ষায় ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার ফলাফল নেগেটিভ আসছে, তবে রক্ত পরীক্ষায় লিউকোপেনিয়া, নিউট্রোপেনিয়া ও প্লেটলেট হ্রাস দেখা যাচ্ছে। এতে চিকিৎসকেরা সন্দেহ করছেন নতুন ধরনের ভাইরাস অথবা ডেঙ্গুর নতুন ধরনও হতে পারে।

অন্যান্য হাসপাতালে অবস্থা

বেসরকারি স্কয়ার হাসপাতালে জুন ও জুলাইয়ে নমুনা পরীক্ষায় প্রায় অর্ধেক রোগীর চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়েছে। লক্ষণগুলো প্রায় একই—প্রথমে শরীর ব্যথা, কয়েক ঘণ্টা পর প্রচণ্ড জ্বর, তিন-চার দিন পরে শরীরে র‍্যাশ, এরপর জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলা।

অধ্যাপক সহিদুল্লা জানান, শিশুদের মধ্যে এবার জ্বরের সঙ্গে জয়েন্টে ব্যথা তীব্রভাবে দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় পরীক্ষায় কিছু ধরা না পড়লেও উপসর্গ দেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অধ্যাপক আহমেদুল কবীরের মতে, জ্বরের প্রথম দিকে অ্যান্টিবডি টেস্ট করলে অনেক সময় নেগেটিভ আসে। জ্বরের এক সপ্তাহ পরে আরটিপিসিআর পরীক্ষা করলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া বা জিকা শনাক্ত করা যায়। তাই পরীক্ষার ফলাফল না মিললেও উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা জরুরি।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষণ

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া—এই তিনটির সমন্বয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক জ্বর ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণও অনেককে আক্রান্ত করছে। তবে নতুন ভাইরাসের অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে হলে রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

সরকারি রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, চলতি বছর দেশে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ তুলনামূলক বেশি, তবে ইনফ্লুয়েঞ্জাও শীর্ষে রয়েছে। জুলাই মাসে ইনফ্লুয়েঞ্জা শনাক্তের হার ছিল ৫৯ শতাংশ—গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ডেঙ্গুর বিস্তার

ডেঙ্গুর প্রকোপও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে তিনগুণ। গত বছর আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছিল প্রায় ১০ হাজার, এ বছর তা ছাড়িয়েছে ২৭ হাজার। গত বছরের তুলনায় মৃত্যুও বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, আফ্রিকার একাধিক দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভাইরাসজনিত রোগ, বিশেষত চুলেরা ও ইনফ্লুয়েঞ্জার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক কারণ এখানে জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনও চাপের মুখে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া, যথাযথ চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব।

সুস্থ থাকার উপায়

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের জন্য কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন—

নিয়মিত সাবান ও পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখা।
হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা বাহুর ভাঁজ ব্যবহার করা।
জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে অন্যদের থেকে দূরে থাকা।
জনসমাগম এড়িয়ে চলা ও প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা।
ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী যেমন শিশু, প্রবীণ, দীর্ঘমেয়াদি রোগী ও গর্ভবতী নারীদের প্রতি বছর ফ্লু টিকা নেওয়া।
বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বরের প্রকোপ একযোগে তিন-চার ধরনের ভাইরাসের কারণে বিস্তার লাভ করছে। শিশু ও বয়স্ক উভয়ের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হলেও উপসর্গ দেখে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে আরও গবেষণা, রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও জনসচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। এতে যেমন রোগ প্রতিরোধ সহজ হবে, তেমনি মৃত্যুও কমানো সম্ভব হবে।