০৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রের শক্তি কি দমন-পীড়নে, নাকি জনগণের আস্থায়? নবম পে-স্কেল এখনই নয়? আইএমএফের অবস্থানের অপেক্ষায় সরকার, বাস্তবায়ন পিছিয়ে যেতে পারে রাজধানীর মানিকদিতে এইচএসসি শিক্ষার্থীকে গুলি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেকে ভর্তি সিলেটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩ শ্রমিক, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থান সম্ভব ছিল না: এ্যানি কুষ্টিয়ায় এনসিপির জুলাই পদযাত্রা স্থগিত সোনার দাম বাড়ানোর একদিন পরই কমাল বাজুস, ভরিতে কমেছে ২,২১৬ টাকা সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি উজান আসামে বন্যার ভয়াবহতায় জীবন বাঁচাতে দিনরাত উদ্ধারকর্মীরা

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার একটি আয়না

বাংলাদেশের প্রবীণ সাংবাদিক বিভূ রঞ্জন সরকার তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে যেমন দেশের ইতিহাস, গণআন্দোলন, রাজনৈতিক উত্থানপতনের সাক্ষী ছিলেন, তেমনি ছিলেন নির্ভীক কলমসৈনিক। তাঁর শেষ লেখায় ফুটে ওঠে সাংবাদিকতার সংকট, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি একধরনের সতর্কবার্তা। এসব লেখা শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দলিল নয়, বরং বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতিফলন।

শেষ লেখার বিষয়বস্তু

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখায় দেখা যায়, তিনি সাংবাদিকতার নৈতিক সংকট, সম্পাদকীয় স্বাধীনতার সংকীর্ণতা, মালিকানার প্রভাব এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ছায়া গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন এবং খোলাখুলি লিখেছিলেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তিনি সতর্কভাবে উল্লেখ করেছিলেন—“সত্য প্রকাশ করা সহজ নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ।”

তাঁর কলামে ওঠে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা—ছাত্রজীবনের আন্দোলন থেকে শুরু করে পেশাজীবনের বিভিন্ন ধাপ, যেখানে সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়; ছিল সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তির অবসান: মুক্ত গণমাধ্যমের নতুন প্রতিবন্ধকতা | The Daily Star Bangla

সাংবাদিকতার সংকটের বিশ্লেষণ

বিভূ রঞ্জন সরকারের মতে, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো স্বাধীনতার ঘাটতি। সংবাদকর্মীরা অনেক সময় মালিকপক্ষের ব্যবসায়িক স্বার্থে আপস করেন, আবার রাজনৈতিক চাপেও পড়েন।

বর্তমান সরকারের চাপ

তাঁর লেখায় বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বর্তমান সরকারের ভূমিকা। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন মাধ্যমগুলোতে সরকারের নীতি বা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে গেলেই সাংবাদিকরা হয়রানি, মামলা বা নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন। সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে সরকারের অঘোষিত চাপ রয়েছে, যা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতি শুধু গণতান্ত্রিক পরিসরকেই সংকুচিত করছে না, বরং সাংবাদিকদের ভেতর ভয় ও আত্মসংশয়ও বাড়িয়ে তুলছে।

এর ফলে সাংবাদিকরা একদিকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চান, অন্যদিকে পেশাগত নিরাপত্তা ও জীবিকার জন্য ক্ষমতাসীনদের চাপের সঙ্গে আপস করতে বাধ্য হন। বিভূ রঞ্জন সরকারের মতে, এই দ্বন্দ্বই আজকের সাংবাদিকতার সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট।

সাংবাদিকদের সমাধান-ভাবনা

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখায় সমাধান হিসেবে তিনি কয়েকটি বিষয় প্রস্তাব করেছিলেন, যেমন—

  • • সংবাদপত্রের মালিকানা কাঠামোর সংস্কার: সাংবাদিকদের স্বার্থরক্ষা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে মালিকানা থেকে পৃথক করতে হবে।
  • • পেশাগত ঐক্য: সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে বিভক্তি দূর করে সত্য প্রকাশের জন্য যৌথ অবস্থান নেওয়া জরুরি।
  • • আইনি সুরক্ষা: সংবাদকর্মীদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে শক্তিশালী আইন ও তার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
  • • নৈতিক সাহস: সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য বলার সাহস। এই সাহস ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে হবে।

তাঁর উত্তরাধিকার

বিভূ রঞ্জন সরকার জীবনের শেষ লেখায় লিখেছিলেন—“সত্য প্রকাশ করা মানে সাহসের সঙ্গে ঝুঁকি নেওয়া।” এই কথাটিই তাঁর উত্তরাধিকার। তাঁর শেষ লেখা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি দেখিয়ে গেছেন, সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের কাজ নয়; এটি সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার এক অবিচল প্রয়াস।

সাংবাদিক বিভূরঞ্জন সরকার জীবনের শেষ লেখা: “খোলা চিঠি” নামে যা বিডি নিউজকে পাঠান তার সারাংশ - Sarakhon । সারাক্ষণ

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখায় বাংলাদেশের সাংবাদিকতার জন্য এক ধরনের আয়না তৈরি হয়েছে। সেখানে আমরা দেখতে পাই পেশার সীমাবদ্ধতা, সংকট ও সম্ভাবনা। তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্বাস করেছিলেন—সত্য ও ন্যায় সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি।

আজ যখন সাংবাদিকরা নানা চাপে সংকটে ভুগছেন, বিশেষ করে বর্তমান সরকারের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের কারণে, তখন তাঁর লেখা মনে করিয়ে দেয়—সাংবাদিকতা টিকে থাকে তখনই যখন সাংবাদিকরা সত্য বলার সাহস হারান না।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রের শক্তি কি দমন-পীড়নে, নাকি জনগণের আস্থায়?

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার একটি আয়না

০৪:১৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশের প্রবীণ সাংবাদিক বিভূ রঞ্জন সরকার তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে যেমন দেশের ইতিহাস, গণআন্দোলন, রাজনৈতিক উত্থানপতনের সাক্ষী ছিলেন, তেমনি ছিলেন নির্ভীক কলমসৈনিক। তাঁর শেষ লেখায় ফুটে ওঠে সাংবাদিকতার সংকট, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি একধরনের সতর্কবার্তা। এসব লেখা শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দলিল নয়, বরং বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতিফলন।

শেষ লেখার বিষয়বস্তু

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখায় দেখা যায়, তিনি সাংবাদিকতার নৈতিক সংকট, সম্পাদকীয় স্বাধীনতার সংকীর্ণতা, মালিকানার প্রভাব এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ছায়া গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন এবং খোলাখুলি লিখেছিলেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তিনি সতর্কভাবে উল্লেখ করেছিলেন—“সত্য প্রকাশ করা সহজ নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ।”

তাঁর কলামে ওঠে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা—ছাত্রজীবনের আন্দোলন থেকে শুরু করে পেশাজীবনের বিভিন্ন ধাপ, যেখানে সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়; ছিল সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তির অবসান: মুক্ত গণমাধ্যমের নতুন প্রতিবন্ধকতা | The Daily Star Bangla

সাংবাদিকতার সংকটের বিশ্লেষণ

বিভূ রঞ্জন সরকারের মতে, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো স্বাধীনতার ঘাটতি। সংবাদকর্মীরা অনেক সময় মালিকপক্ষের ব্যবসায়িক স্বার্থে আপস করেন, আবার রাজনৈতিক চাপেও পড়েন।

বর্তমান সরকারের চাপ

তাঁর লেখায় বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বর্তমান সরকারের ভূমিকা। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন মাধ্যমগুলোতে সরকারের নীতি বা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে গেলেই সাংবাদিকরা হয়রানি, মামলা বা নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন। সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে সরকারের অঘোষিত চাপ রয়েছে, যা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতি শুধু গণতান্ত্রিক পরিসরকেই সংকুচিত করছে না, বরং সাংবাদিকদের ভেতর ভয় ও আত্মসংশয়ও বাড়িয়ে তুলছে।

এর ফলে সাংবাদিকরা একদিকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চান, অন্যদিকে পেশাগত নিরাপত্তা ও জীবিকার জন্য ক্ষমতাসীনদের চাপের সঙ্গে আপস করতে বাধ্য হন। বিভূ রঞ্জন সরকারের মতে, এই দ্বন্দ্বই আজকের সাংবাদিকতার সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট।

সাংবাদিকদের সমাধান-ভাবনা

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখায় সমাধান হিসেবে তিনি কয়েকটি বিষয় প্রস্তাব করেছিলেন, যেমন—

  • • সংবাদপত্রের মালিকানা কাঠামোর সংস্কার: সাংবাদিকদের স্বার্থরক্ষা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে মালিকানা থেকে পৃথক করতে হবে।
  • • পেশাগত ঐক্য: সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে বিভক্তি দূর করে সত্য প্রকাশের জন্য যৌথ অবস্থান নেওয়া জরুরি।
  • • আইনি সুরক্ষা: সংবাদকর্মীদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে শক্তিশালী আইন ও তার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
  • • নৈতিক সাহস: সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য বলার সাহস। এই সাহস ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে হবে।

তাঁর উত্তরাধিকার

বিভূ রঞ্জন সরকার জীবনের শেষ লেখায় লিখেছিলেন—“সত্য প্রকাশ করা মানে সাহসের সঙ্গে ঝুঁকি নেওয়া।” এই কথাটিই তাঁর উত্তরাধিকার। তাঁর শেষ লেখা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি দেখিয়ে গেছেন, সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের কাজ নয়; এটি সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার এক অবিচল প্রয়াস।

সাংবাদিক বিভূরঞ্জন সরকার জীবনের শেষ লেখা: “খোলা চিঠি” নামে যা বিডি নিউজকে পাঠান তার সারাংশ - Sarakhon । সারাক্ষণ

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখায় বাংলাদেশের সাংবাদিকতার জন্য এক ধরনের আয়না তৈরি হয়েছে। সেখানে আমরা দেখতে পাই পেশার সীমাবদ্ধতা, সংকট ও সম্ভাবনা। তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্বাস করেছিলেন—সত্য ও ন্যায় সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি।

আজ যখন সাংবাদিকরা নানা চাপে সংকটে ভুগছেন, বিশেষ করে বর্তমান সরকারের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের কারণে, তখন তাঁর লেখা মনে করিয়ে দেয়—সাংবাদিকতা টিকে থাকে তখনই যখন সাংবাদিকরা সত্য বলার সাহস হারান না।