১১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
এনভিডিয়ার বাইরে নতুন পথ? নিজস্ব এআই চিপ ভাবনায় অ্যানথ্রপিক চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ রাশিয়ায় নোবেলজয়ী মানবাধিকার সংগঠন ‘মেমোরিয়াল’কে ‘চরমপন্থী’ ঘোষণা “চাবিটি হারিয়ে গেছে” হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ: যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি কৌশলগত চাপ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সামনে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম পোপাইসের বেইজিংয়ে প্রত্যাবর্তন, ২৪ বছর পর নতুন করে চীনা বাজারে জোরালো উপস্থিতি ট্রাম্পের ‘আনুগত্য পরীক্ষা’ কি ন্যাটোর ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে? কুষ্টিয়ার স্কুলে অচেতন অবস্থায় ছাত্রী উদ্ধার, যৌন নির্যাতনের আশঙ্কা

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার একটি আয়না

বাংলাদেশের প্রবীণ সাংবাদিক বিভূ রঞ্জন সরকার তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে যেমন দেশের ইতিহাস, গণআন্দোলন, রাজনৈতিক উত্থানপতনের সাক্ষী ছিলেন, তেমনি ছিলেন নির্ভীক কলমসৈনিক। তাঁর শেষ লেখায় ফুটে ওঠে সাংবাদিকতার সংকট, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি একধরনের সতর্কবার্তা। এসব লেখা শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দলিল নয়, বরং বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতিফলন।

শেষ লেখার বিষয়বস্তু

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখায় দেখা যায়, তিনি সাংবাদিকতার নৈতিক সংকট, সম্পাদকীয় স্বাধীনতার সংকীর্ণতা, মালিকানার প্রভাব এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ছায়া গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন এবং খোলাখুলি লিখেছিলেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তিনি সতর্কভাবে উল্লেখ করেছিলেন—“সত্য প্রকাশ করা সহজ নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ।”

তাঁর কলামে ওঠে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা—ছাত্রজীবনের আন্দোলন থেকে শুরু করে পেশাজীবনের বিভিন্ন ধাপ, যেখানে সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়; ছিল সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তির অবসান: মুক্ত গণমাধ্যমের নতুন প্রতিবন্ধকতা | The Daily Star Bangla

সাংবাদিকতার সংকটের বিশ্লেষণ

বিভূ রঞ্জন সরকারের মতে, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো স্বাধীনতার ঘাটতি। সংবাদকর্মীরা অনেক সময় মালিকপক্ষের ব্যবসায়িক স্বার্থে আপস করেন, আবার রাজনৈতিক চাপেও পড়েন।

বর্তমান সরকারের চাপ

তাঁর লেখায় বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বর্তমান সরকারের ভূমিকা। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন মাধ্যমগুলোতে সরকারের নীতি বা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে গেলেই সাংবাদিকরা হয়রানি, মামলা বা নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন। সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে সরকারের অঘোষিত চাপ রয়েছে, যা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতি শুধু গণতান্ত্রিক পরিসরকেই সংকুচিত করছে না, বরং সাংবাদিকদের ভেতর ভয় ও আত্মসংশয়ও বাড়িয়ে তুলছে।

এর ফলে সাংবাদিকরা একদিকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চান, অন্যদিকে পেশাগত নিরাপত্তা ও জীবিকার জন্য ক্ষমতাসীনদের চাপের সঙ্গে আপস করতে বাধ্য হন। বিভূ রঞ্জন সরকারের মতে, এই দ্বন্দ্বই আজকের সাংবাদিকতার সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট।

সাংবাদিকদের সমাধান-ভাবনা

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখায় সমাধান হিসেবে তিনি কয়েকটি বিষয় প্রস্তাব করেছিলেন, যেমন—

  • • সংবাদপত্রের মালিকানা কাঠামোর সংস্কার: সাংবাদিকদের স্বার্থরক্ষা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে মালিকানা থেকে পৃথক করতে হবে।
  • • পেশাগত ঐক্য: সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে বিভক্তি দূর করে সত্য প্রকাশের জন্য যৌথ অবস্থান নেওয়া জরুরি।
  • • আইনি সুরক্ষা: সংবাদকর্মীদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে শক্তিশালী আইন ও তার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
  • • নৈতিক সাহস: সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য বলার সাহস। এই সাহস ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে হবে।

তাঁর উত্তরাধিকার

বিভূ রঞ্জন সরকার জীবনের শেষ লেখায় লিখেছিলেন—“সত্য প্রকাশ করা মানে সাহসের সঙ্গে ঝুঁকি নেওয়া।” এই কথাটিই তাঁর উত্তরাধিকার। তাঁর শেষ লেখা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি দেখিয়ে গেছেন, সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের কাজ নয়; এটি সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার এক অবিচল প্রয়াস।

সাংবাদিক বিভূরঞ্জন সরকার জীবনের শেষ লেখা: “খোলা চিঠি” নামে যা বিডি নিউজকে পাঠান তার সারাংশ - Sarakhon । সারাক্ষণ

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখায় বাংলাদেশের সাংবাদিকতার জন্য এক ধরনের আয়না তৈরি হয়েছে। সেখানে আমরা দেখতে পাই পেশার সীমাবদ্ধতা, সংকট ও সম্ভাবনা। তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্বাস করেছিলেন—সত্য ও ন্যায় সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি।

আজ যখন সাংবাদিকরা নানা চাপে সংকটে ভুগছেন, বিশেষ করে বর্তমান সরকারের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের কারণে, তখন তাঁর লেখা মনে করিয়ে দেয়—সাংবাদিকতা টিকে থাকে তখনই যখন সাংবাদিকরা সত্য বলার সাহস হারান না।

জনপ্রিয় সংবাদ

এনভিডিয়ার বাইরে নতুন পথ? নিজস্ব এআই চিপ ভাবনায় অ্যানথ্রপিক

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার একটি আয়না

০৪:১৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশের প্রবীণ সাংবাদিক বিভূ রঞ্জন সরকার তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে যেমন দেশের ইতিহাস, গণআন্দোলন, রাজনৈতিক উত্থানপতনের সাক্ষী ছিলেন, তেমনি ছিলেন নির্ভীক কলমসৈনিক। তাঁর শেষ লেখায় ফুটে ওঠে সাংবাদিকতার সংকট, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি একধরনের সতর্কবার্তা। এসব লেখা শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দলিল নয়, বরং বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতিফলন।

শেষ লেখার বিষয়বস্তু

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখায় দেখা যায়, তিনি সাংবাদিকতার নৈতিক সংকট, সম্পাদকীয় স্বাধীনতার সংকীর্ণতা, মালিকানার প্রভাব এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ছায়া গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন এবং খোলাখুলি লিখেছিলেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তিনি সতর্কভাবে উল্লেখ করেছিলেন—“সত্য প্রকাশ করা সহজ নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ।”

তাঁর কলামে ওঠে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা—ছাত্রজীবনের আন্দোলন থেকে শুরু করে পেশাজীবনের বিভিন্ন ধাপ, যেখানে সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়; ছিল সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তির অবসান: মুক্ত গণমাধ্যমের নতুন প্রতিবন্ধকতা | The Daily Star Bangla

সাংবাদিকতার সংকটের বিশ্লেষণ

বিভূ রঞ্জন সরকারের মতে, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো স্বাধীনতার ঘাটতি। সংবাদকর্মীরা অনেক সময় মালিকপক্ষের ব্যবসায়িক স্বার্থে আপস করেন, আবার রাজনৈতিক চাপেও পড়েন।

বর্তমান সরকারের চাপ

তাঁর লেখায় বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বর্তমান সরকারের ভূমিকা। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন মাধ্যমগুলোতে সরকারের নীতি বা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে গেলেই সাংবাদিকরা হয়রানি, মামলা বা নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন। সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে সরকারের অঘোষিত চাপ রয়েছে, যা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতি শুধু গণতান্ত্রিক পরিসরকেই সংকুচিত করছে না, বরং সাংবাদিকদের ভেতর ভয় ও আত্মসংশয়ও বাড়িয়ে তুলছে।

এর ফলে সাংবাদিকরা একদিকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চান, অন্যদিকে পেশাগত নিরাপত্তা ও জীবিকার জন্য ক্ষমতাসীনদের চাপের সঙ্গে আপস করতে বাধ্য হন। বিভূ রঞ্জন সরকারের মতে, এই দ্বন্দ্বই আজকের সাংবাদিকতার সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট।

সাংবাদিকদের সমাধান-ভাবনা

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখায় সমাধান হিসেবে তিনি কয়েকটি বিষয় প্রস্তাব করেছিলেন, যেমন—

  • • সংবাদপত্রের মালিকানা কাঠামোর সংস্কার: সাংবাদিকদের স্বার্থরক্ষা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে মালিকানা থেকে পৃথক করতে হবে।
  • • পেশাগত ঐক্য: সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে বিভক্তি দূর করে সত্য প্রকাশের জন্য যৌথ অবস্থান নেওয়া জরুরি।
  • • আইনি সুরক্ষা: সংবাদকর্মীদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে শক্তিশালী আইন ও তার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
  • • নৈতিক সাহস: সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য বলার সাহস। এই সাহস ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে হবে।

তাঁর উত্তরাধিকার

বিভূ রঞ্জন সরকার জীবনের শেষ লেখায় লিখেছিলেন—“সত্য প্রকাশ করা মানে সাহসের সঙ্গে ঝুঁকি নেওয়া।” এই কথাটিই তাঁর উত্তরাধিকার। তাঁর শেষ লেখা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি দেখিয়ে গেছেন, সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের কাজ নয়; এটি সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার এক অবিচল প্রয়াস।

সাংবাদিক বিভূরঞ্জন সরকার জীবনের শেষ লেখা: “খোলা চিঠি” নামে যা বিডি নিউজকে পাঠান তার সারাংশ - Sarakhon । সারাক্ষণ

বিভূ রঞ্জন সরকারের শেষ লেখায় বাংলাদেশের সাংবাদিকতার জন্য এক ধরনের আয়না তৈরি হয়েছে। সেখানে আমরা দেখতে পাই পেশার সীমাবদ্ধতা, সংকট ও সম্ভাবনা। তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্বাস করেছিলেন—সত্য ও ন্যায় সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি।

আজ যখন সাংবাদিকরা নানা চাপে সংকটে ভুগছেন, বিশেষ করে বর্তমান সরকারের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের কারণে, তখন তাঁর লেখা মনে করিয়ে দেয়—সাংবাদিকতা টিকে থাকে তখনই যখন সাংবাদিকরা সত্য বলার সাহস হারান না।