১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
বিছানাকান্দিতে নিখোঁজ শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার ফ্রান্সে ‘বিদেশি’ শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাড়ানোর পরিকল্পনা ভারতে মোদীর দাওয়াই কি কাজে আসবে? গবাদি পশুর মাংস বিক্রি নিয়ে কী নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার? বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম, কূটনীতিতেও কোণঠাসা ভারত স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যকর খাবার, পুষ্টিকর ডিনারের ২১ সহজ রেসিপি ফখরুলের অভিযোগ: ৫৪ নদীতে ভারতের বাঁধ, মরুভূমির শঙ্কায় বাংলাদেশ পদ্মা নদীতে মিলল খণ্ডিত মরদেহের অংশ, শরীয়তপুরে চাঞ্চল্য সমাজ বদলে দেওয়া ছয় মানুষকে ‘এম-রাইজ হিরো’ সম্মাননা দিল আবুল খায়ের গ্রুপ চীনে বাজার হারাচ্ছে বোয়িং, ট্রাম্পের ২০০ উড়োজাহাজ চুক্তিও দূর করতে পারছে না সংকট

সেপ্টেম্বর থেকে ভারত আরো বেশি রাশিয়ান তেল আমদানি করবে

মার্কিন চাপের মধ্যে ও আমদানি বৃদ্ধি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন শুল্কের পরও সেপ্টেম্বরে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ বৃদ্ধি হবে আগস্টের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, অর্থাৎ দৈনিক ১.৫ থেকে ৩ লাখ ব্যারেল বেশি। এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে, যেখানে তারা ভারতের ওপর চাপ দিয়ে রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় বসাতে চায়।

ভারতের প্রধান জ্বালানি উৎস রাশিয়া
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেল ক্রেতা কমে যায়। সে জায়গা পূরণ করেছে ভারত, যা এখন সবচেয়ে বড় আমদানিকারক। রাশিয়ার এই ছাড়কৃত দামে ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলো লাভবান হচ্ছে। বর্তমানে ভারতের মোট তেলের ৪০ শতাংশই রাশিয়া থেকে আসছে।

মার্কিন শুল্ক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার ভারতের আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করছে, ভারত সস্তা রাশিয়ান তেল কিনে লাভ করছে। অন্যদিকে ভারত বলছে, পশ্চিমারা নিজেরাই রাশিয়ার পণ্য কিনে কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা করছে—এটি দ্বিচারিতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং অন্যান্য কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছেন।

রাশিয়ার রপ্তানি বাড়ার পেছনের কারণ
রাশিয়ার বেশ কয়েকটি রিফাইনারি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং ইউক্রেনের হামলার কারণে উৎপাদন কমেছে। এর ফলে রাশিয়ার হাতে কাঁচা তেল বেড়ে গেছে এবং তারা তা ছাড়ে বিক্রি করছে। সেপ্টেম্বরে উরালস ক্রুড প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট মানদণ্ডের তুলনায় ২ থেকে ৩ ডলার কম দামে দেওয়া হচ্ছে, যা আগস্টের ছাড়ের চেয়ে বেশি।

ভারতের বিকল্প সীমিত
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি ভারত স্পষ্ট কোনো নীতি পরিবর্তন না করে বা বৈশ্বিক অর্থনীতি নাটকীয়ভাবে না বদলায়, তবে রাশিয়ার তেল ভারতের আমদানির মূল অংশ হয়ে থাকবে। CLSA (সিএলএসএ) নামের একটি ব্রোকারেজ সংস্থা জানিয়েছে, বৈশ্বিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না হলে ভারত রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করবে—এমন সম্ভাবনা খুবই সীমিত।

বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব
ভারত যদি হঠাৎ রাশিয়ান তেল আমদানি বন্ধ করে, তবে বৈশ্বিক সরবরাহ দৈনিক প্রায় এক মিলিয়ন ব্যারেল কমে যেতে পারে। এতে অস্থায়ীভাবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পদক্ষেপ
মার্কিন শুল্কের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নও রাশিয়ার তেল বিক্রিতে চাপ দিচ্ছে। ২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা নতুন মূল্যসীমা বেঁধে দিয়েছে—প্রতি ব্যারেল ৪৭.৬০ ডলার, যা বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম। এই সীমা মানা না হলে পশ্চিমা সেবা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।


ভারতের জন্য রাশিয়ার তেল আমদানি এখন শুধু অর্থনৈতিক লাভ নয়, বরং কূটনৈতিক সমীকরণেরও বড় অংশ। যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বাড়ালেও এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মূল্যসীমা দিলেও, ভারত তার তেলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুবিধার কথা ভেবেই রাশিয়ান তেলের ওপর নির্ভরতা বজায় রাখছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিছানাকান্দিতে নিখোঁজ শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

সেপ্টেম্বর থেকে ভারত আরো বেশি রাশিয়ান তেল আমদানি করবে

০৩:৪১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

মার্কিন চাপের মধ্যে ও আমদানি বৃদ্ধি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন শুল্কের পরও সেপ্টেম্বরে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ বৃদ্ধি হবে আগস্টের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, অর্থাৎ দৈনিক ১.৫ থেকে ৩ লাখ ব্যারেল বেশি। এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে, যেখানে তারা ভারতের ওপর চাপ দিয়ে রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় বসাতে চায়।

ভারতের প্রধান জ্বালানি উৎস রাশিয়া
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেল ক্রেতা কমে যায়। সে জায়গা পূরণ করেছে ভারত, যা এখন সবচেয়ে বড় আমদানিকারক। রাশিয়ার এই ছাড়কৃত দামে ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলো লাভবান হচ্ছে। বর্তমানে ভারতের মোট তেলের ৪০ শতাংশই রাশিয়া থেকে আসছে।

মার্কিন শুল্ক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার ভারতের আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করছে, ভারত সস্তা রাশিয়ান তেল কিনে লাভ করছে। অন্যদিকে ভারত বলছে, পশ্চিমারা নিজেরাই রাশিয়ার পণ্য কিনে কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা করছে—এটি দ্বিচারিতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং অন্যান্য কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছেন।

রাশিয়ার রপ্তানি বাড়ার পেছনের কারণ
রাশিয়ার বেশ কয়েকটি রিফাইনারি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং ইউক্রেনের হামলার কারণে উৎপাদন কমেছে। এর ফলে রাশিয়ার হাতে কাঁচা তেল বেড়ে গেছে এবং তারা তা ছাড়ে বিক্রি করছে। সেপ্টেম্বরে উরালস ক্রুড প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট মানদণ্ডের তুলনায় ২ থেকে ৩ ডলার কম দামে দেওয়া হচ্ছে, যা আগস্টের ছাড়ের চেয়ে বেশি।

ভারতের বিকল্প সীমিত
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি ভারত স্পষ্ট কোনো নীতি পরিবর্তন না করে বা বৈশ্বিক অর্থনীতি নাটকীয়ভাবে না বদলায়, তবে রাশিয়ার তেল ভারতের আমদানির মূল অংশ হয়ে থাকবে। CLSA (সিএলএসএ) নামের একটি ব্রোকারেজ সংস্থা জানিয়েছে, বৈশ্বিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না হলে ভারত রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করবে—এমন সম্ভাবনা খুবই সীমিত।

বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব
ভারত যদি হঠাৎ রাশিয়ান তেল আমদানি বন্ধ করে, তবে বৈশ্বিক সরবরাহ দৈনিক প্রায় এক মিলিয়ন ব্যারেল কমে যেতে পারে। এতে অস্থায়ীভাবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পদক্ষেপ
মার্কিন শুল্কের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নও রাশিয়ার তেল বিক্রিতে চাপ দিচ্ছে। ২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা নতুন মূল্যসীমা বেঁধে দিয়েছে—প্রতি ব্যারেল ৪৭.৬০ ডলার, যা বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম। এই সীমা মানা না হলে পশ্চিমা সেবা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।


ভারতের জন্য রাশিয়ার তেল আমদানি এখন শুধু অর্থনৈতিক লাভ নয়, বরং কূটনৈতিক সমীকরণেরও বড় অংশ। যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বাড়ালেও এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মূল্যসীমা দিলেও, ভারত তার তেলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুবিধার কথা ভেবেই রাশিয়ান তেলের ওপর নির্ভরতা বজায় রাখছে।