০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা: বিশেষ অংশীদারিত্ব থেকে হিসাবি লেনদেনের পথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ ইরানের ফিফা বিশ্বকাপের টিকেট বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৫ বাংলাদেশি আহত, দূতাবাস মাঠে ইরান-ইসরায়েল আবার থামল, কিন্তু শান্তি কতটা টেকসই? ব্যাংক অ্যাকাউন্টে TIN বাধ্যতামূলক হচ্ছে, কোটি গ্রাহকের জীবনে বড় পরিবর্তন টাঙ্গাইলে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে ৪ জন নিহত নতুন নির্বাচন কমিশনে প্রাক্তন আমলার নাম, সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার শুনানি ১৬ জুন রামিসা হত্যা: ১৯ দিনে ফাঁসির রায়, দেশজুড়ে স্বস্তি ইসলামী ব্যাংকে সংকট: সাত দিনে উঠে গেল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমূল্যের প্যাকেজের শুল্ক ছাড় শেষ: স্থায়ী সিদ্ধান্ত

সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্রে ৮০০ ডলারের নিচে মূল্যের প্যাকেজ আমদানিতে শুল্ক ছাড় শুক্রবার থেকে শেষ হচ্ছে।

শুক্রবার ভোর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে সব ধরনের প্যাকেজে পূর্ণ শুল্ক কার্যকর হবে।

পরিবর্তন স্থায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মে মাস থেকে চীন ও হংকং থেকে আসা ছোট প্যাকেজে ৪৯২ মিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম কার্যকর
ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ১৯৩৮ সাল থেকে চালু থাকা “ডি মিনিমিস” শুল্ক ছাড় শুক্রবার থেকে আর থাকবে না। ডাকসেবার মাধ্যমে আসা চালানগুলোর জন্য আগামী ছয় মাস একটি পরিবর্তনকাল থাকবে। এই সময়ে দেশভেদে প্রতিটি প্যাকেজে ৮০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত নির্দিষ্ট শুল্ক পরিশোধ করা যাবে। তবে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব ডাকসেবাকে পণ্যের মূল্যের ভিত্তিতে পূর্ণ শুল্ক আদায়ে যেতে হবে।

হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা
ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ডি মিনিমিস ফাঁকির সমাপ্তি হবে, যা প্রাণঘাতী মাদকসহ ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য আমদানিকে কমাবে। প্রতি বছর মার্কিন কোষাগারে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব যোগ করবে।”
একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এটি স্থায়ী পরিবর্তন। বিশ্বস্ত বাণিজ্য অংশীদারদের জন্য ছাড় ফেরানোর যে কোনো উদ্যোগ ব্যর্থ হবে।”

অতীতের প্রেক্ষাপট
২০১৫ সালে শুল্ক ছাড়ের সীমা ২০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮০০ ডলার করা হয়, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিকাশ লাভ করতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার পর সরাসরি ভোক্তাদের কাছে প্যাকেজ পাঠানোর ব্যবসা বেড়ে যায়। বিশেষ করে শেইন ও টেমু’র মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা নিয়ে বাজার সম্প্রসারণ করে।

শুল্ক ছাড়ের কারণে অনেক প্যাকেজ পর্যাপ্তভাবে পরীক্ষিত হয়নি। প্রশাসন এটিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিলসহ বিপজ্জনক মাদক প্রবাহের জন্যও দায়ী করছে।

সংখ্যার চিত্র
২০১৫ অর্থবছরে ১৩৯ মিলিয়ন প্যাকেজ ডি মিনিমিস ছাড়ে ঢুকেছিল।

২০২৪ অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১.৩৬ বিলিয়ন।

শুধু চীন ও হংকং থেকে মে মাসে ছাড় প্রত্যাহারের পর ৪৯২ মিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করেছে মার্কিন কাস্টমস।

নতুন শুল্কহার
মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী,

ট্রাম্প আরোপিত শুল্কহার ১৬% এর নিচে থাকা দেশ (যেমন: ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন) থেকে আসা প্যাকেজে ৮০ ডলার নির্দিষ্ট শুল্ক।

১৬% থেকে ২৫% শুল্কহার থাকা দেশ (যেমন: ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম) থেকে আসা প্যাকেজে ১৬০ ডলার।

২৫% এর বেশি শুল্কহার থাকা দেশ (যেমন: চীন, ব্রাজিল, ভারত, কানাডা) থেকে আসা প্যাকেজে ২০০ ডলার শুল্ক।

ডাকসেবা ও কুরিয়ার সংস্থা
ফেডেক্স, ইউপিএস ও ডিএইচএল-এর মতো এক্সপ্রেস কুরিয়ার সংস্থাগুলো সরাসরি শুল্ক সংগ্রহ ও কাগজপত্র প্রক্রিয়া করবে।

বিদেশি ডাকসেবা হয় নির্দিষ্ট হারে শুল্ক সংগ্রহ করবে, নতুবা পণ্যের মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক আদায়ে যাবে।

কিছু বিদেশি ডাকসেবা যুক্তরাষ্ট্রে চালান পাঠানো বন্ধ করলেও ব্রিটেন, কানাডা ও ইউক্রেন ইতোমধ্যে চালান অব্যাহত রেখেছে।


ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কনীতি এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স ব্যবসায় বড় পরিবর্তন আনছে। ক্ষুদ্র প্যাকেজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ছাড় শেষ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভোক্তাদের জন্য খরচ বাড়বে, তবে প্রশাসন বলছে এতে রাজস্ব বাড়বে ও নিরাপত্তা জোরদার হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা: বিশেষ অংশীদারিত্ব থেকে হিসাবি লেনদেনের পথে

যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমূল্যের প্যাকেজের শুল্ক ছাড় শেষ: স্থায়ী সিদ্ধান্ত

০৪:৩৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্রে ৮০০ ডলারের নিচে মূল্যের প্যাকেজ আমদানিতে শুল্ক ছাড় শুক্রবার থেকে শেষ হচ্ছে।

শুক্রবার ভোর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে সব ধরনের প্যাকেজে পূর্ণ শুল্ক কার্যকর হবে।

পরিবর্তন স্থায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মে মাস থেকে চীন ও হংকং থেকে আসা ছোট প্যাকেজে ৪৯২ মিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম কার্যকর
ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ১৯৩৮ সাল থেকে চালু থাকা “ডি মিনিমিস” শুল্ক ছাড় শুক্রবার থেকে আর থাকবে না। ডাকসেবার মাধ্যমে আসা চালানগুলোর জন্য আগামী ছয় মাস একটি পরিবর্তনকাল থাকবে। এই সময়ে দেশভেদে প্রতিটি প্যাকেজে ৮০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত নির্দিষ্ট শুল্ক পরিশোধ করা যাবে। তবে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব ডাকসেবাকে পণ্যের মূল্যের ভিত্তিতে পূর্ণ শুল্ক আদায়ে যেতে হবে।

হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা
ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ডি মিনিমিস ফাঁকির সমাপ্তি হবে, যা প্রাণঘাতী মাদকসহ ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য আমদানিকে কমাবে। প্রতি বছর মার্কিন কোষাগারে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব যোগ করবে।”
একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এটি স্থায়ী পরিবর্তন। বিশ্বস্ত বাণিজ্য অংশীদারদের জন্য ছাড় ফেরানোর যে কোনো উদ্যোগ ব্যর্থ হবে।”

অতীতের প্রেক্ষাপট
২০১৫ সালে শুল্ক ছাড়ের সীমা ২০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮০০ ডলার করা হয়, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিকাশ লাভ করতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার পর সরাসরি ভোক্তাদের কাছে প্যাকেজ পাঠানোর ব্যবসা বেড়ে যায়। বিশেষ করে শেইন ও টেমু’র মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা নিয়ে বাজার সম্প্রসারণ করে।

শুল্ক ছাড়ের কারণে অনেক প্যাকেজ পর্যাপ্তভাবে পরীক্ষিত হয়নি। প্রশাসন এটিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিলসহ বিপজ্জনক মাদক প্রবাহের জন্যও দায়ী করছে।

সংখ্যার চিত্র
২০১৫ অর্থবছরে ১৩৯ মিলিয়ন প্যাকেজ ডি মিনিমিস ছাড়ে ঢুকেছিল।

২০২৪ অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১.৩৬ বিলিয়ন।

শুধু চীন ও হংকং থেকে মে মাসে ছাড় প্রত্যাহারের পর ৪৯২ মিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করেছে মার্কিন কাস্টমস।

নতুন শুল্কহার
মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী,

ট্রাম্প আরোপিত শুল্কহার ১৬% এর নিচে থাকা দেশ (যেমন: ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন) থেকে আসা প্যাকেজে ৮০ ডলার নির্দিষ্ট শুল্ক।

১৬% থেকে ২৫% শুল্কহার থাকা দেশ (যেমন: ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম) থেকে আসা প্যাকেজে ১৬০ ডলার।

২৫% এর বেশি শুল্কহার থাকা দেশ (যেমন: চীন, ব্রাজিল, ভারত, কানাডা) থেকে আসা প্যাকেজে ২০০ ডলার শুল্ক।

ডাকসেবা ও কুরিয়ার সংস্থা
ফেডেক্স, ইউপিএস ও ডিএইচএল-এর মতো এক্সপ্রেস কুরিয়ার সংস্থাগুলো সরাসরি শুল্ক সংগ্রহ ও কাগজপত্র প্রক্রিয়া করবে।

বিদেশি ডাকসেবা হয় নির্দিষ্ট হারে শুল্ক সংগ্রহ করবে, নতুবা পণ্যের মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক আদায়ে যাবে।

কিছু বিদেশি ডাকসেবা যুক্তরাষ্ট্রে চালান পাঠানো বন্ধ করলেও ব্রিটেন, কানাডা ও ইউক্রেন ইতোমধ্যে চালান অব্যাহত রেখেছে।


ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কনীতি এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স ব্যবসায় বড় পরিবর্তন আনছে। ক্ষুদ্র প্যাকেজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ছাড় শেষ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভোক্তাদের জন্য খরচ বাড়বে, তবে প্রশাসন বলছে এতে রাজস্ব বাড়বে ও নিরাপত্তা জোরদার হবে।