০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
ইসরায়েলের হামলা বন্ধের আহ্বান তুরস্কের তেলবাহী জাহাজকে এখনই নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রথম বার্তা শিগগির প্রকাশ পাটুরিয়ায় নদীতে পড়া তেলবাহী ট্রাক উদ্ধার অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্তে অন্তর্ভুক্তি ‘অস্বস্তিকর’, তবে বড় চ্যালেঞ্জ নয়: বিজিএমইএ সভাপতি রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট নরসিংদীতে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, প্রাপকেরা পাচ্ছেন কম ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভায় ব্যবসার অগ্রগতি পর্যালোচনা, নেওয়া হলো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ছয় ঘণ্টা পর স্বাভাবিক

দুবাইয়ে যুদ্ধের ছায়া: ইরানি হামলায় কেঁপে উঠল উপসাগরের নিরাপত্তার প্রতীক

মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাত হঠাৎ করেই যুদ্ধের বাস্তবতায় কেঁপে উঠেছে। ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুবাইয়ের মতো আধুনিক নগরী, যা দীর্ঘদিন ধরে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

দুবাইয়ের আকাশে ধোঁয়া, আতঙ্কে উপসাগর

সপ্তাহান্তে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হানার পর আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা যায়। একই রাতে শহরের মেরিনা এলাকায় আরেকটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি উঁচু ভবনে আঘাত করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরদিন সকালে সৈকত এলাকার বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি এমন সব দেশকে বিপাকে ফেলেছে যারা প্রকাশ্যে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু এখন বাস্তবে সেই সংঘাতের মধ্যেই পড়ে গেছে।

UAE, oasis for business and partying, faces war

স্থিতিশীলতার প্রতীক দুবাই

দুবাই বহু বছর ধরে ব্যবসা, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৪০ লাখ মানুষের এই শহরের ৯০ শতাংশের বেশি বাসিন্দাই বিদেশি। তাই নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুলখালেক আবদুল্লাহ বলেন, দুবাই নিজেকে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলেছিল, এমন একটি ব্র্যান্ড যা বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে আকর্ষণীয়। কিন্তু চলমান হামলাগুলো সেই ভাবমূর্তিতে ইতিমধ্যেই আঘাত করেছে।

কূটনৈতিক ভারসাম্যের সীমা

দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলো এক ধরনের কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। তারা একদিকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করেনি।

কিন্তু সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে সেই ভারসাম্যের সীমা কোথায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক দিনে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। দুবাইয়ের বিমানবন্দরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

UAE, oasis for business and partying, faces war

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতি

উপসাগরীয় দেশগুলো দাবি করছে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। প্রায় ৯৪ শতাংশ হামলা প্রতিরোধ করা গেছে বলে জানানো হয়েছে।

তারপরও ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত চারজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। অপরদিকে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশ হয়েছে।

অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন

যুদ্ধের শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও দুবাইয়ের জীবন পুরোপুরি থেমে যায়নি। অনেক বাসিন্দা শহর ছেড়ে চলে গেলেও অনেকে এখনও দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কেউ কেউ সরকারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখছেন, আবার অনেকেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে চলে যাওয়ার প্রস্তুতিও রাখছেন। শহরের পুরোনো এলাকায় ব্যবসা চলছে, যদিও আগের তুলনায় তা অনেক কম।

UAE: Dubai and Abu Dhabi's Image of Stability Shaken by Iran Missiles -  Bloomberg

যুদ্ধের মাঝেও অদ্ভুত বাস্তবতা

দুবাইয়ের সৈকত ক্লাবগুলোতে আগের মতো ভিড় না থাকলেও সপ্তাহান্তে আড্ডা ও পার্টি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অনেকেই বলছেন, যুদ্ধের মধ্যেও শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এক ধরনের অদ্ভুত বাস্তবতার সৃষ্টি করেছে।

কিছু বাসিন্দার মতে, দুবাইয়ে যুদ্ধের অনুভূতি অন্য অনেক দেশের মতো নয়। কারণ শহরটি বহু বছর ধরে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

উপসাগরের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি বড় ধাক্কা খেতে পারে। বিশেষ করে খাদ্য আমদানি ও লবণমুক্ত পানির ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চল আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তাদের আশঙ্কা, ইরানের একটি বড় আঘাত পুরো অঞ্চলের অবস্থান বদলে দিতে পারে এবং তখন উপসাগরীয় দেশগুলোকে আরও সরাসরি অবস্থান নিতে বাধ্য হতে হবে।

As Dubai reels from war and airstrikes, some choose to party on - The  Washington Post

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের হামলা বন্ধের আহ্বান তুরস্কের

দুবাইয়ে যুদ্ধের ছায়া: ইরানি হামলায় কেঁপে উঠল উপসাগরের নিরাপত্তার প্রতীক

০৫:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাত হঠাৎ করেই যুদ্ধের বাস্তবতায় কেঁপে উঠেছে। ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুবাইয়ের মতো আধুনিক নগরী, যা দীর্ঘদিন ধরে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

দুবাইয়ের আকাশে ধোঁয়া, আতঙ্কে উপসাগর

সপ্তাহান্তে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হানার পর আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা যায়। একই রাতে শহরের মেরিনা এলাকায় আরেকটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি উঁচু ভবনে আঘাত করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরদিন সকালে সৈকত এলাকার বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি এমন সব দেশকে বিপাকে ফেলেছে যারা প্রকাশ্যে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু এখন বাস্তবে সেই সংঘাতের মধ্যেই পড়ে গেছে।

UAE, oasis for business and partying, faces war

স্থিতিশীলতার প্রতীক দুবাই

দুবাই বহু বছর ধরে ব্যবসা, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৪০ লাখ মানুষের এই শহরের ৯০ শতাংশের বেশি বাসিন্দাই বিদেশি। তাই নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুলখালেক আবদুল্লাহ বলেন, দুবাই নিজেকে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলেছিল, এমন একটি ব্র্যান্ড যা বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে আকর্ষণীয়। কিন্তু চলমান হামলাগুলো সেই ভাবমূর্তিতে ইতিমধ্যেই আঘাত করেছে।

কূটনৈতিক ভারসাম্যের সীমা

দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলো এক ধরনের কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। তারা একদিকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করেনি।

কিন্তু সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে সেই ভারসাম্যের সীমা কোথায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক দিনে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। দুবাইয়ের বিমানবন্দরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

UAE, oasis for business and partying, faces war

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতি

উপসাগরীয় দেশগুলো দাবি করছে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। প্রায় ৯৪ শতাংশ হামলা প্রতিরোধ করা গেছে বলে জানানো হয়েছে।

তারপরও ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত চারজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। অপরদিকে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশ হয়েছে।

অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন

যুদ্ধের শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও দুবাইয়ের জীবন পুরোপুরি থেমে যায়নি। অনেক বাসিন্দা শহর ছেড়ে চলে গেলেও অনেকে এখনও দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কেউ কেউ সরকারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখছেন, আবার অনেকেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে চলে যাওয়ার প্রস্তুতিও রাখছেন। শহরের পুরোনো এলাকায় ব্যবসা চলছে, যদিও আগের তুলনায় তা অনেক কম।

UAE: Dubai and Abu Dhabi's Image of Stability Shaken by Iran Missiles -  Bloomberg

যুদ্ধের মাঝেও অদ্ভুত বাস্তবতা

দুবাইয়ের সৈকত ক্লাবগুলোতে আগের মতো ভিড় না থাকলেও সপ্তাহান্তে আড্ডা ও পার্টি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অনেকেই বলছেন, যুদ্ধের মধ্যেও শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এক ধরনের অদ্ভুত বাস্তবতার সৃষ্টি করেছে।

কিছু বাসিন্দার মতে, দুবাইয়ে যুদ্ধের অনুভূতি অন্য অনেক দেশের মতো নয়। কারণ শহরটি বহু বছর ধরে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

উপসাগরের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি বড় ধাক্কা খেতে পারে। বিশেষ করে খাদ্য আমদানি ও লবণমুক্ত পানির ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চল আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তাদের আশঙ্কা, ইরানের একটি বড় আঘাত পুরো অঞ্চলের অবস্থান বদলে দিতে পারে এবং তখন উপসাগরীয় দেশগুলোকে আরও সরাসরি অবস্থান নিতে বাধ্য হতে হবে।

As Dubai reels from war and airstrikes, some choose to party on - The  Washington Post