০৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
প্রেমিককের দেহ পাঁচ টুকরো করলেন সুফিয়া সাভারে সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টা, ভিডিও ঘিরে উদ্বেগ ট্রাম্পের ছায়ায় বিশ্ব রাজনীতি: চাপ নাকি সমঝোতা, দোটানায় চীনের কৌশল স্লিপনট ডটকম মামলা প্রত্যাহার করল জনপ্রিয় ব্যান্ড স্লিপনট ইউটিউবে এআই বিপ্লব: নিজের ডিজিটাল রূপে শর্টস তৈরির সুযোগ মিয়ানমারের নাগরিকদের টিপিএস বহাল রাখার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় কেএলএমের বড় সিদ্ধান্ত চীনের শীর্ষ দুই জেনারেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্ত ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’: জাতিসংঘের বিকল্প নাকি নতুন চাপের মঞ্চ আমাজনে দ্বিতীয় দফায় বড় ছাঁটাই: ৩০ হাজার কর্পোরেট কর্মী ঝুঁকিতে

ট্রাম্পের আরো ৫ বিলিয়ন ডলার কমানো বিদেশি সহায়তা কমানোর পদক্ষেপ

ট্রাম্প প্রশাসন ৫ বিলিয়ন ডলার (৩.৭ বিলিয়ন পাউন্ড) বিদেশি সহায়তা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যা চলতি বছরের শুরুতে কংগ্রেস অনুমোদন দিয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের বাজেট ও ব্যবস্থাপনা দপ্তর শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয়।

পকেট রিসিশন কী?
প্রেসিডেন্ট এই অর্থ কমানোর জন্য একটি বিরল প্রক্রিয়া ব্যবহার করছেন, যাকে বলা হয় “পকেট রিসিশন”। এর মাধ্যমে বাজেট বছরের একেবারে শেষ দিকে অনুমোদিত তহবিল ফেরত আনার অনুরোধ জানানো হয়।
যদি কংগ্রেস এতে হস্তক্ষেপ না করে, তবে নির্ধারিত অর্থ ব্যয় না হয়ে বাতিল হয়ে যায়।
এই প্রক্রিয়া প্রায় ৫০ বছর ধরে ব্যবহার করা হয়নি। সর্বশেষ সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ১৯৭৭ সালে এটি প্রয়োগ করেছিলেন।

কোন কোন খাত থেকে অর্থ কমানো হবে
প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার কর্তন করা হচ্ছে মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (USAID) থেকে

৯০০ মিলিয়ন ডলার কমছে স্টেট ডিপার্টমেন্টের তহবিল থেকে

আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ ৮০০ মিলিয়ন ডলারও কমানো হচ্ছে

অন্য দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছড়াতে বরাদ্দকৃত ৩০০ মিলিয়ন ডলারও কাটা হবে

হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ব্যয়কে তারা “ওয়োক, অস্ত্রায়িত এবং অপচয়” মনে করছে এবং সেগুলো কমানো হবে।

আইনগত প্রশ্ন ও বিতর্ক
পকেট রিসিশন ব্যবহারে আইনি প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি দায়বদ্ধতা দপ্তর (GAO) বলছে, এটি কংগ্রেসের অর্থ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সমান।

রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স মন্তব্য করেছেন, সংবিধান অনুযায়ী “পাওয়ার অব দ্য পার্স” বা অর্থ নিয়ন্ত্রণ কংগ্রেসের হাতে। তাই কংগ্রেস ছাড়াই তহবিল ফেরত নেওয়া আইন ভঙ্গের সমান। তার মতে, ব্যয় কমানোর সঠিক উপায় হলো দ্বিদলীয় বার্ষিক বাজেট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ স্বাভাবিক কংগ্রেস-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নষ্ট করবে এবং এর ফলে “অপ্রয়োজনীয় ও বেদনাদায়ক সরকার বন্ধ” (শাটডাউন) হতে পারে।

ট্রাম্পের অবস্থান
ট্রাম্প দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই বিদেশি সহায়তা কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি USAID-এর কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন, কারণ তার দৃষ্টিতে এসব ব্যয় “অপচয়”।


এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ও প্রশাসনের মধ্যে নতুন আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর আবার “পকেট রিসিশন” ব্যবহারের ফলে দেশীয় ও বিদেশি সহায়তা নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমিককের দেহ পাঁচ টুকরো করলেন সুফিয়া

ট্রাম্পের আরো ৫ বিলিয়ন ডলার কমানো বিদেশি সহায়তা কমানোর পদক্ষেপ

১১:৫৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

ট্রাম্প প্রশাসন ৫ বিলিয়ন ডলার (৩.৭ বিলিয়ন পাউন্ড) বিদেশি সহায়তা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যা চলতি বছরের শুরুতে কংগ্রেস অনুমোদন দিয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের বাজেট ও ব্যবস্থাপনা দপ্তর শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয়।

পকেট রিসিশন কী?
প্রেসিডেন্ট এই অর্থ কমানোর জন্য একটি বিরল প্রক্রিয়া ব্যবহার করছেন, যাকে বলা হয় “পকেট রিসিশন”। এর মাধ্যমে বাজেট বছরের একেবারে শেষ দিকে অনুমোদিত তহবিল ফেরত আনার অনুরোধ জানানো হয়।
যদি কংগ্রেস এতে হস্তক্ষেপ না করে, তবে নির্ধারিত অর্থ ব্যয় না হয়ে বাতিল হয়ে যায়।
এই প্রক্রিয়া প্রায় ৫০ বছর ধরে ব্যবহার করা হয়নি। সর্বশেষ সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ১৯৭৭ সালে এটি প্রয়োগ করেছিলেন।

কোন কোন খাত থেকে অর্থ কমানো হবে
প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার কর্তন করা হচ্ছে মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (USAID) থেকে

৯০০ মিলিয়ন ডলার কমছে স্টেট ডিপার্টমেন্টের তহবিল থেকে

আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ ৮০০ মিলিয়ন ডলারও কমানো হচ্ছে

অন্য দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছড়াতে বরাদ্দকৃত ৩০০ মিলিয়ন ডলারও কাটা হবে

হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ব্যয়কে তারা “ওয়োক, অস্ত্রায়িত এবং অপচয়” মনে করছে এবং সেগুলো কমানো হবে।

আইনগত প্রশ্ন ও বিতর্ক
পকেট রিসিশন ব্যবহারে আইনি প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি দায়বদ্ধতা দপ্তর (GAO) বলছে, এটি কংগ্রেসের অর্থ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সমান।

রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স মন্তব্য করেছেন, সংবিধান অনুযায়ী “পাওয়ার অব দ্য পার্স” বা অর্থ নিয়ন্ত্রণ কংগ্রেসের হাতে। তাই কংগ্রেস ছাড়াই তহবিল ফেরত নেওয়া আইন ভঙ্গের সমান। তার মতে, ব্যয় কমানোর সঠিক উপায় হলো দ্বিদলীয় বার্ষিক বাজেট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ স্বাভাবিক কংগ্রেস-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নষ্ট করবে এবং এর ফলে “অপ্রয়োজনীয় ও বেদনাদায়ক সরকার বন্ধ” (শাটডাউন) হতে পারে।

ট্রাম্পের অবস্থান
ট্রাম্প দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই বিদেশি সহায়তা কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি USAID-এর কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন, কারণ তার দৃষ্টিতে এসব ব্যয় “অপচয়”।


এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ও প্রশাসনের মধ্যে নতুন আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর আবার “পকেট রিসিশন” ব্যবহারের ফলে দেশীয় ও বিদেশি সহায়তা নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।