০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
বসন্তের সতেজতার প্রতীক স্প্রিং অনিয়ন বায়োহ্যাকিং: আজকের খাদ্য ও স্বাস্থ্য ট্রেন্ড কারা অনুসরণ করছে? টানা ফ্রেঞ্চের রহস্যধর্মী মাস্টারপিস “দ্য কিপার”: আইরিশ গ্রামের অন্ধকারের অন্তর্দৃষ্টি আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার ২০২৬: ছয়টি উপন্যাস পেল শীর্ষ ষ্ট্রিংলিস্ট, ঘোষণা নিয়ে সাহিত্য দুনিয়ায় আলোড়ন ওয়্যারলেস ফেস্টিভ্যালে কানিয়ে ওয়েস্টকে ঘিরে স্পনসর সরে যাচ্ছে, বাড়ছে সাংস্কৃতিক অস্বস্তি পিকসার্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন আয়-পথ খুলছে, এআই ডিজাইন বাজারে বদল আসার ইঙ্গিত এআই অবকাঠামোর দৌড় থামাচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট, যন্ত্রাংশের বিলম্ব আর শুল্কচাপ দুই সার কারখানার পর এবার বন্ধের পথে ডিএপিএফসিএল আজ রাতে পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে – ট্রাম্প প্রথমবারের মতো প্রাণীর টিকাকার্ড চালুর প্রস্তাব, স্বাস্থ্য ও জীবিকা সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

দুর্যোগ মোকাবিলায় নারী নেতৃত্বের অগ্রাধিকার

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও ঘনঘন দুর্যোগে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্যোগে গৃহহীন হলে বা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকালে নারীরা নানা বিপদ ও সহিংসতার শিকার হন। খাদ্য ও চিকিৎসার ঘাটতি, নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং চাকরি হারানোর সম্ভাবনা তাদের জীবনকে আরও অনিরাপদ করে তোলে।

প্রতিবেদনটি জোর দিয়েছে যে দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রস্তুতিতে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

নতুন প্রকল্প: জিআরডিআরআরআইবিবি

এই বাস্তবতায় ব্র্যাক, ইউএন উইমেন এবং সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির (সিডা) সহায়তায় “Gender Responsive Disaster Risk Reduction in Bangladesh (GRBDRRIBB)” নামে একটি নতুন প্রকল্প চালু করেছে।

প্রকল্পটির উদ্বোধন উপলক্ষে মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা

প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ. আব্দুল ওয়াদুদ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন —

  • ইউএন উইমেনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি নবনীতা বসু সিনহা
  • সুইডেন দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন সাব্বিনা সভানসন
  • ব্র্যাকের হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রামের পরিচালক কাজী সাগর সওদাগর
  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সরজওয়ানুর রহমান

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. গোলাম কায়কোত আলী।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও কার্যক্রম

এই প্রকল্প জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সিভিল সোসাইটি এবং অন্যান্য অংশীদারকে একত্রিত করবে। এর মাধ্যমে —

  • দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা,
  • দুর্বল জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা,
  • নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া,
  • স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা গড়ে তোলা হবে।

বক্তাদের মূল বক্তব্য

  • এ. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতি, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও আর্থিক সক্ষমতা জরুরি। নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া কার্যকর দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব নয়।
  • নবনীতা বসু সিনহা জানান, বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নের পথে নিতে হলে দুর্যোগ মোকাবিলা ও সহনশীলতায় লিঙ্গসমতার নিশ্চয়তা অপরিহার্য।
  • সাব্বিনা সভানসন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ সমতা কেবল প্রয়োজন নয়, এটি অপরিহার্য। দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে রূপান্তর আনা সম্ভব।
  • কাজী সাগর সওদাগর জানান, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
  • সরজওয়ানুর রহমান বলেন, দুর্যোগকালে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে। তাদের অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে দুর্যোগ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
  • ড. গোলাম কায়কোত আলী বলেন, স্থানীয় জনগণকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। বাস্তবভিত্তিক অংশগ্রহণ ছাড়া স্থায়ী সমাধান আসবে না।

বাস্তবায়ন এলাকা ও সময়সীমা

প্রকল্পটি ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ১২টি দুর্যোগপ্রবণ জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। এসব জেলা হলো — কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, কুমিলা, শরীয়তপুর, নড়াইল, সাভার, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, খুলনা ও সাতক্ষীরা।

প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি লিঙ্গ-সংবেদনশীল জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি এবং সরকারি কার্যক্রম ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বসন্তের সতেজতার প্রতীক স্প্রিং অনিয়ন

দুর্যোগ মোকাবিলায় নারী নেতৃত্বের অগ্রাধিকার

০৫:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও ঘনঘন দুর্যোগে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্যোগে গৃহহীন হলে বা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকালে নারীরা নানা বিপদ ও সহিংসতার শিকার হন। খাদ্য ও চিকিৎসার ঘাটতি, নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং চাকরি হারানোর সম্ভাবনা তাদের জীবনকে আরও অনিরাপদ করে তোলে।

প্রতিবেদনটি জোর দিয়েছে যে দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রস্তুতিতে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

নতুন প্রকল্প: জিআরডিআরআরআইবিবি

এই বাস্তবতায় ব্র্যাক, ইউএন উইমেন এবং সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির (সিডা) সহায়তায় “Gender Responsive Disaster Risk Reduction in Bangladesh (GRBDRRIBB)” নামে একটি নতুন প্রকল্প চালু করেছে।

প্রকল্পটির উদ্বোধন উপলক্ষে মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা

প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ. আব্দুল ওয়াদুদ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন —

  • ইউএন উইমেনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি নবনীতা বসু সিনহা
  • সুইডেন দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন সাব্বিনা সভানসন
  • ব্র্যাকের হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রামের পরিচালক কাজী সাগর সওদাগর
  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সরজওয়ানুর রহমান

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. গোলাম কায়কোত আলী।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও কার্যক্রম

এই প্রকল্প জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সিভিল সোসাইটি এবং অন্যান্য অংশীদারকে একত্রিত করবে। এর মাধ্যমে —

  • দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা,
  • দুর্বল জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা,
  • নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া,
  • স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা গড়ে তোলা হবে।

বক্তাদের মূল বক্তব্য

  • এ. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতি, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও আর্থিক সক্ষমতা জরুরি। নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া কার্যকর দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব নয়।
  • নবনীতা বসু সিনহা জানান, বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নের পথে নিতে হলে দুর্যোগ মোকাবিলা ও সহনশীলতায় লিঙ্গসমতার নিশ্চয়তা অপরিহার্য।
  • সাব্বিনা সভানসন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গ সমতা কেবল প্রয়োজন নয়, এটি অপরিহার্য। দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে রূপান্তর আনা সম্ভব।
  • কাজী সাগর সওদাগর জানান, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
  • সরজওয়ানুর রহমান বলেন, দুর্যোগকালে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে। তাদের অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে দুর্যোগ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
  • ড. গোলাম কায়কোত আলী বলেন, স্থানীয় জনগণকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। বাস্তবভিত্তিক অংশগ্রহণ ছাড়া স্থায়ী সমাধান আসবে না।

বাস্তবায়ন এলাকা ও সময়সীমা

প্রকল্পটি ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ১২টি দুর্যোগপ্রবণ জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। এসব জেলা হলো — কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, কুমিলা, শরীয়তপুর, নড়াইল, সাভার, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, খুলনা ও সাতক্ষীরা।

প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি লিঙ্গ-সংবেদনশীল জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি এবং সরকারি কার্যক্রম ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।