০২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে মধ্যরাতের চুরি, ‘পরিকল্পিত নাশকতা’ সন্দেহ কাজলের নড়াইলের ৫৭ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান নগদ অর্থ নয়, উন্নয়নের পরবর্তী লড়াই জ্ঞান ও সক্ষমতার শুধু বিজেপি-বিরোধিতা নয়, ভারতের বিরোধী জোটের ভিত্তি হতে হবে ফেডারেল গণতন্ত্র চীন এগিয়ে, ন্যাফথা সংকটে চাপে এশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প সুন্দরবনে কোস্টগার্ড স্টেশনে হামলা, আহত একাধিক সদস্য খুলনা সিটি মেডিকেলে ভয়াবহ আগুন, রাতভর কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট, ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি গুনতে হচ্ছে ইজারাদারকে টেলর সুইফট ‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নতুন গান গাইলেন, র্যান্ডি নিউম্যানের সঙ্গে ডুয়েট — ‘এটি একটি মাস্টারপিস’ আমির খান জুলাই ৫-এর বিয়ের কথা নিজেই নিশ্চিত করলেন: ‘মনে মনে আগেই বিয়ে করেছিলাম’

ইথিওপিয়ান নেকড়ে: আফ্রিকার লালচে শিকারির বিলুপ্তির লড়াই

আফ্রিকার উঁচু মালভূমির নীরব প্রান্তরে এক অদ্ভুত সৌন্দর্যের প্রাণী ঘুরে বেড়ায়—ইথিওপিয়ান নেকড়ে। লালচে-বাদামী রঙের এই শিকারি দেখতে অনেকটা নেকড়ে ও শেয়ালের মাঝামাঝি। প্রকৃতির ভারসাম্যে এদের ভূমিকা অপরিসীম, কিন্তু বাস্তবতা হলো, পৃথিবীতে এর সংখ্যা আজ হাতেগোনা। গবেষকরা সতর্ক করছেন—এই প্রাণী যদি বিলুপ্ত হয়, তবে আফ্রিকার উচ্চভূমির জীববৈচিত্র্য এক বড় ধাক্কা খাবে।

ইথিওপিয়ান নেকড়ে (Canis simensis) কেবলমাত্র ইথিওপিয়ার মালভূমিতেই পাওয়া যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার মিটার ওপরে ঘাসে ভরা তৃণভূমি আর ঠান্ডা পরিবেশ তাদের উপযুক্ত আবাস। একসময় তারা ইথিওপিয়ার বহু অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকলেও এখন কেবল সিমিয়েন পর্বতশ্রেণী ও বেল মালভূমির মতো কয়েকটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় সীমাবদ্ধ। স্থানীয় বাসিন্দারা একে বলে “ক্যাবেরু”—যার অর্থ ‘উঁচু পাহাড়ের শিয়াল’।

প্রাণীবিদরা বলেন, ইথিওপিয়ান নেকড়ে হচ্ছে “বিশ্বের সবচেয়ে বিরল ক্যানিড”। লম্বা সরু পা, তীক্ষ্ণ মুখ, তীক্ষ্ণ চোখ আর উজ্জ্বল লালচে পশমে এরা আলাদা করে চেনা যায়। গলা ও পেটের অংশ সাদা, কান দুটো তীক্ষ্ণ ও বড়। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নেকড়ে গড়ে ১৮ কেজি ওজনের হয়, মাদী তুলনায় কিছুটা ছোট।

খাদ্যাভ্যাস ও আচরণ

এরা মূলত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী শিকার করে। বিশেষ করে ইথিওপিয়ান মোল-র্যাট তাদের প্রধান খাদ্য। দিনের আলোতেই তারা শিকার করে, যা অন্যান্য নেকড়ে প্রজাতির তুলনায় ভিন্ন। সাধারণত ছয় থেকে আট সদস্যের ছোট দলে বাস করে। দলের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও তারা শিকারে একা থাকতে পছন্দ করে।

প্রকৃতি গবেষকদের মতে, ইথিওপিয়ান নেকড়ের সংখ্যা এখন ৬০০-এরও কম। মানুষের বসতি বিস্তার, কৃষিজমি দখল, খাদ্যের অভাব এবং গৃহপালিত কুকুর থেকে ছড়ানো জলাতঙ্ক বা ক্যানাইন ডিস্টেম্পার তাদের জন্য মারাত্মক হুমকি। ইথিওপিয়ান মালভূমিতে কৃষি সম্প্রসারণের কারণে প্রতিদিনই তাদের বাসস্থান সংকুচিত হচ্ছে।

স্থানীয় এক পশুপালক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ছোট বেলা থেকে এই নেকড়েগুলোকে দেখেছি। কিন্তু এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। ভোরে বের হলে হয়তো দূরে লালচে একটা ছায়া দেখা যায়, তারপর অদৃশ্য হয়ে যায়।”

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN) ইথিওপিয়ান নেকড়েকে “Endangered” বা বিপন্ন তালিকাভুক্ত করেছে। টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে যাতে গৃহপালিত কুকুর থেকে ছড়ানো রোগ এদের মধ্যে না ছড়ায়। এছাড়া সংরক্ষিত এলাকা তৈরি ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। গবেষকরা বলছেন, যদি স্থানীয় জনগণকে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা না যায়, তবে সংরক্ষণ টেকসই হবে না।

এই নেকড়ে শুধু একটি প্রজাতি নয়, বরং আফ্রিকার উচ্চভূমির পরিবেশব্যবস্থার রক্ষক। তারা ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে ভারসাম্য বজায় রাখে। গবেষকরা মনে করেন, এদের হারিয়ে যাওয়া মানে সেই প্রাচীন প্রাকৃতিক উত্তরাধিকারও হারিয়ে যাওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে মধ্যরাতের চুরি, ‘পরিকল্পিত নাশকতা’ সন্দেহ কাজলের

ইথিওপিয়ান নেকড়ে: আফ্রিকার লালচে শিকারির বিলুপ্তির লড়াই

০৬:০০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আফ্রিকার উঁচু মালভূমির নীরব প্রান্তরে এক অদ্ভুত সৌন্দর্যের প্রাণী ঘুরে বেড়ায়—ইথিওপিয়ান নেকড়ে। লালচে-বাদামী রঙের এই শিকারি দেখতে অনেকটা নেকড়ে ও শেয়ালের মাঝামাঝি। প্রকৃতির ভারসাম্যে এদের ভূমিকা অপরিসীম, কিন্তু বাস্তবতা হলো, পৃথিবীতে এর সংখ্যা আজ হাতেগোনা। গবেষকরা সতর্ক করছেন—এই প্রাণী যদি বিলুপ্ত হয়, তবে আফ্রিকার উচ্চভূমির জীববৈচিত্র্য এক বড় ধাক্কা খাবে।

ইথিওপিয়ান নেকড়ে (Canis simensis) কেবলমাত্র ইথিওপিয়ার মালভূমিতেই পাওয়া যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার মিটার ওপরে ঘাসে ভরা তৃণভূমি আর ঠান্ডা পরিবেশ তাদের উপযুক্ত আবাস। একসময় তারা ইথিওপিয়ার বহু অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকলেও এখন কেবল সিমিয়েন পর্বতশ্রেণী ও বেল মালভূমির মতো কয়েকটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় সীমাবদ্ধ। স্থানীয় বাসিন্দারা একে বলে “ক্যাবেরু”—যার অর্থ ‘উঁচু পাহাড়ের শিয়াল’।

প্রাণীবিদরা বলেন, ইথিওপিয়ান নেকড়ে হচ্ছে “বিশ্বের সবচেয়ে বিরল ক্যানিড”। লম্বা সরু পা, তীক্ষ্ণ মুখ, তীক্ষ্ণ চোখ আর উজ্জ্বল লালচে পশমে এরা আলাদা করে চেনা যায়। গলা ও পেটের অংশ সাদা, কান দুটো তীক্ষ্ণ ও বড়। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নেকড়ে গড়ে ১৮ কেজি ওজনের হয়, মাদী তুলনায় কিছুটা ছোট।

খাদ্যাভ্যাস ও আচরণ

এরা মূলত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী শিকার করে। বিশেষ করে ইথিওপিয়ান মোল-র্যাট তাদের প্রধান খাদ্য। দিনের আলোতেই তারা শিকার করে, যা অন্যান্য নেকড়ে প্রজাতির তুলনায় ভিন্ন। সাধারণত ছয় থেকে আট সদস্যের ছোট দলে বাস করে। দলের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও তারা শিকারে একা থাকতে পছন্দ করে।

প্রকৃতি গবেষকদের মতে, ইথিওপিয়ান নেকড়ের সংখ্যা এখন ৬০০-এরও কম। মানুষের বসতি বিস্তার, কৃষিজমি দখল, খাদ্যের অভাব এবং গৃহপালিত কুকুর থেকে ছড়ানো জলাতঙ্ক বা ক্যানাইন ডিস্টেম্পার তাদের জন্য মারাত্মক হুমকি। ইথিওপিয়ান মালভূমিতে কৃষি সম্প্রসারণের কারণে প্রতিদিনই তাদের বাসস্থান সংকুচিত হচ্ছে।

স্থানীয় এক পশুপালক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ছোট বেলা থেকে এই নেকড়েগুলোকে দেখেছি। কিন্তু এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। ভোরে বের হলে হয়তো দূরে লালচে একটা ছায়া দেখা যায়, তারপর অদৃশ্য হয়ে যায়।”

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN) ইথিওপিয়ান নেকড়েকে “Endangered” বা বিপন্ন তালিকাভুক্ত করেছে। টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে যাতে গৃহপালিত কুকুর থেকে ছড়ানো রোগ এদের মধ্যে না ছড়ায়। এছাড়া সংরক্ষিত এলাকা তৈরি ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। গবেষকরা বলছেন, যদি স্থানীয় জনগণকে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা না যায়, তবে সংরক্ষণ টেকসই হবে না।

এই নেকড়ে শুধু একটি প্রজাতি নয়, বরং আফ্রিকার উচ্চভূমির পরিবেশব্যবস্থার রক্ষক। তারা ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে ভারসাম্য বজায় রাখে। গবেষকরা মনে করেন, এদের হারিয়ে যাওয়া মানে সেই প্রাচীন প্রাকৃতিক উত্তরাধিকারও হারিয়ে যাওয়া।