যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে চীনের পদক্ষেপ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গুয়াংজুর একটি রাসায়নিক প্রতিষ্ঠানের ওপর ফেন্টানিল উৎপাদনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চীন পাল্টা ব্যবস্থা নিল। বেইজিং বৃহস্পতিবার ঘোষণা করে, যুক্তরাষ্ট্রের ফাইবার-অপটিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

শুল্কের হার ও মেয়াদ
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩৩.৩ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭৮.২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এগুলো সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে এবং ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকবে।
- OFS Fitel-এর ওপর ৩৩.৩ শতাংশ শুল্ক
- Corning-এর ওপর ৩৭.৯ শতাংশ শুল্ক
- Draka Communications Americas এবং অন্যান্য অজ্ঞাত মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর ৭৮.২ শতাংশ শুল্ক
আগের শুল্ক ও তদন্তের ফলাফল
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চীন উচ্চগতির অপটিক্যাল ট্রান্সমিশন এবং ডেটা সেন্টার সংযোগে ব্যবহৃত এক ধরনের মার্কিন ফাইবারের ওপর শুল্ক আরোপ করে রেখেছিল। কিন্তু চলতি বছরের মার্চে শুরু হওয়া ছয় মাসের তদন্তে দেখা যায়, মার্কিন রপ্তানিকারকরা ভিন্ন ধরনের নাম ব্যবহার করে এবং সামান্য প্রযুক্তিগত পার্থক্য দেখিয়ে ওই ফাইবার চীনে পাঠাচ্ছিল। এর মাধ্যমে তারা বিদ্যমান শুল্ক এড়িয়ে যাচ্ছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মার্কিন রপ্তানিকারকরা বাণিজ্যিক কোনো যুক্তি ছাড়াই বাণিজ্যের ধরণ পরিবর্তন করেছে, যা চীনের বর্তমান অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ককে দুর্বল করেছে।”
প্রথমবারের মতো অ্যান্টি-সার্কামভেনশন তদন্ত
চীনা প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে চালু হওয়া এই তদন্ত ছিল বেইজিংয়ের ইতিহাসে প্রথম অ্যান্টি-সার্কামভেনশন তদন্ত। এই ধরনের তদন্তের উদ্দেশ্য হলো দেখা, কোনো দেশ শুল্ক এড়ানোর জন্য কৃত্রিমভাবে পণ্যের ধরন বা বাণিজ্যিক পদ্ধতি বদলাচ্ছে কি না।

চীনের এই পদক্ষেপ কেবল অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেন্টানিল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল, বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করতে সক্ষম। ফলে মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















