১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে নির্যাতন চালিয়ে করানো হতো সাইবার জালিয়াতির কাজ গাজা ‘বোর্ড অব পিস’ বিতর্ক: ট্রাম্পের নতুন প্ল্যাটফর্মে নেতানিয়াহুর যোগ, সমান্তরাল কূটনীতি নিয়ে প্রশ্ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৮) সোনা–রুপার দামে ইতিহাস, ইউরোপ–আমেরিকা উত্তেজনায় নিরাপদ বিনিয়োগে দৌড় উষ্ণ অ্যান্টার্কটিকায় সময়ের আগেই প্রজনন, বিপন্ন দুই পেঙ্গুইন প্রজাতি প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫৪) নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ ঝুঁকির খেলায় তরুণেরা, নকল টাকায় বিনিয়োগের রোমাঞ্চে গড়ে উঠছে নতুন অভ্যাস তারকা র‍্যাপারের দোদুল্যমান প্রত্যাবর্তন: এএসএপি রকির নতুন অ্যালবাম কতটা বলার আছে

টুনা মাছের আশ্চর্য পুনরুদ্ধার

একসময় বিলুপ্তির পথে

বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে বহু প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। আটলান্টিক কড একসময় কানাডার উপকূলে এত বেশি ছিল যে শুকনো কড আমেরিকা উপনিবেশ গঠনে সহায়ক হয়েছিল। কিন্তু শিল্পায়িত আহরণের কারণে ১৯৮০-৯০-এর দশকে এদের সংখ্যা ভেঙে পড়ে। একইভাবে মঙ্কফিশও কমে যায়।

টুনা মাছের তিন প্রধান প্রজাতি—বিশেষত ব্লুফিন—একসময় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে ছিল। জাপানে এর মাংসের উচ্চমূল্য এ সংকটকে ত্বরান্বিত করেছিল।

আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ও সাফল্য

২০০৫ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে অতিরিক্ত শিকারের কারণে টুনা আহরণ অর্ধেকে নেমে আসে। ২০১০ সালে জাতিসংঘে আটলান্টিক ব্লুফিন বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব উঠেছিল। একই সময়ে আইইউসিএন জানায়, অর্ধেকেরও বেশি টুনা প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে আছে।

কিন্তু বাস্তবতা বদলাতে শুরু করে যখন দক্ষিণ ব্লুফিন আহরণকারী দেশগুলো যৌথ কোটা নির্ধারণ করে। পর্যবেক্ষণ ও সীমিত আহরণের ফলে প্রজাতিগুলো ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হয়।

২০২১ সালে আইইউসিএন ব্লুফিনকে “বিপন্ন” থেকে “সর্বনিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ” তালিকায় আনে। ইয়েলোফিন ও অ্যালবাকোর-কেও একই পর্যায়ে আনা হয়। দক্ষিণ ব্লুফিন “অতিবিপন্ন” থেকে “বিপন্ন” তালিকায় উঠে আসে।

টেকসই মাছ ধরা

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন টুনার প্রায় ৯৯.৩ শতাংশ টেকসইভাবে ধরা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশ্বে মাছের প্রজাতিগুলোর গড়ে ৬৪.৫ শতাংশ টেকসই হলেও টুনায় এ হার ৮৭ শতাংশ।

শুধু ভূমধ্যসাগরের অ্যালবাকোর ও ভারত মহাসাগরের বিগআই এখনো ঝুঁকিতে আছে। তুলনায় আটলান্টিক কডের মাত্র ২১.৭ শতাংশ টেকসইভাবে ধরা হচ্ছে।

শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ

এই অভিজ্ঞতা এটি দেখায়—কঠোর নিয়ম, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ মিললে প্রকৃতি পুনরুদ্ধার সম্ভব। থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশেও এখন এ ধরনের নীতিমালা ছড়িয়ে পড়ছে।

তবে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। মাছ টেকসইভাবে ধরা হলেও হঠাৎ সংকট দেখা দিতে পারে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও উন্নত প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আবারও চাপ সৃষ্টি করবে।

তবুও, শিক্ষা স্পষ্ট—যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের সদিচ্ছা থাকলে পরিবেশ ধ্বংসের পথ বদলানো সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে

টুনা মাছের আশ্চর্য পুনরুদ্ধার

১২:১৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

একসময় বিলুপ্তির পথে

বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে বহু প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। আটলান্টিক কড একসময় কানাডার উপকূলে এত বেশি ছিল যে শুকনো কড আমেরিকা উপনিবেশ গঠনে সহায়ক হয়েছিল। কিন্তু শিল্পায়িত আহরণের কারণে ১৯৮০-৯০-এর দশকে এদের সংখ্যা ভেঙে পড়ে। একইভাবে মঙ্কফিশও কমে যায়।

টুনা মাছের তিন প্রধান প্রজাতি—বিশেষত ব্লুফিন—একসময় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে ছিল। জাপানে এর মাংসের উচ্চমূল্য এ সংকটকে ত্বরান্বিত করেছিল।

আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ও সাফল্য

২০০৫ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে অতিরিক্ত শিকারের কারণে টুনা আহরণ অর্ধেকে নেমে আসে। ২০১০ সালে জাতিসংঘে আটলান্টিক ব্লুফিন বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব উঠেছিল। একই সময়ে আইইউসিএন জানায়, অর্ধেকেরও বেশি টুনা প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে আছে।

কিন্তু বাস্তবতা বদলাতে শুরু করে যখন দক্ষিণ ব্লুফিন আহরণকারী দেশগুলো যৌথ কোটা নির্ধারণ করে। পর্যবেক্ষণ ও সীমিত আহরণের ফলে প্রজাতিগুলো ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হয়।

২০২১ সালে আইইউসিএন ব্লুফিনকে “বিপন্ন” থেকে “সর্বনিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ” তালিকায় আনে। ইয়েলোফিন ও অ্যালবাকোর-কেও একই পর্যায়ে আনা হয়। দক্ষিণ ব্লুফিন “অতিবিপন্ন” থেকে “বিপন্ন” তালিকায় উঠে আসে।

টেকসই মাছ ধরা

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন টুনার প্রায় ৯৯.৩ শতাংশ টেকসইভাবে ধরা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশ্বে মাছের প্রজাতিগুলোর গড়ে ৬৪.৫ শতাংশ টেকসই হলেও টুনায় এ হার ৮৭ শতাংশ।

শুধু ভূমধ্যসাগরের অ্যালবাকোর ও ভারত মহাসাগরের বিগআই এখনো ঝুঁকিতে আছে। তুলনায় আটলান্টিক কডের মাত্র ২১.৭ শতাংশ টেকসইভাবে ধরা হচ্ছে।

শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ

এই অভিজ্ঞতা এটি দেখায়—কঠোর নিয়ম, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ মিললে প্রকৃতি পুনরুদ্ধার সম্ভব। থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশেও এখন এ ধরনের নীতিমালা ছড়িয়ে পড়ছে।

তবে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। মাছ টেকসইভাবে ধরা হলেও হঠাৎ সংকট দেখা দিতে পারে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও উন্নত প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আবারও চাপ সৃষ্টি করবে।

তবুও, শিক্ষা স্পষ্ট—যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের সদিচ্ছা থাকলে পরিবেশ ধ্বংসের পথ বদলানো সম্ভব।