০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ইরানকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম বাড়ল, শেয়ারবাজারে পতন ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি কমতে পারে, বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি: এডিবি বছরের শুরুতেই তাপমাত্রার রেকর্ড, উদ্বেগ বাড়ছে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সংঘর্ষে ইসরায়েলি সেনা নিহত এআই দৌড়ে ডেটা চুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা, বাড়ছে নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধের মাঝে খাবারের লড়াই, বৈরুতে রান্নাঘরে মানুষের পাশে মানুষ রেড সি ঝুঁকিতে জাহাজ ঘুরছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চাপ ট্রাম্প-স্টারমার দ্বন্দ্বে নতুন উত্তাপ, ইরান ইস্যুতে জোটে ফাটল গভীর ইরানকে সতর্ক বার্তা ট্রাম্পের, চুক্তির সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে

টুনা মাছের আশ্চর্য পুনরুদ্ধার

একসময় বিলুপ্তির পথে

বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে বহু প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। আটলান্টিক কড একসময় কানাডার উপকূলে এত বেশি ছিল যে শুকনো কড আমেরিকা উপনিবেশ গঠনে সহায়ক হয়েছিল। কিন্তু শিল্পায়িত আহরণের কারণে ১৯৮০-৯০-এর দশকে এদের সংখ্যা ভেঙে পড়ে। একইভাবে মঙ্কফিশও কমে যায়।

টুনা মাছের তিন প্রধান প্রজাতি—বিশেষত ব্লুফিন—একসময় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে ছিল। জাপানে এর মাংসের উচ্চমূল্য এ সংকটকে ত্বরান্বিত করেছিল।

আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ও সাফল্য

২০০৫ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে অতিরিক্ত শিকারের কারণে টুনা আহরণ অর্ধেকে নেমে আসে। ২০১০ সালে জাতিসংঘে আটলান্টিক ব্লুফিন বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব উঠেছিল। একই সময়ে আইইউসিএন জানায়, অর্ধেকেরও বেশি টুনা প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে আছে।

কিন্তু বাস্তবতা বদলাতে শুরু করে যখন দক্ষিণ ব্লুফিন আহরণকারী দেশগুলো যৌথ কোটা নির্ধারণ করে। পর্যবেক্ষণ ও সীমিত আহরণের ফলে প্রজাতিগুলো ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হয়।

২০২১ সালে আইইউসিএন ব্লুফিনকে “বিপন্ন” থেকে “সর্বনিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ” তালিকায় আনে। ইয়েলোফিন ও অ্যালবাকোর-কেও একই পর্যায়ে আনা হয়। দক্ষিণ ব্লুফিন “অতিবিপন্ন” থেকে “বিপন্ন” তালিকায় উঠে আসে।

টেকসই মাছ ধরা

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন টুনার প্রায় ৯৯.৩ শতাংশ টেকসইভাবে ধরা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশ্বে মাছের প্রজাতিগুলোর গড়ে ৬৪.৫ শতাংশ টেকসই হলেও টুনায় এ হার ৮৭ শতাংশ।

শুধু ভূমধ্যসাগরের অ্যালবাকোর ও ভারত মহাসাগরের বিগআই এখনো ঝুঁকিতে আছে। তুলনায় আটলান্টিক কডের মাত্র ২১.৭ শতাংশ টেকসইভাবে ধরা হচ্ছে।

শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ

এই অভিজ্ঞতা এটি দেখায়—কঠোর নিয়ম, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ মিললে প্রকৃতি পুনরুদ্ধার সম্ভব। থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশেও এখন এ ধরনের নীতিমালা ছড়িয়ে পড়ছে।

তবে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। মাছ টেকসইভাবে ধরা হলেও হঠাৎ সংকট দেখা দিতে পারে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও উন্নত প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আবারও চাপ সৃষ্টি করবে।

তবুও, শিক্ষা স্পষ্ট—যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের সদিচ্ছা থাকলে পরিবেশ ধ্বংসের পথ বদলানো সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ইরানকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে

টুনা মাছের আশ্চর্য পুনরুদ্ধার

১২:১৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

একসময় বিলুপ্তির পথে

বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে বহু প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। আটলান্টিক কড একসময় কানাডার উপকূলে এত বেশি ছিল যে শুকনো কড আমেরিকা উপনিবেশ গঠনে সহায়ক হয়েছিল। কিন্তু শিল্পায়িত আহরণের কারণে ১৯৮০-৯০-এর দশকে এদের সংখ্যা ভেঙে পড়ে। একইভাবে মঙ্কফিশও কমে যায়।

টুনা মাছের তিন প্রধান প্রজাতি—বিশেষত ব্লুফিন—একসময় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে ছিল। জাপানে এর মাংসের উচ্চমূল্য এ সংকটকে ত্বরান্বিত করেছিল।

আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ও সাফল্য

২০০৫ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে অতিরিক্ত শিকারের কারণে টুনা আহরণ অর্ধেকে নেমে আসে। ২০১০ সালে জাতিসংঘে আটলান্টিক ব্লুফিন বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব উঠেছিল। একই সময়ে আইইউসিএন জানায়, অর্ধেকেরও বেশি টুনা প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে আছে।

কিন্তু বাস্তবতা বদলাতে শুরু করে যখন দক্ষিণ ব্লুফিন আহরণকারী দেশগুলো যৌথ কোটা নির্ধারণ করে। পর্যবেক্ষণ ও সীমিত আহরণের ফলে প্রজাতিগুলো ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হয়।

২০২১ সালে আইইউসিএন ব্লুফিনকে “বিপন্ন” থেকে “সর্বনিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ” তালিকায় আনে। ইয়েলোফিন ও অ্যালবাকোর-কেও একই পর্যায়ে আনা হয়। দক্ষিণ ব্লুফিন “অতিবিপন্ন” থেকে “বিপন্ন” তালিকায় উঠে আসে।

টেকসই মাছ ধরা

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন টুনার প্রায় ৯৯.৩ শতাংশ টেকসইভাবে ধরা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশ্বে মাছের প্রজাতিগুলোর গড়ে ৬৪.৫ শতাংশ টেকসই হলেও টুনায় এ হার ৮৭ শতাংশ।

শুধু ভূমধ্যসাগরের অ্যালবাকোর ও ভারত মহাসাগরের বিগআই এখনো ঝুঁকিতে আছে। তুলনায় আটলান্টিক কডের মাত্র ২১.৭ শতাংশ টেকসইভাবে ধরা হচ্ছে।

শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ

এই অভিজ্ঞতা এটি দেখায়—কঠোর নিয়ম, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ মিললে প্রকৃতি পুনরুদ্ধার সম্ভব। থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশেও এখন এ ধরনের নীতিমালা ছড়িয়ে পড়ছে।

তবে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। মাছ টেকসইভাবে ধরা হলেও হঠাৎ সংকট দেখা দিতে পারে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও উন্নত প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আবারও চাপ সৃষ্টি করবে।

তবুও, শিক্ষা স্পষ্ট—যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের সদিচ্ছা থাকলে পরিবেশ ধ্বংসের পথ বদলানো সম্ভব।