০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে নির্যাতন চালিয়ে করানো হতো সাইবার জালিয়াতির কাজ গাজা ‘বোর্ড অব পিস’ বিতর্ক: ট্রাম্পের নতুন প্ল্যাটফর্মে নেতানিয়াহুর যোগ, সমান্তরাল কূটনীতি নিয়ে প্রশ্ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৮) সোনা–রুপার দামে ইতিহাস, ইউরোপ–আমেরিকা উত্তেজনায় নিরাপদ বিনিয়োগে দৌড় উষ্ণ অ্যান্টার্কটিকায় সময়ের আগেই প্রজনন, বিপন্ন দুই পেঙ্গুইন প্রজাতি প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫৪) নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ ঝুঁকির খেলায় তরুণেরা, নকল টাকায় বিনিয়োগের রোমাঞ্চে গড়ে উঠছে নতুন অভ্যাস তারকা র‍্যাপারের দোদুল্যমান প্রত্যাবর্তন: এএসএপি রকির নতুন অ্যালবাম কতটা বলার আছে

শিম্পাঞ্জিদের খাদ্যে অ্যালকোহলের উপস্থিতি

একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, শিম্পাঞ্জিরা প্রতিদিন যে পরিমাণ পাকা ফল খায়, তার মধ্যে থাকা ইথানলের কারণে তারা গড়ে এক গ্লাস মদ্যপানের সমপরিমাণ অ্যালকোহল গ্রহণ করে।

এই আচরণ বোঝা গেলে মানুষের অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

গবেষণার প্রধান ফলাফল

গবেষণাটি “সায়েন্স অ্যাডভান্সেস” সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে শিম্পাঞ্জিদের অ্যালকোহল গ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও এবার প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইভরি কোস্ট এবং উগান্ডায় দুটি শিম্পাঞ্জি গোষ্ঠী পর্যবেক্ষণ করে এবং তাদের খাওয়া ফল পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রতিদিন তারা প্রায় ১৪ গ্রাম (০.৫ আউন্স) ইথানল গ্রহণ করে।

এটি গড়ে প্রায় ১ দশমিক ৪ গ্লাস মদের সমান। তবে শিম্পাঞ্জিদের ওজন মানুষের তুলনায় কম হওয়ায় এটি মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রায় ২ দশমিক ৬ গ্লাস মদ পান করার সমতুল্য।

ফল ও শরীরের ওজনের অনুপাত

গবেষক রবার্ট ডাডলি জানান, শিম্পাঞ্জিরা প্রতিদিন তাদের শরীরের ওজনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ পরিমাণ পাকা ফল খায়। ফলে খুব কম মাত্রার অ্যালকোহল থাকলেও প্রতিদিন একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তাদের শরীরে প্রবেশ করছে।

তিনি আরও বলেন, যদি শিম্পাঞ্জিরা এলোমেলোভাবে ফল খায়, তবে এটি গড় হিসাবেই ধরা যাবে। তবে যদি তারা বিশেষভাবে বেশি চিনি বা বেশি পাকাধরা ফল বেছে নেয়, তাহলে প্রকৃত গ্রহণের হার আরও বেশি হতে পারে।

“ড্রাঙ্কেন মাংকি” তত্ত্ব

ডাডলি আগে থেকেই “ড্রাঙ্কেন মাংকি” বা মাতাল বানর তত্ত্ব তুলে ধরেছিলেন। তার মতে, মানুষসহ প্রাইমেটরা প্রাচীনকাল থেকেই পাকাধরা ও চিনি-সমৃদ্ধ ফল খুঁজে নিত, যেগুলোতে অ্যালকোহলও থাকত। তাই আজকের অ্যালকোহলপ্রবণতার শিকড় আসলে সেই প্রাচীন আচরণের মধ্যেই নিহিত।

ফলের অ্যালকোহল পরীক্ষা

উগান্ডা ও আইভরি কোস্টের ২০ প্রজাতির ফল সংগ্রহ করে পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিটি ফলে গড়ে ০.৩১ থেকে ০.৩২ শতাংশ ইথানল ছিল। শিম্পাঞ্জিরা প্রতিদিন প্রায় ৪.৫ কেজি ফল খাওয়ায় গড়ে ১৪ গ্রাম ইথানল তাদের শরীরে প্রবেশ করছে।

গবেষণায় দেখা যায়, উগান্ডার ডুমুরজাতীয় ফল এবং আইভরি কোস্টের বরইজাতীয় ফল সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয়। এ দুই ধরনের ফলেই অ্যালকোহলের মাত্রা বেশি থাকে, কারণ এগুলো সাধারণত বেশি পাকাধরা ও চিনি-সমৃদ্ধ।

শিম্পাঞ্জির মাতাল হওয়ার সম্ভাবনা

যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কিম্বারলি হকিন্স বলেন, শিম্পাঞ্জিদের মাতাল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ তারা একসঙ্গে অনেক ফল না খেয়ে দিনভর খায়। তিনি আরও জানান, ইথানল তাদের খাদ্যে বাধা নয়, তবে এটিকে আকর্ষণীয় বলে প্রমাণিত ও করা যায়নি।

বৃহত্তর প্রাণীজগতের প্রভাব

ডাডলি বলেন, শুধু প্রাইমেট নয়, অনেক ফলভোজী ও মধুভোজী প্রাণীও ইথানল গ্রহণ করে। এমনকি ইথানলের গন্ধ খাবারে বেশি চিনি আছে কি না তা বুঝতেও প্রাণীদের সাহায্য করতে পারে।

তার মতে, আধুনিক মানুষের অ্যালকোহল আকর্ষণ ও অপব্যবহার নিয়ে গবেষণায় আরও অর্থায়ন প্রয়োজন, কারণ এর একটি গভীর বিবর্তনীয় প্রেক্ষাপট থাকতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে

শিম্পাঞ্জিদের খাদ্যে অ্যালকোহলের উপস্থিতি

০৪:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, শিম্পাঞ্জিরা প্রতিদিন যে পরিমাণ পাকা ফল খায়, তার মধ্যে থাকা ইথানলের কারণে তারা গড়ে এক গ্লাস মদ্যপানের সমপরিমাণ অ্যালকোহল গ্রহণ করে।

এই আচরণ বোঝা গেলে মানুষের অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

গবেষণার প্রধান ফলাফল

গবেষণাটি “সায়েন্স অ্যাডভান্সেস” সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে শিম্পাঞ্জিদের অ্যালকোহল গ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও এবার প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইভরি কোস্ট এবং উগান্ডায় দুটি শিম্পাঞ্জি গোষ্ঠী পর্যবেক্ষণ করে এবং তাদের খাওয়া ফল পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রতিদিন তারা প্রায় ১৪ গ্রাম (০.৫ আউন্স) ইথানল গ্রহণ করে।

এটি গড়ে প্রায় ১ দশমিক ৪ গ্লাস মদের সমান। তবে শিম্পাঞ্জিদের ওজন মানুষের তুলনায় কম হওয়ায় এটি মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রায় ২ দশমিক ৬ গ্লাস মদ পান করার সমতুল্য।

ফল ও শরীরের ওজনের অনুপাত

গবেষক রবার্ট ডাডলি জানান, শিম্পাঞ্জিরা প্রতিদিন তাদের শরীরের ওজনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ পরিমাণ পাকা ফল খায়। ফলে খুব কম মাত্রার অ্যালকোহল থাকলেও প্রতিদিন একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তাদের শরীরে প্রবেশ করছে।

তিনি আরও বলেন, যদি শিম্পাঞ্জিরা এলোমেলোভাবে ফল খায়, তবে এটি গড় হিসাবেই ধরা যাবে। তবে যদি তারা বিশেষভাবে বেশি চিনি বা বেশি পাকাধরা ফল বেছে নেয়, তাহলে প্রকৃত গ্রহণের হার আরও বেশি হতে পারে।

“ড্রাঙ্কেন মাংকি” তত্ত্ব

ডাডলি আগে থেকেই “ড্রাঙ্কেন মাংকি” বা মাতাল বানর তত্ত্ব তুলে ধরেছিলেন। তার মতে, মানুষসহ প্রাইমেটরা প্রাচীনকাল থেকেই পাকাধরা ও চিনি-সমৃদ্ধ ফল খুঁজে নিত, যেগুলোতে অ্যালকোহলও থাকত। তাই আজকের অ্যালকোহলপ্রবণতার শিকড় আসলে সেই প্রাচীন আচরণের মধ্যেই নিহিত।

ফলের অ্যালকোহল পরীক্ষা

উগান্ডা ও আইভরি কোস্টের ২০ প্রজাতির ফল সংগ্রহ করে পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিটি ফলে গড়ে ০.৩১ থেকে ০.৩২ শতাংশ ইথানল ছিল। শিম্পাঞ্জিরা প্রতিদিন প্রায় ৪.৫ কেজি ফল খাওয়ায় গড়ে ১৪ গ্রাম ইথানল তাদের শরীরে প্রবেশ করছে।

গবেষণায় দেখা যায়, উগান্ডার ডুমুরজাতীয় ফল এবং আইভরি কোস্টের বরইজাতীয় ফল সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয়। এ দুই ধরনের ফলেই অ্যালকোহলের মাত্রা বেশি থাকে, কারণ এগুলো সাধারণত বেশি পাকাধরা ও চিনি-সমৃদ্ধ।

শিম্পাঞ্জির মাতাল হওয়ার সম্ভাবনা

যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কিম্বারলি হকিন্স বলেন, শিম্পাঞ্জিদের মাতাল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ তারা একসঙ্গে অনেক ফল না খেয়ে দিনভর খায়। তিনি আরও জানান, ইথানল তাদের খাদ্যে বাধা নয়, তবে এটিকে আকর্ষণীয় বলে প্রমাণিত ও করা যায়নি।

বৃহত্তর প্রাণীজগতের প্রভাব

ডাডলি বলেন, শুধু প্রাইমেট নয়, অনেক ফলভোজী ও মধুভোজী প্রাণীও ইথানল গ্রহণ করে। এমনকি ইথানলের গন্ধ খাবারে বেশি চিনি আছে কি না তা বুঝতেও প্রাণীদের সাহায্য করতে পারে।

তার মতে, আধুনিক মানুষের অ্যালকোহল আকর্ষণ ও অপব্যবহার নিয়ে গবেষণায় আরও অর্থায়ন প্রয়োজন, কারণ এর একটি গভীর বিবর্তনীয় প্রেক্ষাপট থাকতে পারে।