০৭:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জাবিতে মাদককাণ্ড: দুই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, একজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ চীনের ইভি যুদ্ধে নতুন অস্ত্র: নিজস্ব স্মার্ট-ড্রাইভিং চিপে ঝুঁকছে গাড়ি নির্মাতারা নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৬ মাস পর মুখোমুখি, জি৭ সম্মেলনে পাশাপাশি আসন জি৭ সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরও চাপের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা উপজেলায় এমপিদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’, প্রতিটি উপজেলায় বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক মুহাররমের চাঁদ দেখা যায়নি, পাকিস্তানে ২৬ জুন পালিত হবে আশুরা রয়টার্স এর প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাটে শিশু হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘর্ষ: এসপি-ওসিসহ আহত ২০, আটক প্রধান সন্দেহভাজন

আবার কাটাছেঁড়া

  • Sarakhon Report
  • ০৪:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪
  • 120

ডা. মাহবুবর রহমান

ইদানিং পত্রপত্রিকায় ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটাছেঁড়া ছাড়া , রিং বা বাইপাস অপারেশন ছাড়া হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসার বিজ্ঞাপন বেশ ঘটা করে প্রচার করা হচ্ছে। এই প্রচারণায় সাধারণ মানুষের মনে এমন একটি ধারণার সৃষ্টি হবে যেন রিং বা ওপেনহার্ট সার্জারী একটি অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর চিকিৎসা পদ্ধতি।

বিষয়টি আরো একটু খোলাসা করে বলা দরকার। চিকিৎসা বিজ্ঞান একটি নিয়ত বিবর্তনশীল বিজ্ঞান। আজকে যা সঠিক মনে হচ্ছে দশ বছর পর তা সঠিক নাও হতে পারে। যেমন একসময় খারাপ বাতাসকে ( mal +air >malaria ) ম্যালেরিয়ার কারণ ভাবা হত। বিজ্ঞানের বিবর্তনের সাথে সাথে প্রমাণিত হল যে, খারাপ বাতাস নয়, প্লাজমোডিয়াম নামক জীবাণু ম্যালেরিয়ার প্রকৃত কারণ। এক সময় কলেরা হলে কোন প্রকারের তরল খাবার নিষিদ্ধ ছিল। আজকে কলেরা বা ডায়রিয়ার মূল চিকিৎসাই হল ফ্লুয়িড বা রিপ্লেসমেন্ট চিকিৎসা। তেমনি হাজারো রকম বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের চিকিৎসা বিজ্ঞান বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে।

ধরা যাক কারো পেটে অ্যাপেনডিক্স বার্স্ট করল বা পিত্তথলির নালীতে পাথর আটকে গেল বা সড়ক দুর্ঘটনায় কারো মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ ঘটল তখন কী চিকিৎসা করবেন? কাটাছেঁড়া বাদ দিয়ে শুধু ওষুধ দিয়ে রাখবেন?

হার্টে ব্লক বা ব্লকজনিত জটিলতা মোকাবিলায় সবার আগে লাইফস্টাইল এবং ওষুধের যথাযথ প্রয়োগ অবশ্যই করতে হবে। এর সাথে দ্বিমতের কোন প্রশ্নই ওঠে না, বরং আমরা ধূমপান পরিহার করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, কম তেলযুক্ত স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করা, প্রাণীজ তেল কমিয়ে ফেলা, উদ্বেগ উত্তেজনা পরিহার করা , রাতে কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা ঘুমানো ইত্যাদি জরুরি লাইফস্টাইল প্রত্যেক রোগীকে মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে থাকি। কিন্তু সবার জন্য লাইফস্টাইল এবং ওষুধ পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপের চিকিৎসা যেমন রিং বা ওপেনহার্ট সার্জারীতে আপনাকে যেতে হবে।

বাইপাস বা অ্যানজিওপ্লাস্টি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। জীবনযাপন পদ্ধতির পরিবর্তন এবং ওষুধ এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পরেও যাদের উপসর্গ বিদ্যমান থাকে তাদের জন্য অ্যানজিওপ্লাষ্টি বা বাইপাস সার্জারী অবশ্যই একটি প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি। এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তবে কোন্ পদ্ধতি কখন কোন্ রোগীর জন্য প্রযোজ্য তা অবশ্যই গাইডলাইনের ভিত্তিতে হতে হবে। কার রিং লাগবে আর কার লাগবে না, কার বাইপাস বা ওপেন হার্ট সার্জারী লাগবে আর কার লাগবে না তার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা চিকিৎসা বিজ্ঞানে দেয়া আছে। এখন কেউ যদি অপচিকিৎসা করে সেটা মূল চিকিৎসা পদ্ধতির দোষ নয়, দোষ ঐ চিকিৎসকের। একটি চাকু দিয়ে জীবন রক্ষা করা যেমন যায় আবার তা দিয়ে মানুষকে হত্যা করাও যায়। বিষয়টি হল চাকুটি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসকের হাতে নাকি জীবনহননকারী ছিনতাইকারীর হাতে সেটাই মুখ্য বিষয়। এখানে চাকুর কোন দোষ দেয়া যায় না।

দুঃখজনক হলো এই যে, যাঁরা চিকিৎসাবিজ্ঞানী নন বা চিকিৎসার সাথে সরাসরি যুক্ত নন তাঁরাও অত্যন্ত বিজ্ঞ মতামত দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। বিভিন্ন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট লেখকবৃন্দ কাটাছেঁড়া বা রিং এর বিরুদ্ধে মতামত দিয়ে বিজ্ঞানবিরোধী ভূমিকা গ্রহণ করছেন।

আর যে বিষয়টি বিজ্ঞাপনওয়ালারা উল্লেখ করেন না তা হল হার্ট অ্যাটাকের জরুরি চিকিৎসা । Acute Heart Attack ( STEMI) হলে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব অ্যানজিওগ্রাম করে প্রয়োজনে রিং (stent) বা জরুরি বাইপাস সার্জারী করতে হবে। কেননা সেটা হল জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা। এর অন্যথা হল আত্মহত্যার সামিল।

এখন আপনি সিদ্ধান্ত নিন, প্রয়োজনে কাটাছেঁড়া করবেন নাকি বিজ্ঞাপনওয়ালাদের বাণিজ্যে প্রসার ঘটিয়ে নিজের মূল্যবান জীবন বিপন্ন করবেন।

৫ এপ্রিল, ২০২৪

Dr Mahbubor Rahman
MBBS, MD, FACC, FSCAI, FRCP Ed
Senior Consultant
Labaid Cardiac Hospital
Dhaka, Bangladesh

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

আবার কাটাছেঁড়া

০৪:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

ডা. মাহবুবর রহমান

ইদানিং পত্রপত্রিকায় ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটাছেঁড়া ছাড়া , রিং বা বাইপাস অপারেশন ছাড়া হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসার বিজ্ঞাপন বেশ ঘটা করে প্রচার করা হচ্ছে। এই প্রচারণায় সাধারণ মানুষের মনে এমন একটি ধারণার সৃষ্টি হবে যেন রিং বা ওপেনহার্ট সার্জারী একটি অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর চিকিৎসা পদ্ধতি।

বিষয়টি আরো একটু খোলাসা করে বলা দরকার। চিকিৎসা বিজ্ঞান একটি নিয়ত বিবর্তনশীল বিজ্ঞান। আজকে যা সঠিক মনে হচ্ছে দশ বছর পর তা সঠিক নাও হতে পারে। যেমন একসময় খারাপ বাতাসকে ( mal +air >malaria ) ম্যালেরিয়ার কারণ ভাবা হত। বিজ্ঞানের বিবর্তনের সাথে সাথে প্রমাণিত হল যে, খারাপ বাতাস নয়, প্লাজমোডিয়াম নামক জীবাণু ম্যালেরিয়ার প্রকৃত কারণ। এক সময় কলেরা হলে কোন প্রকারের তরল খাবার নিষিদ্ধ ছিল। আজকে কলেরা বা ডায়রিয়ার মূল চিকিৎসাই হল ফ্লুয়িড বা রিপ্লেসমেন্ট চিকিৎসা। তেমনি হাজারো রকম বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের চিকিৎসা বিজ্ঞান বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে।

ধরা যাক কারো পেটে অ্যাপেনডিক্স বার্স্ট করল বা পিত্তথলির নালীতে পাথর আটকে গেল বা সড়ক দুর্ঘটনায় কারো মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ ঘটল তখন কী চিকিৎসা করবেন? কাটাছেঁড়া বাদ দিয়ে শুধু ওষুধ দিয়ে রাখবেন?

হার্টে ব্লক বা ব্লকজনিত জটিলতা মোকাবিলায় সবার আগে লাইফস্টাইল এবং ওষুধের যথাযথ প্রয়োগ অবশ্যই করতে হবে। এর সাথে দ্বিমতের কোন প্রশ্নই ওঠে না, বরং আমরা ধূমপান পরিহার করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, কম তেলযুক্ত স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করা, প্রাণীজ তেল কমিয়ে ফেলা, উদ্বেগ উত্তেজনা পরিহার করা , রাতে কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা ঘুমানো ইত্যাদি জরুরি লাইফস্টাইল প্রত্যেক রোগীকে মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে থাকি। কিন্তু সবার জন্য লাইফস্টাইল এবং ওষুধ পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপের চিকিৎসা যেমন রিং বা ওপেনহার্ট সার্জারীতে আপনাকে যেতে হবে।

বাইপাস বা অ্যানজিওপ্লাস্টি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। জীবনযাপন পদ্ধতির পরিবর্তন এবং ওষুধ এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পরেও যাদের উপসর্গ বিদ্যমান থাকে তাদের জন্য অ্যানজিওপ্লাষ্টি বা বাইপাস সার্জারী অবশ্যই একটি প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি। এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তবে কোন্ পদ্ধতি কখন কোন্ রোগীর জন্য প্রযোজ্য তা অবশ্যই গাইডলাইনের ভিত্তিতে হতে হবে। কার রিং লাগবে আর কার লাগবে না, কার বাইপাস বা ওপেন হার্ট সার্জারী লাগবে আর কার লাগবে না তার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা চিকিৎসা বিজ্ঞানে দেয়া আছে। এখন কেউ যদি অপচিকিৎসা করে সেটা মূল চিকিৎসা পদ্ধতির দোষ নয়, দোষ ঐ চিকিৎসকের। একটি চাকু দিয়ে জীবন রক্ষা করা যেমন যায় আবার তা দিয়ে মানুষকে হত্যা করাও যায়। বিষয়টি হল চাকুটি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসকের হাতে নাকি জীবনহননকারী ছিনতাইকারীর হাতে সেটাই মুখ্য বিষয়। এখানে চাকুর কোন দোষ দেয়া যায় না।

দুঃখজনক হলো এই যে, যাঁরা চিকিৎসাবিজ্ঞানী নন বা চিকিৎসার সাথে সরাসরি যুক্ত নন তাঁরাও অত্যন্ত বিজ্ঞ মতামত দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। বিভিন্ন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট লেখকবৃন্দ কাটাছেঁড়া বা রিং এর বিরুদ্ধে মতামত দিয়ে বিজ্ঞানবিরোধী ভূমিকা গ্রহণ করছেন।

আর যে বিষয়টি বিজ্ঞাপনওয়ালারা উল্লেখ করেন না তা হল হার্ট অ্যাটাকের জরুরি চিকিৎসা । Acute Heart Attack ( STEMI) হলে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব অ্যানজিওগ্রাম করে প্রয়োজনে রিং (stent) বা জরুরি বাইপাস সার্জারী করতে হবে। কেননা সেটা হল জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা। এর অন্যথা হল আত্মহত্যার সামিল।

এখন আপনি সিদ্ধান্ত নিন, প্রয়োজনে কাটাছেঁড়া করবেন নাকি বিজ্ঞাপনওয়ালাদের বাণিজ্যে প্রসার ঘটিয়ে নিজের মূল্যবান জীবন বিপন্ন করবেন।

৫ এপ্রিল, ২০২৪

Dr Mahbubor Rahman
MBBS, MD, FACC, FSCAI, FRCP Ed
Senior Consultant
Labaid Cardiac Hospital
Dhaka, Bangladesh