১১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার পরের পরীক্ষা: নেতৃত্ব কি নির্ভরতার বদলে পারস্পরিক সমৃদ্ধি আনবে? তারেক রহমানকে ট্রাম্পের চিঠি: কিছু কথা রাজনীতির নতুন সূত্র: ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাংসের জোগান বইয়ের পাতার মতোই মুগ্ধতা ছড়ায় বিশ্বের ৭ অপূর্ব গ্রন্থাগার লুলুলেমন আনল ‘বিগ-অ্যাস ব্যাগ’, ৮০ লিটারের বিশাল টোট ব্যাগে ঢুকবে যেন পুরো সংসার শিশুদের মুখে নতুন হাসি, মিশিগানে ম্যাগির উইগস ৪ কিডস-এর ২৩তম বার্ষিক গালা নাসার রোমান টেলিস্কোপের নতুন ঠিকানার পথে তিন মাসের মহাকাশযাত্রা মাত্র ১০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ‘কিউটি পাই’ গোলাপ, ছোট বাগান সাজাতে দারুণ প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্বনির্ভর করতে অভিভাবকের যে ৬টি পদক্ষেপ জরুরি বাড়িতে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান থাকলে সম্পর্ক ভালো রাখার উপায়

আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ভাঙছে কিছু দেশ—সংস্কারের পক্ষে ভারত

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, আজকের বিশ্বে কিছু দেশ প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করছে এবং নিজেদের তৈরি শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়ে বৈশ্বিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে ভারত শান্তি, সংলাপ ও সংস্কারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।


ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং মঙ্গলবার বলেন, কিছু দেশ প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করছে এবং নিজেদের স্বার্থে বিশ্বব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। অন্যদিকে, ভারত পুরনো বৈশ্বিক কাঠামো সংস্কারের পক্ষে থেকে আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক শৃঙ্খলা রক্ষায় অটল অবস্থান নিয়েছে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী দেশগুলোর সামরিক নেতৃত্বের তিন দিনের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আজকের বিশ্বে কিছু দেশ প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করছে, কেউ বা তা দুর্বল করে দিতে চাইছে, আবার কেউ নিজেদের তৈরি নিয়ম চাপিয়ে দিয়ে আগামী শতাব্দীকে শাসন করতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে ভারত আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার সংস্কার চেয়ে এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অটলভাবে দাঁড়িয়ে আছে।”


ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

ভারত দীর্ঘদিন ধরে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে উন্মুক্ত, স্বাধীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নয়াদিল্লি সব সময়ই জোর দিয়ে বলেছে, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সংলাপের মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করা উচিত।

অন্যদিকে, চীন এই অঞ্চলে নিজের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে — বিভিন্ন দেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন, সমুদ্রসীমায় আধিপত্য বিস্তার এবং দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে কৌশলগত ছাড় দিতে বাধ্য করা-সহ নানা উপায়ে।

তবে এই সম্মেলনে চীন ও পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।


শান্তি ও অহিংসার ভারতীয় দর্শন

রাজনাথ সিং বলেন, “ভারত মহাত্মা গান্ধীর দেশ — যেখানে শান্তি আমাদের দর্শনের অন্তর্নিহিত অংশ। তাঁর কাছে শান্তি মানে শুধু যুদ্ধহীন অবস্থা নয়, এটি ন্যায়, সাম্য, এবং নৈতিক শক্তির ইতিবাচক রূপ।”

তিনি উল্লেখ করেন, আজকের জটিল বিশ্বব্যবস্থায় পুরনো বহুপাক্ষিক কাঠামো দিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কার না হলে মানুষের আস্থা টেকসই হবে না।


সংস্কার ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়

রাজনাথ সিং বলেন, “আজকের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে এমন একটি নতুন বহুপাক্ষিক কাঠামোর প্রয়োজন, যা সময়োপযোগী, সব দেশের কণ্ঠস্বরকে সম্মান করে, বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানে সক্ষম এবং মানবকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়।”

তার মতে, জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানের কাঠামোতে সার্বিক সংস্কার না আনলে তা ‘বিশ্বাসের সংকটে’ পড়বে। এজন্য ভারতের আহ্বান—বিশ্ব যেন পুরনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরে এসে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে যায়।


রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যে ভারতের অবস্থান আবারও স্পষ্ট হলো—দ্বন্দ্ব নয়, সংলাপই শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথ। আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা এবং সংস্কারের মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।


ভারত, রাজনাথ_সিং, আন্তর্জাতিক_নিয়ম, জাতিসংঘ, ইন্দো_প্যাসিফিক, চীন, বৈশ্বিক_শান্তি, বহুপাক্ষিক_সংস্কার, সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার পরের পরীক্ষা: নেতৃত্ব কি নির্ভরতার বদলে পারস্পরিক সমৃদ্ধি আনবে?

আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ভাঙছে কিছু দেশ—সংস্কারের পক্ষে ভারত

০৩:১৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, আজকের বিশ্বে কিছু দেশ প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করছে এবং নিজেদের তৈরি শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়ে বৈশ্বিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে ভারত শান্তি, সংলাপ ও সংস্কারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।


ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং মঙ্গলবার বলেন, কিছু দেশ প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করছে এবং নিজেদের স্বার্থে বিশ্বব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। অন্যদিকে, ভারত পুরনো বৈশ্বিক কাঠামো সংস্কারের পক্ষে থেকে আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক শৃঙ্খলা রক্ষায় অটল অবস্থান নিয়েছে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী দেশগুলোর সামরিক নেতৃত্বের তিন দিনের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আজকের বিশ্বে কিছু দেশ প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করছে, কেউ বা তা দুর্বল করে দিতে চাইছে, আবার কেউ নিজেদের তৈরি নিয়ম চাপিয়ে দিয়ে আগামী শতাব্দীকে শাসন করতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে ভারত আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার সংস্কার চেয়ে এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অটলভাবে দাঁড়িয়ে আছে।”


ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

ভারত দীর্ঘদিন ধরে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে উন্মুক্ত, স্বাধীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নয়াদিল্লি সব সময়ই জোর দিয়ে বলেছে, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সংলাপের মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করা উচিত।

অন্যদিকে, চীন এই অঞ্চলে নিজের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে — বিভিন্ন দেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন, সমুদ্রসীমায় আধিপত্য বিস্তার এবং দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে কৌশলগত ছাড় দিতে বাধ্য করা-সহ নানা উপায়ে।

তবে এই সম্মেলনে চীন ও পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।


শান্তি ও অহিংসার ভারতীয় দর্শন

রাজনাথ সিং বলেন, “ভারত মহাত্মা গান্ধীর দেশ — যেখানে শান্তি আমাদের দর্শনের অন্তর্নিহিত অংশ। তাঁর কাছে শান্তি মানে শুধু যুদ্ধহীন অবস্থা নয়, এটি ন্যায়, সাম্য, এবং নৈতিক শক্তির ইতিবাচক রূপ।”

তিনি উল্লেখ করেন, আজকের জটিল বিশ্বব্যবস্থায় পুরনো বহুপাক্ষিক কাঠামো দিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কার না হলে মানুষের আস্থা টেকসই হবে না।


সংস্কার ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়

রাজনাথ সিং বলেন, “আজকের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে এমন একটি নতুন বহুপাক্ষিক কাঠামোর প্রয়োজন, যা সময়োপযোগী, সব দেশের কণ্ঠস্বরকে সম্মান করে, বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানে সক্ষম এবং মানবকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়।”

তার মতে, জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানের কাঠামোতে সার্বিক সংস্কার না আনলে তা ‘বিশ্বাসের সংকটে’ পড়বে। এজন্য ভারতের আহ্বান—বিশ্ব যেন পুরনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরে এসে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে যায়।


রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যে ভারতের অবস্থান আবারও স্পষ্ট হলো—দ্বন্দ্ব নয়, সংলাপই শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথ। আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা এবং সংস্কারের মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।


ভারত, রাজনাথ_সিং, আন্তর্জাতিক_নিয়ম, জাতিসংঘ, ইন্দো_প্যাসিফিক, চীন, বৈশ্বিক_শান্তি, বহুপাক্ষিক_সংস্কার, সারাক্ষণ_রিপোর্ট