০২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রামাদানের খাদ্যসামগ্রী বিক্রিতে দেশের জুড়ে মোবাইল ট্রাক কার্যক্রম শুরু করবে টি সি বি পিকেএসএফ যুবদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত গড়ে তুলছে বিরাট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা “ডেটা সিটি” বিশাখাপত্তনামে, বিশ্ব ডিজিটাল প্রতিযোগিতায় বড় পালা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘অস্ত্র’ বানাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা, সিঙ্গাপুরে ইন্টারপোলের গোপন যুদ্ধকক্ষ থেকে বিশ্বজুড়ে পাল্টা লড়াই যুক্তরাষ্ট্র–জাপান সম্পর্ক আরও জোরদার, চীনের চাপের মুখে কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা অভিনেত্রীর ‘ওপেন টু ওয়ার্ক’ পোস্টে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, সামনে এলো তরুণ বেকারত্বের কঠিন বাস্তবতা বিশ্বকাপ সম্প্রচার অধিকারের ব্যয় উদ্বেগ: ২০২৬ সংস্করণে নতুন চমক রেকর্ড নিচে এডিপি বাস্তবায়ন: অর্থনীতি ও উন্নয়নে সঙ্কটের সংকেত টিকা না নিয়েও সিঙ্গাপুরে রুবেলা ছড়ানোর ভয় কম বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: আক্রান্ত শিশুদের জন্য উদ্বিগ্ন মাত্র ওবামা এলিয়েনের অস্তিত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের অভিযোগ—চীনের প্রধান বাণিজ্য আলোচক ‘অশ্রদ্ধাশীল ও ভারসাম্যহীন’

দুর্লভ খনিজ আমদানিতে মার্কিন সীমাবদ্ধতা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট প্রকাশ্যে চীনের শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক লি চেংগ্যাংকে ‘অশ্রদ্ধাশীল’ ও ‘অস্থিতিশীল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।


আলোচনার প্রেক্ষাপট ও ঘটনার বিবরণ

লি চেংগ্যাং বর্তমানে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন এবং এর আগে একাধিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন।
বেসেন্ট বুধবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেন, “উভয় পক্ষই তাকে যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছিল, কিন্তু তিনি সে আচরণের প্রতিদান দেননি।”

বেসেন্টের মতে, আগস্টে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় লি সতর্ক করে বলেছিলেন—যদি যুক্তরাষ্ট্র চীনা জাহাজগুলোর ওপর ‘বন্দর প্রবেশ ফি’ আরোপ করে, তাহলে “চীন বিশ্বব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেবে।”


‘অস্থিতিশীল’ মন্তব্য ও প্রকাশ্য সমালোচনা

ওই দিনই এক সিএনবিসি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেসেন্ট বলেন, লি যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়েছেন এবং তাকে তিনি “সামান্য ভারসাম্যহীন” বলে বর্ণনা করেন।
অন্য দেশের কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে এমন প্রকাশ্য সমালোচনার ঘটনা খুবই বিরল। বেসেন্টের মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতিগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে।

বেসেন্ট বলেন, “যদি চীন নিজেকে বিশ্বের কাছে অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে প্রমাণ করে, তবে বিশ্বকে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথাও ভাবতে হবে।”

কে এই লি চেংগ্যাং?

লি চেংগ্যাং চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ বাণিজ্য আলোচক। তিনি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক সংলাপে চীনের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছেন।
চীনা সরকারের অভ্যন্তরে লি-কে ‘বাণিজ্যবিষয়ক আইন ও কৌশলের অন্যতম বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার দৃঢ় ও অনমনীয় আলোচনার ধরন তাকে অনেকের চোখে ‘হকিশ’ বা কঠোর অবস্থান-গ্রহণকারী আলোচক হিসেবে পরিচিত করেছে।


‘উলফ ওয়ারিয়র’ কূটনীতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

চীনের পররাষ্ট্রনীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘উলফ ওয়ারিয়র কূটনীতি’ নামে পরিচিত হয়েছে, যেখানে বিদেশি চাপের মুখে বেইজিং প্রায়ই অতিরিক্ত কঠোর ও প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থান নেয়।
বেসেন্ট মন্তব্য করেন, ‘হয়তো তিনি নিজেকে সেই “উলফ ওয়ারিয়র” দলের একজন ভাবছেন। আমরা নিশ্চিত নই।’


 ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাসের সংকেত

বেসেন্টের বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত সমালোচনা নয়, বরং এটি দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্র চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্লভ খনিজের সরবরাহ সীমিতকরণকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বেইজিং মনে করছে, ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞাগুলো তাদের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে।

এই মন্তব্যের পর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক আবারও এক নতুন টানাপোড়েনের পথে এগোচ্ছে।


# যুক্তরাষ্ট্র-চীন_সম্পর্ক, বাণিজ্য_সংঘাত, স্কট_বেসেন্ট, লি_চেংগ্যাং, রেয়ার_আর্থ, বৈশ্বিক_অর্থনীতি, কূটনীতি

জনপ্রিয় সংবাদ

রামাদানের খাদ্যসামগ্রী বিক্রিতে দেশের জুড়ে মোবাইল ট্রাক কার্যক্রম শুরু করবে টি সি বি

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের অভিযোগ—চীনের প্রধান বাণিজ্য আলোচক ‘অশ্রদ্ধাশীল ও ভারসাম্যহীন’

০৭:০৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

দুর্লভ খনিজ আমদানিতে মার্কিন সীমাবদ্ধতা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট প্রকাশ্যে চীনের শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক লি চেংগ্যাংকে ‘অশ্রদ্ধাশীল’ ও ‘অস্থিতিশীল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।


আলোচনার প্রেক্ষাপট ও ঘটনার বিবরণ

লি চেংগ্যাং বর্তমানে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন এবং এর আগে একাধিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন।
বেসেন্ট বুধবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেন, “উভয় পক্ষই তাকে যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছিল, কিন্তু তিনি সে আচরণের প্রতিদান দেননি।”

বেসেন্টের মতে, আগস্টে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় লি সতর্ক করে বলেছিলেন—যদি যুক্তরাষ্ট্র চীনা জাহাজগুলোর ওপর ‘বন্দর প্রবেশ ফি’ আরোপ করে, তাহলে “চীন বিশ্বব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেবে।”


‘অস্থিতিশীল’ মন্তব্য ও প্রকাশ্য সমালোচনা

ওই দিনই এক সিএনবিসি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেসেন্ট বলেন, লি যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়েছেন এবং তাকে তিনি “সামান্য ভারসাম্যহীন” বলে বর্ণনা করেন।
অন্য দেশের কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে এমন প্রকাশ্য সমালোচনার ঘটনা খুবই বিরল। বেসেন্টের মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতিগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে।

বেসেন্ট বলেন, “যদি চীন নিজেকে বিশ্বের কাছে অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে প্রমাণ করে, তবে বিশ্বকে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথাও ভাবতে হবে।”

কে এই লি চেংগ্যাং?

লি চেংগ্যাং চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ বাণিজ্য আলোচক। তিনি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক সংলাপে চীনের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছেন।
চীনা সরকারের অভ্যন্তরে লি-কে ‘বাণিজ্যবিষয়ক আইন ও কৌশলের অন্যতম বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার দৃঢ় ও অনমনীয় আলোচনার ধরন তাকে অনেকের চোখে ‘হকিশ’ বা কঠোর অবস্থান-গ্রহণকারী আলোচক হিসেবে পরিচিত করেছে।


‘উলফ ওয়ারিয়র’ কূটনীতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

চীনের পররাষ্ট্রনীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘উলফ ওয়ারিয়র কূটনীতি’ নামে পরিচিত হয়েছে, যেখানে বিদেশি চাপের মুখে বেইজিং প্রায়ই অতিরিক্ত কঠোর ও প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থান নেয়।
বেসেন্ট মন্তব্য করেন, ‘হয়তো তিনি নিজেকে সেই “উলফ ওয়ারিয়র” দলের একজন ভাবছেন। আমরা নিশ্চিত নই।’


 ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাসের সংকেত

বেসেন্টের বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত সমালোচনা নয়, বরং এটি দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্র চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্লভ খনিজের সরবরাহ সীমিতকরণকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বেইজিং মনে করছে, ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞাগুলো তাদের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে।

এই মন্তব্যের পর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক আবারও এক নতুন টানাপোড়েনের পথে এগোচ্ছে।


# যুক্তরাষ্ট্র-চীন_সম্পর্ক, বাণিজ্য_সংঘাত, স্কট_বেসেন্ট, লি_চেংগ্যাং, রেয়ার_আর্থ, বৈশ্বিক_অর্থনীতি, কূটনীতি