০৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
চীনের রাষ্ট্র-সমর্থিত থ্রিলার কি অজানা গুপ্তচরবৃত্তি কেসের তথ্য উন্মোচন করবে? মার্কিন ডলারের প্রতি আস্থা কমলে বিশ্ব অর্থনীতি ঝুঁকিতে, সতর্ক করলেন আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা চিপ নয়, এখন লড়াই তাপ নিয়ন্ত্রণে: এআই ডেটা সেন্টারের তাপ চ্যালেঞ্জে চীনের নতুন কৌশল রমজানে বয়কটের হুমকি, তবু ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা পবিত্র মাসে মুসলমানদের ইবাদত, সংযম ও সামষ্টিক জীবনের রূপ কুষ্টিয়ার চার আসনে জামায়াতের তিনটিতে জয়, ১৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত জাকার্তা: বিপদ আর সম্ভাবনার শহর মালয়েশিয়ার ই-আবর্জনা নিষেধাজ্ঞা: কি বিশ্বব্যাপী টক্সিক বর্জ্য প্রবাহ বন্ধ করতে পারবে? এবার কারাগারে মারা গেলো গাইবান্দা আওয়ামী লীগ সভাপতি অক্সিজেন ফিরে এসেছে বিশ্ব ক্রিকেটে পাকিস্তান ও ভারতের মহাযুদ্ধ সামনে

খুলনার বাজারে ফিরেছে ইলিশ, দাম আরো বেশি

নিষেধাজ্ঞা শেষে বাজারে ইলিশের প্রত্যাবর্তন

২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর খুলনার বাজারগুলোতে আবারও ফিরেছে ইলিশ। তবে সরবরাহ এখনো সীমিত, ফলে দামও রয়েছে তুলনামূলক বেশি।

মা ইলিশ রক্ষা ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকারের আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা ২৫ অক্টোবর শেষ হয়। এর পর থেকেই জেলেরা আবার নদীতে নেমেছেন, আর ধীরে ধীরে খুলনার বাজারগুলোতে সীমিত পরিসরে ইলিশ আসা শুরু হয়েছে।

খুলনার বিভিন্ন বাজারে সীমিত সরবরাহ

রবিবার থেকে রূপসা, ময়লাপোতা, নিরালা, নিউ মার্কেট, খালিশপুর চিত্রালী, দৌলতপুর, ফুলবাড়িগেট, শিরোমনি ও ফুলতলা এলাকার পাইকারি বাজারগুলোতে অল্প পরিমাণ ইলিশ বিক্রি শুরু হয়।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩,০০০ থেকে ৩,২০০ টাকায়। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশের দাম ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে। ছোট আকারের ইলিশ, যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘জাকটা’ নামে পরিচিত, সেগুলোর দাম কেজিপ্রতি ৯০০ থেকে ১,০০০ টাকা।

খুলনায় ইলিশের বাজারে কিছুটা স্বস্তি

দাম বেশি, ক্রেতা কম

নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দিনেই ক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। দাম বেশি ও সরবরাহ সীমিত হওয়ায় ক্রেতারা অনেকেই কিনতে দ্বিধাগ্রস্ত। তবে বিক্রেতাদের আশা, কয়েক দিনের মধ্যে মাছ ধরা বেড়ে গেলে দামও ধীরে ধীরে কমে আসবে।

রূপসা বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, “জেলেরা তো ২৫ অক্টোবর থেকে নদীতে নামতে পেরেছেন। এখন মাছ ধরা শুরু হয়েছে, আরও কিছুদিনের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে।”

জেলেদের দুঃসময় ও নতুন আশার গল্প

নিষেধাজ্ঞার সময়কালে জেলেদের জন্য সময়টা ছিল কঠিন। খুলনার স্থানীয় জেলে হামিদুর রহমান জানান, “এক মাস কাজ বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন আমরা আবার নদীতে নামছি, আশা করছি ভালো মাছ ধরতে পারব।”

District Fisheries Office Khulna | Khulna

প্রশাসনের তদারকি ও ভবিষ্যৎ আশাবাদ

খুলনা বিভাগের মৎস্য বিভাগের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণের এই মৌসুমে চারটি জেলায় কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বছর ইলিশ উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বেশি হবে।

সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধরনের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের ফলে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সুরক্ষিত থাকায় আগামী মৌসুমে আরও বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও খুলনার বাজারে এখনো ইলিশের সরবরাহ সীমিত। দাম বেশি হলেও ধীরে ধীরে বাজারে ইলিশের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন বিক্রেতা ও জেলেরা। টেকসই মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারের এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

#ইলিশ #খুলনা #মৎস্যনিষেধাজ্ঞা #বাংলাদেশ #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের রাষ্ট্র-সমর্থিত থ্রিলার কি অজানা গুপ্তচরবৃত্তি কেসের তথ্য উন্মোচন করবে?

খুলনার বাজারে ফিরেছে ইলিশ, দাম আরো বেশি

০১:৪৪:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

নিষেধাজ্ঞা শেষে বাজারে ইলিশের প্রত্যাবর্তন

২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর খুলনার বাজারগুলোতে আবারও ফিরেছে ইলিশ। তবে সরবরাহ এখনো সীমিত, ফলে দামও রয়েছে তুলনামূলক বেশি।

মা ইলিশ রক্ষা ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকারের আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা ২৫ অক্টোবর শেষ হয়। এর পর থেকেই জেলেরা আবার নদীতে নেমেছেন, আর ধীরে ধীরে খুলনার বাজারগুলোতে সীমিত পরিসরে ইলিশ আসা শুরু হয়েছে।

খুলনার বিভিন্ন বাজারে সীমিত সরবরাহ

রবিবার থেকে রূপসা, ময়লাপোতা, নিরালা, নিউ মার্কেট, খালিশপুর চিত্রালী, দৌলতপুর, ফুলবাড়িগেট, শিরোমনি ও ফুলতলা এলাকার পাইকারি বাজারগুলোতে অল্প পরিমাণ ইলিশ বিক্রি শুরু হয়।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩,০০০ থেকে ৩,২০০ টাকায়। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশের দাম ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে। ছোট আকারের ইলিশ, যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘জাকটা’ নামে পরিচিত, সেগুলোর দাম কেজিপ্রতি ৯০০ থেকে ১,০০০ টাকা।

খুলনায় ইলিশের বাজারে কিছুটা স্বস্তি

দাম বেশি, ক্রেতা কম

নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দিনেই ক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। দাম বেশি ও সরবরাহ সীমিত হওয়ায় ক্রেতারা অনেকেই কিনতে দ্বিধাগ্রস্ত। তবে বিক্রেতাদের আশা, কয়েক দিনের মধ্যে মাছ ধরা বেড়ে গেলে দামও ধীরে ধীরে কমে আসবে।

রূপসা বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, “জেলেরা তো ২৫ অক্টোবর থেকে নদীতে নামতে পেরেছেন। এখন মাছ ধরা শুরু হয়েছে, আরও কিছুদিনের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে।”

জেলেদের দুঃসময় ও নতুন আশার গল্প

নিষেধাজ্ঞার সময়কালে জেলেদের জন্য সময়টা ছিল কঠিন। খুলনার স্থানীয় জেলে হামিদুর রহমান জানান, “এক মাস কাজ বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন আমরা আবার নদীতে নামছি, আশা করছি ভালো মাছ ধরতে পারব।”

District Fisheries Office Khulna | Khulna

প্রশাসনের তদারকি ও ভবিষ্যৎ আশাবাদ

খুলনা বিভাগের মৎস্য বিভাগের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণের এই মৌসুমে চারটি জেলায় কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বছর ইলিশ উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বেশি হবে।

সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধরনের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের ফলে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সুরক্ষিত থাকায় আগামী মৌসুমে আরও বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও খুলনার বাজারে এখনো ইলিশের সরবরাহ সীমিত। দাম বেশি হলেও ধীরে ধীরে বাজারে ইলিশের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন বিক্রেতা ও জেলেরা। টেকসই মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারের এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

#ইলিশ #খুলনা #মৎস্যনিষেধাজ্ঞা #বাংলাদেশ #সারাক্ষণরিপোর্ট