১১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
ভাইরাল খাবারের নেশা: এক বাটি হিমায়িত দইয়ের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা কেন? মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীচিত্র ঘিরে বিশ্বজুড়ে আবেগের ঢেউ, ভক্তদের মধ্যে ফিরেছে পুরোনো শোক অভিশপ্ত সাপ ঢাকার নির্দিষ্ট সড়কে আসছে ‘যানজট শুল্ক’, কিলোমিটারপ্রতি প্রস্তাব ৬.২৭ টাকা চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে গুলি: পাঁচলাইশে যুবক নিহত, তদন্তে নেমেছে পুলিশ আপনার অতীতই কি বার্ধক্যে চোখ ভিজিয়ে দেয়? স্মৃতি, আবেগ আর জীবনের শেষ অধ্যায়ের নীরব ভাষা ১৭ দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উধাও ৩ যুবক, তাদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা রেমিট্যান্সে ছন্দপতন, জুনে আট মাসের সর্বনিম্ন প্রবাসী আয় বিজয়ের ভক্তের হাতে ‘অপহরণের’ অভিজ্ঞতা জানালেন ছেলে জেসন সঞ্জয় জাপানের বার্ধক্যই বিদেশি স্টার্টআপের নতুন সুযোগ, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিতে বাড়ছে আগ্রহ

৯০ বছরের পুরানো জ্যাজ রেকর্ডের রাজত্ব

নিউ ইয়র্কের একটি ছোট ক্লাবে, ৭৮ আরপিএম ডিস্কে বাজানো জ্যাজ সুরে মগ্ন দর্শকরা। এখানে সুরগুলো জীবন্ত হয়ে উঠে পুরানো সময়ের সাথে একটি সম্পর্ক তৈরি করে।

হট ক্লাব অফ নিউ ইয়র্ক
নিউ ইয়র্কের ফ্ল্যাটাইরন জেলার হট ক্লাব অফ নিউ ইয়র্কে ৩০টি সিটের একটি ছোট লিসেনিং রুম রয়েছে। এখানে ৭৮ আরপিএম ডিস্কে বাজানো সুরগুলোর মাঝে জীবন্ত একটি ইতিহাস বয়ে যায়। সেখানকার ডেকোরেশন এবং সিস্টেম এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন এটি একটি ১৯২০-এর দশকের স্পিকইজি বা জ্যাজ যুগের নিউ অরলিন্স বর্ডেলোর মতো মনে হয়।

৭৮ আরপিএম রেকর্ডের জাদু
হট ক্লাবের মালিক ম্যাথিউ রিভেরা, যিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের WKCR-এর ডি.জে. এবং জ্যাজের পরামর্শদাতা ফিল শ্যাপের শিষ্য, রেকর্ডগুলো শেয়ার করতে গিয়ে বলেন, “৭৮ আরপিএম রেকর্ডে এমন শক্তি, অনুভূতি এবং উপস্থিতি আছে যা আপনি সত্যিই অনুভব করতে পারেন।” ৭৮ ডিস্কের শব্দ সীমিত হলেও, এগুলোর সুর সরাসরি লাইভ পারফরমেন্সের মতো তাজা এবং গতিশীল।

জ্যাজের সোনালী যুগ
হট ক্লাবে বিশেষভাবে ১৯১০ থেকে ১৯৫০ দশকের জ্যাজ বাজানো হয়। কিছু পুরানো রেকর্ড যেমন ১৯৩৩ সালের “কিং পোর্টার স্টম্প” এবং ১৯৩৭ সালের “আই’ম ফুলিং মাইসেলফ” বাজানো হয়। এসব রেকর্ড অজস্র শিল্পীকে শোনানোর মাধ্যমে পুরানো জ্যাজের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত হয়।

৭৮ আরপিএম ডিস্কের ইতিহাস
৭৮ আরপিএম ডিস্ক ২০ শতকের প্রথমার্ধে সঙ্গীত বিতরণের প্রধান মাধ্যম ছিল। বিটলসের মতো ব্যান্ডও ৭৮ ডিস্কে রেকর্ডিং করেছে। এই রেকর্ডগুলো ছিল শেলাক দ্বারা তৈরি এবং একসময় এটি ছিল আমেরিকায় রেকর্ডেড সঙ্গীত কেনার প্রধান উপায়।

হট ক্লাবের সংগ্রহ
হট ক্লাবে প্রায় ১০,০০০ ডিস্ক রয়েছে। এই ডিস্কগুলো প্রাপ্ত হয়েছে ২০,০০০ ডিস্কের দানের মাধ্যমে, যার মধ্যে কিছু খুবই বিরল এবং মূল্যবান রেকর্ডও রয়েছে। বিশেষ রেকর্ডগুলো নিরাপদ স্থানে রাখা হয়, যেমন “মি অ্যান্ড দ্য ডেভিল ব্লুজ” রবার্ট জনসন দ্বারা।

ক্লাবের অরিজিন এবং সংস্কৃতি
হট ক্লাবটি মেলিসা জোন্সের পরিবারের মালিকানায়। জোন্স একজন জ্যাজ পণ্ডিত ছিলেন যিনি ২০২১ সালে মারা যান। এই ক্লাবটি একটি নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠান এবং এটি শুধুমাত্র শেলাক ৭৮ ডিস্ক বাজায়। ২০১৫ সালে এই হট ক্লাবের আদি সভা শুরু হয়েছিল মেলিসার বাড়িতে, যেখানে ফিল শ্যাপ এবং অন্য শিষ্যরা একসাথে জ্যাজ বাজানো শুরু করেছিলেন।

ক্লাবের অভিজ্ঞতা
এই ক্লাবে আসা দর্শকরা সঙ্গীতের প্রতি এক গভীর সংযোগ অনুভব করেন। “এই রেকর্ডগুলো শুনলে যেন পুরানো সময়ে ফিরে যাওয়া হয়,” বলেন ক্লাবের একজন সদস্য কুইন ম্যাকররি। সদস্যদের জন্য এখানে “জ্যাজ ১০১” কোর্সও রয়েছে, যেখানে ৭৮ আরপিএম ডিস্কের ইতিহাস শিখানো হয়।

হট ক্লাব অফ নিউ ইয়র্ক শুধুমাত্র একটি সঙ্গীত ক্লাব নয়, এটি একটি কাল্পনিক অভিজ্ঞতা যেখানে পুরানো জ্যাজ সুরগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। ম্যাথিউ রিভেরা বলেন, “আমরা সবার জন্য একটি সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চেয়েছি, এবং আমি খুশি যে দর্শকরা সেই অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।”

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাইরাল খাবারের নেশা: এক বাটি হিমায়িত দইয়ের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা কেন?

৯০ বছরের পুরানো জ্যাজ রেকর্ডের রাজত্ব

০১:২২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

নিউ ইয়র্কের একটি ছোট ক্লাবে, ৭৮ আরপিএম ডিস্কে বাজানো জ্যাজ সুরে মগ্ন দর্শকরা। এখানে সুরগুলো জীবন্ত হয়ে উঠে পুরানো সময়ের সাথে একটি সম্পর্ক তৈরি করে।

হট ক্লাব অফ নিউ ইয়র্ক
নিউ ইয়র্কের ফ্ল্যাটাইরন জেলার হট ক্লাব অফ নিউ ইয়র্কে ৩০টি সিটের একটি ছোট লিসেনিং রুম রয়েছে। এখানে ৭৮ আরপিএম ডিস্কে বাজানো সুরগুলোর মাঝে জীবন্ত একটি ইতিহাস বয়ে যায়। সেখানকার ডেকোরেশন এবং সিস্টেম এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন এটি একটি ১৯২০-এর দশকের স্পিকইজি বা জ্যাজ যুগের নিউ অরলিন্স বর্ডেলোর মতো মনে হয়।

৭৮ আরপিএম রেকর্ডের জাদু
হট ক্লাবের মালিক ম্যাথিউ রিভেরা, যিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের WKCR-এর ডি.জে. এবং জ্যাজের পরামর্শদাতা ফিল শ্যাপের শিষ্য, রেকর্ডগুলো শেয়ার করতে গিয়ে বলেন, “৭৮ আরপিএম রেকর্ডে এমন শক্তি, অনুভূতি এবং উপস্থিতি আছে যা আপনি সত্যিই অনুভব করতে পারেন।” ৭৮ ডিস্কের শব্দ সীমিত হলেও, এগুলোর সুর সরাসরি লাইভ পারফরমেন্সের মতো তাজা এবং গতিশীল।

জ্যাজের সোনালী যুগ
হট ক্লাবে বিশেষভাবে ১৯১০ থেকে ১৯৫০ দশকের জ্যাজ বাজানো হয়। কিছু পুরানো রেকর্ড যেমন ১৯৩৩ সালের “কিং পোর্টার স্টম্প” এবং ১৯৩৭ সালের “আই’ম ফুলিং মাইসেলফ” বাজানো হয়। এসব রেকর্ড অজস্র শিল্পীকে শোনানোর মাধ্যমে পুরানো জ্যাজের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত হয়।

৭৮ আরপিএম ডিস্কের ইতিহাস
৭৮ আরপিএম ডিস্ক ২০ শতকের প্রথমার্ধে সঙ্গীত বিতরণের প্রধান মাধ্যম ছিল। বিটলসের মতো ব্যান্ডও ৭৮ ডিস্কে রেকর্ডিং করেছে। এই রেকর্ডগুলো ছিল শেলাক দ্বারা তৈরি এবং একসময় এটি ছিল আমেরিকায় রেকর্ডেড সঙ্গীত কেনার প্রধান উপায়।

হট ক্লাবের সংগ্রহ
হট ক্লাবে প্রায় ১০,০০০ ডিস্ক রয়েছে। এই ডিস্কগুলো প্রাপ্ত হয়েছে ২০,০০০ ডিস্কের দানের মাধ্যমে, যার মধ্যে কিছু খুবই বিরল এবং মূল্যবান রেকর্ডও রয়েছে। বিশেষ রেকর্ডগুলো নিরাপদ স্থানে রাখা হয়, যেমন “মি অ্যান্ড দ্য ডেভিল ব্লুজ” রবার্ট জনসন দ্বারা।

ক্লাবের অরিজিন এবং সংস্কৃতি
হট ক্লাবটি মেলিসা জোন্সের পরিবারের মালিকানায়। জোন্স একজন জ্যাজ পণ্ডিত ছিলেন যিনি ২০২১ সালে মারা যান। এই ক্লাবটি একটি নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠান এবং এটি শুধুমাত্র শেলাক ৭৮ ডিস্ক বাজায়। ২০১৫ সালে এই হট ক্লাবের আদি সভা শুরু হয়েছিল মেলিসার বাড়িতে, যেখানে ফিল শ্যাপ এবং অন্য শিষ্যরা একসাথে জ্যাজ বাজানো শুরু করেছিলেন।

ক্লাবের অভিজ্ঞতা
এই ক্লাবে আসা দর্শকরা সঙ্গীতের প্রতি এক গভীর সংযোগ অনুভব করেন। “এই রেকর্ডগুলো শুনলে যেন পুরানো সময়ে ফিরে যাওয়া হয়,” বলেন ক্লাবের একজন সদস্য কুইন ম্যাকররি। সদস্যদের জন্য এখানে “জ্যাজ ১০১” কোর্সও রয়েছে, যেখানে ৭৮ আরপিএম ডিস্কের ইতিহাস শিখানো হয়।

হট ক্লাব অফ নিউ ইয়র্ক শুধুমাত্র একটি সঙ্গীত ক্লাব নয়, এটি একটি কাল্পনিক অভিজ্ঞতা যেখানে পুরানো জ্যাজ সুরগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। ম্যাথিউ রিভেরা বলেন, “আমরা সবার জন্য একটি সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চেয়েছি, এবং আমি খুশি যে দর্শকরা সেই অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।”