১২:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
ক্ষমতার ভারসাম্য যখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করে এআই চিপের চাহিদায় স্যামসাংয়ের দিকে ঝুঁকছে গুগল, বিওয়াইডি ও এএমডি জি-৭-এর প্রশংসার পরও ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, চুক্তি বাস্তবায়নে অসন্তুষ্ট হলে ফের হামলার ইঙ্গিত ইন্দোনেশিয়ায় রুপিয়ার দরপতনে ওষুধের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে গৃহকর্মী নির্যাতন, থানা হেফাজতে পুলিশ দম্পতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ভূরাজনীতি এবং ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পরীক্ষা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে ১.৭ গুণ বেশি বন্দি, রয়েছে ৭৭ হাজার ৪০ জন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানালেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ভারতের বিএসএফ ২,৩৬৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মসজিদের জন্য মাইক কিনতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের সিন্ধু পানি চুক্তি: আইনের শাসন নাকি উজানের একতরফা ক্ষমতা?

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৪)

দেবযানী যেটি পরিষ্কার করেননি, তাহলো, ঢাকায় কি তাহলে একটি অ্যাসাইলাম বা পাগলা গারদ ছিল?

১৮০৫ সালে ঢাকায় একটি পাগলা গারদ গড়ে ভোলার প্রস্তাব করা হয়। পরিকল্পনাটি ছিল ৬ ফুট × ৬ ফুট সেল হবে, চত্বরটি হবে ৬ ফুট × ৪ ফুট খাড়া চাল থাকবে ওপরে (ছবি: ১]। ২৪ পরগণার সিভিল সার্জন এতে আপত্তি জানিয়ে বললেন, এইটুকু গারদে রুগী রাখা ঠিক হবে না। তিনি নতুন একটা নকশা দিলেন। সেলের সংখ্যা হবে সাত, আয়তন হবে ১০ ফুট × ৭ ফুট। সঙ্গে থাকবে বারান্দা, ১০ ফুট × ৭ ফুটের আরো ১৪টি সেল হবে সমান্তরালে।

খড়ে যেহেতু যেকোনো সময় আগুন লাগতে পারে তাই তিনি কনক্রিটের ছাদের প্রস্তাব করেন। ভবিষ্যতে যাতে দোতলা করা যায় সেজন্য দেয়ালগুলি ২ ফুট পুরু করার প্রস্তাব দেন। প্রতিটি সেলে ৬ ফুট × ৩ ফুটের লোহার দরজা থাকবে শীত মোকাবেলার জন্য। শুধু তাই নয় পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড।

১৮১৯ সালে ঢাকা লুনাটিক অ্যাসাইলামের প্রস্তাবিত ছবি: ২

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ১৮১৯ সালে অ্যাসাইলামের এক্সটেনশন বা বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব আসে, দেবযানী যেটি পরিষ্কার করেননি, তাহলো, ঢাকায় কি তাহলে একটি অ্যাসাইলাম বা পাগলা গারদ ছিল? নাকি ১৮০৫ সালের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছিল? সুতরাং ধোঁয়াশা থেকে যায়। অনুমান করে নিতে পারি, পুরনো মুঘল দুর্গটিকে উনিশ শতকের শুরুতে ছেলে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেটি ধরে নিতে পারি ১৮১০-এর আগে। এর সঙ্গে একটি হাসপাতালও – ছিল।

খুব সম্ভব হাসপাতাল সংলগ্ন অস্থায়ী কোনো – সেল ছিল পাগলা গারদ হিসেবে। ধরে নিতে পারি ১৮০০ থেকে ১৮০৫ সালে সরকারি উদ্যোগে অ্যাসাইলাম গড়ে উঠেছিল নয়ত সরকারি উদ্যোগে – অ্যাসাইলামের প্রস্তাব আসবে কেন? আর ১৮০৫ থেকে ১৮১৯ এর মধ্যে কোনো অ্যাসাইলাম না থাকলে তার বিস্তার ঘটানোর কথা উঠবে কেন?

যেমন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আথার কে তাঁর রিপোর্টে লিখেছেন ১৮১৮ সালে পাগলা গারদে ছিল ৫টি বড় ওয়ার্ড, ৭টি সেল এবং ৩২টি নির্জন সেল।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৩)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৩)

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতার ভারসাম্য যখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করে

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৪)

০৯:০০:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

দেবযানী যেটি পরিষ্কার করেননি, তাহলো, ঢাকায় কি তাহলে একটি অ্যাসাইলাম বা পাগলা গারদ ছিল?

১৮০৫ সালে ঢাকায় একটি পাগলা গারদ গড়ে ভোলার প্রস্তাব করা হয়। পরিকল্পনাটি ছিল ৬ ফুট × ৬ ফুট সেল হবে, চত্বরটি হবে ৬ ফুট × ৪ ফুট খাড়া চাল থাকবে ওপরে (ছবি: ১]। ২৪ পরগণার সিভিল সার্জন এতে আপত্তি জানিয়ে বললেন, এইটুকু গারদে রুগী রাখা ঠিক হবে না। তিনি নতুন একটা নকশা দিলেন। সেলের সংখ্যা হবে সাত, আয়তন হবে ১০ ফুট × ৭ ফুট। সঙ্গে থাকবে বারান্দা, ১০ ফুট × ৭ ফুটের আরো ১৪টি সেল হবে সমান্তরালে।

খড়ে যেহেতু যেকোনো সময় আগুন লাগতে পারে তাই তিনি কনক্রিটের ছাদের প্রস্তাব করেন। ভবিষ্যতে যাতে দোতলা করা যায় সেজন্য দেয়ালগুলি ২ ফুট পুরু করার প্রস্তাব দেন। প্রতিটি সেলে ৬ ফুট × ৩ ফুটের লোহার দরজা থাকবে শীত মোকাবেলার জন্য। শুধু তাই নয় পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড।

১৮১৯ সালে ঢাকা লুনাটিক অ্যাসাইলামের প্রস্তাবিত ছবি: ২

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ১৮১৯ সালে অ্যাসাইলামের এক্সটেনশন বা বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব আসে, দেবযানী যেটি পরিষ্কার করেননি, তাহলো, ঢাকায় কি তাহলে একটি অ্যাসাইলাম বা পাগলা গারদ ছিল? নাকি ১৮০৫ সালের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছিল? সুতরাং ধোঁয়াশা থেকে যায়। অনুমান করে নিতে পারি, পুরনো মুঘল দুর্গটিকে উনিশ শতকের শুরুতে ছেলে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেটি ধরে নিতে পারি ১৮১০-এর আগে। এর সঙ্গে একটি হাসপাতালও – ছিল।

খুব সম্ভব হাসপাতাল সংলগ্ন অস্থায়ী কোনো – সেল ছিল পাগলা গারদ হিসেবে। ধরে নিতে পারি ১৮০০ থেকে ১৮০৫ সালে সরকারি উদ্যোগে অ্যাসাইলাম গড়ে উঠেছিল নয়ত সরকারি উদ্যোগে – অ্যাসাইলামের প্রস্তাব আসবে কেন? আর ১৮০৫ থেকে ১৮১৯ এর মধ্যে কোনো অ্যাসাইলাম না থাকলে তার বিস্তার ঘটানোর কথা উঠবে কেন?

যেমন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আথার কে তাঁর রিপোর্টে লিখেছেন ১৮১৮ সালে পাগলা গারদে ছিল ৫টি বড় ওয়ার্ড, ৭টি সেল এবং ৩২টি নির্জন সেল।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৩)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৩)