২০০৬ সালে চালু হওয়া সাইকেল যোজনা, প্রায় দুই দশক পরেও, বিহারের শিক্ষা খাতে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত। সাইকেল যোজনাটি ছিল নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন সরকার কর্তৃক চালিত একটি পাইলট প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে ৯ম শ্রেণির ছাত্রীরা ২০০০ টাকা করে পেয়ে তাদের নিজস্ব সাইকেল কিনতে সক্ষম হয়েছিল।
সাইকেল যোজনার প্রভাব
প্রাথমিকভাবে যেটি শুধুমাত্র একটি কার্যকরী প্রকল্প হিসেবে দেখা হয়েছিল, তা এখন বিহারের নারীদের জন্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক সুফলগুলি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল—সাইকেল যোজনার মাধ্যমে মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়, এবং বিদ্যালয় ছাড়ার হার কমে আসে। বিশ্বব্যাপী এই প্রকল্পটি প্রশংসিত হয় এবং আফ্রিকার সাতটি দেশে এর মডেল অনুসরণ করা হয়।
রিঙ্কু সাহু এবং তার পরিবারের গল্প
রিঙ্কু সাহু, যিনি ২০০৬ সালে সাইকেল পেয়েছিলেন, বলেন যে তিনি তার সাইকেল চালিয়ে স্বাধীনতা অনুভব করেন। বিহারের বৈশালী জেলার নিরপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে তিনি সাইকেল চালাতে পারেন না, তবে মা-বাবার বাড়িতে গিয়ে সাইকেল চালানোর সময়টা তার জন্য মুক্তির মতো। তার মতে, “সাইকেল চালানো মানে স্বাধীনতা।”

সাইকেল যোজনার পিছনে নীতীশ কুমারের ভাবনা
নীতীশ কুমার ২০০৭ সালে সাইকেল বিতরণ প্রোগ্রাম শুরু করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যালয়ে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহিত করা। এই প্রকল্পটির সাফল্য ছিল বিরাট—এটি বিহারের নারীদের আত্মবিশ্বাস ও শিক্ষা অর্জনে বিপ্লব ঘটায়।
শিক্ষার প্রতি বিশেষ মনোযোগ
এটি শুধুমাত্র একটি সাইকেল বিতরণ প্রকল্প ছিল না, বরং বিহারের শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি অংশ ছিল। ২০০৬ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে, বিহারে সরকারের বিদ্যালয়ে ভর্তি হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মেয়েদের শিক্ষার প্রতি এই মনোযোগ, সাইকেল যোজনার পাশাপাশি, নারীদের ক্ষমতায়নের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করেছে।
বর্তমানে সাইকেল যোজনার চ্যালেঞ্জ
যদিও সাইকেল যোজনাটি প্রাথমিকভাবে অনেক সাফল্য দেখিয়েছে, তবে এখন এর কার্যকারিতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠছে। ২০১৫-২০১৭ সালের পর, যখন প্রক্রিয়া কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে, তখন অনেক ছাত্রীর কাছে সাইকেল না পৌঁছানোর অভিযোগ এসেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমানে নাম নিবন্ধন এবং অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে, বিহার সরকার দাবি করেছে যে প্রকল্পটির গ্রহণযোগ্যতা এবং এর অধীনে beneficiated ছাত্রীর সংখ্যা এখনও বেড়ে চলেছে।
Correction: “beneficiated” should be replaced with “beneficiated” (this is a misspelling; it seems to be meant as “beneficiated”).

সাইকেলের পেছনে নতুন স্বপ্ন
এখন অনেকেই নিজের জীবনে আরও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন। যেমন, ভার্ষা কুমারি, যিনি ২০১২ সালে সাইকেল পেয়েছিলেন, বলেন যে সে এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। ভার্ষা বর্তমানে একটি হোন্ডা সেন্টারে কাস্টমার রিলেশন ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে একটি ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, “আমি একদিন একটি জাগুয়ার কিনব। আমার পরিকল্পনা আছে, আমি তার দিকে কাজ করব।”
Correction: “সে” should be corrected to “তিনি” (to maintain consistency in gender and respect).
এই যোজনাটি শুধু সাইকেল বিতরণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি নারীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে—এটি তাদের আত্মবিশ্বাস ও সাফল্যের দিকে পরিচালিত করেছে, তাদের জীবনকে পরিবর্তন করেছে।
#সাইকেলযোজনা #নারীরক্ষমতায়ন #বিহার #নীতীশকুমার #শিক্ষা #স্বাধীনতা #বিশ্বব্যাপীপ্রশংসা #ভার্ষাকুমারি
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















