০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
সংঘাত থেকে বিচ্ছিন্নতা: নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত সংকট মোদির পাকিস্তান নীতি: সংলাপহীনতার আড়ালে কি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি? বিদ্যুৎ সংকটের নেপথ্যে জ্বালানি, ডলার, বকেয়া ও আস্থার সংকট উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে সংসদে অমিত শাহের লেকচার শুনতে আগ্রহী নই: রাহুল গান্ধী লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে একদিনে তিন জাহাজে হামলা, নিহত ৬; ৩ পাকিস্তানি ট্রাম্পকে গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয় এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে, ইরানি হামলার আশঙ্কায় চমকপ্রদ নিরাপত্তা অভিযান তালেবান শাসনে ২৪ লাখ আফগান কিশোরীর মাধ্যমিক শিক্ষা বন্ধ, অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান ইউনেস্কোর বাইডেনের স্বাস্থ্য সংকট ডেমোক্র্যাটদের গভীর রাজনৈতিক সংকটও উন্মোচন করছে লোডশেডিং ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন

ভারত–মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক: তেজস যুদ্ধবিমানে মার্কিন ইঞ্জিন চুক্তি

ভারতের তেজস যুদ্ধবিমান প্রকল্পে মার্কিন ইঞ্জিন সরবরাহের জন্য নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করেছে। যদিও বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, তবুও এই চুক্তি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, পাকিস্তানের চীননির্মিত যুদ্ধবিমান কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে রয়েছে।


তেজস প্রকল্পে মার্কিন ইঞ্জিন সরবরাহ
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যাল (HAL) মার্কিন কোম্পানি জেনারেল ইলেকট্রিক (GE)-এর সাথে ১১৩টি F404-GE-IN20 ইঞ্জিন ও সহায়ক সরঞ্জাম কেনার চুক্তি করেছে।
এই ইঞ্জিনগুলি তেজস Mk1A যুদ্ধবিমানে ব্যবহার হবে এবং ২০২৭ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে ডেলিভারি হবে।
যদিও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা রয়েছে, তারপরও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র–ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের শক্তিশালী অবস্থান
ভারতের নেভি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক সি. উদয় ভাস্করের মতে, এই চুক্তি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের মজবুত অবস্থান প্রমাণ করে। তিনি বলেছেন, যদি প্রযুক্তি হস্তান্তর হয়, তবে ভারত আগামী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন তৈরি করতে সক্ষম হবে। তবে, দেশে কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

হ্যালের এটি জিই-এর সঙ্গে দ্বিতীয় চুক্তি, যেখানে ২০২১ সালে প্রথম ধাপের ৮৩টি বিমানের জন্য ৯৯টি ইঞ্জিন কিনেছিল।


ইঞ্জিন পরিবর্তন কঠিন
যুক্তরাষ্ট্রের স্টিমসন সেন্টারের গবেষক ক্রিস্টোফার ক্লে বলেন, তেজস Mk1A-এর নকশা F404 ইঞ্জিনের জন্য তৈরি, তাই ইঞ্জিন পরিবর্তন হলে প্রকল্পের গতি কমবে। সেজন্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও, ইঞ্জিন সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ।


ভারতীয় বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন সংকট
তেজস Mk1A পুরোনো মিগ-২১ বিমানের পরিবর্তে ব্যবহারের জন্য তৈরি। মিগ-২১ বিমানগুলোকে “ফ্লাইং কফিন” বলা হয়, কারণ এই বিমানে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিমানের অবসর নিয়ে বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৯টি, যেখানে প্রয়োজন ৪২টি।
এই চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরতার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করবে এবং তেজস বিমান স্কোয়াড্রন ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে।


পাকিস্তানের চীনা যুদ্ধবিমান এগিয়ে কিছু ক্ষেত্রে
ভারত রাফালে, মিগ–২৯, জাগুয়ার ও মিরাজ–২০০০ ব্যবহার করলেও, পাকিস্তান চীননির্মিত জেএফ-১৭, জে-১০সি ও এফ-৭পিজি বিমান চালায়।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের জেএফ-১৭-এর PL-15 ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জ ভারতের তেজসের অ্যাস্ট্রা-১ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বেশি।


অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন
ভারতের ডিআরডিও নতুন অ্যাস্ট্রা-২ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করছে, যা ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে তেজসে যোগ হবে।
এছাড়া, ভবিষ্যতে আসবে র‍্যামজেট চালিত অ্যাস্ট্রা-৩, যার রেঞ্জ ৩৫০ কিমি হতে পারে।
তেজস Mk1A-তে আধুনিক রাডার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থাও থাকবে, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর শক্তি বাড়াবে।


বাণিজ্যিক বিরোধ ও রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে। তেজস Mk1A ভারতের বিমানবাহিনীর ভবিষ্যৎ স্কোয়াড্রন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।


#ভারত #মার্কিনপ্রতিরক্ষা #তেজস #যুদ্ধবিমান #ইঞ্জিন #চুক্তি #প্রতিরক্ষা #বাংলা #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

সংঘাত থেকে বিচ্ছিন্নতা: নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত সংকট

ভারত–মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক: তেজস যুদ্ধবিমানে মার্কিন ইঞ্জিন চুক্তি

০৪:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

ভারতের তেজস যুদ্ধবিমান প্রকল্পে মার্কিন ইঞ্জিন সরবরাহের জন্য নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করেছে। যদিও বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, তবুও এই চুক্তি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, পাকিস্তানের চীননির্মিত যুদ্ধবিমান কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে রয়েছে।


তেজস প্রকল্পে মার্কিন ইঞ্জিন সরবরাহ
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যাল (HAL) মার্কিন কোম্পানি জেনারেল ইলেকট্রিক (GE)-এর সাথে ১১৩টি F404-GE-IN20 ইঞ্জিন ও সহায়ক সরঞ্জাম কেনার চুক্তি করেছে।
এই ইঞ্জিনগুলি তেজস Mk1A যুদ্ধবিমানে ব্যবহার হবে এবং ২০২৭ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে ডেলিভারি হবে।
যদিও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা রয়েছে, তারপরও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র–ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের শক্তিশালী অবস্থান
ভারতের নেভি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক সি. উদয় ভাস্করের মতে, এই চুক্তি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের মজবুত অবস্থান প্রমাণ করে। তিনি বলেছেন, যদি প্রযুক্তি হস্তান্তর হয়, তবে ভারত আগামী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন তৈরি করতে সক্ষম হবে। তবে, দেশে কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

হ্যালের এটি জিই-এর সঙ্গে দ্বিতীয় চুক্তি, যেখানে ২০২১ সালে প্রথম ধাপের ৮৩টি বিমানের জন্য ৯৯টি ইঞ্জিন কিনেছিল।


ইঞ্জিন পরিবর্তন কঠিন
যুক্তরাষ্ট্রের স্টিমসন সেন্টারের গবেষক ক্রিস্টোফার ক্লে বলেন, তেজস Mk1A-এর নকশা F404 ইঞ্জিনের জন্য তৈরি, তাই ইঞ্জিন পরিবর্তন হলে প্রকল্পের গতি কমবে। সেজন্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও, ইঞ্জিন সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ।


ভারতীয় বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন সংকট
তেজস Mk1A পুরোনো মিগ-২১ বিমানের পরিবর্তে ব্যবহারের জন্য তৈরি। মিগ-২১ বিমানগুলোকে “ফ্লাইং কফিন” বলা হয়, কারণ এই বিমানে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিমানের অবসর নিয়ে বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৯টি, যেখানে প্রয়োজন ৪২টি।
এই চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরতার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করবে এবং তেজস বিমান স্কোয়াড্রন ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে।


পাকিস্তানের চীনা যুদ্ধবিমান এগিয়ে কিছু ক্ষেত্রে
ভারত রাফালে, মিগ–২৯, জাগুয়ার ও মিরাজ–২০০০ ব্যবহার করলেও, পাকিস্তান চীননির্মিত জেএফ-১৭, জে-১০সি ও এফ-৭পিজি বিমান চালায়।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের জেএফ-১৭-এর PL-15 ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জ ভারতের তেজসের অ্যাস্ট্রা-১ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বেশি।


অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন
ভারতের ডিআরডিও নতুন অ্যাস্ট্রা-২ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করছে, যা ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে তেজসে যোগ হবে।
এছাড়া, ভবিষ্যতে আসবে র‍্যামজেট চালিত অ্যাস্ট্রা-৩, যার রেঞ্জ ৩৫০ কিমি হতে পারে।
তেজস Mk1A-তে আধুনিক রাডার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থাও থাকবে, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর শক্তি বাড়াবে।


বাণিজ্যিক বিরোধ ও রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে। তেজস Mk1A ভারতের বিমানবাহিনীর ভবিষ্যৎ স্কোয়াড্রন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।


#ভারত #মার্কিনপ্রতিরক্ষা #তেজস #যুদ্ধবিমান #ইঞ্জিন #চুক্তি #প্রতিরক্ষা #বাংলা #সারাক্ষণ_রিপোর্ট