০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

ঢাকা–ব্যাংকক–ম্যানিলায় ব্যাগে ব্যাগে পাওয়ার ব্যাংক, শহরবাসীর নতুন ‘লাইফলাইন’

ডিজিটাল জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাচ্ছে পাওয়ার ব্যাংক

কিছু বছর আগেও পাওয়ার ব্যাংককে অনেকেই বাড়তি গ্যাজেট মনে করতেন, এখন তা প্রায় অপরিহার্য। অফিসযাত্রী, শিক্ষার্থী, ডেলিভারি–রাইডার থেকে শুরু করে যাত্রীবাহী বাস–ট্রেনে থাকা সবাই দিনের বড় অংশ কাটাচ্ছে স্মার্টফোনে—টাকা দেওয়া, টিকেট দেখানো, লোকেশন দেখা, ছবি তোলা আর ভিডিও দেখায়। ফলে ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে শুধু ফোন নয়, পুরো দিনের কাজই ঝুলে যেতে পারে। নতুন গাইডে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক পাওয়ার ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় বেশি ক্যাপাসিটি, দ্রুত চার্জিং আর একাধিক পোর্ট দিয়েও আকারে পাতলা ও হালকা হচ্ছে।

বাজারে এখন বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন মিলছে নানা ব্যবহারকারীর কথা ভেবে। দীর্ঘ যাত্রায় থাকা পর্যটক বা আউটডোর ইভেন্টে যাওয়া তরুণদের জন্য বড় ক্যাপাসিটির “ইটের মতো” পাওয়ার ব্যাংক জনপ্রিয়। অন্যদিকে অফিস–গামী বা ক্যাফে–কর্মীদের জন্য ছোট আকারের, পকেটে রাখা যায় এমন ইউনিট বেশি কার্যকর, যেগুলো দিয়ে দিনে এক–দুবার দ্রুত চার্জ দেওয়া যায়। অনেক ডিভাইস এখন ল্যাপটপ–সমর্থনযোগ্য ইউএসবি–সি পাওয়ার ডেলিভারি আউটপুট দিচ্ছে, ফলে শিক্ষার্থী বা ফ্রিল্যান্সাররা এক ব্যাগে ফোন–ট্যাব–ল্যাপটপ তিনটিই চালাতে পারছেন। নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ওভার–কারেন্ট প্রটেকশন আর সার্টিফায়েড সেলের মতো ফিচারও এখন অধিকাংশ ভালো ব্র্যান্ডে বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে।

ঘনবসতিপূর্ণ শহরে কোন পাওয়ার ব্যাংকটা বেশি ‘প্র্যাকটিক্যাল’

ঢাকা, ব্যাংকক কিংবা ম্যানিলার মতো যানজট আর ভিড়–ভাট্টায় ভরা শহরে প্রশ্নটি এখন “পাওয়ার ব্যাংক লাগবে কি লাগবে না” নয়, বরং “কোনটা নিলে ভালো হবে।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে ভাবতে হবে দিনে গড়ে কতবার ফোন পুরোপুরি চার্জ করতে হয়, আর তার বাইরে ইয়ারফোন, ক্যামেরা বা গেমিং কনসোলের মতো অতিরিক্ত ডিভাইস চার্জ দেবেন কিনা। যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য বিমানে অনুমোদিত ক্ষমতা ও পাতলা ডিজাইন গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সহজেই ল্যাপটপ–ব্যাগে রাখা যায়। ভিড়ভাট্টার গণপরিবহনে চলাফেরা করা ব্যবহারকারীরা আবার বিল্ট–ইন ক্যাবল–ওয়ালা মডেল পছন্দ করেন, যাতে আলাদা তার খুঁজতে না হয়।

দামের দিক থেকে এখনো বাজেট চিন্তা বড় বিষয়, তবে সাম্প্রতিক তালিকায় দেখা যাচ্ছে—মাঝারি দামের পাওয়ার ব্যাংকেই এখন বেশ ভালো মানের সেল, দ্রুত চার্জিং আর টেকসই বডি পাওয়া যাচ্ছে। ইউএসবি–সি পিডি বা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নিজস্ব ফাস্ট–চার্জ প্রোটোকল এখন ধীরে ধীরে নিচের দামের মডেলেও চলে এসেছে, ফলে ব্যবহারকারীদের কম সময় প্লাগে ঝুলে থাকতে হচ্ছে। যেহেতু এখন রাইড–শেয়ার, খাবার অর্ডার, মোবাইল ব্যাংকিং—সব কিছুই অ্যাপের ওপর নির্ভরশীল, তাই পাওয়ার ব্যাংক অনেকটা অদৃশ্য ডিজিটাল অবকাঠামোর অংশ হয়ে উঠছে। শহরের অনেকের কাছেই এখন ব্যাগে একটি পাওয়ার ব্যাংক থাকা মানে ঠিক পকেটে চাবি বা মানিব্যাগ রাখার মতো স্বাভাবিক অভ্যাস।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

ঢাকা–ব্যাংকক–ম্যানিলায় ব্যাগে ব্যাগে পাওয়ার ব্যাংক, শহরবাসীর নতুন ‘লাইফলাইন’

০৬:৪১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

ডিজিটাল জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাচ্ছে পাওয়ার ব্যাংক

কিছু বছর আগেও পাওয়ার ব্যাংককে অনেকেই বাড়তি গ্যাজেট মনে করতেন, এখন তা প্রায় অপরিহার্য। অফিসযাত্রী, শিক্ষার্থী, ডেলিভারি–রাইডার থেকে শুরু করে যাত্রীবাহী বাস–ট্রেনে থাকা সবাই দিনের বড় অংশ কাটাচ্ছে স্মার্টফোনে—টাকা দেওয়া, টিকেট দেখানো, লোকেশন দেখা, ছবি তোলা আর ভিডিও দেখায়। ফলে ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে শুধু ফোন নয়, পুরো দিনের কাজই ঝুলে যেতে পারে। নতুন গাইডে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক পাওয়ার ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় বেশি ক্যাপাসিটি, দ্রুত চার্জিং আর একাধিক পোর্ট দিয়েও আকারে পাতলা ও হালকা হচ্ছে।

বাজারে এখন বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন মিলছে নানা ব্যবহারকারীর কথা ভেবে। দীর্ঘ যাত্রায় থাকা পর্যটক বা আউটডোর ইভেন্টে যাওয়া তরুণদের জন্য বড় ক্যাপাসিটির “ইটের মতো” পাওয়ার ব্যাংক জনপ্রিয়। অন্যদিকে অফিস–গামী বা ক্যাফে–কর্মীদের জন্য ছোট আকারের, পকেটে রাখা যায় এমন ইউনিট বেশি কার্যকর, যেগুলো দিয়ে দিনে এক–দুবার দ্রুত চার্জ দেওয়া যায়। অনেক ডিভাইস এখন ল্যাপটপ–সমর্থনযোগ্য ইউএসবি–সি পাওয়ার ডেলিভারি আউটপুট দিচ্ছে, ফলে শিক্ষার্থী বা ফ্রিল্যান্সাররা এক ব্যাগে ফোন–ট্যাব–ল্যাপটপ তিনটিই চালাতে পারছেন। নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ওভার–কারেন্ট প্রটেকশন আর সার্টিফায়েড সেলের মতো ফিচারও এখন অধিকাংশ ভালো ব্র্যান্ডে বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে।

ঘনবসতিপূর্ণ শহরে কোন পাওয়ার ব্যাংকটা বেশি ‘প্র্যাকটিক্যাল’

ঢাকা, ব্যাংকক কিংবা ম্যানিলার মতো যানজট আর ভিড়–ভাট্টায় ভরা শহরে প্রশ্নটি এখন “পাওয়ার ব্যাংক লাগবে কি লাগবে না” নয়, বরং “কোনটা নিলে ভালো হবে।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে ভাবতে হবে দিনে গড়ে কতবার ফোন পুরোপুরি চার্জ করতে হয়, আর তার বাইরে ইয়ারফোন, ক্যামেরা বা গেমিং কনসোলের মতো অতিরিক্ত ডিভাইস চার্জ দেবেন কিনা। যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য বিমানে অনুমোদিত ক্ষমতা ও পাতলা ডিজাইন গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সহজেই ল্যাপটপ–ব্যাগে রাখা যায়। ভিড়ভাট্টার গণপরিবহনে চলাফেরা করা ব্যবহারকারীরা আবার বিল্ট–ইন ক্যাবল–ওয়ালা মডেল পছন্দ করেন, যাতে আলাদা তার খুঁজতে না হয়।

দামের দিক থেকে এখনো বাজেট চিন্তা বড় বিষয়, তবে সাম্প্রতিক তালিকায় দেখা যাচ্ছে—মাঝারি দামের পাওয়ার ব্যাংকেই এখন বেশ ভালো মানের সেল, দ্রুত চার্জিং আর টেকসই বডি পাওয়া যাচ্ছে। ইউএসবি–সি পিডি বা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নিজস্ব ফাস্ট–চার্জ প্রোটোকল এখন ধীরে ধীরে নিচের দামের মডেলেও চলে এসেছে, ফলে ব্যবহারকারীদের কম সময় প্লাগে ঝুলে থাকতে হচ্ছে। যেহেতু এখন রাইড–শেয়ার, খাবার অর্ডার, মোবাইল ব্যাংকিং—সব কিছুই অ্যাপের ওপর নির্ভরশীল, তাই পাওয়ার ব্যাংক অনেকটা অদৃশ্য ডিজিটাল অবকাঠামোর অংশ হয়ে উঠছে। শহরের অনেকের কাছেই এখন ব্যাগে একটি পাওয়ার ব্যাংক থাকা মানে ঠিক পকেটে চাবি বা মানিব্যাগ রাখার মতো স্বাভাবিক অভ্যাস।