০১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
পাঠ্যবইয়ের বাইরে শিক্ষা: সহমর্মিতা, মূল্যবোধ ও চিন্তাশক্তি গড়ছে স্কুল নির্বাচনের ছায়ায় ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, তড়িঘড়ি নিয়ে প্রশ্ন জাতীয় দলে শাকিব আল হাসান আবার বিবেচনায় বিসিবির ঘোষণা শনির আখড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় কলেজশিক্ষার্থীসহ দুজনের মৃত্যু আমেরিকা–জামায়াত প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা চাইবে বিএনপি ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে ভারতের জনগণকে প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিল বিসিবি, আরবিট্রেশনে যাচ্ছে না বাংলাদেশ বাগেরহাটে কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে পাশাপাশি দাফন বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি আইসিসির মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে মার্কিন নাগরিক নিহত, ভিডিও ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও দেশজুড়ে বিক্ষোভ

নদী ভাঙনে বদলে যাচ্ছে উত্তরবাংলার জীবন: মাটি, ঘর আর স্বপ্ন একসঙ্গে হারাচ্ছে মানুষ

মাটির নিচে নদীর খরা

উত্তরাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তাতীরের মানুষ প্রতিদিন দেখছেন—তাদের জমি, ঘরবাড়ি আর স্মৃতিভরা উঠোন নদীর ভাঙনে মিলিয়ে যাচ্ছে। তীব্র বন্যা, বরফগলা পানি আর দুর্বল বাঁধ মিলিয়ে নদীভাঙন এমন গতিতে বেড়েছে যে অনেক পরিবার রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। বাড়ি ভেঙে গেলে তার সঙ্গে হারিয়ে যায় চাষের জমি, কাজের সুযোগ, আর দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী সম্পর্ক।

যারা কৃষিকাজ বা মাছধরা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাদের অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন শহরে স্বল্প-মজুরির কাজ নিতে। মানসিক চাপও কম নয়—দশকের পুরোনো বাড়ি, পরিবারিক জমি আর পরিচিত পাড়া একদিনেই নদীতে বিলীন হয়ে যায়। উদ্ধার ও পুনর্বাসন সংস্থাগুলোর জন্য পুরো গ্রাম স্থানান্তর করা একটি জটিল ও ব্যয়সাপেক্ষ কাজ।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি অঞ্চল

নদীভাঙন শুধু পরিবেশগত সঙ্কট নয়—এটি বদলে দিচ্ছে সমগ্র অঞ্চলের সামাজিক গঠন। চাষের জমি কমে যাওয়ায় খাদ্য সংকট বাড়ছে, গ্রামীণ দারিদ্র্য তীব্র হচ্ছে এবং শহরমুখী অভিবাসন দ্রুত বাড়ছে। নীতিনির্ধারকদের এখন জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং পরিকল্পিত পুনর্বাসন নীতি গ্রহণের চাপ বাড়ছে।

পাশাপাশি স্থানীয়রা নিজেদের মতো করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন—ছোট সঞ্চয় গোষ্ঠী তৈরি, ধীরে ধীরে স্থানান্তর পরিকল্পনা এবং বিকল্প পেশার সন্ধান। তবে মূল সত্যটি স্পষ্ট—অনেক এলাকায় আর আগের মতো নিরাপদ নয় বাসস্থান। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের বাড়ি না বদলানোর উপায়ও নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঠ্যবইয়ের বাইরে শিক্ষা: সহমর্মিতা, মূল্যবোধ ও চিন্তাশক্তি গড়ছে স্কুল

নদী ভাঙনে বদলে যাচ্ছে উত্তরবাংলার জীবন: মাটি, ঘর আর স্বপ্ন একসঙ্গে হারাচ্ছে মানুষ

০৫:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

মাটির নিচে নদীর খরা

উত্তরাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তাতীরের মানুষ প্রতিদিন দেখছেন—তাদের জমি, ঘরবাড়ি আর স্মৃতিভরা উঠোন নদীর ভাঙনে মিলিয়ে যাচ্ছে। তীব্র বন্যা, বরফগলা পানি আর দুর্বল বাঁধ মিলিয়ে নদীভাঙন এমন গতিতে বেড়েছে যে অনেক পরিবার রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। বাড়ি ভেঙে গেলে তার সঙ্গে হারিয়ে যায় চাষের জমি, কাজের সুযোগ, আর দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী সম্পর্ক।

যারা কৃষিকাজ বা মাছধরা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাদের অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন শহরে স্বল্প-মজুরির কাজ নিতে। মানসিক চাপও কম নয়—দশকের পুরোনো বাড়ি, পরিবারিক জমি আর পরিচিত পাড়া একদিনেই নদীতে বিলীন হয়ে যায়। উদ্ধার ও পুনর্বাসন সংস্থাগুলোর জন্য পুরো গ্রাম স্থানান্তর করা একটি জটিল ও ব্যয়সাপেক্ষ কাজ।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি অঞ্চল

নদীভাঙন শুধু পরিবেশগত সঙ্কট নয়—এটি বদলে দিচ্ছে সমগ্র অঞ্চলের সামাজিক গঠন। চাষের জমি কমে যাওয়ায় খাদ্য সংকট বাড়ছে, গ্রামীণ দারিদ্র্য তীব্র হচ্ছে এবং শহরমুখী অভিবাসন দ্রুত বাড়ছে। নীতিনির্ধারকদের এখন জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং পরিকল্পিত পুনর্বাসন নীতি গ্রহণের চাপ বাড়ছে।

পাশাপাশি স্থানীয়রা নিজেদের মতো করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন—ছোট সঞ্চয় গোষ্ঠী তৈরি, ধীরে ধীরে স্থানান্তর পরিকল্পনা এবং বিকল্প পেশার সন্ধান। তবে মূল সত্যটি স্পষ্ট—অনেক এলাকায় আর আগের মতো নিরাপদ নয় বাসস্থান। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের বাড়ি না বদলানোর উপায়ও নেই।