০৭:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফর সোমবার, বিএনপি সরকারের পর প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সফর সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের গ্যাস স্টেশনে গাড়ির লম্বা লাইন – রাইটার্স ঢাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুনে পাঁচজন নিহত, আহতদের ১ লাখ টাকা সহায়তা যশোরে ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার হীরা নিয়ে ভারতীয় নাগরিক আটক ইরানের পাহাড়ে আটকে পড়া মার্কিন পাইলটকে নাটকীয় অভিযানে উদ্ধার ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েত, বাহরাইন ও আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হাইফায় সাততলা ভবনে আঘাত, দুজন নিহত, দুজন নিখোঁজ পোপ লিও ইস্টার বার্তায় অস্ত্র সমর্পণ ও শান্তির আহ্বান জানালেন

গাজায় মৃত্যুফাঁদ হয়ে থাকা অবিস্ফোরিত বোমা

গাজায় বিপুল পরিমাণ অবিস্ফোরিত বোমা (UXO) পড়ে আছে, যা যেকোনো যুদ্ধ-পরবর্তী অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ। সংঘাত থেমে যাওয়ার পরও এগুলো সাধারণ মানুষের জন্য মৃত্যু, পঙ্গুত্ব ও স্থায়ী ঝুঁকি তৈরি করছে।


গাজায় UXO–র পরিমাণ ও বিপদ

হামাস পরিচালিত গাজা সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয় এক বছর আগে অনুমান করেছিল যে পুরো উপত্যকাজুড়ে ৭,০০০ টনের বেশি অবিস্ফোরিত অস্ত্র রয়েছে—বিশ্বের অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় প্রতি বর্গমিটারে সবচেয়ে বেশি।
গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বহু বছর ধরে এসব UXO সংগ্রহ করে নতুন অস্ত্রে রূপান্তর করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য এগুলো ভয়ংকর বিপদ। ছোট আকারের গ্রেনেড, মর্টার শেলসহ নানা বিস্ফোরক ধ্বংসস্তূপের ওপরে বা ভেতরে পড়ে থাকে।
অক্টোবরে ছয় বছরের দুই যমজ শিশু—ইয়াহিয়া ও নাবিলা শোরবাসি—একটি অবিস্ফোরিত বস্তুকে খেলনা ভেবে হাতে নেওয়ায় গুরুতর আহত হয়।


গভীরে লুকিয়ে থাকা আরও বড় হুমকি

ইসরায়েল গাজায় হাজার হাজার বোমা নিক্ষেপ করেছে, যার কিছু ৯০০ কেজি পর্যন্ত ভারী ছিল। অনেক বোমায় বিলম্বিত ফিউজ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভূমি বা ভবনের ভেতর ঢুকে বিস্ফোরণের জন্য তৈরি।
কংক্রিটের স্তর সরাসরি বিস্ফোরণ প্রতিরোধ করায় অনেক বোমা মাটির গভীরে ঢুকে অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বড় বিপদ লুকিয়ে আছে।


অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয়করণ—দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ

UXO নিষ্ক্রিয় করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ, ব্যয়সাধ্য ও প্রাণঘাতী কাজ।
ব্রিটেন জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিসকে (UNMAS) গাজায় UXO অপসারণে সহায়তার জন্য ৪ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইরাকের মসুলে ইসলামিক স্টেট নির্মূল অভিযানের আট বছর পরও UNMAS সেখানে UXO পরিষ্কার করছে। অথচ গাজায় বোমাবর্ষণ ছিল আরও ব্যাপক।


গাজায় UXO অপসারণে বাধা

ইসরায়েল UXO নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞদের প্রবেশে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। প্রয়োজনীয় বহু সরঞ্জামকেই “ডুয়াল-ইউজ” তালিকায় নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
প্যালেস্টিনীয়দের বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ প্রশিক্ষণ নিতে দেওয়া হয় না, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদেরও সীমিত অনুমতি দেওয়া হয়।
ফলে স্থানীয় ডিমাইনারদের খুব সাধারণ উপায়ে কাজ করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ—পুরোনো খাদ্যসামগ্রীর বস্তায় বালি ভরে ব্লাস্ট শিল্ড হিসেবে ব্যবহার করা।


জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পরিষ্কার কার্যক্রম

মসুলে UXO অপসারণের আগে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গাজায় মানুষের যাওয়ার মতো নিরাপদ জায়গা নেই।
UNMAS খাদ্যসাহায্যের প্যাকেটেই UXO সম্পর্কে সতর্কবার্তা মুদ্রণ করছে।
বিস্ফোরক পাওয়া গেলে সংস্থাটি সাধারণত স্রেফ চিহ্নিত করে রেখে দেয়, কারণ অপসারণ বা ধ্বংস করার পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই।
অন্যদিকে হামাস এসব UXO বাজারে পেলে সেগুলোর বিস্ফোরক আবার তাদের নিজেদের অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করে যাচ্ছে।


# গাজা_সংঘাত #UXO অবিস্ফোরিত_#বোমা #মানবিক_সংকট #UNMAS #ইসরায়েল_$গাজা

জনপ্রিয় সংবাদ

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফর সোমবার, বিএনপি সরকারের পর প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সফর

গাজায় মৃত্যুফাঁদ হয়ে থাকা অবিস্ফোরিত বোমা

১১:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

গাজায় বিপুল পরিমাণ অবিস্ফোরিত বোমা (UXO) পড়ে আছে, যা যেকোনো যুদ্ধ-পরবর্তী অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ। সংঘাত থেমে যাওয়ার পরও এগুলো সাধারণ মানুষের জন্য মৃত্যু, পঙ্গুত্ব ও স্থায়ী ঝুঁকি তৈরি করছে।


গাজায় UXO–র পরিমাণ ও বিপদ

হামাস পরিচালিত গাজা সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয় এক বছর আগে অনুমান করেছিল যে পুরো উপত্যকাজুড়ে ৭,০০০ টনের বেশি অবিস্ফোরিত অস্ত্র রয়েছে—বিশ্বের অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় প্রতি বর্গমিটারে সবচেয়ে বেশি।
গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বহু বছর ধরে এসব UXO সংগ্রহ করে নতুন অস্ত্রে রূপান্তর করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য এগুলো ভয়ংকর বিপদ। ছোট আকারের গ্রেনেড, মর্টার শেলসহ নানা বিস্ফোরক ধ্বংসস্তূপের ওপরে বা ভেতরে পড়ে থাকে।
অক্টোবরে ছয় বছরের দুই যমজ শিশু—ইয়াহিয়া ও নাবিলা শোরবাসি—একটি অবিস্ফোরিত বস্তুকে খেলনা ভেবে হাতে নেওয়ায় গুরুতর আহত হয়।


গভীরে লুকিয়ে থাকা আরও বড় হুমকি

ইসরায়েল গাজায় হাজার হাজার বোমা নিক্ষেপ করেছে, যার কিছু ৯০০ কেজি পর্যন্ত ভারী ছিল। অনেক বোমায় বিলম্বিত ফিউজ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভূমি বা ভবনের ভেতর ঢুকে বিস্ফোরণের জন্য তৈরি।
কংক্রিটের স্তর সরাসরি বিস্ফোরণ প্রতিরোধ করায় অনেক বোমা মাটির গভীরে ঢুকে অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বড় বিপদ লুকিয়ে আছে।


অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয়করণ—দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ

UXO নিষ্ক্রিয় করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ, ব্যয়সাধ্য ও প্রাণঘাতী কাজ।
ব্রিটেন জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিসকে (UNMAS) গাজায় UXO অপসারণে সহায়তার জন্য ৪ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইরাকের মসুলে ইসলামিক স্টেট নির্মূল অভিযানের আট বছর পরও UNMAS সেখানে UXO পরিষ্কার করছে। অথচ গাজায় বোমাবর্ষণ ছিল আরও ব্যাপক।


গাজায় UXO অপসারণে বাধা

ইসরায়েল UXO নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞদের প্রবেশে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। প্রয়োজনীয় বহু সরঞ্জামকেই “ডুয়াল-ইউজ” তালিকায় নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
প্যালেস্টিনীয়দের বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ প্রশিক্ষণ নিতে দেওয়া হয় না, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদেরও সীমিত অনুমতি দেওয়া হয়।
ফলে স্থানীয় ডিমাইনারদের খুব সাধারণ উপায়ে কাজ করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ—পুরোনো খাদ্যসামগ্রীর বস্তায় বালি ভরে ব্লাস্ট শিল্ড হিসেবে ব্যবহার করা।


জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পরিষ্কার কার্যক্রম

মসুলে UXO অপসারণের আগে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গাজায় মানুষের যাওয়ার মতো নিরাপদ জায়গা নেই।
UNMAS খাদ্যসাহায্যের প্যাকেটেই UXO সম্পর্কে সতর্কবার্তা মুদ্রণ করছে।
বিস্ফোরক পাওয়া গেলে সংস্থাটি সাধারণত স্রেফ চিহ্নিত করে রেখে দেয়, কারণ অপসারণ বা ধ্বংস করার পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই।
অন্যদিকে হামাস এসব UXO বাজারে পেলে সেগুলোর বিস্ফোরক আবার তাদের নিজেদের অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করে যাচ্ছে।


# গাজা_সংঘাত #UXO অবিস্ফোরিত_#বোমা #মানবিক_সংকট #UNMAS #ইসরায়েল_$গাজা