০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সিলিকন ভ্যালি কেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় না দানবের স্বর্গে ক্ষমতার মুখোশ উন্মোচন, ব্যঙ্গ ও ট্র্যাজেডির মিশেলে নতুন অপেরা আলোচনায় ইরানে মৃতের হিসাব যত বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে শাসনের ভয়াবহ আতঙ্ক কাজের পোশাকে নতুন ঢেউ, তরুণ শ্রমজীবীদের ভরসা এখন আরামদায়ক সুরক্ষিত গিয়ার শিল্পের দ্বন্দ্বে প্রকৃতির জয়: টার্নার ও কনস্টেবলের বিস্ময়কর মুখোমুখি জীবনকে প্রস্ফুটিত করার পাঠ খুঁজে নিলেন এক পরামর্শক ইতালির বিস্তীর্ণ শীতকালীন ক্রীড়া আয়োজন ঘিরে যাতায়াতে মহাসংকট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথে দর্শনার্থীরা থোয়েটস হিমবাহে ভয়াবহ ধাক্কা, বরফে বন্দি যন্ত্রে ও মিলল উষ্ণ সাগরের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত চীনের ক্ষমতার অন্দরে হঠাৎ কম্পন, শি জিনপিংয়ের নতুন শুদ্ধি অভিযানে বাড়ছে সন্দেহ ও শঙ্কা দিশা পাটানির সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জনে নীরবতা ভাঙলেন তালবিন্দর, জানালেন সম্পর্কের আসল অবস্থান

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৭)

দেবযানী যোগাড় করেছেন অ্যানুয়েল রিপোর্ট অন দি ইনসেন অ্যাসাইলামস ইন বেঙ্গল থেকে।

জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, মানসিক ভারসাম্যহীনতার চিকিৎসার জন্য হিন্দু ও ইউনানি পদ্ধতিও ছিল। হিন্দু পদ্ধতি ঠাণ্ডা জলপট্টি, নারকেলের জল দিয়ে ঠাণ্ডা শরবত বা বিরেচক পদার্থ ব্যবহার করা হতো। মাথার চাঁদিতে ভেষজ তেল মালিশ করা হতো। যাদের বাসায় রাখা হতো, তাদের কখনো কখানো রাখা হতো অন্ধকার ঘরে। কখনো চাবুক দিয়ে পেটানো হতো।

ফিরিঙ্গিদের [পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত] মাথার চাঁদিতে একটি জ্যান্ত ব্যাঙ রাখা হতো। ধরে নেয়া হতো মগজ থেকে উদ্ধৃত পাগলামির উচ্চতা এই শুষে নিত। দৈবের ওপরেও অনেক নির্ভর করতে। চিকিৎসকরাও। তাবিজ পরানো হতো। পাগলা গারদের কর্মচারীদের এত কম বেতন দেওয়া হয়ে যে, খুব দরিদ্র না হলে এখানে কেউ কাজ করতে চাইত না। ১৮৬০ সালে বেতনের পরিমাণ দেখা যাক-

দারোগা- ১০ রুপি
জমাদার-৫ রুপি
পরিচারক- ৩ রুপি
সুইপার- ৩ রুপি
মালি-৩ রুপি
এ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব সবসময় করা হয়েছে।
পরবর্তীকালে তা সামান্য বৃদ্ধি পায়।

১৮৬৫ সালে ঢাকার পাগলা গারদে যেসব মহিলা ছিলেন তাদের একটি তালিকা দেবযানী যোগাড় করেছেন অ্যানুয়েল রিপোর্ট অন দি ইনসেন অ্যাসাইলামস ইন বেঙ্গল থেকে।

আবার মৃত্যু হয়েছে এমন অনেকের বিবরণ পাওয়া গেছে। যেমন, কমলি, মহিলা কেস হিস্ট্রিতেও লেখা ছিল ভর্তি ১৮৬১। টাকা হারিয়ে পাগল হয়ে যায়। অনেক সময় পাগলামি বেড়ে গেলে নিজ বাড়িতেও আগুন দিতে যেত অথবা প্রতিবেশীর ক্ষতি সাধন করত। তার ব্রেন, বুক ও অ্যাবডোমেন নানা ডাক্তারি বর্ণনা যেগুলো বাদ দিলাম। ১৮৬২ সালে কলেরায় মারা যায়। বয়স ৩০ এর মতো।

২. নয়নাবি, মহিলা, ভর্তি ১৮৫৪ সালে, কেস হিস্ট্রি পাওয়া যায়নি। ব্যবহার ভালো। নীরব থাকে। মাঝে মাঝে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। ১৮৬১ সালে নিজের পেশাব খেতে থাকে। ১৮৬২ সালে কলেরায় মারা যায়।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলিকন ভ্যালি কেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় না

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৭)

০৯:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

দেবযানী যোগাড় করেছেন অ্যানুয়েল রিপোর্ট অন দি ইনসেন অ্যাসাইলামস ইন বেঙ্গল থেকে।

জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, মানসিক ভারসাম্যহীনতার চিকিৎসার জন্য হিন্দু ও ইউনানি পদ্ধতিও ছিল। হিন্দু পদ্ধতি ঠাণ্ডা জলপট্টি, নারকেলের জল দিয়ে ঠাণ্ডা শরবত বা বিরেচক পদার্থ ব্যবহার করা হতো। মাথার চাঁদিতে ভেষজ তেল মালিশ করা হতো। যাদের বাসায় রাখা হতো, তাদের কখনো কখানো রাখা হতো অন্ধকার ঘরে। কখনো চাবুক দিয়ে পেটানো হতো।

ফিরিঙ্গিদের [পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত] মাথার চাঁদিতে একটি জ্যান্ত ব্যাঙ রাখা হতো। ধরে নেয়া হতো মগজ থেকে উদ্ধৃত পাগলামির উচ্চতা এই শুষে নিত। দৈবের ওপরেও অনেক নির্ভর করতে। চিকিৎসকরাও। তাবিজ পরানো হতো। পাগলা গারদের কর্মচারীদের এত কম বেতন দেওয়া হয়ে যে, খুব দরিদ্র না হলে এখানে কেউ কাজ করতে চাইত না। ১৮৬০ সালে বেতনের পরিমাণ দেখা যাক-

দারোগা- ১০ রুপি
জমাদার-৫ রুপি
পরিচারক- ৩ রুপি
সুইপার- ৩ রুপি
মালি-৩ রুপি
এ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব সবসময় করা হয়েছে।
পরবর্তীকালে তা সামান্য বৃদ্ধি পায়।

১৮৬৫ সালে ঢাকার পাগলা গারদে যেসব মহিলা ছিলেন তাদের একটি তালিকা দেবযানী যোগাড় করেছেন অ্যানুয়েল রিপোর্ট অন দি ইনসেন অ্যাসাইলামস ইন বেঙ্গল থেকে।

আবার মৃত্যু হয়েছে এমন অনেকের বিবরণ পাওয়া গেছে। যেমন, কমলি, মহিলা কেস হিস্ট্রিতেও লেখা ছিল ভর্তি ১৮৬১। টাকা হারিয়ে পাগল হয়ে যায়। অনেক সময় পাগলামি বেড়ে গেলে নিজ বাড়িতেও আগুন দিতে যেত অথবা প্রতিবেশীর ক্ষতি সাধন করত। তার ব্রেন, বুক ও অ্যাবডোমেন নানা ডাক্তারি বর্ণনা যেগুলো বাদ দিলাম। ১৮৬২ সালে কলেরায় মারা যায়। বয়স ৩০ এর মতো।

২. নয়নাবি, মহিলা, ভর্তি ১৮৫৪ সালে, কেস হিস্ট্রি পাওয়া যায়নি। ব্যবহার ভালো। নীরব থাকে। মাঝে মাঝে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। ১৮৬১ সালে নিজের পেশাব খেতে থাকে। ১৮৬২ সালে কলেরায় মারা যায়।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)