১১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ক্ষমতার ভারসাম্য যখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করে এআই চিপের চাহিদায় স্যামসাংয়ের দিকে ঝুঁকছে গুগল, বিওয়াইডি ও এএমডি জি-৭-এর প্রশংসার পরও ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, চুক্তি বাস্তবায়নে অসন্তুষ্ট হলে ফের হামলার ইঙ্গিত ইন্দোনেশিয়ায় রুপিয়ার দরপতনে ওষুধের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে গৃহকর্মী নির্যাতন, থানা হেফাজতে পুলিশ দম্পতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ভূরাজনীতি এবং ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পরীক্ষা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে ১.৭ গুণ বেশি বন্দি, রয়েছে ৭৭ হাজার ৪০ জন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানালেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ভারতের বিএসএফ ২,৩৬৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মসজিদের জন্য মাইক কিনতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের সিন্ধু পানি চুক্তি: আইনের শাসন নাকি উজানের একতরফা ক্ষমতা?

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৭)

দেবযানী যোগাড় করেছেন অ্যানুয়েল রিপোর্ট অন দি ইনসেন অ্যাসাইলামস ইন বেঙ্গল থেকে।

জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, মানসিক ভারসাম্যহীনতার চিকিৎসার জন্য হিন্দু ও ইউনানি পদ্ধতিও ছিল। হিন্দু পদ্ধতি ঠাণ্ডা জলপট্টি, নারকেলের জল দিয়ে ঠাণ্ডা শরবত বা বিরেচক পদার্থ ব্যবহার করা হতো। মাথার চাঁদিতে ভেষজ তেল মালিশ করা হতো। যাদের বাসায় রাখা হতো, তাদের কখনো কখানো রাখা হতো অন্ধকার ঘরে। কখনো চাবুক দিয়ে পেটানো হতো।

ফিরিঙ্গিদের [পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত] মাথার চাঁদিতে একটি জ্যান্ত ব্যাঙ রাখা হতো। ধরে নেয়া হতো মগজ থেকে উদ্ধৃত পাগলামির উচ্চতা এই শুষে নিত। দৈবের ওপরেও অনেক নির্ভর করতে। চিকিৎসকরাও। তাবিজ পরানো হতো। পাগলা গারদের কর্মচারীদের এত কম বেতন দেওয়া হয়ে যে, খুব দরিদ্র না হলে এখানে কেউ কাজ করতে চাইত না। ১৮৬০ সালে বেতনের পরিমাণ দেখা যাক-

দারোগা- ১০ রুপি
জমাদার-৫ রুপি
পরিচারক- ৩ রুপি
সুইপার- ৩ রুপি
মালি-৩ রুপি
এ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব সবসময় করা হয়েছে।
পরবর্তীকালে তা সামান্য বৃদ্ধি পায়।

১৮৬৫ সালে ঢাকার পাগলা গারদে যেসব মহিলা ছিলেন তাদের একটি তালিকা দেবযানী যোগাড় করেছেন অ্যানুয়েল রিপোর্ট অন দি ইনসেন অ্যাসাইলামস ইন বেঙ্গল থেকে।

আবার মৃত্যু হয়েছে এমন অনেকের বিবরণ পাওয়া গেছে। যেমন, কমলি, মহিলা কেস হিস্ট্রিতেও লেখা ছিল ভর্তি ১৮৬১। টাকা হারিয়ে পাগল হয়ে যায়। অনেক সময় পাগলামি বেড়ে গেলে নিজ বাড়িতেও আগুন দিতে যেত অথবা প্রতিবেশীর ক্ষতি সাধন করত। তার ব্রেন, বুক ও অ্যাবডোমেন নানা ডাক্তারি বর্ণনা যেগুলো বাদ দিলাম। ১৮৬২ সালে কলেরায় মারা যায়। বয়স ৩০ এর মতো।

২. নয়নাবি, মহিলা, ভর্তি ১৮৫৪ সালে, কেস হিস্ট্রি পাওয়া যায়নি। ব্যবহার ভালো। নীরব থাকে। মাঝে মাঝে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। ১৮৬১ সালে নিজের পেশাব খেতে থাকে। ১৮৬২ সালে কলেরায় মারা যায়।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতার ভারসাম্য যখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করে

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৭)

০৯:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

দেবযানী যোগাড় করেছেন অ্যানুয়েল রিপোর্ট অন দি ইনসেন অ্যাসাইলামস ইন বেঙ্গল থেকে।

জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, মানসিক ভারসাম্যহীনতার চিকিৎসার জন্য হিন্দু ও ইউনানি পদ্ধতিও ছিল। হিন্দু পদ্ধতি ঠাণ্ডা জলপট্টি, নারকেলের জল দিয়ে ঠাণ্ডা শরবত বা বিরেচক পদার্থ ব্যবহার করা হতো। মাথার চাঁদিতে ভেষজ তেল মালিশ করা হতো। যাদের বাসায় রাখা হতো, তাদের কখনো কখানো রাখা হতো অন্ধকার ঘরে। কখনো চাবুক দিয়ে পেটানো হতো।

ফিরিঙ্গিদের [পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত] মাথার চাঁদিতে একটি জ্যান্ত ব্যাঙ রাখা হতো। ধরে নেয়া হতো মগজ থেকে উদ্ধৃত পাগলামির উচ্চতা এই শুষে নিত। দৈবের ওপরেও অনেক নির্ভর করতে। চিকিৎসকরাও। তাবিজ পরানো হতো। পাগলা গারদের কর্মচারীদের এত কম বেতন দেওয়া হয়ে যে, খুব দরিদ্র না হলে এখানে কেউ কাজ করতে চাইত না। ১৮৬০ সালে বেতনের পরিমাণ দেখা যাক-

দারোগা- ১০ রুপি
জমাদার-৫ রুপি
পরিচারক- ৩ রুপি
সুইপার- ৩ রুপি
মালি-৩ রুপি
এ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব সবসময় করা হয়েছে।
পরবর্তীকালে তা সামান্য বৃদ্ধি পায়।

১৮৬৫ সালে ঢাকার পাগলা গারদে যেসব মহিলা ছিলেন তাদের একটি তালিকা দেবযানী যোগাড় করেছেন অ্যানুয়েল রিপোর্ট অন দি ইনসেন অ্যাসাইলামস ইন বেঙ্গল থেকে।

আবার মৃত্যু হয়েছে এমন অনেকের বিবরণ পাওয়া গেছে। যেমন, কমলি, মহিলা কেস হিস্ট্রিতেও লেখা ছিল ভর্তি ১৮৬১। টাকা হারিয়ে পাগল হয়ে যায়। অনেক সময় পাগলামি বেড়ে গেলে নিজ বাড়িতেও আগুন দিতে যেত অথবা প্রতিবেশীর ক্ষতি সাধন করত। তার ব্রেন, বুক ও অ্যাবডোমেন নানা ডাক্তারি বর্ণনা যেগুলো বাদ দিলাম। ১৮৬২ সালে কলেরায় মারা যায়। বয়স ৩০ এর মতো।

২. নয়নাবি, মহিলা, ভর্তি ১৮৫৪ সালে, কেস হিস্ট্রি পাওয়া যায়নি। ব্যবহার ভালো। নীরব থাকে। মাঝে মাঝে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। ১৮৬১ সালে নিজের পেশাব খেতে থাকে। ১৮৬২ সালে কলেরায় মারা যায়।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)