০১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
মস্কোর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ‘পর্দার আড়ালে সিআইএ, এমআইসিক্স ও মোসাদ’—সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার দাবি আইডাহোর ব্যস্ত বিপণি এলাকায় বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩, আহত অন্তত ৭ হরমুজ খুলে দেওয়ার শর্তে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত? ইরানে নতুন হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের পার্লামেন্ট ঘেরাওয়ের পরও ছয় দিন ধরে চলেছে পাথর নিক্ষেপ, দিল্লিতে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক সরকারি সরঞ্জাম গুপ্তচরের ছায়াযুদ্ধ আবারও বিশ্বমঞ্চে, মৃত্যুকে সঙ্গী করে ফিরলেন জো সালদানা—শুরু ‘লায়নেস’-এর সবচেয়ে বিস্ফোরক মৌসুম পাতলা গড়ন, শক্তিশালী প্রযুক্তি—আইফোন এয়ার ২-এ বড় পরিবর্তনের আভাস মৃত্যুর খেলায় কিশোরেরা! ইউরোপ কাঁপাচ্ছে ‘ফক্সট্রট’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই চলছে খুনি নিয়োগের গোপন অভিযান ট্রাম্প আপাতত ইরানে নতুন হামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য সমঝোতার দাবি বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে মাঠে ফিরলেন মেসি, জয় পেল না ইন্টার মায়ামি ‘লাভ আইল্যান্ড ইউকে’ কি জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে? দর্শকদের অভিযোগ—‘প্রেমের চেয়ে নাটকই বেশি’

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৭)

দেবযানী যোগাড় করেছেন অ্যানুয়েল রিপোর্ট অন দি ইনসেন অ্যাসাইলামস ইন বেঙ্গল থেকে।

জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, মানসিক ভারসাম্যহীনতার চিকিৎসার জন্য হিন্দু ও ইউনানি পদ্ধতিও ছিল। হিন্দু পদ্ধতি ঠাণ্ডা জলপট্টি, নারকেলের জল দিয়ে ঠাণ্ডা শরবত বা বিরেচক পদার্থ ব্যবহার করা হতো। মাথার চাঁদিতে ভেষজ তেল মালিশ করা হতো। যাদের বাসায় রাখা হতো, তাদের কখনো কখানো রাখা হতো অন্ধকার ঘরে। কখনো চাবুক দিয়ে পেটানো হতো।

ফিরিঙ্গিদের [পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত] মাথার চাঁদিতে একটি জ্যান্ত ব্যাঙ রাখা হতো। ধরে নেয়া হতো মগজ থেকে উদ্ধৃত পাগলামির উচ্চতা এই শুষে নিত। দৈবের ওপরেও অনেক নির্ভর করতে। চিকিৎসকরাও। তাবিজ পরানো হতো। পাগলা গারদের কর্মচারীদের এত কম বেতন দেওয়া হয়ে যে, খুব দরিদ্র না হলে এখানে কেউ কাজ করতে চাইত না। ১৮৬০ সালে বেতনের পরিমাণ দেখা যাক-

দারোগা- ১০ রুপি
জমাদার-৫ রুপি
পরিচারক- ৩ রুপি
সুইপার- ৩ রুপি
মালি-৩ রুপি
এ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব সবসময় করা হয়েছে।
পরবর্তীকালে তা সামান্য বৃদ্ধি পায়।

১৮৬৫ সালে ঢাকার পাগলা গারদে যেসব মহিলা ছিলেন তাদের একটি তালিকা দেবযানী যোগাড় করেছেন অ্যানুয়েল রিপোর্ট অন দি ইনসেন অ্যাসাইলামস ইন বেঙ্গল থেকে।

আবার মৃত্যু হয়েছে এমন অনেকের বিবরণ পাওয়া গেছে। যেমন, কমলি, মহিলা কেস হিস্ট্রিতেও লেখা ছিল ভর্তি ১৮৬১। টাকা হারিয়ে পাগল হয়ে যায়। অনেক সময় পাগলামি বেড়ে গেলে নিজ বাড়িতেও আগুন দিতে যেত অথবা প্রতিবেশীর ক্ষতি সাধন করত। তার ব্রেন, বুক ও অ্যাবডোমেন নানা ডাক্তারি বর্ণনা যেগুলো বাদ দিলাম। ১৮৬২ সালে কলেরায় মারা যায়। বয়স ৩০ এর মতো।

২. নয়নাবি, মহিলা, ভর্তি ১৮৫৪ সালে, কেস হিস্ট্রি পাওয়া যায়নি। ব্যবহার ভালো। নীরব থাকে। মাঝে মাঝে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। ১৮৬১ সালে নিজের পেশাব খেতে থাকে। ১৮৬২ সালে কলেরায় মারা যায়।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)

জনপ্রিয় সংবাদ

মস্কোর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ‘পর্দার আড়ালে সিআইএ, এমআইসিক্স ও মোসাদ’—সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার দাবি

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৭)

০৯:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

দেবযানী যোগাড় করেছেন অ্যানুয়েল রিপোর্ট অন দি ইনসেন অ্যাসাইলামস ইন বেঙ্গল থেকে।

জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, মানসিক ভারসাম্যহীনতার চিকিৎসার জন্য হিন্দু ও ইউনানি পদ্ধতিও ছিল। হিন্দু পদ্ধতি ঠাণ্ডা জলপট্টি, নারকেলের জল দিয়ে ঠাণ্ডা শরবত বা বিরেচক পদার্থ ব্যবহার করা হতো। মাথার চাঁদিতে ভেষজ তেল মালিশ করা হতো। যাদের বাসায় রাখা হতো, তাদের কখনো কখানো রাখা হতো অন্ধকার ঘরে। কখনো চাবুক দিয়ে পেটানো হতো।

ফিরিঙ্গিদের [পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত] মাথার চাঁদিতে একটি জ্যান্ত ব্যাঙ রাখা হতো। ধরে নেয়া হতো মগজ থেকে উদ্ধৃত পাগলামির উচ্চতা এই শুষে নিত। দৈবের ওপরেও অনেক নির্ভর করতে। চিকিৎসকরাও। তাবিজ পরানো হতো। পাগলা গারদের কর্মচারীদের এত কম বেতন দেওয়া হয়ে যে, খুব দরিদ্র না হলে এখানে কেউ কাজ করতে চাইত না। ১৮৬০ সালে বেতনের পরিমাণ দেখা যাক-

দারোগা- ১০ রুপি
জমাদার-৫ রুপি
পরিচারক- ৩ রুপি
সুইপার- ৩ রুপি
মালি-৩ রুপি
এ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব সবসময় করা হয়েছে।
পরবর্তীকালে তা সামান্য বৃদ্ধি পায়।

১৮৬৫ সালে ঢাকার পাগলা গারদে যেসব মহিলা ছিলেন তাদের একটি তালিকা দেবযানী যোগাড় করেছেন অ্যানুয়েল রিপোর্ট অন দি ইনসেন অ্যাসাইলামস ইন বেঙ্গল থেকে।

আবার মৃত্যু হয়েছে এমন অনেকের বিবরণ পাওয়া গেছে। যেমন, কমলি, মহিলা কেস হিস্ট্রিতেও লেখা ছিল ভর্তি ১৮৬১। টাকা হারিয়ে পাগল হয়ে যায়। অনেক সময় পাগলামি বেড়ে গেলে নিজ বাড়িতেও আগুন দিতে যেত অথবা প্রতিবেশীর ক্ষতি সাধন করত। তার ব্রেন, বুক ও অ্যাবডোমেন নানা ডাক্তারি বর্ণনা যেগুলো বাদ দিলাম। ১৮৬২ সালে কলেরায় মারা যায়। বয়স ৩০ এর মতো।

২. নয়নাবি, মহিলা, ভর্তি ১৮৫৪ সালে, কেস হিস্ট্রি পাওয়া যায়নি। ব্যবহার ভালো। নীরব থাকে। মাঝে মাঝে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। ১৮৬১ সালে নিজের পেশাব খেতে থাকে। ১৮৬২ সালে কলেরায় মারা যায়।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)