০১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারত থেকে মোম্বাসা, মোম্বাসা থেকে উগান্ডা—যেভাবে সুধীর রুপারেলিয়া গড়লেন ১.৩ বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন ধসে নিহত অন্তত ২০, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নিটওয়্যার শিল্প, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ঝুঁকি বাড়ালে সামনে কী স্মার্ট চশমার জনপ্রিয়তা বাড়ছে, বাড়ছে গোপনে ভিডিও ধারণের ভয় রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে বিদেশি যোদ্ধারা, সামনে ভয়াবহ মৃত্যুর গল্প ছুটির দিনেও পাসপোর্ট সেবা, স্বস্তি মালয়েশিয়ার প্রবাসীদের চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে সহায়তার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প ব্রিকস নৈশভোজে শুধু নিরামিষ খাবার, ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক ট্রাম্পের দাবি, এআই নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে ‘নেতিবাচক শক্তি’ আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার পক্ষে আবারও ট্রাম্প, স্কটল্যান্ড নিয়ে এখনই কথা নয়

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)

জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, ১৮৫০-৫১ সালের দিকে এ ধরনের রোগীদের হাতেপায়ে বেড়ি বা কড়া পরানো হতো।

২৪ পরগনার সার্জন ঢাকা অ্যাসাইলামের যে নকশা প্রস্তাব করেছিলেন ছবি: ৩

১৮৭১ সালের এক হিসাবে জানা যায়, যাদের আনা হয়েছে বা রাখা হয়েছে গারদে তাদের মধ্যে মাত্র ২০.৬ ভাগের রোগের কারণ নির্ণয় করা হয়েছে। এর বড় কারণ, যারা এদের অ্যাসাইলামে নিয়ে আসতেন প্রায় ক্ষেত্রে তারা রোগীর ইতিহাস বলতে পারতেন না। মানসিক ভারসাম্যহীনতার বড় কারণ হিসেবে জেমস ওয়াইজ জীবনর্চাকে চিহ্নিত করেছেন, যেমন, “Occupation, diet, mode of residensce and life, habit, indulgence and vices”, ফলে রোগীর হিস্ট্রি শিটে যা লেখা থাকত তা নির্ভরযোগ্য ছিল না।

১৮৯৮ সালে, সিভিল হাসপাতাল সমূহের মহাপরিদর্শক ঢাকা লুনাটিক অ্যাসাইলাম পরিদর্শনে এসে লেখেন, এখনকার হিস্ট্রিশিটগুলি সঠিক নয়। ঢাকার পাগলা গারদে যাদের নিয়ন্ত্রণে আনা যেত না তাদের মাঝে মধ্যে একলা রাখা হতো, আগাপাশতলা বেঁধে রাখা হতো। জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, ১৮৫০-৫১ সালের দিকে এ ধরনের রোগীদের হাতেপায়ে বেড়ি বা কড়া পরানো হতো। তবে, ১৮৫৩ সালের পর থেকে এ ধরনের পদ্ধতি বাদ দিয়ে দেয়া হয়। এর বদলে নির্জন সেলে রাখা হতো যতক্ষণ না রোগী শান্ত হয়।

ঐ আমলে মানসিক রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি তো আর এত উন্নত হয়নি। তারপর জানা যেত না কেন তার মানসিক ভারসাম্যতা হারিয়েছে। ১৮৬২ সালের দিকে পাগলা গারদের তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছিলেন, মানসিক ভারসাম্যহীনরা শারিরিক কসরত ও মানসিক নৈরাজ্যের জন্য শিঘ্রই ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তারা খাবার খেতে চায় না। তখন তাদের ঘুমের ওষুধ ও টনিক দেয়া হয়। মাঝে মাঝে চিকিৎসার জন্য ভারতীয় ভেষজ পদ্ধতি ও ইউরোপিয়ান পদ্ধতির মিশ্রন ঘটানো হতো। যেমন, ঢাকা গারদে রক্তশূন্যতার জন্য কুইনাইনকে পোর্টের মদ সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হতো। পানি, রাম মদ চিরতার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে খাওয়ানো হতো, তবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় পদ্ধতিই ব্যবহার হতো।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৫)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৫)

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত থেকে মোম্বাসা, মোম্বাসা থেকে উগান্ডা—যেভাবে সুধীর রুপারেলিয়া গড়লেন ১.৩ বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)

০৯:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, ১৮৫০-৫১ সালের দিকে এ ধরনের রোগীদের হাতেপায়ে বেড়ি বা কড়া পরানো হতো।

২৪ পরগনার সার্জন ঢাকা অ্যাসাইলামের যে নকশা প্রস্তাব করেছিলেন ছবি: ৩

১৮৭১ সালের এক হিসাবে জানা যায়, যাদের আনা হয়েছে বা রাখা হয়েছে গারদে তাদের মধ্যে মাত্র ২০.৬ ভাগের রোগের কারণ নির্ণয় করা হয়েছে। এর বড় কারণ, যারা এদের অ্যাসাইলামে নিয়ে আসতেন প্রায় ক্ষেত্রে তারা রোগীর ইতিহাস বলতে পারতেন না। মানসিক ভারসাম্যহীনতার বড় কারণ হিসেবে জেমস ওয়াইজ জীবনর্চাকে চিহ্নিত করেছেন, যেমন, “Occupation, diet, mode of residensce and life, habit, indulgence and vices”, ফলে রোগীর হিস্ট্রি শিটে যা লেখা থাকত তা নির্ভরযোগ্য ছিল না।

১৮৯৮ সালে, সিভিল হাসপাতাল সমূহের মহাপরিদর্শক ঢাকা লুনাটিক অ্যাসাইলাম পরিদর্শনে এসে লেখেন, এখনকার হিস্ট্রিশিটগুলি সঠিক নয়। ঢাকার পাগলা গারদে যাদের নিয়ন্ত্রণে আনা যেত না তাদের মাঝে মধ্যে একলা রাখা হতো, আগাপাশতলা বেঁধে রাখা হতো। জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, ১৮৫০-৫১ সালের দিকে এ ধরনের রোগীদের হাতেপায়ে বেড়ি বা কড়া পরানো হতো। তবে, ১৮৫৩ সালের পর থেকে এ ধরনের পদ্ধতি বাদ দিয়ে দেয়া হয়। এর বদলে নির্জন সেলে রাখা হতো যতক্ষণ না রোগী শান্ত হয়।

ঐ আমলে মানসিক রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি তো আর এত উন্নত হয়নি। তারপর জানা যেত না কেন তার মানসিক ভারসাম্যতা হারিয়েছে। ১৮৬২ সালের দিকে পাগলা গারদের তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছিলেন, মানসিক ভারসাম্যহীনরা শারিরিক কসরত ও মানসিক নৈরাজ্যের জন্য শিঘ্রই ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তারা খাবার খেতে চায় না। তখন তাদের ঘুমের ওষুধ ও টনিক দেয়া হয়। মাঝে মাঝে চিকিৎসার জন্য ভারতীয় ভেষজ পদ্ধতি ও ইউরোপিয়ান পদ্ধতির মিশ্রন ঘটানো হতো। যেমন, ঢাকা গারদে রক্তশূন্যতার জন্য কুইনাইনকে পোর্টের মদ সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হতো। পানি, রাম মদ চিরতার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে খাওয়ানো হতো, তবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় পদ্ধতিই ব্যবহার হতো।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৫)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৫)