সরকার ঘোষিত পাঁচ সংকটাপন্ন ইসলামী বেসরকারি ব্যাংক একীভূকরণ পরিকল্পনার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের হয়েছে। ধারাবাহিক আর্থিক অস্থিরতার মাঝে এই রিট ছোট শেয়ারধারীদের উদ্বেগকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
শেয়ারধারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি
শাহিদুল ইসলাম নামে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার মাহসিব হোসেন রিটটি দায়ের করেন। রিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়, তালিকাভুক্ত পাঁচ ব্যাংকের—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক—শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীরা মূলধন বাজার থেকে নিয়ম মেনে ক্রয় করেছেন। কিন্তু এসব শেয়ারধারীদের প্রাপ্য বরাদ্দ নিশ্চিত না করেই নতুন প্রস্তাবিত সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক বা ইউনাইটেড ইসলামিক ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া এগোনো হয়েছে।
রিটে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডিং অনুপাতে নতুন ব্যাংকে শেয়ার বণ্টনের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন ও আইনগত অবস্থান
ব্যারিস্টার মাহসিব বলেন, সম্পত্তি অধিকার ও ব্যবসা করার অধিকার সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার। তালিকাভুক্ত ব্যাংক একীভূকরণের ক্ষেত্রে এসব অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে। শেয়ারধারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া কাঠামোগত পরিবর্তন করলে সেটি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
আইনজ্ঞরা মনে করেন, ব্যাংক একীভূকরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা থাকলেও তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাজারনীতি, করপোরেট শাসন ও শেয়ারধারীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি অপরিহার্য। আদালতের মতামত ভবিষ্যতের ব্যাংক একীভূকরণ প্রক্রিয়ায় একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
একীভূকরণ পরিকল্পনার পটভূমি
গত ৯ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ পাঁচ সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন বাণিজ্যিক ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করে। কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ব্যাংকটি পেশাদার নীতিমালা, উন্নত পরিচালনা কাঠামো ও ঝুঁকিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—তালিকাভুক্ত শেয়ার কীভাবে সমন্বয় হবে, পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা কীভাবে পরিবর্তিত হবে, আর ক্ষুদ্র শেয়ারধারীরা কোন কাঠামোর মাধ্যমে সুরক্ষা পাবেন।
রিটের প্রাথমিক পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















