০১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
ভয়াবহ ক্লিনিক কাণ্ডের নায়ক শেষমেশ মৃত্যুর মুখে: কুখ্যাত চিকিৎসক কার্মিট গসনেলের অন্ধকার ইতিহাস সম্পর্কে ঢুকে পড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দম্পতির মধ্যে নতুন টানাপোড়েন প্রতিশোধ, প্রেম আর রহস্যে নতুন ঝড়: ‘দ্য কাউন্ট অব মন্টে ক্রিস্টো’ সিরিজে চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন ইরান যুদ্ধ নিয়ে রক্ষণশীলদের বিভক্তি, সিপ্যাক সম্মেলনে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় এক পরিবারের চারজনসহ নিহত পাঁচ নাটোরে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু বাণিজ্যে নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ঢাকাকে আঞ্চলিক কেন্দ্র করার উদ্যোগ ভল্ট ভেঙে ফিরছে বঙ্গবন্ধুর নোট: নগদ সংকটে নীতিপরিবর্তনে বাংলাদেশ ব্যাংক জ্বালানি আমদানির ব্যয় ৪৮০ কোটি ডলার বাড়ার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নতুন চাপ কুমিল্লার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: মা-বাবা-ভাই-বোন হারিয়ে বাকরুদ্ধ ছোট্ট আবরার

ফ্রিদা কাহলোর ‘দ্য ড্রিম (দ্য বেড)’ চিত্রকর্ম রেকর্ডমূল্যে বিক্রি

ফ্রিদা কাহলোর রেকর্ড ভাঙা নিলাম

ফ্রিদা কাহলোর স্ব-প্রতিকৃতি ‘দ্য ড্রিম (দ্য বেড)’ নিলামে ৫৪.৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে—যা নিলামে কোনো নারী শিল্পীর চিত্রকর্মের সর্বোচ্চ মূল্য। এই বিক্রি শুধুমাত্র কাহলোর ব্যক্তিগত রেকর্ডকেই ছাড়িয়ে যায়নি, বরং লাতিন আমেরিকার আর্ট মার্কেটেও নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে।

নতুন রেকর্ড: নারী শিল্পীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্য

মেক্সিকান শিল্পী ফ্রিদা কাহলোর ১৯৪০ সালের আঁকা স্ব-প্রতিকৃতি ‘দ্য ড্রিম (দ্য বেড)’ নিউ ইয়র্কের সোথবিজ নিলামে ৫৪.৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। এটি ২০১৪ সালে ৪৪.৪ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হওয়া জর্জিয়া ও’কিফের ‘জিমসন উইড/হোয়াইট ফ্লাওয়ার নং ১’-এর আগের রেকর্ড ভেঙে দেয়। এ ছাড়া এটি লাতিন আমেরিকার শিল্পকর্মের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়া চিত্রকর্ম। পূর্বের রেকর্ড ছিল ২০২১ সালে এদুয়ার্দো কস্তান্তিনির কেনা কাহলোর আরেকটি স্ব-প্রতিকৃতি ‘দিয়েগো ই ইয়ো’, যার মূল্য ছিল ৩৪.৯ মিলিয়ন ডলার।

চিত্রটির বৈশিষ্ট্য ও শিল্পীর গল্প

‘দ্য ড্রিম (দ্য বেড)’–এ দেখা যায়, নীল আকাশের পটভূমিতে একটি ক্যানোপি বিছানায় ঘুমিয়ে আছেন কাহলো। তাঁর চারপাশে লতা-পাতা বেষ্টিত, আর মাথার ওপর ঝুলছে শুকনো ফুল ও বিস্ফোরক বাঁধা একটি বিশাল কঙ্কাল। তাঁর স্বাক্ষর-ধাঁচের ভ্রু, লম্বা খোলা চুল—সব মিলিয়ে এটি তাঁর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীকধর্মী কাজগুলোর একটি।

ফ্রিদা কাহলো ১৮ বছর বয়সে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন। দীর্ঘ সময় বিছানায় থাকতে হওয়ায় তিনি প্রায়ই শুয়ে শুয়েই আঁকতেন। তাই তাঁর অধিকাংশ চিত্রের আকার ছোট—যদিও এই চিত্রটি ৩ ফুটেরও বেশি চওড়া, যা তাঁর ‘ওয়াল পাওয়ার’ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সোথবিজের প্রস্তুতি ও নিলামের মুহূর্ত

সোথবিজ এই কাজের ব্যাপারে শুরু থেকেই উচ্চ প্রত্যাশা করেছিল এবং ন্যূনতম মূল্য ৪০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করে। নিলামের আগে চিত্রটি লন্ডন, প্যারিস, আবুধাবি এবং হংকংয়ে প্রদর্শন করা হয় সম্ভাব্য ক্রেতাদের আকর্ষণের জন্য।

নিলামে পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে দুই ক্রেতার মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে। অবশেষে ফোনের মাধ্যমে বিড করা এক ক্রেতা চিত্রটি জিতে নেন। নিলামঘরের নতুন ব্রেয়ার ভবনে ফলাফল ঘোষণা হতেই উপস্থিত দর্শকরা করতালিতে ফেটে পড়েন।

কাহলোর কাজ কেন এত মূল্যবান

স্ব-প্রতিকৃতি হওয়ায় এর মূল্য বেশি। কাহলোর মৃত্যুচেতনা ও ব্যক্তিগত যন্ত্রণার প্রতীকী উপস্থাপন এতে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। মেক্সিকোর আইনের কারণে কাহলোর অনেক কাজ দেশ থেকে বাইরে নেওয়া নিষিদ্ধ, ফলে বাজারে সরবরাহ কম। বিশ্বজুড়ে তাঁর জনপ্রিয়তা গত কয়েক দশকে দ্রুতগতিতে বেড়েছে।

চিত্রটিতে মৃত্যুর প্রতীকের ব্যবহার তাঁর বাস্তব জীবনেরই প্রতিফলন—নিজের বিছানার উপরে তিনি সত্যিই একটি ছোট কাগজের কঙ্কাল রাখতেন, যা তাঁর কাছে মৃত্যুর স্থায়ী উপস্থিতির প্রতীক ছিল। তাঁর স্বামী দিয়েগো রিভেরা মজা করে বলতেন, কঙ্কালটি নাকি তাঁর প্রেমিক।

সামগ্রিক শিল্পবাজারে প্রভাব

একই নিলামে হায়্যাট হোটেলের প্রতিষ্ঠাতা জে ও মেরিয়ান প্রিৎসকার দম্পতির সংগ্রহ থেকেও ১৮৮৭ সালের ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ–এর ‘প্যারিসিয়ান নভেলস (দ্য ইয়েলো বুকস)’ ৬২.৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা প্রাক্কলিত মূল্য ৪০ মিলিয়নের চেয়ে অনেক বেশি।

সংগ্রাহক ও উৎস

কাহলোর ‘দ্য ড্রিম’ এসেছিল সেলমা এরতেগুনের সংগ্রহ থেকে। তিনি তাঁর স্বামী—প্রখ্যাত জ্যাজ প্রযোজক নেসুহি এরতেগুনের সঙ্গে মিলিতভাবে সুররিয়ালিস্ট শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ গড়ে তুলেছিলেন। নেসুহি ১৯৮৯ সালে মারা যান এবং সেলমা গত বছর প্রয়াত হন।

এই নিলাম শুধু রেকর্ড ভাঙেনি, বরং ফ্রিদা কাহলোর শিল্পের বৈশ্বিক গুরুত্ব ও ব্যক্তিগত বেদনার শিল্পায়নকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভয়াবহ ক্লিনিক কাণ্ডের নায়ক শেষমেশ মৃত্যুর মুখে: কুখ্যাত চিকিৎসক কার্মিট গসনেলের অন্ধকার ইতিহাস

ফ্রিদা কাহলোর ‘দ্য ড্রিম (দ্য বেড)’ চিত্রকর্ম রেকর্ডমূল্যে বিক্রি

১১:৩৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

ফ্রিদা কাহলোর রেকর্ড ভাঙা নিলাম

ফ্রিদা কাহলোর স্ব-প্রতিকৃতি ‘দ্য ড্রিম (দ্য বেড)’ নিলামে ৫৪.৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে—যা নিলামে কোনো নারী শিল্পীর চিত্রকর্মের সর্বোচ্চ মূল্য। এই বিক্রি শুধুমাত্র কাহলোর ব্যক্তিগত রেকর্ডকেই ছাড়িয়ে যায়নি, বরং লাতিন আমেরিকার আর্ট মার্কেটেও নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে।

নতুন রেকর্ড: নারী শিল্পীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্য

মেক্সিকান শিল্পী ফ্রিদা কাহলোর ১৯৪০ সালের আঁকা স্ব-প্রতিকৃতি ‘দ্য ড্রিম (দ্য বেড)’ নিউ ইয়র্কের সোথবিজ নিলামে ৫৪.৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। এটি ২০১৪ সালে ৪৪.৪ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হওয়া জর্জিয়া ও’কিফের ‘জিমসন উইড/হোয়াইট ফ্লাওয়ার নং ১’-এর আগের রেকর্ড ভেঙে দেয়। এ ছাড়া এটি লাতিন আমেরিকার শিল্পকর্মের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়া চিত্রকর্ম। পূর্বের রেকর্ড ছিল ২০২১ সালে এদুয়ার্দো কস্তান্তিনির কেনা কাহলোর আরেকটি স্ব-প্রতিকৃতি ‘দিয়েগো ই ইয়ো’, যার মূল্য ছিল ৩৪.৯ মিলিয়ন ডলার।

চিত্রটির বৈশিষ্ট্য ও শিল্পীর গল্প

‘দ্য ড্রিম (দ্য বেড)’–এ দেখা যায়, নীল আকাশের পটভূমিতে একটি ক্যানোপি বিছানায় ঘুমিয়ে আছেন কাহলো। তাঁর চারপাশে লতা-পাতা বেষ্টিত, আর মাথার ওপর ঝুলছে শুকনো ফুল ও বিস্ফোরক বাঁধা একটি বিশাল কঙ্কাল। তাঁর স্বাক্ষর-ধাঁচের ভ্রু, লম্বা খোলা চুল—সব মিলিয়ে এটি তাঁর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীকধর্মী কাজগুলোর একটি।

ফ্রিদা কাহলো ১৮ বছর বয়সে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন। দীর্ঘ সময় বিছানায় থাকতে হওয়ায় তিনি প্রায়ই শুয়ে শুয়েই আঁকতেন। তাই তাঁর অধিকাংশ চিত্রের আকার ছোট—যদিও এই চিত্রটি ৩ ফুটেরও বেশি চওড়া, যা তাঁর ‘ওয়াল পাওয়ার’ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সোথবিজের প্রস্তুতি ও নিলামের মুহূর্ত

সোথবিজ এই কাজের ব্যাপারে শুরু থেকেই উচ্চ প্রত্যাশা করেছিল এবং ন্যূনতম মূল্য ৪০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করে। নিলামের আগে চিত্রটি লন্ডন, প্যারিস, আবুধাবি এবং হংকংয়ে প্রদর্শন করা হয় সম্ভাব্য ক্রেতাদের আকর্ষণের জন্য।

নিলামে পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে দুই ক্রেতার মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে। অবশেষে ফোনের মাধ্যমে বিড করা এক ক্রেতা চিত্রটি জিতে নেন। নিলামঘরের নতুন ব্রেয়ার ভবনে ফলাফল ঘোষণা হতেই উপস্থিত দর্শকরা করতালিতে ফেটে পড়েন।

কাহলোর কাজ কেন এত মূল্যবান

স্ব-প্রতিকৃতি হওয়ায় এর মূল্য বেশি। কাহলোর মৃত্যুচেতনা ও ব্যক্তিগত যন্ত্রণার প্রতীকী উপস্থাপন এতে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। মেক্সিকোর আইনের কারণে কাহলোর অনেক কাজ দেশ থেকে বাইরে নেওয়া নিষিদ্ধ, ফলে বাজারে সরবরাহ কম। বিশ্বজুড়ে তাঁর জনপ্রিয়তা গত কয়েক দশকে দ্রুতগতিতে বেড়েছে।

চিত্রটিতে মৃত্যুর প্রতীকের ব্যবহার তাঁর বাস্তব জীবনেরই প্রতিফলন—নিজের বিছানার উপরে তিনি সত্যিই একটি ছোট কাগজের কঙ্কাল রাখতেন, যা তাঁর কাছে মৃত্যুর স্থায়ী উপস্থিতির প্রতীক ছিল। তাঁর স্বামী দিয়েগো রিভেরা মজা করে বলতেন, কঙ্কালটি নাকি তাঁর প্রেমিক।

সামগ্রিক শিল্পবাজারে প্রভাব

একই নিলামে হায়্যাট হোটেলের প্রতিষ্ঠাতা জে ও মেরিয়ান প্রিৎসকার দম্পতির সংগ্রহ থেকেও ১৮৮৭ সালের ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ–এর ‘প্যারিসিয়ান নভেলস (দ্য ইয়েলো বুকস)’ ৬২.৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা প্রাক্কলিত মূল্য ৪০ মিলিয়নের চেয়ে অনেক বেশি।

সংগ্রাহক ও উৎস

কাহলোর ‘দ্য ড্রিম’ এসেছিল সেলমা এরতেগুনের সংগ্রহ থেকে। তিনি তাঁর স্বামী—প্রখ্যাত জ্যাজ প্রযোজক নেসুহি এরতেগুনের সঙ্গে মিলিতভাবে সুররিয়ালিস্ট শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ গড়ে তুলেছিলেন। নেসুহি ১৯৮৯ সালে মারা যান এবং সেলমা গত বছর প্রয়াত হন।

এই নিলাম শুধু রেকর্ড ভাঙেনি, বরং ফ্রিদা কাহলোর শিল্পের বৈশ্বিক গুরুত্ব ও ব্যক্তিগত বেদনার শিল্পায়নকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।