০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে নির্যাতন চালিয়ে করানো হতো সাইবার জালিয়াতির কাজ গাজা ‘বোর্ড অব পিস’ বিতর্ক: ট্রাম্পের নতুন প্ল্যাটফর্মে নেতানিয়াহুর যোগ, সমান্তরাল কূটনীতি নিয়ে প্রশ্ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৮) সোনা–রুপার দামে ইতিহাস, ইউরোপ–আমেরিকা উত্তেজনায় নিরাপদ বিনিয়োগে দৌড় উষ্ণ অ্যান্টার্কটিকায় সময়ের আগেই প্রজনন, বিপন্ন দুই পেঙ্গুইন প্রজাতি প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫৪) নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ ঝুঁকির খেলায় তরুণেরা, নকল টাকায় বিনিয়োগের রোমাঞ্চে গড়ে উঠছে নতুন অভ্যাস তারকা র‍্যাপারের দোদুল্যমান প্রত্যাবর্তন: এএসএপি রকির নতুন অ্যালবাম কতটা বলার আছে

বেলেঁমের কোপ৩০ সমঝোতা: অর্থ প্রতিশ্রুতি বাড়ল, কিন্তু জ্বালানি কাটছাঁট নেই

অর্থ বাড়ছে, জীবাশ্ম জ্বালানিতে নরম ভাষা
ব্রাজিলের আমাজন নগরী বেলেঁমে অনুষ্ঠিত কোপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনে দেশগুলো এমন এক সমঝোতায় পৌঁছেছে, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নেই। চুক্তিতে ধনী দেশগুলোকে ২০৩৫ সালের মধ্যে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য আর্থিক সহায়তা অন্তত তিনগুণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন দুর্বল রাষ্ট্রগুলো তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা ও ঝড়ের ধাক্কা সামলাতে পারে। আয়োজক হিসেবে ব্রাজিল এই ফলাফলকে “বৈশ্বিক ঐক্যের বার্তা” হিসেবে তুলে ধরছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন বিশ্বের বৃহত্তম ঐতিহাসিক নির্গমনকারী যুক্তরাষ্ট্র এই সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠায়নি। তবে অনেক পরিবেশকর্মী ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশ মনে করছে, এই ভাষা বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় অনেকটা দুর্বল; তাদের অভিযোগ, চুক্তিটি আবারও মূল সমস্যার—তেল, গ্যাস ও কয়লার—মুখোমুখি হতে পিছিয়ে গেছে।

কারা খুশি, কারা হতাশ—আগামী পথ কোথায়
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক লাতিন আমেরিকান দেশ, বিশেষ করে কলম্বিয়া, পানামা ও উরুগুয়ে চেয়েছিল চুক্তিতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সুনির্দিষ্ট ট্রানজিশনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকুক। তারা যুক্তি দিয়েছিল, বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে হলে কয়লা, তেল ও গ্যাস–নির্ভরতা কমানোর সময়সীমা নিয়ে কোনো না কোনো নির্দেশনা দেওয়া জরুরি। দীর্ঘ রাতের উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনার পর ইইউ শেষ পর্যন্ত ‘না’র ভোট দিয়ে চুক্তি আটকে না দিয়ে সরে দাঁড়ায়, যুক্তি ছিল—অর্থ ও অভিযোজন নিয়ে কিছুটা অগ্রগতি হলেও তা শূন্য ফলাফলের চেয়ে ভালো। জীবাশ্ম জ্বালানি ও বন রক্ষার বিষয়ে পৃথক এক সাইড–টেক্সট মূল চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে, যা উৎপাদক দেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যকার তীব্র মতভেদের প্রতিফলন। উপকূলীয় ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ও দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ঘোষিত নতুন অর্থায়ন প্রতিশ্রুতি ক্ষত–ক্ষতি (লস অ্যান্ড ড্যামেজ) মোকাবিলায় কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে, তবে বাস্তবে কত দ্রুত এই অর্থ ছাড় হবে এবং কতটা অনুদান, কতটা ঋণ—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থাকছে। জলবায়ু কূটনীতিকেরা বলছেন, তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ায় হতে যাওয়া পরবর্তী সম্মেলনগুলোই ঠিক করে দেবে, কোপ৩০–এর এই সমঝোতা ভবিষ্যতের জন্য সোপান নাকি আরেকটি হারানো সুযোগ হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে

বেলেঁমের কোপ৩০ সমঝোতা: অর্থ প্রতিশ্রুতি বাড়ল, কিন্তু জ্বালানি কাটছাঁট নেই

০৮:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

অর্থ বাড়ছে, জীবাশ্ম জ্বালানিতে নরম ভাষা
ব্রাজিলের আমাজন নগরী বেলেঁমে অনুষ্ঠিত কোপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনে দেশগুলো এমন এক সমঝোতায় পৌঁছেছে, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নেই। চুক্তিতে ধনী দেশগুলোকে ২০৩৫ সালের মধ্যে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য আর্থিক সহায়তা অন্তত তিনগুণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন দুর্বল রাষ্ট্রগুলো তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা ও ঝড়ের ধাক্কা সামলাতে পারে। আয়োজক হিসেবে ব্রাজিল এই ফলাফলকে “বৈশ্বিক ঐক্যের বার্তা” হিসেবে তুলে ধরছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন বিশ্বের বৃহত্তম ঐতিহাসিক নির্গমনকারী যুক্তরাষ্ট্র এই সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠায়নি। তবে অনেক পরিবেশকর্মী ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশ মনে করছে, এই ভাষা বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় অনেকটা দুর্বল; তাদের অভিযোগ, চুক্তিটি আবারও মূল সমস্যার—তেল, গ্যাস ও কয়লার—মুখোমুখি হতে পিছিয়ে গেছে।

কারা খুশি, কারা হতাশ—আগামী পথ কোথায়
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক লাতিন আমেরিকান দেশ, বিশেষ করে কলম্বিয়া, পানামা ও উরুগুয়ে চেয়েছিল চুক্তিতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সুনির্দিষ্ট ট্রানজিশনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকুক। তারা যুক্তি দিয়েছিল, বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে হলে কয়লা, তেল ও গ্যাস–নির্ভরতা কমানোর সময়সীমা নিয়ে কোনো না কোনো নির্দেশনা দেওয়া জরুরি। দীর্ঘ রাতের উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনার পর ইইউ শেষ পর্যন্ত ‘না’র ভোট দিয়ে চুক্তি আটকে না দিয়ে সরে দাঁড়ায়, যুক্তি ছিল—অর্থ ও অভিযোজন নিয়ে কিছুটা অগ্রগতি হলেও তা শূন্য ফলাফলের চেয়ে ভালো। জীবাশ্ম জ্বালানি ও বন রক্ষার বিষয়ে পৃথক এক সাইড–টেক্সট মূল চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে, যা উৎপাদক দেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যকার তীব্র মতভেদের প্রতিফলন। উপকূলীয় ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ও দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ঘোষিত নতুন অর্থায়ন প্রতিশ্রুতি ক্ষত–ক্ষতি (লস অ্যান্ড ড্যামেজ) মোকাবিলায় কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে, তবে বাস্তবে কত দ্রুত এই অর্থ ছাড় হবে এবং কতটা অনুদান, কতটা ঋণ—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থাকছে। জলবায়ু কূটনীতিকেরা বলছেন, তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ায় হতে যাওয়া পরবর্তী সম্মেলনগুলোই ঠিক করে দেবে, কোপ৩০–এর এই সমঝোতা ভবিষ্যতের জন্য সোপান নাকি আরেকটি হারানো সুযোগ হয়ে থাকবে।