আর্সেনাল ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল বায়ার্ন মিউনিখকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের সেরা অবস্থান আরও মজবুত করেছে। ২৬ নভেম্বর এমিরেটস স্টেডিয়ামে হওয়া এই জয়ে দলটি গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে তিন পয়েন্টের ব্যবধান ধরে রেখেছে এবং শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পথে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে।
উইলিয়াম সালিবার সঙ্গে উদযাপন করে নিজের প্রথম আর্সেনাল গোলটি করেন ননি মাদুয়েকে। এছাড়া বদলি হিসেবে নামানো গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিও গোল করে দলকে এগিয়ে নেন।
টিম্বারের গোলের পর ঘুরে দাঁড়াল আর্সেনাল
ম্যাচের প্রথমার্ধে জুরিয়েন টিম্বার আর্সেনালকে এগিয়ে দিলে বায়ার্নের ১৭ বছর বয়সী লেনার্ট কার্ল প্রথমার্ধের শেষ দিকে সমতা ফেরান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের রূপ পুরো বদলে যায়। বদলি হিসেবে নামা ননি মাদুয়েকে নিজের প্রথম আর্সেনাল গোল করে দলকে আবার এগিয়ে নেন। এরপর মার্টিনেল্লির গোলের পেছনে ছিল বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারের বড় ভুল।
চ্যাম্পিয়নস লিগে পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয়ে আর্সেনাল এখন গ্রুপে একাই শীর্ষে। বায়ার্ন সহ আরও কয়েকটি দলকে তিন পয়েন্ট পিছনে ফেলে তারা দারুণ ফর্মে আছে।
আর্টেটার প্রশংসা: ‘ইউরোপের সেরা দলের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স’
ম্যাচ শেষের পর আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা তার দলের প্রশংসায় বলেন, তার মতে বায়ার্ন ইউরোপের সেরা দল, আর তাদের বিপক্ষে এমন আধিপত্য দেখানো অসাধারণ অর্জন।
মিকেল আর্তেতা বলেন,
“খেলোয়াড়দের আলাদাভাবে এবং দলগতভাবে যে মান দেখাতে হয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। সপ্তাহটা আমরা দারুণভাবে শুরু করেছি স্পার্সের বিপক্ষে জিতে। আজকের এই জয়ও তেমন একটি বড় সাফল্য। এখন বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নিয়ে আগামীকাল থেকে চেলসির (৩০ নভেম্বর) প্রস্তুতি শুরু হবে।”
তিনি আরও বলেন, দ্রুত শেষ ষোলো নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
পরপর ব্যর্থতার পর সম্ভাবনার নতুন দরজা
শেষ কয়েক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে টানা তিনবার উপরে উঠেও শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্সেনাল। তবে এবার তাদের খেলার ধারাবাহিকতা দেখে অনেকেই বিশ্বাস করছেন, দলটি বড় কোনো অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
বদলি নেমে দুই খেলোয়াড়ের গোল পাওয়া দলের স্কোয়াডের শক্তিই প্রমাণ করে। আর্সেনাল এখনো মাঠে নামাতে পারেনি গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, কাই হাভার্টজ এবং ভিক্তর গিয়োকারেসের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের।

মিকেল আর্তেতা বলেন,
“যে খেলোয়াড়রাই নামে, তারাই ম্যাচের মোড় বদলে দিতে পারে—এটাই আমাদের শক্তি। এখন কেবল মান নয়, মানসিক দিক থেকেও খেলোয়াড়রা অনেক পরিণত, যা আমাদের জন্য বড় পার্থক্য তৈরি করছে।”
বায়ার্নের প্রতিক্রিয়া: ‘আতঙ্কের কিছু নেই’
বায়ার্নের স্ট্রাইকার হ্যারি কেন মনে করেন, এই হার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তার ভাষায়,
“এটা কঠিন ম্যাচ ছিল, যা আমরা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের গতি এবং জয়ের লড়াইটা একটু কমে গিয়েছিল। এটা আমাদের মৌসুমের প্রথম হার—এ নিয়ে খুব বেশি ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কিন্তু ভুলগুলো থেকে অবশ্যই শিখতে হবে।”
কেন এই মৌসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইতোমধ্যেই ২৯ গোল করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















