১১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
রাজধানীতে অনলাইন প্রতারণা চক্রের আস্তানা: তিন চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৪, জব্দ ৬ হাজার সিম আগে আয়কর রিটার্ন দিলে মিলবে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কর রেয়াত, নতুন প্রণোদনা এনবিআরের বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩৭ শতাংশ, বেড়েছে ঋণ পরিশোধের চাপ ঢাবির স্নাতক ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর, পরীক্ষা ডিসেম্বরজুড়ে এফবিসিসিআইয়ে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ফজলুল হক, ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের লক্ষ্য এলপিজির দাম আবার বাড়ল, ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৭০ টাকা বৃদ্ধি ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ফায়ার সার্ভিসও ডেঙ্গুতে আরও দুই প্রাণহানি, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪২৩ পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ১৭ কর্মী ছাঁটাই, ডিএসই বলছে এটি দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের পরিকল্পনা ফেন্ডিতে নতুন অধ্যায়: মারিয়া গ্রাজিয়া কিউরির নেতৃত্বে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার নতুন সংলাপ

বিচারকদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন গণ-আটক নীতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আইনি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কয়েক মাসের মধ্যেই ২২০ জনের বেশি ফেডারেল বিচারক নীতিটিকে অযৌক্তিক বা অবৈধ ঘোষণা করেছেন। বহু বছর ধরে দেশে বসবাসকারী অভিবাসীদের বাধ্যতামূলক আটকের সিদ্ধান্ত থেকেই এই সংকটের সূত্রপাত।

নীতির পটভূমি
গত ৩০ বছর ধরে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী—দীর্ঘদিন বসবাস, পরিবার, কর্মসংস্থান বা আশ্রয়ের আবেদন থাকা অভিবাসীদের ‘নতুন আগমনকারী’ ধরা হতো না। ফলে তারা বাধ্যতামূলক আটকের আওতায় পড়তেন না।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতি বদলে দেয় এবং বহু বছর ধরে দেশে থাকা লোকজনকেও ‘দেশে প্রবেশের অনুমতি চাইছে’ হিসেবে ধরে বাধ্যতামূলক আটকের আওতায় আনে।

বিচারকদের সমালোচনা
অনেক বিচারক এই ব্যাখ্যাকে আইনের প্রচলিত ধারা ও বাস্তবতার পরিপন্থী বলে রায় দেন। একজন বিচারক মন্তব্য করেন—এটি এমন যেন কেউ সিনেমা হলে ঢুকে বসে আছে, অথচ তাকে বলা হচ্ছে সে এখনও “প্রবেশের অনুমতি চাইছে।”
ডজনের পর ডজন বিচারকই মনে করেন, সরকারের ব্যাখ্যাটি অযৌক্তিক।

জামিন কাঠামো ভেঙে পড়া
আগে যাদের বিরুদ্ধে দেশছাড়া করার মামলা চলত, তারা বিচার চলাকালীন মুক্ত থাকতে পারতেন এবং আটক হলে জামিন চাইতে পারতেন। বিচারকরা বিবেচনা করতেন তারা সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কি না বা পালানোর সম্ভাবনা আছে কি না।
কিন্তু নতুন নীতিতে Board of Immigration Appeals ঘোষণা করে যে অভিবাসন বিচারকদের আর কোনো ক্ষমতা নেই এই আটক ব্যক্তিদের জামিন দেওয়ার। ফলে ফেডারেল আদালতই হয়ে ওঠে তাদের শেষ আশ্রয়।

ফেডারেল আদালতে মামলার ঢল
POLITICO-র সমীক্ষায় দেখা গেছে—হাজারো মামলায় বিচারকরা সরকারবিরোধী রায় দিচ্ছেন।
সর্বশেষ হিসেবে, অন্তত ২২৫ জন ফেডারেল বিচারক ৫০০-এর বেশি আটক অভিবাসীকে মুক্তি বা জামিন শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন—
ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের নিয়োগপ্রাপ্ত ১৬৬ জন এবং রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৯ জন বিচারকসহ প্রায় সব রাজ্যেই নীতির বিপরীতে রায় এসেছে।


ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-আটক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। বিচারকদের ধারাবাহিক রায় প্রমাণ করে—নীতিটি আইনি ও বাস্তবিক উভয় দিক থেকেই অকার্যকর ও অযৌক্তিক।


#TrumpPolicy #USCourts #Immigration

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে অনলাইন প্রতারণা চক্রের আস্তানা: তিন চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৪, জব্দ ৬ হাজার সিম

বিচারকদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ

০১:৪৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন গণ-আটক নীতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আইনি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কয়েক মাসের মধ্যেই ২২০ জনের বেশি ফেডারেল বিচারক নীতিটিকে অযৌক্তিক বা অবৈধ ঘোষণা করেছেন। বহু বছর ধরে দেশে বসবাসকারী অভিবাসীদের বাধ্যতামূলক আটকের সিদ্ধান্ত থেকেই এই সংকটের সূত্রপাত।

নীতির পটভূমি
গত ৩০ বছর ধরে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী—দীর্ঘদিন বসবাস, পরিবার, কর্মসংস্থান বা আশ্রয়ের আবেদন থাকা অভিবাসীদের ‘নতুন আগমনকারী’ ধরা হতো না। ফলে তারা বাধ্যতামূলক আটকের আওতায় পড়তেন না।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতি বদলে দেয় এবং বহু বছর ধরে দেশে থাকা লোকজনকেও ‘দেশে প্রবেশের অনুমতি চাইছে’ হিসেবে ধরে বাধ্যতামূলক আটকের আওতায় আনে।

বিচারকদের সমালোচনা
অনেক বিচারক এই ব্যাখ্যাকে আইনের প্রচলিত ধারা ও বাস্তবতার পরিপন্থী বলে রায় দেন। একজন বিচারক মন্তব্য করেন—এটি এমন যেন কেউ সিনেমা হলে ঢুকে বসে আছে, অথচ তাকে বলা হচ্ছে সে এখনও “প্রবেশের অনুমতি চাইছে।”
ডজনের পর ডজন বিচারকই মনে করেন, সরকারের ব্যাখ্যাটি অযৌক্তিক।

জামিন কাঠামো ভেঙে পড়া
আগে যাদের বিরুদ্ধে দেশছাড়া করার মামলা চলত, তারা বিচার চলাকালীন মুক্ত থাকতে পারতেন এবং আটক হলে জামিন চাইতে পারতেন। বিচারকরা বিবেচনা করতেন তারা সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কি না বা পালানোর সম্ভাবনা আছে কি না।
কিন্তু নতুন নীতিতে Board of Immigration Appeals ঘোষণা করে যে অভিবাসন বিচারকদের আর কোনো ক্ষমতা নেই এই আটক ব্যক্তিদের জামিন দেওয়ার। ফলে ফেডারেল আদালতই হয়ে ওঠে তাদের শেষ আশ্রয়।

ফেডারেল আদালতে মামলার ঢল
POLITICO-র সমীক্ষায় দেখা গেছে—হাজারো মামলায় বিচারকরা সরকারবিরোধী রায় দিচ্ছেন।
সর্বশেষ হিসেবে, অন্তত ২২৫ জন ফেডারেল বিচারক ৫০০-এর বেশি আটক অভিবাসীকে মুক্তি বা জামিন শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন—
ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের নিয়োগপ্রাপ্ত ১৬৬ জন এবং রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৯ জন বিচারকসহ প্রায় সব রাজ্যেই নীতির বিপরীতে রায় এসেছে।


ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-আটক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। বিচারকদের ধারাবাহিক রায় প্রমাণ করে—নীতিটি আইনি ও বাস্তবিক উভয় দিক থেকেই অকার্যকর ও অযৌক্তিক।


#TrumpPolicy #USCourts #Immigration