মালয়েশিয়ার ফুটবলে কখন একজন খেলোয়াড় মালয়েশিয়ান নন—এই প্রশ্নকে ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ব্রাজিলের ফুটবলার জোয়াও ফিগুয়েরেদো ৩ জুন মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ার পর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় দলের নায়কে পরিণত হন। ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম গোল করে তিনি দলকে ৪–০ ব্যবধানে বড় জয় এনে দেন। এটি মালয়েশিয়ার ফুটবলের এক গৌরবময় রাত হলেও একই সঙ্গে সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপশিরোনাম: নাগরিকত্ব ও দলে বিদেশি খেলোয়াড়ের প্রভাব
এই ম্যাচে মালয়েশিয়ার জয়ের পিছনে পাঁচজন নতুন নাগরিকত্ব প্রাপ্ত খেলোয়াড় ছিলেন, যারা ম্যাচের মাত্র এক সপ্তাহ আগে মালয়েশিয়ান হয়েছেন। বছরের শুরুতে আরও দুইজন খেলোয়াড় নাগরিকত্ব পান। কারও জন্ম মালয়েশিয়ায় নয়, তবে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব মালয়েশিয়া (FAM) দাবি করেছে—এদের প্রত্যেকের কমপক্ষে একজন দাদা বা দাদি মালয়েশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেই সূত্রেই তাদের নাগরিকত্ব বৈধ বলে জানানো হয়।
উপশিরোনাম: ফিফার অভিযোগ ও তদন্তের ফলাফল
কিন্তু ফিফা এই বক্তব্য মানতে নারাজ। ম্যাচ শেষে একটি বেনামি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ফিফা জানায়—খেলোয়াড়দের নথিপত্র জাল করা হয়েছে। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী এটি ছিল সরাসরি ‘প্রতারণা’। ফিফা FAM-কে জরিমানা করে এবং বিষয়টি মালয়েশিয়ার অপরাধ তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করে। ১৭ নভেম্বর প্রকাশিত ফিফার প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিগুয়েরা তোর দাদির জন্মস্থান মালয়েশিয়ার জোহর নয়, বরং ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস। অন্য ছয় খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। আরও জানা যায়, খেলোয়াড়রা যে নথিতে সই করেছেন, তার বেশিরভাগই মালয় ভাষায় লেখা হওয়ায় তারা তা বুঝতে পারেননি। চারজন খেলোয়াড় মালয়েশিয়ার কোনো ক্লাবে খেলেননি আন্তর্জাতিক অভিষেকের আগে; তিনজন ২০২৫ সালে প্রথমবার চুক্তিবদ্ধ হন।

উপশিরোনাম: সরকারের প্রতিক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ সংকট
মালয়েশিয়া অবশ্যই ইচ্ছাকৃত জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অভিযোগ ওঠার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান—নাগরিকত্ব দিতে কঠোর যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল। FAM বলেছে, তারা ফিফার সিদ্ধান্ত খেলাধুলার আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চ্যালেঞ্জ করবে, যদিও তারা স্বীকার করেছে যে কোনো ‘কারিগরি ভুল’ হয়ে থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এই বিতর্ক থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে এবং সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় FAM-এর নতুন অর্থায়ন স্থগিত করেছে।
উপশিরোনাম: ক্ষুব্ধ জনমত ও এশিয়ান কাপে সম্ভাবনা সংকটে
এতকিছুর পরও জনরোষ থামেনি। মালয়েশিয়ানরা FAM ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতার দাবি তুলছেন। দেশটি বহু বছর পর এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এই ঘটনার কারণে সম্ভাব্য পয়েন্ট কাটা হলে সেই স্বপ্ন ভেস্তে যেতে পারে। স্থানীয় ক্রীড়া বিশ্লেষক ঐশী রিজুয়ান বলেন, “এ দেশের মানুষ আগে থেকেই ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে খুব বেশি আশা করে না, কিন্তু এবার যে ধরনের কেলেঙ্কারি প্রকাশ পেল তা সত্যিই হতাশাজনক।”

নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া নিয়ে পুরোনো ক্ষোভ
বহু মালয়েশিয়ানের কাছে এই ঘটনা দেশের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতার আরেকটি উদাহরণ। পাঁচজন খেলোয়াড়কে আবেদন করার দিনই পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে—এ ঘটনা দেখিয়ে অনেকে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ করছেন। অথচ মালয়েশিয়ায় মোট প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার রাষ্ট্রহীন মানুষ আছে—যাদের অনেকেই দেশে জন্মেছেন ও বড় হয়েছেন। তাদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়া এখনো খুবই কঠিন।
#মালয়েশিয়া #ফুটবল_বিতর্ক #ফিফা #নাগরিকত্ব #এশিয়ান_কাপ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















