হংকং—এক শহর যেখানে মানুষ ঘুমায়, কাজ করে, পরিবার গড়ে তোলে আকাশছোঁয়া ভবনের ভেতর, সেই শহরেই কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে এলো এই সপ্তাহে। তাই পোর ওয়াং ফুক কোর্টের ৩২-তলা একটি ভবনে শুরু হওয়া আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আরও ছয়টি টাওয়ারে। অগ্নিকাণ্ডে শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ১২৮ জন মারা গেছেন, আর ২০০ জন এখনো নিখোঁজ।
আগুন লাগার ২৪ ঘণ্টা পরও তিনটি ভবনের ভিতরে দাউদাউ করে জ্বলছিল আগুন। শত শত ফায়ারফাইটার দিনরাত উদ্ধার চালিয়ে বন্দী মানুষ এবং মৃতদেহ টেনে বের করেছেন। কাছের অস্থায়ী কেন্দ্রে শতাধিক মানুষ লাইন ধরে অপেক্ষা করছিলেন—তাদের প্রিয়জন পাওয়া গেছে কি না জানতে।
নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ—দুই পরিচালক গ্রেপ্তার
তদন্তকারীরা আগুন কেন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল তা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে চোখ রাখেন সবুজ নির্মাণ–জাল, তারপলিন এবং পলিস্টাইরিন ফোম–এর দিকে—যা ভবনটির সংস্কারকাজে ব্যবহার হচ্ছিল। পুলিশ দুই পরিচালক ও এক কনসালট্যান্টকে গ্রেপ্তার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—অবহেলা ও হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা। বাসিন্দারা বলছেন—ফায়ার অ্যালার্মও বাজেনি, কোনো সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়নি।
৭৮ বছর বয়সী লাউ ইউ হাং বলেছেন—তাঁর ভবনে জানালাগুলো পাতলা ফোমে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল, নির্মাণকাজের সময় কাচ বাঁচানোর অজুহাতে। বাইরে কিছু দেখা যেত না। বাথরুমের ছোট্ট ফাঁক দিয়ে তিনি আগুন দেখে পালাতে পেরেছেন।

জনগণের ক্ষোভ—হংকংয়ের ভবন–নিরাপত্তা ব্যবস্থাই কি ব্যর্থ?
সংস্কার–তদারকি করা হাউজিং কমিটি ও ঠিকাদারদের মধ্যে গোপন যোগসাজশ এবং জবাবদিহির অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমালোচকেরা বলছেন—এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি ব্যবস্থাগত ব্যর্থতা।
ইমিলি লাউ, প্রো-ডেমোক্রেসি রাজনীতিক, বলেন—
“এটা কেলেঙ্কারি। হংকং এমন নয়। এই আগুন সরকারের দুর্বল তদারকি উন্মোচন করেছে।”
অতীতের রেকর্ডও ভয়াবহ: এটি ১৯৪৮ সালের গুদাম অগ্নিকাণ্ডের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী আগুন। এমনকি ২০১৭ সালের লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারের আগুনকেও ছাড়িয়ে গেছে।
চীনের চাপ, জন লির রাজনৈতিক সংকট
বেইজিং–সমর্থিত নেতা জন লি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ৩০০ মিলিয়ন হংকং ডলার (৩৮ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ তহবিলের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি—
- শহরজুড়ে সব সংস্কারাধীন হাউজিং কমপ্লেক্সে জরুরি পরিদর্শন,
- দুর্নীতি দমন কমিশনের টাস্কফোর্স,
- এবং ফায়ার–সেফটি স্ট্যান্ডার্ড পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ।
আগামী মাসে হংকংয়ে নির্বাচনের কথা—যেখানে কার্যত কোনো বিরোধী দল নেই। তাই এই অগ্নিকাণ্ড সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দুর্বল করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাসিন্দারা বিভিন্ন ভবনের ফোম–আবৃত জানালা ও দাহ্য উপকরণের ছবি পোস্ট করছেন—ভয় ও ক্ষোভ বাড়ছে।
বাঁশের স্ক্যাফোল্ডে আগুন—এক পুরোনো ঝুঁকি আবার সামনে
ওয়াং ফুক কোর্টে ব্যবহৃত বাঁশের স্ক্যাফোল্ড দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। গত মাসে শহরের সেন্ট্রাল জেলায় আরেকটি স্ক্যাফোল্ডে আগুন লেগেছিল। সরকার ঘোষণা দিয়েছিল—বাঁশের বদলে ধাপে ধাপে ধাতব স্ক্যাফোল্ডে বদলানো হবে।
হংকং ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স–এর সাবেক চেয়ারম্যান টনি জা বলেন—জাল–টানানো বাঁশের স্ক্যাফোল্ড আগুন দ্রুত ছড়াতে সাহায্য করেছে।

নিরাপত্তা, নির্মাণ ও দুর্নীতির ত্রিভুজে আটকে হংকংয়ের ট্র্যাজেডি
একটি শহর যেখানে মাথার ওপর উঁচু উঁচু টাওয়ারই আশ্রয়—সেখানে নিরাপত্তার এমন ব্যর্থতা শুধু মানবিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক সংকেতও।
বাড়তে থাকা প্রশ্ন এখন—
এত মানুষের মৃত্যুতে কি কেউ জবাবদিহি করবে?
এবং হংকংয়ের নির্মাণ–নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কি পুনর্গঠনের মুখ দেখবে?
Meta Description: হংকংয়ের তাই পোর ওয়াং ফুক কোর্টে ভয়াবহ আগুনে ১২৮ জন নিহত। দাহ্য নির্মাণসামগ্রী, দুর্নীতি ও সরকারি তদারকির ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্ক তীব্র।
Keyphrase: হংকং অগ্নিকাণ্ড তদন্ত
Facebook Caption:
হংকংয়ের সাম্প্রতিকতম সংকট—ওয়াং ফুক কোর্টের আগুনে শতাধিক মৃত্যু নির্মাণ–ব্যবস্থার দুর্বলতা, দুর্নীতি ও জবাবদিহির অভাবকে সামনে এনেছে। জন লি সরকার কঠিন চাপের মুখে।
#HongKong #Fire #Safety #Sarakhon #ThePresentWorl
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















