০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চাওয়া ব্যক্তিদের পর্যটন-ব্যবসায়িক ভিসা বাতিল করবে ট্রাম্প প্রশাসন নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার কারণ কি হিমবাহ ধস? নতুন তথ্য যা বলছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে পারমাণবিক ক্ষুদ্র চুল্লি, ব্যয় হবে ২২০ কোটি ডলার ইরানে ডলারের দাম ছাড়াল ২০ লাখ রিয়াল, চরম সংকটে সাধারণ মানুষের জীবন ডলারের স্থিতিশীলতা, জাপানি ইয়েনে বড় পরিবর্তন নেই—জ্যাকসন হোলের দিকে নজর বাজারের কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, শোনা গেল একের পর এক বিস্ফোরণ রাশিয়ার ওপর ‘স্লেজহ্যামার’ নিষেধাজ্ঞা, আগামী মাসে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাসের আশা কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আশায় ছিল গাড়ি নির্মাতারা, হঠাৎ দ্বিগুণ শুল্কের ধাক্কা এনভিডিয়ার আয় ৭০ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের জোয়ার আরও কয়েক বছর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের জাকারবার্গের বড় পরিকল্পনা যেভাবে ভেস্তে গেল

রাজ্য বনাম কর্পোরেট শক্তি: হলিউডের পরের মহামার্জার কি আটকে দেবে অঙ্গরাজ্যগুলো

যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট দুনিয়ায় বড় এক সতর্কবার্তা হয়ে আছে এক সুপারমার্কেট মার্জারের গল্প। প্রায় পঁচিশ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে এক হওয়ার কথা ছিল দুই খুচরা বিক্রেতার। কিন্তু ফেডারেল কর্তৃপক্ষের আগেই অঙ্গরাজ্যের কৌঁসুলিরা আদালতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। মূল্যবৃদ্ধি ও শ্রমবাজারে ক্ষতির আশঙ্কায় একের পর এক মামলায় শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি ভেস্তে যায়। এই অভিজ্ঞতা এখন নতুন করে মাথাব্যথা হয়ে উঠছে হলিউডের জন্য।

হলিউডে মার্জারের লড়াই
মার্কিন বিনোদন শিল্পে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা। একটি বড় স্টুডিও অধিগ্রহণকে ঘিরে দুই জায়ান্টের টানাপোড়েন চলছে। একদিকে স্ট্রিমিংয়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী স্টুডিও মালিকানা নিতে মরিয়া প্রতিদ্বন্দ্বী। এক পক্ষের প্রস্তাব বোর্ড ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করলেও দরকষাকষি থামার লক্ষণ নেই। উভয় পক্ষই মনে করছে, ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে সন্তুষ্ট করতে পারলেই পথ মসৃণ হবে।

কিন্তু সমস্যাটা এখানেই শেষ নয়। ফেডারেল সংস্থার পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরাও আলাদা করে পদক্ষেপ নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার শীর্ষ কৌঁসুলি ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও একচেটিয়াকরণ সাধারণ মানুষ ও প্রতিযোগিতার পক্ষে ভালো নয়। এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, কেন্দ্র রাজি হলেও রাজ্য আদালতে চুক্তি আটকে যেতে পারে।

অঙ্গরাজ্যের শক্তিশালী ভূমিকা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিযোগিতা আইন শুধু কেন্দ্রের হাতে সীমাবদ্ধ নয়। উনিশ শতকের শেষ ভাগের আগেই একাধিক অঙ্গরাজ্য নিজেদের আইন চালু করেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় কর্পোরেট একীভবনের ঢেউ এবং রাজনীতি জুড়ে একচেটিয়াবিরোধী মনোভাব এই বিষয়কে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। অনেক রাজ্য নতুন আইন পাস করছে, যাতে বড় কোম্পানিকে মার্জারের আগে রাজ্য সরকারকে জানাতে হয়। কোথাও কোথাও কৌঁসুলিদের তদন্তক্ষমতা ও জরিমানার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।

রাজনীতির হিসাব
এই আইনি লড়াইয়ের পেছনে রাজনৈতিক হিসাবও কম নয়। বড় কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া অনেক কৌঁসুলির জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে। কেউ গভর্নর হয়েছেন, কেউ আবার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হলিউডের সম্ভাব্য মার্জার ঠেকানো গেলে সেটি শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সমর্থনও এনে দিতে পারে, যারা আশঙ্কা করছে কম স্টুডিও মানে কম কাজের সুযোগ।

অপেক্ষার প্রথম অধ্যায়
যে পক্ষই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকুক, এই মার্জার দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার নয়। ফেডারেল ও রাজ্য স্তরের আইনি লড়াই দীর্ঘ হতে পারে। হলিউডের এই গল্পের শুরু মাত্র হলো। সামনে আরও পর্ব অপেক্ষা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চাওয়া ব্যক্তিদের পর্যটন-ব্যবসায়িক ভিসা বাতিল করবে ট্রাম্প প্রশাসন

রাজ্য বনাম কর্পোরেট শক্তি: হলিউডের পরের মহামার্জার কি আটকে দেবে অঙ্গরাজ্যগুলো

১২:০০:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট দুনিয়ায় বড় এক সতর্কবার্তা হয়ে আছে এক সুপারমার্কেট মার্জারের গল্প। প্রায় পঁচিশ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে এক হওয়ার কথা ছিল দুই খুচরা বিক্রেতার। কিন্তু ফেডারেল কর্তৃপক্ষের আগেই অঙ্গরাজ্যের কৌঁসুলিরা আদালতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। মূল্যবৃদ্ধি ও শ্রমবাজারে ক্ষতির আশঙ্কায় একের পর এক মামলায় শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি ভেস্তে যায়। এই অভিজ্ঞতা এখন নতুন করে মাথাব্যথা হয়ে উঠছে হলিউডের জন্য।

হলিউডে মার্জারের লড়াই
মার্কিন বিনোদন শিল্পে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা। একটি বড় স্টুডিও অধিগ্রহণকে ঘিরে দুই জায়ান্টের টানাপোড়েন চলছে। একদিকে স্ট্রিমিংয়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী স্টুডিও মালিকানা নিতে মরিয়া প্রতিদ্বন্দ্বী। এক পক্ষের প্রস্তাব বোর্ড ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করলেও দরকষাকষি থামার লক্ষণ নেই। উভয় পক্ষই মনে করছে, ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে সন্তুষ্ট করতে পারলেই পথ মসৃণ হবে।

কিন্তু সমস্যাটা এখানেই শেষ নয়। ফেডারেল সংস্থার পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরাও আলাদা করে পদক্ষেপ নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার শীর্ষ কৌঁসুলি ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও একচেটিয়াকরণ সাধারণ মানুষ ও প্রতিযোগিতার পক্ষে ভালো নয়। এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, কেন্দ্র রাজি হলেও রাজ্য আদালতে চুক্তি আটকে যেতে পারে।

অঙ্গরাজ্যের শক্তিশালী ভূমিকা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিযোগিতা আইন শুধু কেন্দ্রের হাতে সীমাবদ্ধ নয়। উনিশ শতকের শেষ ভাগের আগেই একাধিক অঙ্গরাজ্য নিজেদের আইন চালু করেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় কর্পোরেট একীভবনের ঢেউ এবং রাজনীতি জুড়ে একচেটিয়াবিরোধী মনোভাব এই বিষয়কে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। অনেক রাজ্য নতুন আইন পাস করছে, যাতে বড় কোম্পানিকে মার্জারের আগে রাজ্য সরকারকে জানাতে হয়। কোথাও কোথাও কৌঁসুলিদের তদন্তক্ষমতা ও জরিমানার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।

রাজনীতির হিসাব
এই আইনি লড়াইয়ের পেছনে রাজনৈতিক হিসাবও কম নয়। বড় কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া অনেক কৌঁসুলির জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে। কেউ গভর্নর হয়েছেন, কেউ আবার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হলিউডের সম্ভাব্য মার্জার ঠেকানো গেলে সেটি শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সমর্থনও এনে দিতে পারে, যারা আশঙ্কা করছে কম স্টুডিও মানে কম কাজের সুযোগ।

অপেক্ষার প্রথম অধ্যায়
যে পক্ষই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকুক, এই মার্জার দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার নয়। ফেডারেল ও রাজ্য স্তরের আইনি লড়াই দীর্ঘ হতে পারে। হলিউডের এই গল্পের শুরু মাত্র হলো। সামনে আরও পর্ব অপেক্ষা করছে।